content stringlengths 0 129k |
|---|
" রবীন্দ্রে কৃষি" শিরোনামে কোন লেখা অবশ্য আমি পড়ি নি |
কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ডঃ আতিউর রহমান তো রবীন্দ্রনাথকে অর্থনীতির দিকপাল বানিয়ে ফেলেছেন তার বক্তব্য ও লেখায় |
জমিদার রবীন্দ্রনাথ গরীব চাষীদের নাকি সমবায় শিক্ষা দিয়েছিলেন!! |
রবীন্দ্রনাথের কিছু কিছু কাজ থেকে মনে হওয়া স্বাভাবিক তিনি কৃষি এবং কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্রতী ছিলেন |
১) তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে কৃষিবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছিলেন |
২) কৃষক সন্তানদের জন্য স্কুলের জন্য টাকায় তিন পয়সা হারে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন |
৩) স্থানীয় মহাজনদের গলাকাটা ঋণের হাত থেকে কৃষকদেরকে বাঁচানোর জন্য আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ব্যাংক করেছিলেন পতিসরে |
তাঁর নোবেল পুরষ্কারের সম্পূর্ণ টাকা (১০৮,০০০) এই ব্যাংকে রেখেছিলেন |
সেই ব্যাংক অবশ্য লাটে উঠে |
এখানে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে |
মোজাফফর হোসেন মে 8, 2011 1:10 পূর্বাহ্ন - |
আমাদের শাশ্বতিকীর পরবর্তী সংখ্যা হবে রবীন্দ্রনাথের ওপর |
আগস্ট মাসে প্রকাশিত হবে |
আপনার কাছ থেকে আমরা এ-ধরনের একটি লেখা পেতে পারি কি ? জানাবেন প্লিজ |
ধন্যবাদ লেখাটি শেয়ার করার জন্য |
আমি আগে কোথায় যেন পড়েছিলাম, আবারও পড়লাম |
মোজাফফর হোসেন মে 8, 2011 1:22 পূর্বাহ্ন - |
@মোজাফফর হোসেন, মুক্তমনায় আমার প্রথম লেখাটি ছিল রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে |
যদি কারও ইচ্ছে হয়, একবার চোখ বুলিয়ে দেখতে পারেন... |
অভিজিৎ মে 8, 2011 5:25 পূর্বাহ্ন - |
@মোজাফফর হোসেন, |
আমাদের শাশ্বতিকীর পরবর্তী সংখ্যা হবে রবীন্দ্রনাথের ওপর |
আগস্ট মাসে প্রকাশিত হবে |
আপনার কাছ থেকে আমরা এ-ধরনের একটি লেখা পেতে পারি কি ? জানাবেন প্লিজ |
অবশ্যই |
এই লেখাটিই নিতে পারেন |
শাশ্বতিকীর বহুল প্রচার কামনা করছি |
ফরিদ আহমেদ মে 8, 2011 12:17 পূর্বাহ্ন - |
রবীন্দনাথের নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানে আগ্রহ ছিল |
বিজ্ঞান নিয়ে গোটা দুয়েক বইও লিখেছেন |
একটির নাম এখানে এসেছে, বিশ্বপরিচয়, অন্যটির নাম বিজ্ঞান (এটির মান অবশ্য খুবই শোচনীয় |
ক্লাস ফাইভের পাঠযোগ্যও নয় |
) |
বিজ্ঞানে তাঁর আগ্রহের প্রমাণ পাওয়া বিশ্বপরিচয়ের উৎসর্গপত্রে |
সেখানে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে লিখেছেনঃ |
আমি বিজ্ঞানের সাধক নই সে কথা বলা বাহুল্য |
কিন্তু বালককাল থেকে বিজ্ঞানের রস আস্বাদনে আমার লোভের অন্ত ছিল না |
আমার বয়স বোধ করি তখন নয়-দশ বছর; মাঝে মাঝে রবিবারে হঠাৎ আসতেন সীতানাথ দত্ত [ ঘোষ ] মহাশয় |
আজ জানি তাঁর পুঁজি বেশি ছিল না, কিন্তু বিজ্ঞানের অতি সাধারণ দুই-একটি তত্ত্ব যখন দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতেন আমার মন বিস্ফারিত হয়ে যেত |
মনে আছে আগুনে বসালে তলার জল গরমে হালকা হয়ে উপরে ওঠে আর উপরের ঠাণ্ডা ভারী জল নীচে নামতে থাকে, জল গরম হওয়ার এই কারণটা যখন তিনি কাঠের গুঁড়োর যোগে স্পষ্ট করে দিলেন, তখন অনবচ্ছিন্ন জলে একই কালে যে উপরে নীচে নিরন্তর ভেদ ঘটতে পারে তারই বিস্ময়ের স্মৃতি আজও মনে আছে |
যে ঘটনাকে স্বতই সহজ বলে বিনা চিন্তায় ধরে নিয়েছিলুম সেটা নয় এই কথাটা বোধ হয় সেই প্রথম আমার মনকে ভাবিয়ে তুলেছিল |
অভির এই লেখা এবং রবীন্দ্রনাথের নিজের লেখা বিশ্বপরিচয় পড়লে রবীন্দ্রনাথকে বিজ্ঞানমনষ্ক হিসাবে মেনে নিতে সমস্যা হয় না |
তবে, সমস্যা হয় যখন জানা যায় যে, এই বিজ্ঞানমনষ্ক রবীন্দ্রনাথই অপবিজ্ঞানমূলক প্লানচেটে বিশ্বাস করতেন |
প্লানচেট করে মৃত ছেলের আত্মাকে ডেকে নিয়ে আসতেন |
সেই আত্মার সাথে কথা বলতেন |
কথোপকথনের সেই স্ক্রিপ্টও আবার সংরক্ষণ করে রাখতেন |
বিশ্বপরিচয়ের উৎসর্গের শেষের দিকে একটা লাইন আছে |
এর অর্থ একেবারেই বুঝি নি আমি |
এখানে উদ্ধৃত করে দিচ্ছি |
আজ বয়সের শেষপর্বে মন অভিভূত নব্যপ্রাকৃততত্ত্বে - বৈজ্ঞানিক মায়াবাদে |
তখন যা পড়েছিলুম তার সব বুঝি নি |
কিন্তু পড়ে চলেছিলুম |
আজও যা পড়ি তার সবটা বোঝা আমার পক্ষে অসম্ভব, অনেক বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতের পক্ষেও তাই |
কেউ কি একটু বুঝিয়ে দেবেন, এই বৈজ্ঞানিক মায়াবাদটা কী জিনিস? |
রৌরব মে 8, 2011 12:43 পূর্বাহ্ন - |
@ফরিদ আহমেদ, |
বৈজ্ঞানিক মায়াবাদ |
হাঁসজারুর অপর নাম নয় তো? 😀 |
আল্লাচালাইনা মে 8, 2011 12:49 পূর্বাহ্ন - |
@ফরিদ আহমেদ, |
অভির এই লেখা এবং রবীন্দ্রনাথের নিজের লেখা বিশ্বপরিচয় পড়লে রবীন্দ্রনাথকে বিজ্ঞানমনষ্ক হিসাবে মেনে নিতে সমস্যা হয় না |
তবে, সমস্যা হয় যখন জানা যায় যে, এই বিজ্ঞানমনষ্ক রবীন্দ্রনাথই অপবিজ্ঞানমূলক প্লানচেটে বিশ্বাস করতেন |
প্লানচেট করে মৃত ছেলের আত্মাকে ডেকে নিয়ে আসতেন |
() আমারও তাই মত |
এই লেখাটি পড়ে দ্বিমত করার কোন উপায় নেই যে রবীন্দ্রনাথ নিঃসন্দেহে ছিলেন একজন প্রোসায়েন্স মানুষ, তবে এটাও অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে তিনি ছিলেন সুডোসায়েন্টীফিক অল্টার্নেটীভ ট্রিটমেন্ট ইত্যাদির প্রতি অগাধ অগাধ সহানুভুতিশীল একজন মানুষ |
অভিজিৎ মে 8, 2011 3:37 পূর্বাহ্ন - |
@ফরিদ আহমেদ, |
যাক ফরিদ ভাইয়ের বদৌলতে ভাল আলোচনার সূত্রপাত হল |
বিজ্ঞান নিয়ে গোটা দুয়েক বইও লিখেছেন |
একটির নাম এখানে এসেছে, বিশ্বপরিচয়, অন্যটির নাম বিজ্ঞান (এটির মান অবশ্য খুবই শোচনীয় |
ক্লাস ফাইভের পাঠযোগ্যও নয় |
) |
আমার পড়াশুনা খুব ভাল নয় |
আমার কাছে যা তথ্য আছে তার ভিত্তিতে আমি জানতাম 'বিশ্বপরিচয়'ই রবীন্দ্রনাথের একমাত্র বিজ্ঞানভিত্তিক বা বিজ্ঞানের বই, যেটা তিনি লিখেছিলেন তার ছিয়াত্তুর বছর বয়সে এসে |
'বিজ্ঞান' নামে অন্য কোন বইয়ের কথা আমি শুনিনি (যদূর জানি বঙ্কিমচন্দ্রের একটা বই আছে বিজ্ঞান রহস্য নামে) |
তবে বিশ্বপরিচয় লেখার পরেও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু প্রবন্ধে বা গল্পগ্রন্থে তার বিজ্ঞানমনস্কতার কথা উঠে এসেছে অবশ্য |
এর মধ্যে একটা বোধ হয় 'তিন সঙ্গী' |
এ ছাড়া বিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাও তৈরি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ |
যদিও পরিভাষার চেয়ে ভাষার গতিশীলতার দিকেই তার নজর ছিল |
তিনি বলতেন, 'বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ শিক্ষার জন্য পারিভাষিকের প্রয়োজন আছে |
কিন্তু পারিভাষিক চর্ব্যজাতের জিনিস |
দাঁত ওথার পরের সেটা পথ্য |
সেই কথা মনে করে যতদূর পারি পরিভাষাকে এড়িয়ে সহজ ভাষার দিকে মন দিয়েছি'... |
সমস্যা হয় যখন জানা যায় যে, এই বিজ্ঞানমনষ্ক রবীন্দ্রনাথই অপবিজ্ঞানমূলক প্লানচেটে বিশ্বাস করতেন |
প্লানচেট করে মৃত ছেলের আত্মাকে ডেকে নিয়ে আসতেন |
সেই আত্মার সাথে কথা বলতেন |
কথোপকথনের সেই স্ক্রিপ্টও আবার সংরক্ষণ করে রাখতেন |
একদম ঠিক কথা |
শুধু প্ল্যানচেটেই নয়, রবীন্দ্রনাথের ভিতর আরো অনেক অপবিজ্ঞানের চর্চাই ছিল |
তার মধ্যে একটি হল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা |
জমিদারি দেখভালের জন্য পতিসর কিংবা শিলাইদহর কুঠিবাড়িতে থাকাকালীন লেখালেখির ফাঁকে গরিব প্রজাদের হোমিওপ্যাথির চিকিৎসাও করতেন তিনি |
আমাদের বিজ্ঞানবিমুখ বাঙালিসমাজ রবিঠাকুরের অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা নিয়েও যার পর নাই গর্বিত |
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় শুধু প্ল্যানচেট কবিরাজি হোমিওপ্যাথি নয়, রবীন্দ্রনাথের বিষ্ঠা পেলেও তারা মাথায় করে রাখবেন |
সয়ং রবীন্দ্রনাথের বিষ্ঠা বলে কথা |
এই 'আপ্লুত' রবীন্দ্রস্তাবকদের কথা মাথায় রেখেই আমি স্বতন্ত্র ভাবনা (চারদিক, ২০০৮) বইয়ের ভুমিকায় লিখেছিলাম কিছু অপ্রিয় কিছু সত্যি কথা - |
'চিন্তার দাসত্ব'-এর ক্ষেত্রে কেবল মৌলবাদীদের একচ্ছত্র আধিপত্য তা ভেবে নিলে কিন্তু ভুল হবে |
ভ্রান্ত চিন্তা, কুপমুন্ডুকতা আর অন্ধবিশ্বাস কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আজকের বাংলাদেশের তথাকথিত প্রগতিশীল নামধারী বুদ্ধিজীবী সমাজকেও |
কার্ল মার্ক্স, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ, মাদার টেরেসা, শেখ মুজিবুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ বড় বড় নামগুলো তৈরী করেছে ইতিমধ্যেই তৈরী করে ফেলেছে কিছু অযাচিত মিথ; জন্ম দিয়েছে শত সহস্র স্তাবকের |
এ সমস্ত মনীষীদের আনেকেই অনেক ক্ষেত্রেই প্রগতিশীল চিন্তা করেছেন সত্যি, কিন্তু সেই সাথে আবার তৈরী করেছে কিছু অন্ধবিশ্বাসীদের যারা মনে করেন রবীন্দ্রনাথ কিংবা স্বামী বিবেকানন্দের বাণী মানেই অভ্রান্ত সত্যি |
তাদের 'আরাধ্য দেবতাদের' ন্যুনতম সমালোচনাও তাদের কাছে অসহনীয় |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.