content
stringlengths
0
129k
অথবা খুব স্পষ্ট
যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে একটা টানেলের ভেতর দিয়ে আমার স্মৃতি আমাকে ঠেলে দেয় সেই দিনটার দিকে, যখন লরা আমাকে জানিয়েছিল পল নামে একটা ছেলের সঙ্গে সে ডেট করছে
পলকে আমি চিনতাম, ফরাসী ছেলে; আগে থেকে চিনতাম কিনা ঠিক মনে নেই
সেটা ছিল এপ্রিলের একটা সন্ধ্যে
আমরা কথা বলেছিলাম ফোনে
তারপর লরা লাইনটা কেটে দিয়েছিল ওপ্রান্তে
এটা তত গুরুত্বপূর্ণ নয়, ঠিক এভাবেই আমি ঘটনাটাকে ঝেড়ে ফেলেছিলাম মাথা থেকে
বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল; তবু আমি ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম রাস্তায়
ম্যানহ্যাটানের সেই সাইবারপাঙ্ক সন্ধ্যেটায় অজস্র বৃষ্টির ফোঁটা, স্ট্রীটলাইটের প্রতিফলন আর সুদৃশ্য দোকানের নিয়ন আলোগুলোর বিচ্ছুরণ ভেঙে ভেঙে মিশে যাচ্ছিল একসাথে
একটা ঘোরের ভেতর ভেজা ফুটপাতে ছোপ ছোপ লালচে জলরঙা আলো মাড়িয়ে আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম সাদাকালো জেব্রা ক্রসিংয়ের দিকে
সমান ও বিপরীত গতিতে নিউইয়র্ক শহর স্রোতের মতো বয়ে যাচ্ছিল আমার ভেতর দিয়ে
চারপাশের টুকরো-টুকরো শব্দ, মানুষের কথোপকথন, জলের অন্তহীন আওয়াজ সত্ত্বেও আর.এল. স্টিভেনসনের গল্পের কোনো প্রেতের মতো প্রবল একাকিত্ব আমাকে ছেয়ে ফেলেছিল সেইরাতে
অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আমি অনেকক্ষণ কেঁদেছিলাম
ইউনিভার্সিটিতে আমাদের সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছিল
কেবল একবার লরাকে আমি দেখেছিলাম ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে
সে আমাকে লক্ষ্য করেনি; সূর্যাস্তের সময় সে বসেছিল পার্কের বেঞ্চে
সবুজ ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে কেউ একটা জিভঝোলা কুকুরের জন্যে ফ্রিসবি ছুঁড়ে দিচ্ছিল হাওয়ায় এবং বাদামী কুকুরটা বিকেলের কমলা পিক্সেলগুলো কুড়োতে কুড়োতে তীরবেগে ছুটে যাচ্ছিল সেদিকে
চারপাশে লোকজন হাঁটছিল
আর এইসব দৃশ্যের ব্যাকগ্রাউন্ডে হাঁটতে হাঁটতে আমি লরাকে দেখতে পেয়েছিলাম স্থির হয়ে বসে থাকতে
তারপর লরার অপসৃয়মান অবয়ব, তাকে আমি দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যেতে দিয়েছিলাম
কোনো কারণে আমার ধারণা হয়েছিল লরা আর পল ফ্লোরিডাতে গিয়ে বাস করবে
তারা কখনই এল.এ. ফিরবেনা, আমি মনে করেছিলাম
কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম
শুরুতে ফ্লোরিডা গেলেও বিয়ের পর তারা প্যারিস চলে গেছিল
তাদের সাথে আমার আর যোগাযোগ ছিলনা
আমি নিউইয়র্কে আমার দৈনন্দিন জীবনের ভেতর লরাকে প্রায় ভুলেই গেছিলাম
আমার কাছে শুধু একটা জিনিসই পড়েছিল, যেটা লরার: বয়েডের কনভেক্স অপ্টিমাইজেশনের বইটা
বইটার প্রথম পাতার মাঝখানে লরার নাম লেখা সবুজ হাইলাইটারে, তার নীচে নীল ডটপেনে ডাউনটাউন এল.এ.র একটা ঠিকানা; সম্ভবত ওর বাড়ীর ঠিকানা, আমি অনুমান করেছিলাম
বছরদুয়েক ইস্টকোস্টে এখানে-সেখানে কাজ করার পরে আমি মাসতিনেকের জন্যে একটা ইন্টার্নশিপের অফার পেলাম, ইউসিএলএতে
সত্যি বলতে এল.এ. যাবার কথা ভাবতেই লরার স্মৃতি আমার কাছে ফিরে আসছিল একটু একটু করে
কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার এটাই যে, স্মৃতিগুলো আর যন্ত্রণার ছিলোনা, বরং আনন্দদায়ক; স্পষ্টতই লরার স্মৃতি আমি উপভোগ করছিলাম
একদিন আমি চেপে বসলাম এল.এ.র ফ্লাইটে আর সাড়ে ছ'ঘন্টা জার্নির পরে এসে পৌঁছলাম লস এঞ্জেলসে
একটি টিনক্যানের অবিচুয়ারি - সায়ন্তন চৌধুরী
স্মৃতি ও অন্যান্য ধূসরতার শহর - সায়ন্তন চৌধুরী
হেমন্তের রুগ্ন নির্জন হাঁসগুলি - সায়ন্তন চৌধুরী
দ্য রিটার্ন -- রবার্তো বোলানিও (২০১০) - সায়ন্তন চৌধুরী
কনফেশনস অফ আ মাস্ক -- ইউকিও মিশিমা (১৯৪৯) - সায়ন্তন চৌধুরী
বৃষ্টি ও অনিশ্চিত স্বপ্নের শহর - সায়ন্তন চৌধুরী
সময়ের দায়ভাগী নক্ষত্রের কাছে - সায়ন্তন চৌধুরী
খেলা থেকে বাদ - সায়ন্তন চৌধুরী
মস্তি সেন্টার - সায়ন্তন চৌধুরী
সুশান্ত সিংহ রাজপুত: বৃহৎ গ্রন্থনির্মাণ পর্বের একটি অক্ষর - অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
পুরানো সেই দিনের কথা - "চক্রবৎ পরিবর্তন্তে" - ক্যাপ্টেন হ্যাডক
হামিদুর রহমানের নোটবুক থেকে - মুরাদুল ইসলাম
মেয়েদের কষ্টে অর্জিত কড়ি ডাকাতি হয়ে যায় - ডাঃ শর্মিষ্ঠা দাস
স্পিরিট - ন্যাড়া
আসাম ইতিহাসের কৃষ্ণগহ্বর - ৩ - পার্থ প্রতিম মৈত্র
মার্কস এবং এই সময় -
ফ্যাশন-পোশাক-আশাক : বাঙ্গালিনীর বদলতি তসবির -
পুরানো সেই দিনের কথা (৩) - ক্যাপ্টেন হ্যাডক
রণছোড় -
আমি, সোনার কেল্লার ফুলমতী - তামিমৌ ত্রমি
পূর্ব মেদিনীপুরের মৈথুনা গ্রামের দাসমহাপাত্র পরিবারের লক্ষ্মী পুজো -
পুজোর ভূত -
দেবীপক্ষ / শেষ পর্ব - শুভংকর ঘোষ রায় চৌধুরী
দেবীপক্ষ / পর্ব - ৫ - শুভংকর ঘোষ রায় চৌধুরী
দেবীপক্ষ / পর্ব - ৪ - শুভংকর ঘোষ রায় চৌধুরী
দেবীপক্ষ / পর্ব - ৩ - শুভংকর ঘোষ রায় চৌধুরী
দেবীপক্ষ / পর্ব - ২ - শুভংকর ঘোষ রায় চৌধুরী
দেবীপক্ষ / পর্ব - ১ - শুভংকর ঘোষ রায় চৌধুরী
লেখক - ইন্দ্রজিৎ রায়ের লেখা - 'বৈশাখের ডাইরি', -
কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? পর্ব ৪ -
"মুখোশ" -
সমরবাবুর বৃত্তান্ত -
কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? পর্ব ৩ -
বিচ্যুত স্বদেশভুমিঃ বাংলার জৈব সংস্কৃতির লুপ্তাবশেষের সন্ধান --- তাৎক্ষণিক পাঠপ্রতিক্রিয়া -
সলিলের তিন পর্যায় - সম্বিৎ
চাকা - প্যালারাম
এল.এ.তে আমার দিনগুলো কাটছিল কোনোরকম উদ্বেগ ছাড়াই
আমি একটা তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ প্রজেক্টে কাজ করছিলাম, যেটার জন্যে সপ্তাহে একবার আমাকে ডাউনটাউনে ওদের অফিসে যেতে হতো মিটিং করতে
একদিন কাজ মিটে যাবার পর আমি ঠিক করলাম লরার ঠিকানাটা খুঁজে বের করব
জানিনা কেন, অথবা আমি ঠিক কী প্রত্যাশা করছিলাম, তবু আমার মনে হল এটা একটা জরুরী কাজ
বাস থেকে নেমে আমি জিপিএস দেখে হাঁটতে লাগলাম
একটা মধ্যবিত্ত নেবারহুড
নির্জন দুপুরে রাস্তার দুপাশে পার্ক-করা গাড়িগুলো
ফ্যাকাশে নীল আকাশ
একটা কুকুর ডাকছিল কোথাও
একজন সাইকেলে চেপে আমাকে পেরিয়ে চলে গেল
বাড়িটা খুঁজে পেলাম আমি
অফহোয়াইট রঙের; সামনে কালো গেট, গেটের পাশে ডাস্টবিনগুলো রাখা
কোথাও কেউ নেই
দেখে মনে হচ্ছিল কেউ থাকেনা
নিস্তব্ধ গরম হাওয়া বয়ে গেল একঝলক
কুকুরটার ডাক থেমে গেছে হঠাৎ, টের পেলাম
ইতস্তত করছি, এমনসময় পাশের বাড়িটা থেকে কাউকে বেরোতে দেখলাম
একজন মধ্যবয়েসী মহিলা; আমি তাঁর কাছে গিয়ে জিগ্যেস করলাম বাড়িটায় কেউ থাকে কিনা
তিনি সন্দেহের চোখে আমাকে জরীপ করলেন, তারপর সংক্ষেপে জানালেন কেউ থাকেনা
আমি তাঁকে ধন্যবাদ দিলাম
ভাবলেশহীন মুখে তিনি তাকিয়ে রইলেন
আমি ফিরে আসছি, এমনসময় আচমকা বললেন, ওরা চলে গেছে বছরখানেক আগে
আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম কোথায়
তিনি আর কিছু বললেন না
অগত্যা আমি সেদিন ডাউনটাউন থেকে ইউনিভার্সিটি ফেরার বাস ধরলাম
সানসেট বুলেভার্ড ধরে বাসটা চলছিল আর আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে লরার প্যারিসে চলে যাওয়া এবং লরার পরিবারের এল.এ. ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার মধ্যে কোনও সম্পর্ক আছে কিনা
হঠাৎ আমি বুঝতে পারলাম আমাকে এর উত্তর খুঁজতে যেতে হবে এক্স রেডিওর অফিসে
আমি ভেবেছিলাম ওদের স্টেশনটা ডাউনটাউনেই হবে, কিন্তু গুগল করে বের করলাম সান্টা মনিকার একটা ঠিকানা
পরের সপ্তাহে আমি সান্টা মনিকা যাবার পরিকল্পনা করলাম
কিন্তু তার আগে আমি একটা ফোন করলাম এক্স রেডিওর অফিসে
ওপাশ থেকে একটি মহিলাকন্ঠে জবাব এলো - হ্যালো
আমি সরাসরি জানতে চাইলাম সান্টা মনিকার অফিসটা উইকেন্ডে খোলা থাকে কিনা