content
stringlengths
0
129k
ঘটনা হচ্ছে, এই বুড়ো অতি অন্যায় রকমের বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন
ফলে, অসংখ্য অপ্রয়োজনীয় আবর্জনাও সৃষ্টি করে গেছেন ভাল জিনিসের পাশাপাশি
কিন্তু রবীন্দ্র পূজোয় আসক্ত আমরা সেই সব বর্জকেও বাতাসা ভেবে জিভে তুলে নেই
বিজ্ঞানের উপরে যত বই পড়েছি আমি, তাঁর মধ্যে এটি অনন্য-সাধারণ
🙂 এই বইটা যদি তোমার আগে পড়া থাকতো তবে রবীন্দ্রে বিজ্ঞান নামে এই লেখাটা তুমি লিখতে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার
এই বইয়ের একটা প্রবন্ধ আমার অসম্ভব প্রিয়
এরকম বিজ্ঞান বিষয়ক অনন্য প্রবন্ধ শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথের হাত দিয়েই বের হতে পারে
:)) পাঠকদের সেই প্রবন্ধের রস আস্বাদনের জন্য পুরো প্রবন্ধটাই এখানে তুলে দিচ্ছি আমি
মাকড়সা-সমাজে স্ত্রীজাতির গৌরব
পৌরুষ সম্বন্ধে স্ত্রী-মাকড়সার সহিত পুরুষ-মাকড়সার তুলনাই হয় না
প্রথমত, আয়তনে মাকড়সার অপেক্ষা মাকড়সিকা ঢের বড়ো, তার পর তাহার ক্ষমতাও ঢের বেশি
স্বামীর উপর উপদ্রবের সীমা নাই, তাহাকে মারিয়া কাটিয়া অস্থির করিয়া দেয়
এমন-কি, অনেক সময় তাহাকে মারিয়া ফেলিয়া খাইয়া ফেলে; এরূপ সম্পূর্ণ দাম্পত্য একীকরণের দৃষ্টান্ত উচ্চশ্রেণীর জীবসমাজে আছে কি না সন্দেহ
পাঠকদের জন্য ছোট্ট একটু ধাঁধা
এই লেখাটা যদি রবীন্দ্রনাথ মুক্তমনায় পাঠাতেন প্রকাশের জন্য, তাহলে কি এটি প্রকাশিত হতো মুক্তমনায়? মডারেটররা কি অনুমোদন দিতেন এই লেখাকে?
রৌরব মে 8, 2011 8:03 অপরাহ্ন -
@ফরিদ আহমেদ,
আপনার কি মনে হয় বয়সের সাথে ওঁর আবর্জনা উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পেয়েছিল? আমার তা মনে হয় নি, মনে হয়েছে একটি ধ্রুব তে বরাবরই কিছু আবর্জনা উৎপাদন করে চলেছিলেন
ফরিদ আহমেদ মে 8, 2011 9:35 অপরাহ্ন -
@রৌরব,
সাধারণত দীর্ঘজীবি কবি-সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে ওরকমই হয়
তবে, রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে মনে হয় উল্টোটাই ঘটেছিল
শুরুর দিকেই তিনি আবর্জনা প্রসব করেছেন বেশি
তাঁর দীর্ঘ জীবন নিয়ে যে কটাক্ষটা আমি করেছি ওটা আসলে রবীন্দ্রনাথ সৃষ্ট শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র অমিত রায়ের ছদ্ম রবীন্দ্র সমালোচনা থেকে ধার করা
কবি সাহিত্যিকরা যখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তখন পাঠক-প্রকাশকদের একটা চাপ তৈরি হয়
ফলে, অনিচ্ছাতেও অনেক সময় অনেক আবর্জনা তাঁদেরকে প্রসব করতে হয়
এর জ্বলন্ত উদাহরণ আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে
হুমায়ুন আহমেদ এবং তসলিমা নাসরিন
তসলিমার প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, কবিতা অত্যন্ত উঁচু মানের
কারণ, এগুলো তিনি ভালবেসে, মনের তাগিদে লিখেছেন
অন্যদিকে, উপন্যাসগুলোর দশা শোচনীয়
কেননা, এগুলো লেখার আগেই প্রকাশকরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে অগ্রীম টাকা দিয়ে আসতো
রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে এই বিভাজন-রেখাটা ভিন্ন
নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্তিটা এখানে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে
নোবেলপ্রাপ্তির পরেই রবীন্দনাথের মধ্যে নিজেকে শোধরানোর, নিজেকে আধুনিক করার একটা প্রয়াস পাওয়া যায়
আহমদ শরীফ তাঁর 'রবীন্দ্রোত্তর তৃতীয় প্রজন্মে রবীন্দ্র মূল্যায়ন' প্রবন্ধে এই বিষয়টাকে চমৎকারভাবে উল্লেখ করেছেন এভাবেঃ
নোবেল পুরস্কারের মান রক্ষার খাতিরেই রবীন্দ্রনাথকে বৈশ্বিক ও বিশ্বমানবিক চিন্তা-চেতনার অনুশীলন করতে হয়েছে
তাঁর দীর্ঘ আয়ু তাঁকে এ সুযোগ-সৌভাগ্য দিয়েছে
পুরস্কার প্রাপ্তির পরে তিনি সুদীর্ঘ আটাশ বছর বেঁচে ছিলেন, তার আগে বাল্য-কৈশোরের যৌবনের মধ্যবয়সের জীবনদেবতা চালিত কাঁচা-পাকা লেখায় ঊনিশ শতক ও এ শতকের এক দশক কেটেছে বটে, প্রায় সমসংখ্যক বছরব্যাপী, কিন্তু পরিচ্ছন্ন ও পরিপক্ক জ্ঞান-প্রজ্ঞা, মন-মনন এবং মনীষা ও নৈপুণ্য নিয়ে বিশ্ববোধ অন্তরে জাগ্রত রেখে লিখেছেন জীবনের স্বর্ণযুগে আটাশ বছর ধরে
বলতে গেলে পুরস্কার পূর্বকালের রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ঊনিশ শতকী কবি আর পুরস্কার-উত্তর কালের রবীন্দ্রনাথ হলেন বিশ শতকের মনীষী মানুষ
সঙ্গীত ও কবিতার ক্ষেত্রে না হলেও অন্যান্য রচনায় উঁচুমানের চিন্তা-চেতনার, ঐহিক চেতনার, উদার মানবতার, বৈশ্বিক অনুভবের ও আন্তর্জাতিক অভিন্ন মানব-লক্ষ্যের স্বাক্ষর ও স্বাক্ষ্য রয়েছে, আঙ্গিক ও ভাষিক উৎকর্ষও লক্ষ্যণীয়
সে কারণেই হয়তো যেখানে 'বিজ্ঞান' গ্রন্থের তাঁর ষোলটি বিজ্ঞান প্রবন্ধ পড়লে হাসি চেপে রাখা দায় হয়ে পড়ে, সেখানে 'বিশ্বপরিচয়' এর মোটামুটি উচ্চ মান বিস্ময় তৈরি করে
এর একটা কারণ হয়তো এই যে, তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে পণ্ডিত কোনো ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে এই গ্রন্থটি লিখেছিলেন
বইটির উৎসর্গেও বিষয়টির কিছুটা উল্লেখ করা আছে
সত্যেন বসুকে তিনি বলেছেনঃ
শ্রীমান প্রমথনাথ সেনগুপ্ত এম. এসসি. তোমারই ভূতপূর্ব ছাত্র
তিনি শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান-অধ্যাপক
বইখানি লেখবার ভার প্রথমে তাঁর উপরেই দিয়েছিলেম
ক্রমশ সরে সরে ভারটা অনেকটা আমার উপরেই এসে পড়ল
তিনি না শুরু করলে আমি সমাধা করতে পারতুম না, তাছাড়া অনভ্যস্ত পথে শেষ পর্যন্ত অব্যবসায়ীর সাহসে কুলোত না তাঁর কাছ থেকে ভরসাও পেয়েছি সাহায্যও পেয়েছি
প্রমথনাথ বইটা লেখা শুরু করেছিলেন, এটা তাঁর বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার
কতটুকু লিখেছিলেন, সেটা অবশ্য রবিবাবু চেপে গিয়েছেন
চেপে না গিয়ে উপায়ও ছিল না তাঁর
নাহলে যে দুজনের নামই দিতে হতো বইটাতে
অবশ্য শেষ বিচারে আমাদের খুশিই হওয়া উচিত এই ভেবে যে, ভূতে ভগবানে সমান বিশ্বাসী একজন লোকের কাছ থেকে বিজ্ঞানের একটা উন্নতমানের বইতো অন্তত পেয়েছি আমরা
আমাদের এই বিশ্বকবি কতখানি অপবিজ্ঞানে বিশ্বাসী ছিলেন এবং এই ধরনের মানস যে কতখানি ক্ষতিকর, সেটা আহমদ শরীফের এ উক্তি দিয়েই খানিকটা মাপা যাবে
পৌরাণিক দেবদেবীর প্রতীকী ভূমিকায় আস্থাবান আমৃত্যু নিষ্ঠব্রাক্ষ্ম পুরোহিত রবীন্দ্রনাথ বক্তৃতায়-বিবৃতিতে স্ব-উপলব্ধ, এক মানস বা মানব ধর্মের কথা উচ্চকণ্ঠে উচ্চারণ করতেন, তখন তাঁর চিন্তায় ও আচরণে, বুকের ও মুখের সত্যে অসঙ্গতি সতর্ক সচেতন মানুষের চোখের অগোচরে থাকেনি
ভূতে ও ভগবানে ছিল তাঁর সমান বিশ্বাস
আমৃত্য ভৌতিক প্লানশেটে ছিল তাঁর গভীর আস্থা
আর কে না জানে এ ধরনের আস্তিকতা মানস-মুক্তির একটি বড়ো অন্তরায়
রৌরব মে 8, 2011 10:30 অপরাহ্ন -
@ফরিদ আহমেদ,
আহমদ শরীফের আলোচনা সরলীকৃত মনে হল
আমি অবশ্য পুরো প্রবন্ধ পড়িনি, আপনার দেয়া উদ্ধৃতির আলোকে বলছি
রবীন্দ্র কবিতা পুরস্কার পূর্ববর্তী "জীবনদেবতা" পর্ব ও পুরস্কার পরবর্তী "বিশ্বমানবতা" পর্বে বিভক্ত, এই বিভাজন অতি-বিভাজন
রবীন্দ্র কবিতার পাঠক মাত্রই জানে যে রবীন্দ্রনাথের জটিল ঈশ্বর-প্রেম-নারী-মানুষ মেশানো অনতিস্পষ্ট যে বলুন, দেবতা বলুন, তার ক্রমবিকাশ ঘটেছে সারা জীবন ধরে, এবং পুরনো ফর্ম বা দৃষ্টিভঙ্গিটি কখনই পুরো চলে যায় নি
এখানে ১৯১৩ কোন বিশেষ মাইলফলক নয়
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে তার ডিসইলুশনমেন্টের পর তার দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা পরিবর্তন আসে, কিন্তু তার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ গোরা ১৯০৯ সালে লেখা
এবং সেই ১৯০৯ ও কোন হঠাৎ পরিবর্তন নয়, বিকাশের একটি স্তর
প্লানচেট-ভূত এব্যাপারে আমার মন্তব্য হল, রবীন্দ্রনাথকে একজন ধর্মীয় গুরুদেব-এর মর্যাদা দেয়াটাই এখানে সমস্যা, নইলে উনি বাড়িতে বসে ওইজা বোর্ড নিয়ে কি ঘষাঘষি করলেন তাতে কি এসে যায়? অযৌক্তিকতা প্রায়শই সৃজনশীলতার
হুমায়ুন আহমেদকেই দেখুন
রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আপনি বিজ্ঞান বই পেয়ে যতটা বিস্মিত হচ্ছেন, আমি ততটা হই না, কারণ পরস্পরবিরোধিতাই হচ্ছে সাধারণ (বিশেষত সৃজনশীল শিল্পীদের মধ্যে), তার অভাবটাই অসাধারণ
ফরিদ আহমেদ মে 8, 2011 11:14 অপরাহ্ন -
@রৌরব,
আহমদ শরীফের আলোচনা সরলীকৃত মনে হওয়ার জন্য কোনো দোষ দেখছি না আমি
রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবদ্দশায় যে পরিমাণ সৃষ্টি করেছেন, তা কালানুক্রম অনুসারে এক এক করে পড়া এবং সেগুলো বিচার বিশ্লেষণটা একটু কঠিন কাজই বটে
তবে, চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে তিনি যে, তাঁর অনেক সমসাময়িক বা পূর্বসূরী সাহিত্যিকদের তুলনায় অনগ্রসর এবং অনাধুনিক ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই
চৈতন্যের ক্রমবিকাশ একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, তবে কোথায় কোথাও তার গতির অসমতা যে দৃশ্যমান থাকবে না এমন কোনো কথা নেই
রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে এই ক্রমবিকাশের হঠাৎ গতি পরিবর্তনটা হয়তো নোবেল পুরস্কারের পরে ঘটেছে বলে আহমদ শরীফের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে
অন্য কারো চোখে এটা হয়তো ভিন্নভাবে ধরা পড়বে
প্লানচেট-ভূত এব্যাপারে আমার মন্তব্য হল, রবীন্দ্রনাথকে একজন ধর্মীয় গুরুদেব-এর মর্যাদা দেয়াটাই এখানে সমস্যা, নইলে উনি বাড়িতে বসে ওইজা বোর্ড নিয়ে কি ঘষাঘষি করলেন তাতে কি এসে যায়?
সেটাই
রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ বলেই এই সমস্যাটা তৈরি হচ্ছে
আপনি রৌরব হয়তো কষ্টিপাথরে যাচাই-বাছাই করে রবীন্দ্রনাথের মণি-মাণিক্যগুলো তুলে নিচ্ছেন, একজন গৌরব হয়তো গুরুভক্তির সুগভীর প্রাবল্যে তাঁর গুরুদেবের মল-মূত্রকেই মণি-মাণিক্য ভেবে গর্বভরে মাথায় তুলে নিচ্ছে
রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আপনি বিজ্ঞান বই পেয়ে যতটা বিস্মিত হচ্ছেন, আমি ততটা হই না, কারণ পরস্পরবিরোধিতাই হচ্ছে সাধারণ (বিশেষত সৃজনশীল শিল্পীদের মধ্যে), তার অভাবটাই অসাধারণ
অভির মতো একজন সৃজনশীল বিজ্ঞান লেখক যে রবীন্দ্রে বিজ্ঞান খুঁজে পেয়েছে, এটাতেও তাহলে নিশ্চয়ই আপনি আমার মতো বিস্মিত নন, তাই না? :))
রৌরব মে 9, 2011 4:03 পূর্বাহ্ন -
@ফরিদ আহমেদ,
অভির মতো একজন সৃজনশীল বিজ্ঞান লেখক যে রবীন্দ্রে বিজ্ঞান খুঁজে পেয়েছে, এটাতেও তাহলে নিশ্চয়ই আপনি আমার মতো বিস্মিত নন, তাই না?
:))
আদিল মাহমুদ মে 9, 2011 9:48 অপরাহ্ন -
@ফরিদ আহমেদ,
দিতেন, রম্য বিজ্ঞান নামের নুতন বিভাগে
অভিজিৎ মে 10, 2011 9:00 পূর্বাহ্ন -
@ফরিদ আহমেদ,
নাম না শুনলেও অপরাধ কিছু নেই
ভদ্রলোক পয়ষট্টি বছর ধরে লিখে গিয়েছেন এক নাগাড়ে
তাঁকে জিজ্ঞেস করলে হয়তো নিজেও বলতে পারবেন না সব বইয়ের নাম
আজকে আমি মোটামুটি কনফার্ম হলাম যে আমার কথাই ঠিক
বিশ্বপরিচয়ই রবীন্দ্রনাথের একমাত্র বিজ্ঞানের বই