content
stringlengths
0
129k
সুতরাং সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ন
কিন্ত সমস্যা হচ্ছে তথ্য থেকে এটাও দেখা যাচ্ছে চীনেরা সব থেকে ভাল ছেলে মানুষ করার ক্ষেত্রে-এবং সেক্ষেত্রে ফামিলি ভ্যালুর একটা বিশেষ গুরুত্ব আছে
জীবনের পরম উদ্দেশ্য বলে কিছু থাকতে পারে না-তাই যদি ধরেই নিয়ে জৈবিক উদ্দেশ্য বা জীনের টিকে থাকার প্রেরণাটা ধরেই জীবন দর্শন এগোবে-সেক্ষেত্রে পেরেন্টিং এর ক্ষেত্রে সব থেকে সফল জাতিগোষ্ঠি চীনারা বা জাপানীরা ভীষন ভাবেই অটুট ফামিলিতেই আস্থা রাখে
আমি নানান ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বুঝেছি আমেরিকাতেও ডিভোর্স না করে থাকতে পারলে স্যোশাল ইউটিলিটি ভ্যালু বাড়ে
মনে রাখতে হবে লোকের ধর্ম চারন থেকে সব আচরনের বিবর্তনের পেছনে স্যোশাল ইউটিলিটির বিশাল ভ্যালু আছে
আমি একটা সার্ভে থেকে দেখছিলাম, আমেরিকার যেখানে যত ভাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট-সেখানে ডিভোর্স রেট জাতীয় গড়ের থেকে অনেক কম
আমি এলিকট সিটিতে থাকি যেটি আমেরিকার অন্যতম ভাল স্কুল শহর ( জাতীয় বিচারে আগের বার দ্বিতীয় এবং পঞ্ছম ) -এখানে ডিভোর্সি ফামিলি আমার খুব বেশী চোখে পড়ে না-অথচ ক্যালিফোর্নিয়াতে ডিভোর্সী লোকজন খুব সাধারন ব্যাপার ছিল
ব্যাপার স্যাপার দেখেশুনে আমার যা মনে হয়েছে ফামিলি ভায়োলেন্স এবং ডিভোর্সের একটা মূল কারন যদি অর্থনীতি হয়-আরেকটা হচ্ছে বাবা মায়েরা ছেলে মেয়েদের ব্যাপারে ফোকাসড থাকে না-নিজেদের ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া কামনাকে গুরুত্ব দেয় বেশী
অর্থাৎ রিপ্রোডাক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট এ আগ্রহী কম
যে সব দম্পতি ছেলে মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে খুব বেশী সচেতন, সেখানে ঈর্ষা, পরকীয়া বা ডিভোর্সের পরিমান কমে
ডিভোর্স রেট বেড়ে যাওয়ার পেছনে পিতা মাতার ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার বড় ভূমিকা আছে
বন্যা আহমেদ জুন 30, 2011 3:31 পূর্বাহ্ন -
@বিপ্লব পাল, আলোচনাটাকে কেমন যেন অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
আমি খুব একটা নির্দিষ্ট অবস্থা এবং প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সমাজে মেয়েদের 'স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত' নেওয়ার পিছনে কী কী প্রতিবন্ধকতা কাজ করে সেই প্রসঙ্গে ডিভোর্সের কথাটা বলেছিলাম
তুমি এখানে যা টেনে নিয়ে আসছো সেটা একেবারেই অন্য আলোচনা
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সব ধারণা সবসময় নাও ঠিক হতে পারে, কারণ এখানে অনেক ধরণের ভেরিয়েবল কাজ করে
কিন্তু আগেও বলেছি, আবারো বলছি, সেই বিতর্ক বা আলোচনাগুলো এখানে টেনে আনার কোন কারণ দেখছি না বলে আপাতত এই আলোচনায় ক্ষ্যামা দিলাম
বিপ্লব পাল জুন 30, 2011 8:34 পূর্বাহ্ন -
@বন্যা আহমেদ,
ডিভোর্স এই প্রবন্ধের সাথে ভীষন ভাবে যুক্ত
কারণ অভিজিতের তত্ত্বের সব বিশ্লেষণের মূলে আছে রিপ্রোডাক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট
এক্ষেত্রে ডীভোর্সের কেসটা ফলসিফিকেশন অব থিওরী
একজন পুরুষের ডিভোর্স করবে কেন? ডীভোর্স পুরুষের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রিপ্রোডাক্টিভ ইনভেস্ট বিরোধি ঘটনা
সে এত দিনের ইনভেস্ট ত হারাবেই-তারপরেও নতুন বিয়ে হলে, অন্য পুরুষের সন্তানের ওপর ইনভেস্ট করতে হবে
এত রিপ্রোডাক্টিভ ইনভেস্টমেন্টের সম্পূর্ন ১৮০ ডিগ্রি বিরুদ্ধে যাচ্ছে
তাহলে পুরুষের ডিভোর্সের ক্ষেত্রে [ যেক্ষেত্রে সন্তান আছে] বিবর্তন মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কি? রিপ্রোডাক্টিভ ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে পুরুষত এক্ষেত্রে ১০০% লুজার!
অভিজিতের এই প্রবন্ধ সত্য বলে মানা যেত যদি আমরা দেখতাম পুরুষের ডিভোর্স করার ব্যাপারে চূড়ান্ত অরুচি ()
অভিজিৎ জুলাই 1, 2011 11:10 পূর্বাহ্ন -
@বিপ্লব পাল,
হাঃ হাঃ, তুমি মাঝে মাঝে মজার মজার সব কথা বল
ডিভোর্স করা, নতুন সঙ্গি খোঁজাও পুরুষদের একটা মেটিং স্ট্র্যাটিজি
শক্তিশালী (মানে ক্ষমতাবান) পুরুষেরা ডিভোর্স না করে বিগতযৌবনা নারী নিয়ে পরে থাকলে রিপ্রোডাকটিভ ফিটনেস বাড়বে, নাকি কম বয়সী সুন্দরী নারীকে আবার ঘরে তুলতে রিপ্রোডাকটিভ ফিটনেস বাড়বে? তোমার কি মনে হয়? আমার তো মনে হয় ২য়টার ক্ষেত্রেই পাল্লা ভারী
বড় বড় পলিটিশিয়ানদের দেখেছ? নাতনীর বয়সী বউ
বিশ্বাস না হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন নম্বর বউয়ের চেহারা সুরৎ দেখে নাও
তাদের বয়সের ব্যবধান ২৪ বছর
প্লে বয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিউ হেফনারের কথা আর নাই বা বলি
ভদ্রোলোক প্রতিদিনই গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করছেন, নিজে যত বুড়ো হচ্ছেন, তত বাড়ছে কম বয়সী নারীদের দিকে ঝোঁক
পশ্চিমের উদাহরণ পছন্দ না হলে আমাদের দেশের হুমায়ুন আহমেদের উদাহরণও দেখতে পার
পয়সা কড়ি বাড়ার সাথে সাথে কন্যার বয়সী স্ত্রীকে ঘরে তুলেছেন
সন্তান সন্ততিও দুই ঘর মিলিয়ে ৬ খান (উনাকে দিয়ে ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর এড করানো যেতে পারে, কি বল)
আর তুমি বল নতুন সঙ্গি খুঁজলে পুরুষদের রিপ্রোডাকটিভ ফিটনেস কমে
কোন দুনিয়ায় আছো!
বিপ্লব পাল জুলাই 1, 2011 12:23 অপরাহ্ন -
সবাই হিউ হেফনার বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতন বিলিয়নার না
বাস্তব হচ্ছে ডিভোর্স মানে পুরুষ সন্তানের ওপর কাস্টডি হারাবে এবং সেটা কোন পুরুষই মানতে চাই না
হিউ হেফনার ও না-যার জন্যে তার দুই সন্তানের মাকে ডিভোর্সের আগে প্লে বয় মানসনের কাছে বাড়ি কিনে দিতে হয়েছিল যাতে ছেলেদের সাথে সে রেগুলার দেখা করতে পারে
সবার ত অত টাকা নেই
বাস্তব এটাই ডীভোর্স সাধারন পুরুষের জীবনে রিপ্রডাক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট সংকট
অন্যের সন্তান মানুষ করতে হয়-নিজের সন্তানকে কাছে পায় না
এটাই সংখ্যাধিক্য পরিসংখ্যান এবং এমন কোন সাধারন পুরুষ দেখি নি যে ডিভোর্স করে ভাল আছে
এটাই বাস্তব
সুতরাং ডিভোর্স মোটেও রিপ্রোডাক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট হিসাবে ভাল কিছু না-টাকা থাকলে সেটা অন্য ব্যপার
ব্যতিক্রম
অভিজিৎ জুলাই 1, 2011 12:41 অপরাহ্ন -
@বিপ্লব পাল,
শুনতে খারাপ লাগলেও ক্ষমতা বাড়িয়ে অধিক নারীর দখল নেয়া সব সময়েই পুরুষদের স্ট্র্যাটিজি ছিল, সব যুগেই
একটা সময় বাদশাহ আকবর চেঙ্গিস খানেরা করেছেন, এখন করছেন - হেফনার বা ডোনাল্ড ট্রাম্পরা
তারা তাদের ক্ষমতা জোরে পারছেন, অধিকাংশই পারছেন না
যারা পারছেন না, তাদের একটা অংশ আবার বিভিন্ন উপায়ে সুযোগ খুঁজছে - পরকীয়া, এডাল্ট্রি, কাকোল্ড্রিতে মত্ত
আইনগত কারণে অনেকে একাধিক স্ত্রী না রাখতে পারায় আবার 'সিরিয়াল পলিগামির' চর্চা করছে
যেমন সি এন এন এর ল্যারি কিং ৮ টা বিয়ে ইতোমধ্যেই সেরে ফেলেছেন সিরিয়ালি, রিপ্রডাক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট সংকট বলে বসে থাকে নাই
সবই বাস্তবতা, চোখের সামনেই দেখছি
আসরাফ জুলাই 6, 2011 2:02 পূর্বাহ্ন -
তাহলে মুহাম্মদের বহু বিবহটা অনেকটা জায়েজই বলা যায়
অভিজিৎ জুলাই 6, 2011 2:30 পূর্বাহ্ন
বিবর্তন মনোবিজ্ঞানের (এবং মোটা দাগে বিজ্ঞানের) কাজ বস্তুনিষ্ঠভাবে মানুষের বিভিন্ন আচরণের ব্যাখ্যা দেওয়া, কোন নির্দিষ্ট মানুষের কাজকে 'বৈধতা' দেয়া নয়
এটা করলে ন্যাচারিস্টিক ফ্যালাসি হবে
যেমন এই লেখায় বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের আলোকে ঈর্ষা এবং জিঘাংসার অনুসন্ধান করা হয়েছে, কিন্তু তা বলে কেউ যদি মনে করেন এখানে সাঈদের চোখ উপরে ফেলার মত কাজের বৈধতা দেয়া হয়েছে - এটি মনে করলে কিন্তু ভুল হবে
ইনফ্যাক্ট আমার প্রন্ধের শেষে এজন্যই লিখেছি - "সমাজে যখন নারী নির্যাতন প্রকট আকার ধারন করে, যখন নৃশংসভাবে একটি নারীর গাল নাক কামড়ে জখম করা হয়, রাতারাতি চোখ খুবলে নেয়া হয়, এর পেছনের মনস্তাত্বিক কারণগুলোও আমাদের খুঁজে বের করা জরুরী
আমাদের বোঝা দরকার কোন পরিস্থিতিতে সাইদের মত লোকজনের আচরণ এরকম বিপজ্জনক এবং নৃশংস হয়ে উঠতে পারে"
আরো উদাহরণ দেই - বিজ্ঞানীরা প্রানী জগতে হত্যা কিংবা ক্যানাবলিজমের ব্যাখ্যা হাজির করতে পারেন (যেমন মাকড়শা জাতীয় প্রানীর ক্ষেত্রে এটি খুবই কমন), কিন্তু তা বলে কেউ যদি বলেন, এতে করে আশির দশকে খলিউল্লাহর কবরস্থানে বসে মরা মানুষের কলিজা খাওয়াকে বৈধতা দেয়া হল, তাহলে কিন্তু ভুল অনুসিদ্ধান্তের দিকে চলে যাবে!
বিবর্তন মনোবিজ্ঞানের সাহায্যে নির্মোহভাবে আচরণ বিশ্লেষণই করা যেতে পারে, এর সামাজিক ঔচিত্য বা জায়েজ না জায়েজ নিয়ে পেরেশান করা নয়
পাপিয়া চৌধুরী জুন 28, 2011 7:19 অপরাহ্ন -
বরাবরের মত চমৎকার একটি লেখা
উদাহরণ হিসেবে রুমানা মঞ্জুর কেসের উল্লেখ থাকায় ব্যাপারটা বোঝা আরও সহজ হল
শুরুতে কেসটি সম্পর্কে জানার পর মনে হয়েছিল নৃশংসতাটা ধর্মীয় গোঁড়ামী আর অন্ধতারই অন্যপ্রকাশ
আপনার দেওয়া জৈবিক এবং বিবর্তনীয় ব্যাখ্যাটা জেনে দৃষ্টিকোণ বদলাল
ধন্যবাদ এতো সুন্দর সিরিজের জন্য
বৈজ্ঞানিক লেখায় এই মাত্রায় বিনোদন আমি আগে খুঁজে পাই নি
অভিজিৎ জুন 29, 2011 8:32 পূর্বাহ্ন -
@পাপিয়া চৌধুরী,
ধন্যবাদ এতো সুন্দর সিরিজের জন্য
বৈজ্ঞানিক লেখায় এই মাত্রায় বিনোদন আমি আগে খুঁজে পাই নি
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ পড়বার জন্য
লেখক হিসেবে এটা আমার খুব বড় প্রাপ্তি!
ভবঘুরে জুন 29, 2011 10:15 পূর্বাহ্ন -
@পাপিয়া চৌধুরী,
বিবর্তনীয় ব্যখ্যা যে যেভাবেই করুক না কেন, বিষয়টা অনেকাংশেই নৈতিকভাবে ব্যখ্যা করার দাবি রাখে
একই সাথে এ ব্যখাও থাকা দরকার যে রুমানার স্বামী ঈর্ষা বা গায়ের জোরে তার ওপর অত্যাচার করার পর সে নৈতিকভাবে নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করে কি না
আমার মনে হয় ধর্মীয় দৃষ্টি কোন থেকে সাইদ মিয়া মোটেই নৈতিকভাবে নিজেকে দোষী সাব্যাস্ত করে না বা নিজের কাছে সে অনুতপ্তও নয়, যদিও মারের চোটে পুলিশের কাছে হয়ত নানা রকম কথা বলছে এখন
আর সেটাই আসল বিষয় হওয়া উচিত
কারন পবিত্র কুরান শরীফে আল্লাহ বলছেন- যাহাদের অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখিতে পাও, তাহাদিগকে উপদেশ দাও, এবং তাহাদের সহিত শয্যা বন্ধ কর এবং তাহাদিগকে প্রহার কর, তারপর যদি তোমাদের নির্দেশ অনুযায়ী চলিতে থাকে, তাহা হইলে তাহাদের উপর নির্যাতনের পন্থা অবলম্বন করিও না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুউচ্চ মর্যাদাশীল মহান
সূরা-৪:নিসা, আয়াত:৩৪
সাইদ মিয়া আল্লাহর বিধান মতই আচরন করেছে
সে তার স্ত্রীর মধ্যে অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিল, তাই তাকে পিটিয়েছে
তাই সে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কোন অন্যায় করেনি
আর পিটানোর সময় হাড় গোড় ভাংতেই পারে বা চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে
সাইদ মিয়া ইসলামিক স্বামীর যথার্থ আচরনই করেছে
তাই নারীদের উচিত- তারা পুরুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার চাওয়ার আগে আল্লাহর উপরোক্ত বিধান মানে কি না
উপরোক্ত বিধানও মানবে আবার স্বামীর হাতে মারও খেতে চাইবে না - এটা বোধ হয় সম্ভব নয়