content
stringlengths
0
129k
সোজা বাংলায় তার মানে বলতে চান নবিজী বলে কেউ ছিলেন না?
নবিজীগণ পৃথিবীতে না জন্মালেই ভাল হত
তাতে পৃথিবীর মানুষের কোন ক্ষতি হতনা বরং সংখ্য মানুষ নবিদের ধোঁকা থেকে বেঁচে যেত
তারা দুনিয়ায় এসেছিল মানব জাতির দুর্ভাগ্য স্বরুপ
নিটোল জুন 27, 2011 2:58 পূর্বাহ্ন -
অভিদা, সিরিজটা ভালোবাসা দিয়ে শুরু হলেও ক্রমেই দেখি বিপজ্জনক সব ব্যাপারের দিকে এগুচ্ছে
ব্যাপার কী? :- :))
পুরুষরা নিজেদের পিতৃত্ব নিয়ে কখনোই 'পুরোপুরি' নিশ্চিত হতে পারে না
সত্যি কথা বলতে কি - আধুনিক 'ডিএনএ' টেস্ট আসার আগ পর্যন্ত আসলে কোন পুরুষের পক্ষে একশত ভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা সম্ভব ছিলো না যে সেই তার সন্তানের পিতা
কিন্তু মাতৃত্বের ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়
মাকে যেহেতু গর্ভধারণ করতে হয়, প্রত্যেক মাই জানে যে সেই তার সন্তানের মা
অর্থাৎ, পিতৃত্বের ব্যাপারটা শতভাগ নিশ্চিত না হলেও মাতৃত্বের ব্যাপারটা নিশ্চিত
আপনি বলেছেন এখানে পুরুষের ঈর্ষাপরায়নতার কথা
স্বার্থপর জিন চাইবে তার প্রতিলিপি পরের প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক
তবে এখানে আমার একটি প্রশ্ন আছে
বিস্তারিত বলি
নারী-পুরুষ যেই হোক না কেন তার দেহের স্বার্থপর জিন নিজের স্বার্থ রক্ষায় অবশ্যই কাজ করবে তাই তো? ধরলাম একজন শক্ত-সামর্থ পুরুষ তার জন্য একজন যোগ্য সঙ্গী খুঁজে নিলো
স্বার্থপর জিন যেহেতু চায় তার প্রতিলিপি বহনকারী পরবর্তী প্রজন্ম যেন সুস্থ-সবল হয়
তাই সে চাইবে নারী সঙ্গীটি যেন বিবর্তনীয় দিক থেকে পারফেক্ট হয়
এজন্য সে তার সঙ্গীকে নিয়ে সন্দেহপরায়ন থাকবে
এবার নারীর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখি
নারীও তার জন্য যোগ্য সঙ্গী চাইবে
সে চাইবে তার সন্তানে যেন তার সঙ্গীর সব ভালো গুণগুলো থাকে
সে চাইবে তার সন্তান যেন অন্য সব নারীর সন্তান অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর গুণধর হোক
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে নারী কেন কম যৌন-ঈর্ষায় ভুগবে যেখানে তার বেশি ভোগার কথা
নারী নিশ্চয়ই চাইবে না যে তার যোগ্য স্বামীর জিন অন্য নারীর সন্তানের মধ্যে যাক
সে চাইবে তার সঙ্গীর জিন যাতে শুধুমাত্র তার সন্তানের মধ্যেই ছড়িয়ে যাক
সে নিশ্চয়ই চাইবে তার সঙ্গী শুধুমাত্র তার সঙ্গেই যৌন-সম্পর্কে থাকুক
প্রশ্নটা হয়ত ঠিকমতো করতে পারলাম না, তবু ব্যাপারটা একটু পরিস্কার করবেন কি?
সমাজে যখন নারী নির্যাতন প্রকট আকার ধারন করে, যখন নৃশংসভাবে একটি নারীর গাল নাক কামড়ে জখম করা হয়, রাতারাতি চোখ খুবলে নেয়া হয়, এর পেছনের মনস্তাত্বিক কারণগুলোও আমাদের খুঁজে বের করা জরুরী
আমাদের বোঝা দরকার কোন পরিস্থিতিতে সাইদের মত লোকজনের আচরণ এরকম বিপজ্জনক এবং নৃশংস হয়ে উঠতে পারে
আমাদের অস্তিত্বের জন্যই কিন্তু সেগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন
এখানে আমাদের কি কিছু করার আছে? ঈর্ষার বীজ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের জিনে ঢুকে গেছে
সবার মধ্যে এর প্রকাশ হয়ত ততো জোরালোভাবে হয় না
কিন্তু দুর্বল চিত্তের মানুষ হয়ত এতে বশীভুত হয়ে সহিংস কোনো পদক্ষেপ নেবে
বিজ্ঞান কি এখানে কিছু করতে পারে
জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিং? 😉
সংশপ্তক জুন 27, 2011 4:35 পূর্বাহ্ন -
কিন্তু দুর্বল চিত্তের মানুষ হয়ত এতে বশীভুত হয়ে সহিংস কোনো পদক্ষেপ নেবে
বিজ্ঞান কি এখানে কিছু করতে পারে
জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিং? 😉
যদিও আপনার প্রশ্নটা সুপ্রিয় অভিজিৎ রায়কে উদ্দেশ্য করে করা , প্রশ্নের এই অংশটায় কিছু জিনিষ পরিস্কার করা প্রয়োজন মনে করছি বিষয়টার অতীব গুরুত্বের কারনে
প্রথমেই এটা জানা প্রয়োজন যে জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিং বলতে আসলে কি বোঝায়
কৃত্রিম উপায়ে জীবের () অনু ব্যবহার করে অথবা কৃত্রিম জিনের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ডিএনএ -র এবং জিনোম সিকোয়েন্সের আনবিক কাঠামোতে পরিবর্তন , পরিবর্তন কিংবা সংশোধন করার নামই জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিং
- এটা করার জন্য প্রথমেই চিহ্নিতকরণ আবশ্যক যে, জিনের কিংবা জিনোম সিকোয়েন্সের কোন এলাকা নিয়ে কাজ করতে হবে
ঈর্ষা প্রনোদনা দানকারী কোন জিন থেকে থাকলে ( যদি আদৌ থাকে) কাজটা সেখানই করতে হবে প্রজনন প্রক্রিয়া তে শুরুর আগেই
অর্থাৎ বাবা মায়ের দানকারী শুক্রানু এবং ডিম্বানু নিয়ে কাজ করতে হবে
এছাড়া এই সংশোধনের ফলে জন্ম নেয়া সেই শিশু কেমন হবে সেটাও ভাবনার বিষয়
সেই শিশু মানুষের মত না হয়ে সরীসৃপের মত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না
মানুষ যেহেতু ধান গমের মতো উদ্ভিদ নয় , এ ধরনের "অনৈতিক গবেষণা" সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত নিষিদ্ধ
দেহের কার্যক্রমে বিরাট পার্থক্যের কারনে কৃষিকাজে বা উদ্ভিদ নিয়ে জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিং যত সহজ প্রানী নিয়ে তত সহজ নয়
জীবের একটা প্রোটিন উৎপাদনকারী জিনে পরিবর্তন আসলে তার প্রভাব সেই জীবের অন্যান্য জৈব রাসায়নিক কার্যক্রমে পড়তে বাধ্য
অভিজিৎ জুন 27, 2011 6:51 পূর্বাহ্ন -
চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ
ভাবছিলাম নিটোলের প্রশ্নগুলোর বিস্তৃত একটা উত্তর দেই, কিন্তু আপনি বেশ কিছু জায়গা পরিস্কার করে দিলেন
অনেক ধন্যবাদ
আরো কিছু ছোট খাট প্রশ্ন আছে, যেগুলো সুযোগ আর সময়মত পরিস্কার করা যাবে
আপনি অনেকদিন ধরেই মুক্তমনায় লেখা দিচ্ছেন না
আপনার কিন্তু আরো বেশি করে লেখালিখি করা দরকার
সংশপ্তক জুন 27, 2011 7:01 পূর্বাহ্ন -
জীবের আনবিক বিবর্তনের উপর একটা লেখা শুরু করেছি আমার পুর্ববর্তী সিরিজের ২য় পর্বের জন্য
আশা করছি শীঘ্রই প্রকাশ করতে পারবো
তবে , সাপ্লাই-ডিমান্ড অনুপাতে বিচার করলে দেখা যায় যে মুক্তমনায় বর্তমানে ধর্ম , নারীবাদ এবং রাজনীতির ভিত্তিক লেখারই জয় জয়কার
অভিজিৎ জুন 27, 2011 7:31 পূর্বাহ্ন -
সাপ্লাই-ডিমান্ড অনুপাতে বিচার করলে দেখা যায় যে মুক্তমনায় বর্তমানে ধর্ম , নারীবাদ এবং রাজনীতির ভিত্তিক লেখারই জয় জয়কার
এটা ছদ্মডিমান্ড
কারো কারো অক্রিয়তার সুযোগে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে
🙂 এর জন্য যারা দায়ী তারা সক্রিয় হলে বাজার আগের ফর্মে ফিরে যাবার কথা
অভিজিৎ জুন 28, 2011 3:37 পূর্বাহ্ন -
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া হয়নি
ভাবছি এখন দেয়া যাক
নারী-পুরুষ যেই হোক না কেন তার দেহের স্বার্থপর জিন নিজের স্বার্থ রক্ষায় অবশ্যই কাজ করবে তাই তো? ধরলাম একজন শক্ত-সামর্থ পুরুষ তার জন্য একজন যোগ্য সঙ্গী খুঁজে নিলো
স্বার্থপর জিন যেহেতু চায় তার প্রতিলিপি বহনকারী পরবর্তী প্রজন্ম যেন সুস্থ-সবল হয়
তাই সে চাইবে নারী সঙ্গীটি যেন বিবর্তনীয় দিক থেকে পারফেক্ট হয়
এজন্য সে তার সঙ্গীকে নিয়ে সন্দেহপরায়ন থাকবে
এবার নারীর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখি
নারীও তার জন্য যোগ্য সঙ্গী চাইবে
সে চাইবে তার সন্তানে যেন তার সঙ্গীর সব ভালো গুণগুলো থাকে
সে চাইবে তার সন্তান যেন অন্য সব নারীর সন্তান অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর গুণধর হোক
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে নারী কেন কম যৌন-ঈর্ষায় ভুগবে যেখানে তার বেশি ভোগার কথা
বেসিক থেকে শুরু করা যাক
পরকিয়া, কোকিলাচরণ ইত্যাদি হচ্ছে বিবর্তনের যাত্রাপথে একধরনের 'এডাপ্টিভ' সমস্যা, যেটা নারী পুরুষ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সমাধান করেছে ইতিহাসের যাত্রাপথে
সেক্সুয়াল জেলাসির রকমফেরও নারী পুরুষভেদে ভিন্ন হয়েছে বলে বিবর্তন মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন
আপনি ঠিকই বলেছেন যে, নারী পুরুষ উভয়েই চাইবে সঙ্গি তার সাথেই থাকুক, তার সাথেই যৌনসম্পর্ক রাখুক
অন্য কারো সাথে সম্পর্ক হলে নারী পুরুষ দুজনের জন্যই ব্যাপারটা ক্ষতিকর
কিন্তু তবুও কেন পুরুষদের যৌন ঈর্ষা বেশি বলে বলা হচ্ছে?
এর কারণ হচ্ছে সন্তান উৎপাদনের প্রক্রিয়া, যেটা নারী কেবল নিজের মধ্যে ধারণ করে
পুরুষের মধ্যে নিজের সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে, কোন নারীর নিজের সন্তান নিয়ে সন্দেহ হয় না
মাতৃত্ব নিয়ে একটি নারীর কোন সন্দেহের অবকাশ নেই, এখানে নিশ্চয়তা শতভাগ, তা সেটা যে শুক্রাণু দিয়েই নিষিক্ত হোক না কেন! এই ব্যাপারটাই পুরুষদের যৌনতার ব্যাপারে অধিকতর ঈর্ষাপরায়ন করে গড়ে তুলেছে
ব্যাপারটা পরিস্কার করা যাক
একটি দম্পতির মধ্যে স্বামী যদি প্রতারণা করে এবং অন্য মেয়ের সাথে নন-জেনেটিক সন্তান উৎপন্ন করে, তবে তার স্ত্রীকে সেই সন্তানের ভার নিতে হয় না
যেহেতু স্ত্রীটি গর্ভ ধারণ করেনি, করেছে অন্য একটি মহিলা তাই সেই সন্তানের মাতৃত্ব নিয়ে কোন সংশয় নেই, এবং সাধারণতঃ সেই স্ত্রীকে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য 'অভিভাবকত্বীয় বিনিয়োগ' (নয় মাস ধরে গর্ভ ধারণ, স্তন্য পান করানো, বাচ্চা বড় করা সহ আনুষঙ্গিক কাজ ) করতে হয় না
ফলে তার সঙ্গীর পরকীয়া নারীর জন্য ক্ষতিকর হলেও সেটা সাধারণতঃ সেক্সুয়াল জেলাসিতে রূপ নেয় না, তার মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকে রিসোর্স শেয়ার নিয়ে
কারণ এই ননজেনেটিক সন্তানের জন্য এবং স্বামীর প্রেমিকার জন্য স্বামীর বড় একটি মানসিক শক্তি খরচ হবার আশঙ্কা আছে
এই 'ইমোশনাল এটাচমেন্ট' নিয়েই স্ত্রীর ঈর্ষা থাকে বেশি
কিন্তু অন্যদিকে স্ত্রীর পরকীয়া আর প্রতারণা স্বামীর জন্য অনেক বেশি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়
একে তো সঙ্গী পরকীয়া করছে, সেটাই যথেষ্ট, কিন্তু তার উপর মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে স্বামীর অন্য কারো (অর্থাৎ নন জেনেটিক) সন্তান নিজের সন্তান হিসেবে বড় করার ভয় আছে
আমি আমার লেখায় বলেছি - বিবর্তনীয় পরিভাষায় প্রতারিত পুরুষের সঙ্গি গর্ভধারণ করলে তাকে অর্থনৈতিক এবং মানসিকভাবে অন্যের সন্তানের পেছনে অভিভাবকত্বীয় বিনিয়োগ করতে হবে, যার মুল্যমান জৈববৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে অনেক বলে মনে করা হয়
মূলতঃ তার অভিভাবকত্বের পুরোটুকুই বিনিয়োগ করতে হবে এমন সন্তানের পেছনে যার মধ্যে নিজের কোন বংশানুর ধারা বহমান নেই
অর্থাৎ সঙ্গীর প্রতারণা + নন জেনেটিক সন্তান লালন পালন করার সম্ভাবনা = দুয়ে মিলে ডবল পেনাল্টি