content stringlengths 0 129k |
|---|
" তিনি অবশেষে মথুরবাবুর সঙ্গ ছেড়ে দরিদ্র গ্রামবাসীর সঙ্গে বসলেন |
মথুরবাবু শেষে বাধ্য হয়ে কলকাতা থেকে কয়েক গাঁট কাপড় এনে এদের মধ্যে বিতরণ করেন এবং এদের সকলকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন |
ভেবে দেখুন মায়া কান্না আর কাকে বলে? একবেলা খাওয়ালে আর একবার বস্ত্র বিতরণ করলে যে দরিদ্রের দারিদ্র দূর হয় তাই আশ্চর্যের |
বরং তিনি পুরো ভারতের প্রয়োজন নেই এই এলাকার স্থায়ী দারিদ্র দূরীকরণে একটা ব্যবস্থা নিতেন তাহলে উনাকে প্রকৃত গরীব দরদী বলতাম |
আর কাপড় ও খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য মথুরবাবুর দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন কি? মা কালী যেহেতু উনার সব কথা শুনেন |
সেহেতু মা কালীর কাছে দরিদ্র গ্রামবাসীর সমস্যা কথা বললেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত |
অবশ্য মা-কালির প্রতি তিনি কতটুকু আস্থাশীল ছিলেন তাও সন্দেহ হয় |
কারণ তিনি নিজেই বলেছেন- "সত্যি কি তুই আছিস মা? না, এসবই মনের কল্পনা? তুই আছিস তবে আমি তোকে দেখতে পাই না কেন? তবে এসব কি আকাশ কুসুম? (ঠাকুর রামকৃষ্ণের জীবন ও বাণী - স্বরূপানন্দ- পৃ: ৮) |
এইবার একবার ভাবুন তো পৃথিবীর সব মানুষ যদি তার কাজ কর্ম ছেড়ে ঈশ্বর সাধনায় |
মগ্ন হয়ে যায় তবে সমস্ত পৃথিবীর কি অবস্থা হবে? না থাকবে মানব সমাজ, না থাকবে ঈশ্বর কল্পনা করার কেউ |
কিন্তু রামকৃষ্ণ তো এই আদর্শই প্রচার করতে চেয়েছিলেন |
শুধু সংসার ত্যাগ নয় মানুষের সেবামূলক পেশার উপর আঘাত করতে দ্বিধা-বোধ করেন নি |
একটা উদাহরণ দেই - একদিন ঠাকুর তাঁর ভক্তদের কাছে বলছিলেন,"ডাক্তার উকিল ও দালাল এদের ঈশ্বর লাভের পথে এগোন কঠিন |
বিশেষ করে ডাক্তারদের প্রতি বললেন, "মনটা যদি ঔষধের ফোটায় পড়ে থাকে, তবে কি করে সে অসীম অনন্তকে চিন্তা করবে?" |
এটা শুনে রামকৃষ্ণের শিষ্য জনৈক নাগ মহাশয় ডাক্তারি ছাড়তে দৃঢ় সংকল্প হলেন এবং ঔষধের বাক্স বই গঙ্গায় ফেলে দিয়েছিলেন |
বাহ! আদর্শের প্রশংসা না করে পারা যায় না |
ডাক্তারির মতো একটা বাস্তব মহত সমাজ সেবামূলক কাজ ছেড়ে যার অস্তিত্ব নেই তাকে খোজার মধ্যেই মহত্ব বেশী তাই না? |
আমি প্রথমই বলেছিলাম রামকৃষ্ণ যখন ধর্মীয় ভাবধারা প্রচার শুরু করেন তখন ধর্মবিপ্লব চলছে |
তিনি ব্রাহ্মসমাজের তীব্র বিরুদ্ধি ছিলেন |
অথচ ব্রাহ্ম সমাজকে তিনি অতি কৌশলে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে দ্বিধা-বোধ করেন নি |
১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দে ব্রাহ্মসমাজের নেতা কেশবচন্দ্র সেন কোচবিহারের মহারাজার সঙ্গে তার শিশু কন্যার বিয়ে দিলে বাল্যবিবাহ বিরুধী ব্রাহ্মসমাজ দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে |
কেশব চন্দ্রের অনুরাগী তাকে ত্যাগ করে সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠা করে |
এইভাবে ব্রাহ্মসমাজে বিভেদ সৃষ্টি হয় |
ব্রাহ্মসমাজ বিরোধী রামকৃষ্ণ সুযোগ বোঝে কেশবচন্দ্রের কার্যের সমর্থনে বললেন - |
"জন্ম,মৃত্যু,বিবাহ ভগবানের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে তাই এতে দোষ কি আছে? কেশব গৃহী, সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে পিতার কর্তব্য পালন করেছে, এতে ধর্মের কোন হানি হয় নি |
বাহ! কি সুন্দর কথা |
বিবাহ, জন্ম, মৃত্যু সব ভগবানের ইচ্ছা |
অথচ উন্নত বিশ্বে আজ বাল্য বিবাহ নাই বলেই চলে, আর জন্ম যদি ভগবানের হাতেই থাকতো তবে আমরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কিভাবে গ্রহণ করছি? নাকি উন্নত বিশ্বের দেশ থেকে ভগবান সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেজ গুটিয়ে পালাচ্ছেন? যাদের ধর্ম-পুরুষ ভেবে জনসাধারণ পূজা করে এরাই প্রগতি বিরুধী সমাজের বড় শত্রু |
ব্রাহ্ম সমাজের বিরুধীতা করতে গিয়ে নারীকে গরু ছাগলের সাথে তুলনা করতে কার্পণ্য করেননি রামকৃষ্ণ |
শিবনাথ শাস্ত্রী রামকৃষ্ণের কামিনী-কাঞ্চন ত্যাগের আদর্শ সম্পর্কে তিনি রামকৃষ্ণকে বলেছিলেন, " |
স্ত্রী লোকেরা ব্রাহ্মসমাজের সদস্যা ব্রাহ্মধর্ম হল একটি সামাজিক ও গাহস্থ্য ধর্ম, ব্রাহ্মসমাজ নারীজাতিকে শিক্ষা ও স্বাধীনতা দিতে চায় |
সুতরাং কামিনী ত্যাগের কঠোর আদর্শ আমরা বিশ্বাস করি না |
এর পরিপ্রেক্ষিতে রামকৃষ্ণ বলেছিলেন - "চারাগাছ নিয়ে মালী কি করে? ছাগল গরু থেকে বাঁচাবার জন্য বেড়া দেই |
পরে চারাগাছ যখন বেড়ে ওঠে তখন আর বেড়া দেওয়ার দরকার হয় না |
আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনেও আমরা তাই করি |
শিবনাথ তাতে বলেছিলেন - "আমি আপনার মতো নারী জাতির কাজকে গরু ছাগলের মতো ধ্বংসাত্মক মনে করি না |
আমাদের সংগ্রাম ও সামাজিক অগ্রগতিতে তারা সহায় হতে পারে |
রামকৃষ্ণের এক শিষ্য গিরিশচন্দ্র ঘোষ শ্রী রামকৃষ্ণ, শ্রী শ্রী মা ও বিবেকানন্দ বইতে তখনকার ধর্ম বিপ্লবের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন - |
"পরমহংসদেব যখন জগৎ সমক্ষে উদয় হন, তখন ঘোরতর ধর্মবিপ্লব |
জড়বাদী মুক্তকণ্ঠে বলিতেছেন - "জড় হইতেই সমস্ত,জড়ের সংযোগেই আত্মা, জড় ব্যতীত আর কিছু নাই |
" ব্রাহ্ম সমাজ বলেন - "বেদ, বাইবেল, কোরান প্রভৃতি কিছুই মানিবার আবশ্যক নাই, কোনটিই অভ্রান্ত নয়, কোনটিই ঈশ্বর বাক্য নয় |
এমন সময় পরমহংসদেব প্রচার করলেন "কোন ধর্ম কোন ধর্মের বিরোধী নয় |
বাহ্য দৃষ্টিতেই বিরোধ কিন্তু সকল |
ধর্মে ধর্মে বিরোধ আছে কি নেই? তা অন্তর্দৃষ্টি বাহ্য দৃষ্টি দুভাবে দেখলেই বোঝা যায় |
যাক এখন প্রশ্ন উঠতে পারে প্রাচীন ভারত থেকে দেখে আসছি নানা সময় নানা যুক্তিবাদী মতবাদ আন্দোলনের আকার নিলেও তা পুরো সফল হতে পারে না |
কোন না কোন ঈশ্বর সন্তান নামধারী ব্যক্তি এসে একে প্রতিহত করে দেয় |
যেমন প্রাচীন ভারতে শঙ্কর বেদান্তের ভাব জোয়ারে বস্তুবাদ ধ্বংস হয় আর উনবিংশ শতকে ধর্ম-বিদ্রোহ প্রতিহত করে রামকৃষ্ণের ভাব জোয়ারে |
কিন্তু এর কারণ কি? প্রথমত আমার মনে হয় বিভিন্ন সময়ের যুক্তিবাদী আন্দোলনগুলি একটি নির্দিষ্ট বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর কাছে রয়ে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের কাছে এর সারমর্ম সঠিকভাবে পৌঁছায়নি |
দ্বিতীয়ত আদিযুগ থেকে চলে আসা অলৌকিক চিন্তাধারাগুলি বংশ পরম্পরায় আমাদের মস্তিষ্কের কোষে কোষে রয়ে গেছে তাই একটু অলৌকিকতার সুড়সুড়ি পেলেই যুক্তির ধার না ধরেই জনশ্রুত সেই অলৌকিকতার নামধারী ব্যক্তিদের দিকেই ছুটতে থাকে |
তবে আজ সময় এসেছে এটা ভেবে দেখার আমরা একটা সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নিয়ে নিজের যুক্তি বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যাব নাকি অলৌকিকতার ধ্বজাধারীদের আদর্শ মেনে অন্ধ থেকে যাব |
(কিছুদিন আগে রামকৃষ্ণ মিশনের পৃষ্ঠপোষক এক ডক্টরেট-ধারী ব্যাক্তির সঙ্গে রামকৃষ্ণের অলৌকিকতার ঘটনাগুলি নিয়ে তর্কে জড়িয়ে যাই |
তর্কাতর্কির এক মুহূর্তে তিনি যখন দেখলেন তিনি আর বেশী যুক্তি দেখাতে পারছেন না |
তখন তিনি আমাকে গণ্ডমূর্খ, নির্বোধ ইত্যাদি পদবিতে ভূষিত করে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়েন |
এরপর থেকেই একটা লেখা লেখব বলে ভাবছিলাম কিন্তু সময় সুযোগ হয়ে উঠছিল না |
অনেক ব্যস্ততার মধ্যে লেখাটি তৈরি করেছি |
কোন ভুল থাকলে ক্ষমা প্রার্থী সঙ্গে সমালোচনাও কাম্য) |
পোস্ট শেয়ার করুন |
: সুমিত দেবনাথ |
চক্ষু থাকিতে অন্ধ নই |
জ্ঞান পিপাসু |
প্রকৃতির বিশাল জ্ঞান ভান্ডার থেকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা নিচ্ছি |
৯০ আন্দোলনের তিনদশকঃ ফিরে দেখা আমাদের আকাঙ্খা ও অর্জন |
৯০ আন্দোলনের তিনদশকঃ ফিরে দেখা আমাদের আকাঙ্খা ও অর্জন |
ডিসেম্বর 6, 2021 | 0 |
পুণরাবৃত্ত ল্যারেঞ্জিয়াল স্নায়ু: একটি বিবর্তনীয় ও ঐতিহাসিক লিগ্যাসি |
পুণরাবৃত্ত ল্যারেঞ্জিয়াল স্নায়ু: একটি বিবর্তনীয় ও ঐতিহাসিক লিগ্যাসি |
নভেম্বর 28, 2021 | 0 |
বাংলাদেশের সাবওয়ালটন বিল্পবঃ রুহানি প্রজন্মের উত্থান |
বাংলাদেশের সাবওয়ালটন বিল্পবঃ রুহানি প্রজন্মের উত্থান |
অক্টোবর 23, 2021 | 2 |
হিন্দুদের ভবিষ্যৎ কী |
হিন্দুদের ভবিষ্যৎ কী |
অক্টোবর 18, 2021 | 4 |
অক্টোবর 17, 2021 | 0 |
105 |
নভেম্বর 4, 2021 4:15 অপরাহ্ন - |
সুমিতবাবু ও তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে একটাই কথা বলবো - আপনাদের চৈতন্য হোক |
এটুকু বলে রাখি, আপনারা কম জানেন এবং তার থেকেও কম মানেন |
যাঁরা নিজেদের যুক্তিবাদী বলে দাবি করছেন, তাঁরা জেনে রাখুন, নিজেকে যুক্তিবাদী বলা ও হওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক |
দু'পাতা বই পড়ে অতলস্পর্শী সমুদ্র ও অনন্ত আকাশের বিচার নাই বা করলেন |
অক্টোবর 7, 2020 9:41 পূর্বাহ্ন - |
আর সম্পূর্ণ রূপে আলাদা জিনিস,আমি ধার্মিক নই কোনো গুরু মহাপুরুষ নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই কিন্তু ডাক্তারি না জেনে ডাক্তারি টার্ম ব্যবহার এর নামে মানুষকে বিভ্ৰান্ত করলে আমার অসুবিধে আছে!! এরপর বক্তব্য পরিবেশন করার আগে পড়াশুনো করে নেবেন একটু আসলে ডাক্তারি শব্দ দুম করে ইউস করা যায়না অন্তত না জেনে!! ফরেনসিক এর পড়ার অনুর... |
বিকাশ রায় জুলাই 27, 2019 12:44 পূর্বাহ্ন - |
. সত্য সম্বন্ধে আমাদের ধারণা আমাদের নিজেদের সম্বন্ধে ধারণার ক্রমোন্নতির তালের ওপর নির্ভর করে |
আমরা বর্তমানে আমাদের জ্ঞানের যে বৃত্তে অবস্থান করছি, ঠিক সেখান থেকেই জীব, জগৎ ও ঈশ্বর সম্বন্ধে আমাদের মতামত প্রকাশ করছি |
এপ্রসঙ্গে ঠাকুরের বাণী হলো : ১) মূলো খেলে মূলোর ঢেঁকুর ওঠে |
২) তোমার একপোয়া মদে নেশা হয়ে যায়, সুঁড়ির দোকানে কত মদ আছে জেনে তোমার লাভ কি? |
শ্রীরামকৃষ্ণ আমাদের শিক্ষা দেন : সব মতকে নমস্কার করবে, তবে একটি আছে নিষ্ঠাভক্তি |
সবাইকে প্রণাম করবে বটে, কিন্তু একটির উপরে প্রাণ-ঢালা ভালবাসার নাম নিষ্ঠা |
কারুকে নিন্দা করো না, পোকাটিরও না |
নারায়ণই এই সব রূপ ধরে রয়েছেন |
যেমন ভক্তি প্রার্থনা করবে তেমনি এটাও বলবে- 'যেন কারও নিন্দা না করি |
অচিন্ত্য জুলাই 9, 2019 6:12 অপরাহ্ন - |
আধ্যাত্মবাদ সম্পর্কে আমার যা মনে হয়- |
প্রথমে আসি যুক্তি বিষয়ে |
যুক্তির ভিত্তি আসলে অভিজ্ঞতা |
প্রথমে অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা ঘটনা পরম্পরাকে কার্য-কারণ সম্পর্কে সম্পর্কিত করে থাকি |
পরে কার্য এবং কারণের কোন একটি দেখে অপরটি সম্পর্কে আভাস পেয়ে থাকি |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.