content
stringlengths
0
129k
এই ভ্যালু কমে যাবার ভয়ে অত্যাচার-নির্যাতনকে সহ্য করাটা স্রেফ বোকামি এবং ভীরুতাই বলবো আমি
বিবাহবিচ্ছেদে ঘটালে সমাজ দুশ্চরিত্র বলবে, এই আশংকাই যদি মেয়েদের কুরেকুরে খায়, তাহলে আর আমার বলার কিছু নেই
আরো পাঁচশো বছর তাহলে আমরা অপেক্ষা করতে পারি নারী স্বাধীনতার জন্য
মুক্তমনাতেই একবার আফরোজা আলম একটা লেখা লিখেছিলেন
সেখানে আছে একজন উচ্চশিক্ষিত নারী তাঁর যৌনবিকৃত স্বামীর বিকৃত চাহিদা মেটানোর জন্য কাজের লোকের কাপড় পড়ে স্বামীর কাছে যেতো
ওই লেখাতে সেই বিকৃতমনা পুরুষকে বেশ গালমন্দ করা হচ্ছিল
আমিই প্রথম মন্তব্য করি যে, এখানে মেয়েটারই দায় বেশি তাঁর স্বামীর তুলনায়
অনেক আগেই ওই মহিলার উচিত ছিল তাঁর স্বামীসঙ্গ ত্যাগ করে চলে আসার
আমার সেই মন্তব্যের পরে এই বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, সংসার ভাঙলে নারীদেরকেই দায়ী হতে হয় সমাজে, সে কারণে নাকি মেয়েরা সংসার ভাঙতে খুব সহজে চায় না
আপনার ব্যাখ্যাটাও অনেকটা সেরকমই হলো
আমার কথা হচ্ছে যে, মেয়েরা যদি সমাজকে এতখানি গুরুত্ব দিয়ে থাকে, সামাজিক প্রথাকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা না রাখে, তাহলে তাঁদের মুক্তি আসবে কীভাবে?ঠুঁঠো জগন্নাথ পুরুষতন্ত্রকে আর নখদন্তহীন সমাজকে দায়ী করে আর কতকাল চলা যাবে? তসলিমার মত আর মাত্র একটা সাহসী মেয়েও কি আমরা পাবো না আমাদের সমাজে? সমাজ কি শিক্ষিত মেয়েদের মেরুদণ্ড এতখানি-ই ভেঙে দিয়েছে? নাকি মেয়েদেরই সাহস নেই পরীক্ষা করে দেখার তাঁদের মেরুদন্ডের জোর কতখানি? (এখন কেউ কেউ দীর্ঘদিন খাঁচায় বন্দী থাকা পাখির উদাহরণ নিয়ে আসবেন, সেটাও জানি আমি
মেয়েদের নির্যাতিতা হবার পিছনে সমাজ দায়ী, পুরুষতন্ত্র দায়ী, এতে কোনো সন্দেহ নেই
কিন্তু এই সামাজিক প্রথাকে অস্বীকার করার অক্ষমতা, এই পুরুষতন্ত্রকে কার্যকর কোনো প্রতিবাদে ছাড়া মেনে নেওয়াটাতেও আমি মেয়েদের দায় দেখি
যে অত্যাচারিত হচ্ছে সক্রোধে তাকেই প্রথম রুখে দাঁড়াতে হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে
সেখানে কে কী মনে করবে, সেই সংশয়ে পড়ে থাকলে চলবে না
দয়াদাক্ষিণ্য যেমন ঘর থেকে শুর করতে হয়, বিপ্লবের অগ্নিস্ফূলিঙ্গও তেমনি নিজের উনুন থেকেই জ্বালাতে হয় প্রথম
কিন্তু রুমাণা মঞ্জুর বিবর্তনীয় গড়ের প্রতিনিধিত্ব করে
রুমানা মঞ্জুরের ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, মেয়েদের এই গড় থেকে বিচ্যুতির সময় এসে গিয়েছে এখন
মার খাওয়ার পিছনের হাজারো কারণকে না খুঁজে, সাহস করে পাল্টা মার দিতে শিখুক মেয়েরা
দেখবেন পালিয়ে কুল পাবে না সমাজ, পুরুষতন্ত্র নামের এই্সব জুজুগুলো
অভিজিৎ জুন 28, 2011 1:33 পূর্বাহ্ন -
@ফরিদ আহমেদ,
আলোচনা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে
দেখি অপার্থিব কি বলে
আমি কেবল একটি বিষয়ে কিছু মন্তব্য করতে চাই -
কোনো পুরুষ যখন অসংখ্য নারীর সাথে মিলিত হতে চায়, তখন সে বংশানুবৃদ্ধির উদ্দেশ্য দ্বারা চালিত হয়, নাকি স্রেফ আনন্দলাভের পৈশাচিক ইচ্ছা থেকে মিলিত হয় সেটা নিয়ে দ্বিধায় থাকি আমি
ব্যাপারটা যদি স্রেফ আনন্দলাভের জন্যও হয়ে থাকে তাহলেও আমাদের খুঁজে দেখতে হবে কেন একাধিক নারীর সাথে মিলিত হওয়াটা 'আনন্দজনক' মনে হচ্ছে! এটা আনন্দজনক মনে হয় কারণ, বিবর্তনগতভাবে সম্ভবতঃ এটি পুরুষদের মানসিকতায় একটা উপযোগিতা দিয়েছিলো অতীতে (ক্ষমতা বাড়িয়ে অধিক নারীর দখল নেয়া, যেটা আমি আমার আগের লেখায় বলেছি)
জেরাড ডায়মণ্ডের একটা চমৎকার বই আছে, ?:
তবে আমি আপনার সাথে একমত - রুমানা মঞ্জুরের ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, মেয়েদের এই গড় থেকে বিচ্যুতির সময় এসে গেছে
কিন্তু সেটা রাতারাতি সম্ভব কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন
বন্যা আহমেদ জুন 28, 2011 3:26 পূর্বাহ্ন -
@ফরিদ ভাই, আফনের জ্বালাময়ী 'নারীবাদী' বক্তৃতা শুনে মন্তব্য না করে আর পারলাম না, প্রায় চার মাসের নীরবতা ভাঙতেই হল
আপনি যে প্রগতির কথা বলছেন তা যে ঘটছে না তা কিন্তু নয়, মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং সেই সাথে সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে মেয়েরা (এবং সন্তানসহ মেয়েরাও)এ ধরণের সম্পর্কগুলো থেকে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে
আমার মা'দের প্রজন্মে বহু প্রফেশনাল মহিলাকে দেখেছি শুধুমাত্র সমাজ এবং ছেলেমেয়ের মুখ চেয়ে এ ধরণের সম্পর্কে সারাজীবন থেকে যেতে, কিন্তু আমার প্রজন্মে এসে এভাবে মুখবুজে অত্যাচার সহ্য করার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে, অনেক বেশী হারে মেয়েরা এ ধরণের সম্পর্কের বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে
আমার চারপাশে চেনা জানা বহু মেয়েই তো বেড়িয়ে এসেছে
এখন দেশে যে হারে ডিভোর্স হয় সেটা কয়েক দশক আগেও চিন্তা করা যেত না
আর মেয়েরা স্বাবলম্বী হতে শুরু করলে এ ধরণের ডিভোর্সের সংখ্যা যেমন বাড়তে বাধ্য ঠিক তেমনি সমাজের পরিবর্তনও ঘটতে বাধ্য
আর আমরা বিবর্তনীয়ভাবে অনেক কিছুতেই আনন্দ পেতে পারি, এটা যেমন বিবর্তনীয় বাস্তবতা ঠিক তেমনি আমাদের বড় মাথাটা যে এরকম অনেক প্রাকৃতিক আনন্দে বাগড়া দিতে সক্ষম সেটাও কিন্তু বিবর্তনীয় বাস্তবতারই অংশ
সেজন্যই তো নেচার ভিয়া নারচার ( যেটা নিয়ে লিখে একসময় কোপের মুখে পড়েছিলাম... ) বিতর্কগুলো এখনো এত সোচ্চার, আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে যত এগিয়ে যাচ্ছি ততই আরো বেশী করে বুঝতে শুরু করেছি মানুষের বিবর্তনে পরিবেশের ভূমিকা আসলেই কতখানি
আমরা আমাদের চারপাশের অনেক কিছুই বদলাতে সক্ষম, যেটা খুব কম প্রাণীই করতে পারে এবং আমাদের এই অমূল্য ক্ষমতাটাও বিবর্তনেরই ফসল
আমাদের বিভিন্ন ক্রিয়া-কর্মের পিছনের বিবর্তনীয় কারণগুলোকে উপেক্ষা না করে ( যেটা অনেক সমাজবিজ্ঞানী করার চেষ্টা করেন, যদিও সেই ট্রেন্ডটা আজকাল অনেক কমতে শুরু করেছে বলেই আমার বিশ্বাস, আর আপনি উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন তাও বলছি না কিন্তু 🙂 ) সেগুলোকে সঠিকভাবে বুঝতে পারলেই বরং আমাদের এই 'বিচ্ছিরিরকমের' বড় মাথাটার ব্যবহার আরও সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে
শ্রাবণ আকাশ জুন 28, 2011 6:46 পূর্বাহ্ন -
@বন্যা আহমেদ,
মেয়েরা স্বাবলম্বী হতে শুরু করলে এ ধরণের ডিভোর্সের সংখ্যা যেমন বাড়তে বাধ্য ঠিক তেমনি সমাজের পরিবর্তনও ঘটতে বাধ্য
আমরা কি এই "ডিভোর্স" দিয়েই সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে চাই নাকি অন্য কোনো বেটার অপশন আছে?
নীল রোদ্দুর জুন 28, 2011 10:56 পূর্বাহ্ন -
@শ্রাবণ আকাশ,
আমরা কি এই "ডিভোর্স" দিয়েই সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে চাই নাকি অন্য কোনো বেটার অপশন আছে?
ডিভোর্স ব্যাপারতাকে ঋণাত্মক দৃষ্টিভংগীতে দেখার যৌক্তিক কারণ কি? বিয়ে মানে যদি হয় লিগাল পেপারে সাইন করে সারাজীবনের দাসত্ব, তাহলে জেনেশুনে দাসী হবে কেন, যদি তার বোঝার বোধ থাকে, আমি এই ব্যক্তিকে বিয়ে করে আসলে দ্বাসত্বের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করছি? দুজন মানুষ তখনই ডিভোর্সের দিকে আগায়, যখন তাদের মধ্যে সম্পর্কটা সুন্দর হবার আর কোন সম্ভাবনা থাকে না
এই রকম অবস্থায় বিয়েটা টিকিয়ে রাখা কার জন্য ভালো এবং কেন?
আমি ডিভোর্সড নারীদের সাথে কথা বলে দেখেছি, তারাও বলেন, একা সন্তানকে লালন পালন করা কষ্টের
কথা অবশ্যই সত্য
কিন্তু রুমানা মঞ্জুর যদি বলেন, আমি এতোদিন বের হয়ে আসার চেষ্টা করিনি, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, তাতে কি কোন শুভ ফল আসলো? একটা ব্রোকেন ফ্যামিলির ছেলে বা মেয়ে যে মানসিক যন্ত্রণায় ভগে, একটা অশান্তিপূর্ণ পরিবারের ছেলে/মেয়ে তার চেয়ে কম যন্ত্রণায় ভগে না
বরং তাদের মাঝে সম্পর্কের ব্যাপারে ভয় কাজ করে
তারচেয়ে যদি মানসিক বা শারিরীক নির্যাতনের শিকার সন্তান সহ নির্যাতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতো, তাহলে সন্তান বাবার অভাব বোধ করত, আশেপাশের মানুষদের দেখে ভাবতো, আমার জীবন কেন সবার মত হল না, কিন্তু সেই সাথে অন্য অনেকশিশুর চেয়ে আগে পৃথিবীর, সমাজের কথিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাড়াতে শিখতো
আর যদি বের না হয়ে আসতো, তাহলেও কি সন্তান পিতৃস্নেহ পেত? যে পুরুষ সংগীনিকে ভালো না বেসে নির্যাতন করছে, বা অধিকার খাটিয়ে বোইবাহিক সম্পর্কের কারনে মানসিক বা শারিরীক নির্যাতন করছে, সেই পুরুষ সন্তানের প্রতি সহানুভুতিশীল হতে পারে কতটা? আর সন্তানই কি পারে চোখের সামনে বাবা মায়ের আঘাত প্রতিঘাত দেখে কিভাবে বাবা মায়ের ভালোবাসা মনের আনন্দে উপভোগ করতে?
পরিণাম যদি সেই আদরের সন্তানের মানসিক যন্ত্রণায় হয়, তাহলে ডিভোর্সই কি ভালো নয়? তবে, আমাদের দেশে নারীরা এত সহজে দিভোর্সের দিকে যেতে পারেনা, কারণ তাদের অর্থনৈতিক জোর থাকে না
শৈশব কৈশরেই মেয়েদের ব্যক্তিত্বের ডানা ভেঙ্গে দেয়া হয়
যদি একটা মেয়ের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় হয়, তবে কেন সে বিপ্লবের পথ বেছে নেবে না
নারী কি হালের গরু নাকি, জোয়ালের সাথে জুড়ে দিলেই আমৃত্যু তাকে জোয়াল টানতে হবে?
এইবার পুরুষের কথায় আসি, একজন পুরুষ যদি দেখে তার সহধর্মিনীর ধর্ম ভিন্ন আসলে, সে তাকে ভালোবাসে না, তাহলে জোর করে সেই বা কেন তাকে আটকে রাখবে? বা নারীই যদি দেখে তার পতি অন্য নারীতে আসক্ত, তাহলে সে কোন যুক্তিতে তার পতির ভালোবাসা চাইবে? সেটা মানসিক যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছু কি? বিয়ে একটা সামাজিক প্রথা, একটা সোশ্যাল ডিক্লিয়ারেশন, তার চেয়ে বেশী কিছু নয়
এই সামাজিক প্রথাকে শক্ত করে আকড়ে ধরে রাখা আর কুসংস্কারকে আকড়ে ধরে রাখা তো একই কথা!
যদি সত্যি দুজন নারী পুরুষের মধ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস শ্রদ্ধার সম্পর্ক থাকে, তাহলে তো কেউ কেবল বিল্পব ঘটানোর জন্য ডিভোর্সের পথে যায় না
আর যদি সন্তানের জন্যও ভালোবাসাটা বাবা মায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলেও নারী বা পুরুষ সংসার করতে এসে পরষ্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায় না
ডিভোর্স এড়ানোর একমাত্র সমাধান হতে পারে মানবিকতা বধ এবং ভালোবাসা, আর কিছু নয়
জোর করে সম্পর্ক চাপিয়ে দেয়া, বা পোশাকি সম্পর্ক চাপিয়ে রাখা অমানবিক ছাড়া আর কিছু নয়
পুরুষতান্ত্রিকতার তথাকথিত ধারণা থেকে বের হয়ে আসুন
প্রথাকে প্রতিষ্ঠিত করার অনেক অজুহাত পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তাতে মানবতা বোধ, ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না
শ্রাবণ আকাশ জুন 28, 2011 10:35 অপরাহ্ন -
@নীল রোদ্দুর, নাহ্‌ নেগেটিভ দৃষ্টিতে দেখি নাই
আলোচনাটা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই একটু দৃষ্টিপাত করেছি মাত্র
"ডিভোর্স এড়ানোর একমাত্র সমাধান হতে পারে মানবিকতাবোধ এবং ভালোবাসা, আর কিছু নয়
জোর করে সম্পর্ক চাপিয়ে দেয়া, বা পোশাকি সম্পর্ক চাপিয়ে রাখা অমানবিক ছাড়া আর কিছু নয়
এই জিনিসটাই বের করতে চাইছিলাম
আমি যখন "বেটার অপশন" শব্দ দুইটা লিখছিলাম তখন আমার মাথায়ও এই ব্যাপারটাই কাজ করছিল
অভিজিৎ জুন 29, 2011 8:27 পূর্বাহ্ন -
খুব চমৎকার একটা মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, নীল রোদ্দুর
বন্যা আহমেদ জুন 28, 2011 9:32 অপরাহ্ন -
@শ্রাবণ আকাশ, যে কোন শব্দ বা মন্তব্যকেই কান ধরে টেনে কন্টেক্সটের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব
আপনার কী করে মনে হল আমি শুধু ডিভোর্স দিয়েই সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে চাই তা আমার ছোট বুদ্ধিতে বুঝে ওঠা সম্ভব নয়
কিন্তু সে আলোচনায় গিয়ে লাভ নেই, ডিভোর্স কথাটা শুনলেই আতঁকে ওঠাটা মোটেও নতুন কিছু নয়...
আমি ডিভোর্সের প্রসঙ্গে এনেছিলাম ফরিদ ভাইয়ের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি রুমানার মত এবিউসিভ সম্পর্কগুলোতে মেয়েরা কেন বেড়িয়ে আসেনা তা নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন
চোখ তুলে নিয়ে, নাক ফাটিয়ে দিয়ে একটা মেয়েকে প্রায়-মৃত করে ফেলে দেওয়া সম্ভব যে সম্পর্কে, সেখানে ডিভোর্স ছাড়া আর কী উপায় থাকতে পারে তা আমার জানা নেই
এখানে অনেকের অভিমত অনুযায়ী এই অবস্থায় একটা মেয়ের পরিবারের কাছে গিয়ে পায়ে পড়ে মিনতি করে বা কাউন্সেলিং করে কী ফায়দা হবে তা আমার জানা নেই, আমার মতে রুমানাদের মত মেয়েদের এই অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই এধরনের সম্পর্কগুলো থেকে বেড়িয়ে আসা দরকার
আর হ্যা, আমি মনে করি যে কোন সমাজে মেয়েদের ডিভোর্সের অধিকার সুনিশ্চিত করাটা নারী অধিকারের অন্যতম পূর্বশর্ত
যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়েরা সমাজ থেকে নিশ্চয়তা না পাবে যে ডিভোর্সের পরে সমাজ তার এবং তার সন্তানদের নিরাপত্তা বিধান করবে, তাদের হেয় চোখে দেখবে না ততক্ষণ পর্যন্ত একজন নারীর পক্ষে এ ধরণের সম্পর্কগুলো থেকে বেড়িয়ে আসা কঠিনই হবে
তারপরে একজন মেয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করে বেড়িয়ে আসবে কী না আসবে সেটা তার সিদ্ধান্ত, কিন্তু এ ধরণের অপশানগুলো নিশ্চিত করতে না পারলে মুখে নারী অধিকার নিয়ে গলা ফাটিয়ে কোন লাভ হবে না
আর এই অধিকারগুলো অর্জন করা খুব সোজাও নয়, এর পিছনে অর্থনৈতিক সামাজিক ধর্মীয় বিশ্ব পরিস্থিতির এক জটিল সমীকরণ কাজ করে
শ্রাবণ আকাশ জুন 28, 2011 10:45 অপরাহ্ন -
@বন্যা আহমেদ,
মেয়েরা স্বাবলম্বী হতে শুরু করলে এ ধরণের ডিভোর্সের সংখ্যা যেমন বাড়তে বাধ্য ঠিক তেমনি সমাজের পরিবর্তনও ঘটতে বাধ্য
দেখেন আপনার এই লাইনটা নিয়ে কেউ উলটা দিক থেকে ব্যাখ্যা করে দিতে পারে যে মুক্তমনারা সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়াতে বলছে! 🙂
এই সুযোগটা কাউকে দিতে ইচ্ছে হয় নি বলেই প্রশ্নটা তুলেছি যাতে এখানেই আলোচনা বা ব্যাখ্যা হয়
উপরে ব্লগার নীল রোদ্দুর সুন্দর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন
বিয়েটা শুধু লিগাল পেপারে সাইন করে জোড়া দিয়ে নয়, প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে জোড়া হোক- এটাই সবার কাম্য
আর উলটা হলে ডিভোর্স হওয়াটাই যুক্তিসংগত
সেক্ষেত্রে আমি ফরিদ আহমেদ-এর কথাগুলোও টানবো
যে কোনো বিপ্লবেই কাউকে না কাউকে ঝড়-ঝাপ্টা সহ্য করতে হবে প্রথমে
উনি ব্যাখ্যা করেছেন যে এটা মেয়েদেরকেই করতে হবে
কিন্তু সেটা এখনো শুরু হয়নি