content
stringlengths
0
129k
ধাপ ২- শুকনো উপাদানগুলির সঙ্গে ভেজা উপাদানগুলি মিশ্রিত করুন এবং কেকের ব্যাটারটি বেক করুন
একটি কাচের বাটি নিন এবং এতে মাখন ও চিনি মিশিয়ে নিন
হালকা এবং তুলতুলে হওয়া পর্যন্ত এই উপাদানগুলিকে বিট করুন
চিনি দ্রবীভূত হয়েছে তা নিশ্চিত করুন
এখন, একবারে দুটি ডিম বিট করুন এবং প্রতিটি যোগের মধ্যে কমপক্ষে দুই মিনিটের ব্যবধান রাখুন
মিক্সারে ময়দা হালকা করে ফেটিয়ে নিন
প্রস্তুত টিনে ব্যাটার ঢেলে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট বেক করুন
ধাপ ৩- সুস্বাদু চকলেট কেক প্রস্তুত
মাঝখানে একটি টুথপিক ঢুকিয়ে কেকটি সঠিকভাবে বেক করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করুন
যদি এটি পরিষ্কার হয়ে আসে, তাহলে কেক রান্না করা হয়
তারপরে টুকরো করে পরিবেশন করুন
গুরুচণ্ডা৯ : হরিদাস পাল : লরা "; = [{ : , : , : , : }]; = .("@",""); ( == "") { (); ; } // = '/.?=&='+; (); ; = '/.?=&=&='+; $.({ : , : , : (){ = .(); = .; ( != 0) { (); ; } { // = .(.); = .; (. == 0) { (); ; } { = []; ( = 0; < .; ++) { = "" + []. + ""; _ = { : []., : []., : , : []. }; [] = _; } (); } } } }); } = {"_":...
প্রথম পাতা
বুলবুলভাজা
হরিদাস পাল
খেরোর খাতা
শ্রেণীবদ্ধ
আমাদের কথা
গুরুসন্ধান
হরিদাস পাল গপ্পো
গুরুতে নতুন?
সায়ন্তন চৌধুরী লেখকের গ্রাহক হোন
গপ্পো | ০১ মে ২০২১ | ১২১২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)
জমিয়ে রাখুন
পুনঃপ্রচার
প্রিন্ট/
লরার সাথে আমার আলাপ হয়েছিল নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে এক শীতকালীন সেমেস্টারে; আমরা দুজনেই কনভেক্স অপ্টিমাইজেশনের একটা কোর্স নিয়েছিলাম আর কোর্স প্রজেক্টে আমি ছিলাম ওর পার্টনার
লরা এসেছিল এল.এ. থেকে
নিউইয়র্কের শীত আমি পছন্দ করিনা, সে প্রায়ই বলত
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসটা ওয়াশিংটন স্কোয়ার পার্কের চারদিকে ছড়ানো
মরশুমের সবচেয়ে ঠান্ডা দিনগুলোতে যখন পার্কটা বরফে বরফে শাদা হয়ে থাকত, তখন এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিংয়ে ক্লাস করতে যেতে হতো আমাদের, আর যাওয়ার পথে লরা অত্যন্ত সতর্কচোখে লক্ষ্য করত পার্কে বরফের বল বানিয়ে ছোঁড়াছুঁড়ি করতে থাকা ছেলেমেয়েদের
মাঝে মাঝে আমার মনে হত, লরা নিউইয়র্ক শহরটাকে একটা অতিকায় ভাল্লুক হিসেবে কল্পনা করে, যেটা শুয়ে আছে ইস্ট কোস্টের গা বরাবর
কিংবা হয়তো এটা আমার নিজস্ব ভিত্তিহীন ধারণা মাত্র
সম্ভবত ইভ ব্যাবিৎসের কোনো লেখায় নিউইয়র্ক সম্পর্কে এরকম একটা কথা আমি পড়েছিলাম আর সেটাই আমার স্মৃতি চাপিয়ে দিয়েছে লরার ওপর
সে যাইহোক, লরার একেবারে উল্টোদিকে আমি, কেননা নিউইয়র্কের প্রতি আমার আকর্ষণ অপরিসীম
যখন নিউইয়র্কে আসিনি আমি, তখনও এই শহরটা আমার কৌতুহল জাগাতো
কখনও কখনও আমি নিজেকে জাহান্নামে যাওয়া একজন গোয়েন্দা হিসেবে কল্পনা করতাম, যে লোয়ার ম্যানহ্যাটানের কোনো নোংরা ও পুরোনো বইয়ের দোকানের মাথায় ঘুপচি ঘর ভাড়া নিয়ে বাস করে, আর ঘুমের ভেতর বীভৎস খুনের দৃশ্য দেখে গভীররাতে জেগে উঠতাম বারবার
নিউইয়র্ক সম্বন্ধে আমার কোনো রঙিন ধারণা ছিল না
নোংরা রাস্তা, দুর্গন্ধে ভর্তি সাবওয়ে এবং নাকউঁচু লোকজন সমেত এই বিচিত্র শহরটার কুখ্যাতি আমি জানতাম
কোনো এক বুড়ো ট্রাক ড্রাইভার আমাকে একবার বলেছিল যে, নিউইয়র্ক হচ্ছে একটা আস্তাকুঁড় আর শহরটা স্রেফ কমিউনিস্ট, ইহুদী ও সমকামীদের আড্ডা
আসলে জানুয়ারীর শ্লেটরঙা দিনগুলো এমনিতেই আমার সবচেয়ে প্রিয় আর নীল ঝকঝকে গ্রীষ্মের আবহাওয়া জঘন্য লাগে
ফলে সারিসারি ধূসর স্কাইস্ক্র্যাপারে সাজানো তুষারাচ্ছন্ন নিউইয়র্কের শীতল বিষাদগ্রস্ত দিনগুলো, আমার মনে হত, লেখাপড়ার কাজে খরচ করার জন্যে সবথেকে উপযুক্ত
এরকম দিনে আমি আমার অ্যাপার্টমেন্টের কাছে ছোট্টো কফিশপটায় চলে যেতাম বিকেলের দিকে
জানলার ধারে একটা মনোমত জায়গা বেছে ল্যাপটপটা খুলে গুছিয়ে বসতাম
কাজ করতে করতে মাঝেমাঝে কফিতে চুমুক দিতাম আর চোখ তুলে লক্ষ্য করতাম ফুটপাত বেয়ে হেঁটে যাওয়া উচ্ছ্বল মেয়েদের - তাদের হাতে শপার্স ব্যাগ, তাদের ঠোঁটে অর্থহীন গল্প, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত হাসি, যার শব্দহীন দৃশ্যটুকু শুধু অলসভাবে ক্যাফের কাঁচের জানলা ভেদ করে এপারে এসে পৌঁছত
তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে হয়তো রাস্তার উল্টোদিকে হলদে ক্যাব এসে থামত আর স্যুটপরা লোকেরা নেমে ব্যস্তভাবে ঘূর্ণায়মান দরজা ঠেলে ঢুকে যেত হোটেলে বা অন্যান্য বিল্ডিংয়ে
কখনও কখনও আমি ব্লগ লিখতাম আর এইসব টুকরো টুকরো ছবি ঢুকে পড়ত আমার লেখার ভেতরে
লরা অবাক হয়েছিল এজন্যে যে, একজন ভারতীয় হয়েও নিউইয়র্কের নিষ্ঠুর শীত আমি কী করে উপভোগ করি
তাকে আমি বলেছিলাম নিউইয়র্কের অবিশ্বাস্য সূর্যাস্তগুলোও আমার ভালো লাগে
লস এঞ্জেলসের পরাবাস্তব সূর্যাস্তগুলোর সঙ্গে কোনো তুলনাই হয়না, সে উত্তর দিয়েছিল অন্যমনস্কভাবে
এটা সত্যি যে, কোনো এক আপাতদৃষ্টিতে তাৎপর্যহীন সময়ে আমি লরার প্রেমে পড়েছিলাম, যদিও আমার আন্দাজ প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে লুকিয়ে রাখতে আমি সক্ষম হয়েছিলাম
কারণ আমি জানতাম, যদিও আমার হাতে কোনো প্রমাণ ছিল না, তবু লরার প্রেমে পড়া যেন একটা প্লেনক্র্যাশ বা ভূমিকম্পের মতো বিধ্বংসী ঘটনা
ফাঁকা বিকেলগুলোয় আমি ঘুরে বেড়াতাম ম্যানহ্যাটানের রাস্তাগুলো ধরে
হয়তো নতুন খোলা একটা পিৎজার দোকানে ঢুঁ মারতাম
হয়তো একটা জ্যাকেট কিনতে ঢুকতাম জামাকাপড়ের দোকানগুলোয়; ভুলভাল দোকানে ঢুকে পড়লে প্রাইসট্যাগ দেখে বেরিয়ে আসতাম, অথবা কর্মচারী মেয়েটি মিষ্টি হেসে বুঝিয়ে দিত ওখানে জ্যাকেট কেনা কলেজপড়ুয়াদের সাধ্যের বাইরে
যখন আমি আমার অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসতাম, ততক্ষণে শহরের আলোগুলো জ্বলে উঠেছে
গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে
আমি বিল্ডিঙয়ে ঢুকে লিফটে চড়ে আমার ঘরের সামনে এসে দাঁড়াতাম, তারপর পকেট হাতড়ে চাবি বের করে দরজাটা খুলতাম
কখনো কখনো দেখতাম লরা হয়তো টেক্সট করেছে, আমি তাকে জবাব দিতাম
ইউনিভার্সিটি সংক্রান্ত কিছু
বা হয়তো কোর্স/টিএ ওয়ার্ক সম্পর্কে কিছু
কোনো-কোনোদিন আমরা গান শোনা নিয়ে বকবক করতাম
লরার পছন্দ ছিল নানারকম ইন্ডি রক
এল.এ.র ছোটো ছোটো স্থানীয় ব্যান্ডের খোঁজ সে আমাকে দিয়েছিল
আমার ভালো লাগত স্লো জ্যাজ
লরা রেডিয়োও শুনত
আমি তাকে জিগ্যেস করেছিলাম যে, তার কোনো প্রিয় স্টেশন আছে কিনা
এক্স রেডিও, সে বলেছিল, এল.এ. থেকে ব্রডকাস্ট হয়
লরার কিছু বন্ধুবান্ধব নাকি চালায় স্টেশনটা
সম্ভবত এ ব্যাপারে তার নস্ট্যালজিয়া কাজ করে, আমি মনে মনে ভেবেছিলাম
ক্রমে ক্রমে আমাদের বন্ধুত্বটা ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল
এল.এ. সম্পর্কে আমার জ্ঞান জাহির করবার জন্যে আমি ওকে বিভিন্ন এল.এ. লেখকদের কথা বলতাম, যাদের আমি পড়েছি
মিস লোনলিহার্টসের প্রসঙ্গ প্রায়ই উঠত
ইভ ব্যাবিৎস নাথানেল ওয়েস্টকে একেবারেই পছন্দ করেননা - আমি মন্তব্য করতাম
ইভ ব্যাবিৎস পড়তে আমারও ভালো লাগে, লরা বলত
তারপরে আমরা হলিউড সম্বন্ধে গল্প করতাম, দুশ্যাঁর সাথে ব্যাবিৎসের ষাটের দশকের বিখ্যাত ফটোগ্রাফটার কথাও উঠত, যেখানে নগ্ন ইভ দাবা খেলছিলেন দুশ্যাঁর সঙ্গে; আমি ব্যাবিৎসের 'মাই লাইফ ইন আ ৩৬ডিডি ব্রা' লেখাটার উল্লেখ করলে লরা হ্যাহ্যা করে হাসত
আমি জানতে পেরেছিলাম লরার ঘুমের ভেতর মাঝেমাঝে হাঁটার অভ্যাস আছে
ইতিমধ্যে আমরা ইউনিভার্সিটি থেকে আর্ট গ্যালারি দেখতে গেছিলাম একবার; যদিও প্রেম সম্পর্কে যাবতীয় ধারণাকে আমি আবছা রাখাই নিরাপদ মনে করেছিলাম
নিউইয়র্কের সাথেও আমার আত্মীয়তা গাঢ় হচ্ছিল; অলস বৃষ্টিভেজা বিকেলগুলোয় কেন যেন আমার মনে পড়ত জানলার পাশে অপেক্ষমান একটা নিঃসঙ্গ টাইপরাইটারের দৃশ্য
বড়ো শহরের তলায় তলায় যে অন্ধকার বিষাদের চোরাটান থাকে, আমার মনে হয়, আমি সেটাই টের পাচ্ছিলাম
জীবনে ইউনিভার্সিটির বছরগুলো ভাগ হয়ে যায় মিডটার্ম ও সেমেস্টারে, আর ফল সেমেস্টারে শীতঋতুটা কোথা থেকে যেন এসে যেত আকস্মিকভাবেই
আঃ, এবারে আর তত বরফ পড়বেনা, কেউ হয়তো আবহাওয়াবিদ সাজার চেষ্টা করত এবং দেখা যেত সেবারই বরফে বরফে ঢেকে গেছে ম্যানহ্যাটানের রাস্তাগুলো
লরা বলত, এল.এ.র ক্রিসমাস অন্যরকম
বরফ ছাড়া, আমি যোগ করতাম
অন্যরকম, সে বলত
একদিন বিকেলে লরা আমাকে ফোন করল
সেদিন বেশ ঝোড়ো হাওয়া বইছিল আর বরফ পড়ছিল সারাবেলা
আমি পুরু বুটজুতোটা গলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম লরার অ্যাপার্টমেন্টের উদ্দেশ্যে
লরাকে সেদিন একটু রোগা-রোগা দেখাচ্ছিল
আমি ভাবলাম হয়তো তার মনখারাপ
আমরা কফি বানিয়ে খেলাম
ঘরে বসে গল্প করলাম কিছুক্ষণ
চুমু খেলাম ওর ঠোঁটে
বাইরে প্রচন্ড ঠান্ডা, লরা মুখ তুলে বলেছিল
জানি, ওর লিনেনের টপটা খুলতে খুলতে আমি বললাম
তারপর দুজন দুজনকে আদর করলাম খানিকক্ষণ
তারপর আমরা পোশাক পড়ে নিলাম
সেদিন বিকেলে আমরা পাশাপাশি বসে নিউইয়র্ক শহরকে বরফ আর একাকিত্বে ঢেকে যেতে দেখছিলাম
সেটা কথা বলবার জন্যে ততটা উপযুক্ত সময় ছিলনা
কোনো কোনো দুঃসহ রাতে, যখন আলোগুলো নিভে গেছে সব আর আমার স্নায়ুর প্রান্ত ঘুমে অবশ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে, পুরো ব্যাপারটাই আমি টের পাচ্ছি এবং মেনে নিচ্ছি, তখন একটা বিস্ময়ের ভাব ভেসে ওঠে আমার মস্তিষ্কজুড়ে - আমরা কি আদৌ প্রেমে পড়েছিলাম? যেন একটা পুরোনো বিভ্রমের স্মৃতি, এভাবে লরার অবয়ব খুব আবছা আমার মনে পড়ে