content
stringlengths 0
129k
|
|---|
বিবর্তনবাদী মনোবিদ্যা বলছে- "কাকোল্ড্রির শিকার হয়ে পুরুষ অন্যের সন্তান মানুষ করে ফেললে সে জেনেটিকালি লুজার হয়ে যাচ্ছে, এর ফলেই জেলাস হওয়াটা তারজন্য মঙ্গলজনক"
|
বেশ, তো কিভাবে এইটা ভেরিফাইএবল, কি দেখলে তুমি সন্তুষ্ট হতে যাচ্ছো যে তোমার হাইপথেসিস ভুল, কিভাবে তোমার হাইপথেসিস তুমি টেস্ট করতে পারো?
|
সত্যিকারের সায়েন্স কিন্তু এতোটা লড়বড়ে না
|
একপ্রজাতির ফাঙ্গিতে প্রথম এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন খুঁজে পেয়ে আমরা দেখেছি এইটা একটা বেটা ল্যাক্টাম অনু
|
ল্যাক্টাম রিং একটি ৪ মেম্বার্ড রিং তার উপরে একটা কার্বন এসপি২ হাইব্রিডাইজড, তার উপর প্রত্যেকটি কার্বন জড়িত হেটেরোএটমের সাথে
|
বেটা ল্যাক্টাম প্রচন্ড প্রচন্ড ল্যাবাইল একটা অনু যার ফলে কিনা অনেক বেটা ল্যাক্টাম এন্টিবায়োটিক গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল পথে প্র্যোগ করা যায় না, পাকস্থলীর চরম অম্লীয় পিএইচ-এ ল্যাক্টাম রিং ভেঙ্গে যায়, প্রয়োগ করতে হয় ইন্ট্রাভেনাস পথে
|
এইসব দেখে আমরা বলেছি- বেটা ল্যাক্টাম যখন এতোটাই ল্যাবাইল, তখন খুব সম্ভবত চার বিলিয়ন বছর ধরে সদর্পে টিকে থাকা ব্যাক্টেরিয়াতে ইতিমধ্যেই বেটাল্যাক্টামেজ এনযাইম বিবর্তিত হয়েছে এদের ল্যাক্টাম রেসিস্টেন্স দিতে, এবং খুব সম্ভবত এই বেটা ল্যাক্টামেস আমরা পেতে যাচ্ছি সেই ইকোলজিকাল নিচ দখল করে রাখা ব্যাক্টেরিয়াতেই যেই ইকোলজিকাল নিচে আমরা প্রথম পেয়েছিলাম ল্যাক্টাম উতপাদনকারী ফাঙ্গি
|
এবং গেস হোয়াট, আমাদের প্রেডিকশন হয়েছিলো বাস্তবতার সাথে ১০০% সঙ্গতিপুর্ণ
|
তারপর আমরা বলেছি- ওয়েল, ব্যাক্টেরিয়া যেহেতু পিলির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে প্লাজমিড আদান-প্রদান করে, তাহলে এন্টিবাইয়োটিক ব্যাবহার বাড়ার সাথে সাথে বেটা ল্যাক্টামেজ জিন আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়তে থাকবে সেই ইকোলজিকাল নিচ বহির্ভুত অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়াতেও
|
এইবারেও আমাদের অপ্রেডিকশন হয়েছে বাস্তবতার সাথে ১০০% সঙ্গতিপুর্ণ
|
আমরা বেটা ল্যাক্টামেজ ইনহিবিটর ডিভেলপমেন্টে মনোনিবেশ করেছি
|
তারপর আমরা বলেছি অদুর ভবিষ্যতে এমন একটা নতুন এনযাইম বিবর্তিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে যেটা কিনা ল্যাক্টামেজ ইনহিবিটরের বিরুদ্ধেও রেসিস্টেন্স অর্জন করবে এবং এইটা ঘটবে কোন অনুন্নত এবং চরম চরম ঘন বসতিপুর্ণ দরিদ্র দেশে
|
এইবারেও আমাদের প্রেডিকশন হয়েছে ১০০% সঠিক যখন কিনা ২০০৮ সালে প্রথম আইসোলেট করা হয় নিউ দিল্লি মেটালো বেটা ল্যাক্টামেজ বা -1 এক্সপ্রেসকারি নিউমোনিয়া ব্যাক্টেরিয়া
|
আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী আরও আছে, খুব সম্ভবত আমাদের জীবদ্দশায় আমরা দেখতে যাচ্ছি পোস্টএন্টিবায়োটিক এইজের আগমন, যখন কিনা বেঁচা থাকা প্রত্যেকটি ব্যাক্টেরিয়াই এক্সপ্রেস করবে -1 বা ল্যাক্টাম রিং ভাঙ্গার অন্যকোন চরম চরম দক্ষ জিন! এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপুর্ণ হয় কিনা সেটা ভবিষ্যতই বলতে পারে, ব্যক্তিগতভাবে আমি ইম্পোজ করবো এরাউন্ড ৯০% সম্ভাবনা!
|
সত্যিকারের বিজ্ঞানের এই ভিগরাস বিজয়ের কাছে কার্গোকাল্ট বিজ্ঞানের অবদান কতোটুকু, বাস্তবতার অসাথে এইরকম লক এন্ড কি ফিট কবে নিয়ে আসতে পেরেছে কার্গোকাল্ট বিজ্ঞান? পারেনাই কি কারণে, কারণটা আবার এইটা না তো যে- এরা বাস্তবতা সম্পর্কে কোন ড্যামই দেয় না, তারা কথা বলে মানবো প্রবৃত্তি নিয়ে বাস্তবতার বিপরীতে সেটাকে প্রোব করার, যেটাকে অ্যাসে করার কোন উপায় নেই? কার্গোকাল্ট বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এইটা মানুষ কিনে কেননা এইটা বোঝা সহজ, এইটা করা সহ্ এইটা করতে কোন স্পেশাল স্কিল লাগে না, হাড়ো ভাঙ্গা খাঁটুনী করতে হয়না, যেইজন্য এইটার নাম কিনা ফাইনম্যান দিয়েছিলো কার্গোকাল্ট বিজ্ঞান
|
এরা শ্রোডিঙ্গার্স ক্যাট নিয়ে হ্যাব্বি টেনশনে পড়ে যায়, তারা বলে বাক্সের ভেতর বেড়াল যতোক্ষণ রয়েছে ততক্ষণ বেড়ালটি একইসাথে জিবীত এবং মৃত
|
বেশ ভালো কথা, তো বাক্সটা খুলে দেখি তোমার বক্তব্য সত্য কিনা
|
তখন তারা বলে যে- না না বাক্স খুলে ফেললে ওয়েইভ ফাঙ্কশন কলাপ্স করবে
|
অর্থাত, এইটা একটি বোথ ওয়েই সোও, দুই দিক দিয়েই এইটা কাটে, যেইকারণে শ্রোডিঙ্গার নিজে কিন্তু এটাকে বলেছিলো নিছকই একটি থট এক্সপেরিমেন্ট
|
অপরপক্ষে শ্রোডিঙ্গারের অন্যান্য অবদান যা কিনা বাস্তবতায় ট্রান্সলেট হয় এবং মনোমুগ্ধকর নিখুঁত ফল দিতে পারে, যেমন- বর্তমানে কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রিতে ব্যাবহৃত এব ইনিশিয়ো মডেলিঙ্গ, মন্টে কার্লো সিমুলেশন এবং হার্ট্রি-ফক এপ্রক্সিমেশন ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই কেননা এইগুলি বুঝতে আসলেই পড়াশুনা জানা লাগে
|
কার্গোকাল্ট বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ একটাই, এইটা বিজ্ঞানের প্রতি মানুষকে অশ্রদ্ধাশীল করে হযরত ফারুকের দঙ্গল জন্ম দেয়, একান্তই ব্যক্তিগত মতামত
|
রিচার্ড ফাইনম্যানের একটা কথা আছে, "বাস্তবতা যদি তোমার না ভাল্লাগে তাহলে অন্য কোথাও যাও, অন্য কোন মহাবিশ্বে যাও যেইখানে বাস্তবতা কিনা তোমার বোঝার পক্ষে পর্যাপ্তভাবে সহজ, তোমার চাহিদানুসারে নান্দনিকভাবে সৌন্দর্যপুর্ণ এবং তোমার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে সমঝোতাপুর্ণ
|
এই মহাবিশ্বের বাস্তবতা এইরকমই, এইটা কঠিন, এবং এর কাঠিন্যকে তোমার বোঝার জন্য সহজ আমি করে দিতে যাচ্ছি না
|
কঠিন বাস্তবতাকেই তোমার বুঝতে হবে
|
আরেকটা ব্যাপার লক্ষণীয় কার্গোকাল্ট বিজ্ঞান চলে মানুষের কথায়, এবং এরচেয়ে অবৈজ্ঞানিক আর কিছু কি হতে পারে? ১৬৪০ সালে বৃটেনে লন্ডনের সমারসেট হাউসে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের পৃষ্ঠপোষকতায় স্থাপিত হয় রয়াল সোসাইটি নামক একটি প্রতিষ্ঠান যার মটো ছিলো যেটি কিনা ছিলো খুব সম্ভবত মানব সভ্যতার প্রথম সায়েন্টিফিক কমিউনিটি
|
সেইখানে নিউটন, হুক এবং রসায়নশাস্ত্রের একজন স্থপতি রবার্ট রয়েল সত্যিকারের বিজ্ঞান করছিলো এবং সেইসময় তাদের সমাজে ছিলো বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা এবং বাস্তবতাকে বোঝার জন্য ছিলো মানুষের ভেতর প্রেরণা, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সেই প্রেরণাকে বাঁচিয়ে রাখা হতো
|
ফলাফল? ওয়েল- ফলাফল স্টীম এঞ্জিন, ইলেক্ট্রিসিটি, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র-গোলাবারুদ, জাহাজ, সমুদ্রযাত্রা অতপর সমগ্র পৃথিবীকে নিজ পদতলে তাদের পরাভুত করা
|
তাদের দিগবিজয়ে তাদের একান্ত সঙ্গী হয়েছিলো সত্যিকারের বিজ্ঞান, তারা রয়াল সোসাইটিতে বসে কার্গোকাল্ট বিজ্ঞান করলে, আলকেমি এস্ট্রোলজি করলে সোমারসেট হাইসমসমেত এতোদিনে তারা হতো ফ্রেঞ্চ কলোনী
|
আপনার যেই প্রতিষ্ঠিত ফ্যানবেইজ রয়েছে তাদের সত্যিকারের বিজ্ঞানে আগ্রহী করে তুললে সেই আগ্রহ তারা তাদের আশপাশের মানুষদের মধ্যে সঞ্চালিত করতে পারে, সঞ্চালিত করতে পারে তাদের সন্তানদের মধ্যে
|
এইটা তারা করলে তাদের নিজেদের, অন্যান্যের এবং কে জানে হয়তোবা সমগ্র বাংলাদেশের চেহারাই পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে
|
আল্লাচালাইনা জুন 28, 2011 6:54 পূর্বাহ্ন -
|
@আল্লাচালাইনা, সরি একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি- মানে হচ্ছে বা 'কারো কথাতেই নয়'
|
টেকি সাফি জুন 28, 2011 4:45 অপরাহ্ন -
|
@আল্লাচালাইনা,
|
বিবর্তনী মনোবিজ্ঞানে যেহেতু ক-অক্ষর বলেন আর ব-অক্ষর বলেন, এক অক্ষরও জ্ঞ্যান নাই তাই এনিয়ে মন্তব্য করতে পারছি না
|
অভিজিৎ ভাইয়ের মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম
|
তবে আপনার আপত্তিটা যথার্থ জায়গায় হয়েছে তা আমি মানছি
|
কারন স্ট্রিং তত্ত্ব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গেলে, বিভিন্ন বিজ্ঞানীর স্ট্রিং তত্ত্ব নিয়ে মতামত দেখে বুঝলাম তাদেরও আপত্তি ঠিক আপনারই মত
|
এমনকি এখানে সংশপ্তক ভাই আমাকে প্রশ্ন করেছিলো স্ট্রিং তত্ত্ব কতটুকু তত্ত্ব? নাকি শুধুই হাইপোথিসিস? তবে আমার মনে হয় স্ট্রিং তত্ত্ব কিন্তু বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের মত এতটা ইনটুইটিভ না, বা হলেও স্ট্রিং তত্ত্ব কিন্তু গানিতিক ভাবে সুসংহত
|
ট্যাকিয়ন কিংবা গ্রাভিটনের সমস্যাও কিন্তু স্ট্রিং তাত্ত্বিকতা গানিতিকভাবে সমাধান করতে পারেন
|
তারপরও এঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, কারন একটাই স্ট্রিং তত্ত্ব ভবিষ্যদ্বানী করছে না
|
রূপম ভাই এখানে আছেন তারও দর্শন এমনই ভবিষ্যদ্বানী করতে হবে, নাহলে ফলসিফাইবল কীভাবে হবে?
|
আর আরেকটা ব্যাপার হলো, আমি নিজেও স্ট্রিং তত্ত্বের ব্যাপক ফ্যান (জাস্ট হাইলী ইন্টারেস্টেড 🙂 ) কিন্তু আমাকে যখন কোন বন্ধু কোন একটা ফ্যাক্ট ব্যাখ্যা করতে বলে, তখন কিন্তু আমি স্ট্যান্ডার্ড ফ্রেমওয়ার্কেই বলি
|
যদিও থিউরি মানেই ফ্যাক্টকে ব্যাখ্যা করে, তারপরও সেখানে আমি স্ট্রিং তত্ত্বকে এখনো সেভাবে ব্যবহার করতে পারিনা
|
তাই অভিজিৎ ভাইয়ের কাছে আমিও প্রশ্ন রাখছি তাহলে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানকে কীভাবে ফ্যাক্ট ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করছেন?
|
অ.টঃ এই কমেন্টটা মোটামুটি ডেভিলস এ্যাডভোকেসী টাইপের, যাতে আমারো কিছু জানা হয়
|
অভিজিৎ জুন 28, 2011 9:02 অপরাহ্ন -
|
@আল্লাচালাইনা,
|
"এইযে পুরুষেরা এতো জেলাস হয় এর অবশ্যই একটা কারণ রয়েছে, এইটা পুরুষের ফিটনেস কোন না কোনভাবে বর্ধিত করছে"
|
খুবই ভাল কথা, কিন্তু এইটা কি অনেকটা সেলফ ইন্টুইটিভই না যে- একটা জিনিষ টিকে থাকলে এইটাই বেশী সম্ভাবনাপুর্ণ যে সেটার কোন না কোন সিলেক্টিভ এডভান্টেইজ রয়েছে? বিবর্তন মনোবিদ্যা নতুন কি উপাত্তটা উতপাদন করলো এইখানে?
|
আপনি বিবর্তন মনোবিজ্ঞান নিয়ে যে আপত্তিগুলো করেছেন, সেগুলো অনেকে পুরো বিবর্তনের জন্যও প্রয়োগ করতে পারেন কিন্তু
|
উদাহরণ দেই
|
ডারউইন বর্ণিত 'সেক্সুয়াল সিলেকশন' এর কথাই ধরুন
|
ডারউইন প্রকৃতিজগৎ অধ্যয়ন করে মত দিয়েছিলেন যে, মেয়েরা হয় খুঁতখুঁতে ( ), অন্যদিকে পুরুষেরা হয় প্রতিযোগিতাপরায়ণ
|
তাদের আকার বড় হয়, তারা হয় বলশালী, আর নানা রকম আকর্ষণীয় ট্রেইট এর হদিস পাওয়া যায় (উজ্জ্বল রঙ, শিং, দ্রুতগামিতা, নৃত্য...)
|
ডারউইন মত প্রকাশ করেছিলেন যে, সেক্সুয়াল সিলেকশনের ফলে মুয়ুরের পেখম বিবর্ধিত হয়েছে, চিত্রল হরিণের শিং বিবর্ধিত হয়েছে ইত্যাদি
|
এখন যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় সেক্সুয়াল সিলেকশন বা সর্বোপরি বিবর্তন এখানে নতুন উপাত্তটা কি উৎপাদন করলো? একটা জিনিষ টিকে থাকলে এইটাই বেশী সম্ভাবনাপুর্ণ যে সেটার কোন না কোন সিলেক্টিভ এডভান্টেইজ রয়েছে? টেকনিকালিটি না হয় বাদ দেন - প্রাকৃতিক নির্বাচনের মূল সংজ্ঞাই তো তাই - প্রতি প্রজাতির জীবে জীবে ইন্ট্রা-স্পিশিজ আর ইন্টারস্পিশিজ প্রতিযোগিতা হয়, যেটাকে ডারউইন বলেছিলান - জীবন সংগ্রাম
|
এই জীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে গিয়ে যে প্রজাতিতে জীবের কোন বৈশিষ্ট বা ভ্যারিয়েশন সামান্য অতিরিক্ত যোগ্যতা বা উপযোগিতা প্রদান করে, সে পরিবৃত্তি নিয়ে জীব প্রতিযোগিতায় সফল হয়
|
তুলনামূলকভাবে উত্তম অভিযোজিত পরিবৃত্তিটি অধিকতর বেশি বংশধর রেখে যায়
|
এটাই কি প্রাকৃতিক নির্বাচনের মোদ্দা কথা নয়? এই প্রাকৃতিকনির্বাচন দিয়েই তো পৃথিবীতে সকল জীবের টিকে থাকাকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে - বলা হয়েছে তারা প্রাকৃতিক নির্বাচনে টিকতে পারেনি
|
তাই না? নতুন উপাত্তটা উতপাদন করলো কোনখানে? তেলাপোকা, বাঘ টিকে আছে, তাই তারা প্রাকৃতিক নির্বাচনে সফল, অপর পক্ষে ডায়নোসর সহ শতকরা ৯৯ ভাগ প্রজাতি টিকতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে
|
এগুলোকে যদি প্রাকৃতিক নির্বাচন, যৌনতার নির্বাচন দিয়ে যদি ব্যাখ্যা করা যায়, তবে আচরনের উপর ডারউইনীয় লজিক প্রয়োগ করলে ক্ষতি কি? এমন তো নয় যে, বিবর্তন কেবল মানুষের ঘারের কাছে উঠে থেমে গেছে , মাথা পর্যন্ত আর এগোয়নি
|
আগেই বলেছি - মানুষের হাতের আঙ্গুল কিংবা পায়ের পাতা তৈরিতে যদি প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং যৌনতার নির্বাচন সহ বিবর্তনের নানা প্রক্রিয়াগুলো ভূমিকা রেখে থাকে, মস্তিস্ক তৈরির ব্যাপারেও এটি ভূমিকা রাখবে এটাই স্বাভাবিক
|
আর মানব মস্তিস্ক গঠনের পেছনে যদি প্রাকৃতিক নির্বাচন, সেক্সুয়াল সিলেকশন সহ নানা বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া দায়ী হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রভাব পড়বে মস্তিস্কের কাজেও
|
মানুষের আচরণই হচ্ছে মস্তিস্কের কাজের ফসল
|
বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানীরা বিবর্তনের যে সূত্রগুলো শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন এবং অভিব্যক্তি প্রকাশের জন্য সত্যি মনে করেন, সেগুলো মস্তিস্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্যও ব্যবহার করতে চান
|
এখন সবসময় সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন সেটা বলছি না
|
ভুলভাবে প্রয়োগ করলে সেটাকে বৈজ্ঞানিকভাবেই খণ্ডন করা সম্ভব
|
এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া
|
কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচন আর সেক্সুয়াল সিলেকশনকে কেবল প্রানীজগতকে ব্যখ্যার জন্য, আর মানব সমাজ কিংবা মানব আচরণকে ডারউইনীয় ব্যাখ্যার বাইরে রাখতে হবে - এটা আমার মতে গোয়ার্তুমি
|
আর আপনি এক্ষেত্রে নতুন উপাত্ত উৎপাদন করেছে কিনা জানতে চাইছিলেন
|
আমার মতে তা করেছে
|
এতোদিন ধরে আমরা বই পত্রে সাহিত্য সংস্কৃতিতে দেখে এসেছিলাম মেয়েদেরকে কামুকী, হিংসুক, ঈর্ষাপরায়ণ ইত্যাদি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে
|
নতুন উপাত্তটা হল ডারউইনীয় লজিক প্রয়োগ করে দেখা গেছে ব্যাপারটা উলটো - পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকার ফলশ্রুতিতে সেক্সুয়াল জেলাসি পুরুষদেরই বেশি
|
তার সঙ্গির অবিশ্বস্ততা নিয়ে তারাই বেশি পেরেশান থাকে, তারাই বেশি সহিংস হয়
|
এটা আপনার কাছে নতুন কোন দৃষ্টিকোন বা উপাত্ত মনে হল না?
|
বিবর্তনবাদী মনোবিদ্যা বলছে- "কাকোল্ড্রির শিকার হয়ে পুরুষ অন্যের সন্তান মানুষ করে ফেললে সে জেনেটিকালি লুজার হয়ে যাচ্ছে, এর ফলেই জেলাস হওয়াটা তারজন্য মঙ্গলজনক"
|
বেশ, তো কিভাবে এইটা ভেরিফাইএবল, কি দেখলে তুমি সন্তুষ্ট হতে যাচ্ছো যে তোমার হাইপথেসিস ভুল, কিভাবে তোমার হাইপথেসিস তুমি টেস্ট করতে পারো?
|
আমার লেখায় বেশ কিছু রেফারেন্স দেয়া হয়েছে কিভাবে এই হাইপোথিসিস টেস্ট করা হয়েছে
|
আমার লেখাটির ৯, ১০, ১১, ১২ নং রেফারেন্সে দেয়া পেপারগুলোতে এ নিয়ে আলোচনা আছে
|
তবে হ্যা স্বীকার করছি, অধিকাংশ গবেষনাই এ মুহূর্তে সমীক্ষাভিত্তিক, তবে ভবিষ্যতে হয়তো মডেলগুলো অনেক জোরালো হয়ে উঠবে
|
এটা তো বিজ্ঞানের সব শাখাতেই হচ্ছে
|
একটি ব্যাপার চিন্তা করে দেখুন - বিবর্তনের ছাপ নারী পুরুষের দেহের উপর পড়েছে
|
এমন নয় বিবর্তন-এর ক্রমধারায় নারী পুরুষের দেহ ঠিক 'একই রকম' ভাবে গড়ে উঠেছে
|
পুরুষ নারীর দেহের আকার আয়তন, দেহসৌষ্ঠব, গলার স্বর, হাটা চলা সবকিছুতেই এই পার্থক্যসূচক অভিব্যক্তিগুলোর ছাপ স্পষ্ট
|
এখন কেউ যদি বলেন - বিবর্তন কেবল মানুষের দেহের উপর কাজ করেছে, আচরণের উপর (মানে নারী পুরুষের মস্তিকের গঠন এবং কাজের উপর) করেনি - এটা কোন বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নয়, আবেগী সিদ্ধান্ত
|
সংস্কৃতি নির্বিশেষে (হোক সেটা সমীক্ষার মাধ্যমেই) যদি পার্থক্যসূচক অভিব্যক্তিগুলো ধরা পড়ে সেটাকে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসার অংশ হিসেবে ধরা যাবে না কেন? যাবে নিশ্চয়
|
সত্যিকারের সায়েন্স কিন্তু এতোটা লড়বড়ে না
|
একপ্রজাতির ফাঙ্গিতে প্রথম এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন খুঁজে পেয়ে আমরা দেখেছি এইটা একটা বেটা ল্যাক্টাম অনু
|
আমি বেটা ল্যাক্টাম অনু নিয়ে আপনার সাথে টেকনিকাল আলোচনায় যাচ্ছি না
|
এটা আমার গবেষণার বিষয়ও নয়
|
কিন্তু যেটা বলতে চাইছি 'সত্যিকারের সায়েন্স কিন্তু এতোটা লড়বড়ে না' বলে যে স্টেটমেন্টটা দিয়েছেন, সেটা ব্যাকফায়ার করতে পারে
|
কেউ বলতে পারেন সত্যিকার সায়েন্সের একটা বড় ভিত্তি প্রেডক্টিবিলিটি
|
যেমন, ৫০ গ্রাম বস্তুর উপর আপনি ২ নিউটন বল প্রয়োগে বস্তুটা ঠিক কতদূরে যাবে আপনি খুব প্রিসাইসলি নিউটনের সূত্র দিয়ে প্রেডিক্ট করা যাবে, এবং সঠিক ফলাফল বেরিয়েও আসবে
|
সেজন্যই এটা শক্তিশালী সায়েন্স
|
এখন যদি আপনাকে বলা হয় যে, এধরণের প্রেডিক্টিবিলিটি বিবর্তনের জন্য (ম্যাক্রোবিবর্তনের জন্য) প্রয়োগ করে দেখান, যাবে কি? আপনাকে যদি বলা হয় একলক্ষ বছর পরে প্রাইমেটদের কী নতুন প্রজাতি থাকবে কিংবা মানুষের মধ্যেই কী কী নতুন বৈশিষ্টের ওভ্যদয় ঘটবে - তা কি আপনি প্রিসাইসলি বলতে পারবেন? না
|
কারণ বিবর্তন ঠিক নিউটনের সূত্রের মত সায়েন্স না, বিবর্তন অনেকটাই ইতিহাস আশ্রয়ী বিজ্ঞান
|
আমরা ততীতের ফসিল রেকর্ড দেখে, ডিএনএ গঠন, মিঊটেশনের হার প্রভৃতি দেখে সিদ্ধান্তে আসি যে অতীতের প্রজাতিগুলোর মধ্যে কি কি পরিবর্তন সংগঠিত হয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতের প্রজাতিদের জন্য কোন নিখুঁত ভবিষ্যদ্বানী সব সময় করতে পারি না
|
জেরি কোয়েন তার ' ' বইয়ে বলেছেন, বিবর্তন প্রেডিকশন করেনা, মুলতঃ করে রেট্রোডিকশন (পৃঃ ১৮)
|
কিন্তু সেজন্য তো বিবর্তনকে স্ট্রং সায়েন্স হতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.