content stringlengths 0 129k |
|---|
গনহিস্টিরিয়াগ্রস্ত এ সমস্ত স্তাবকদল বোঝে না যে, যুক্তির কাছে 'ব্যক্তিপূজা'র প্রাবল্য অর্থহীন |
রবীন্দ্রনাথের প্লানচেটে বিশ্বাসের ওপর প্লানচেট কিংবা আত্মার অস্তিত্ব কিংবা অনস্তিত্ব নির্ভর করে না |
রবীন্দ্রনাথের ব্রক্ষ্মসঙ্গীতের ওপর নির্ভর করে প্রমাণিত হয় না পরম ব্রক্ষ্মের অস্তিত্ব |
শুধু দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রেই নয়, কখনও কখনও রবীন্দ্রনাথ ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসকদের প্রশস্তি করেছেন, ভেবে নিয়েছেন ব্রিটিশ শাসন ছাড়া ভারতবাসীর মুক্তি অসম্ভব |
আবার কখনও বা নারী স্বাধীনতা ও নারী মুক্তিকে অস্বীকার করে বলেছেন, 'প্রকৃতি বলে দিচ্ছে যে, বাইরের কাজ মেয়েরা করতে পারবে না |
' |
এধরনের বিশ্বাস কিংবা মন্তব্যগুলোর কোনটিই কিন্তু রবীন্দ্রনাথের অভ্রান্ততা তুলে ধরে না, বরং প্রমাণ করে যে চিন্তা-চেতনায় রবীন্দ্রনাথেরও সীমাবদ্ধতা ছিলো |
একজন প্রকৃত যুক্তিবাদীর দায়িত্ব হচ্ছে ব্যক্তি পূজার উর্ধ্বে উঠে নির্মোহ দৃষ্টিতে ব্যক্তি, সমাজ ও সভ্যতাকে বিশ্লেষণ করা |
আমার এই বক্তব্য 'রবীন্দ্র স্তাবক'দের পছন্দ হয়নি |
আমার রবীন্দ্রনাথের প্ল্যানচেট করার ব্যাপারে শক্ত মতামত দেওয়ায় মুক্তমনার ভুতপূর্ব একজন সদস্য কুলদা রায় ইনিয়ে বিনিয়ে একটি লেখা লিখেছিলেন অন্য একটি ব্লগে গিয়ে - প্রিয়পুত্র শমীর শোকে কাতর রবীন্দ্রনাথের মানসিক অবস্থা বুঝতে হবে, এমন মানসিক পরিস্থিতিতে যদি প্ল্যানচেট করেও থাকেন, তাতে কি এমন ক্ষতি এই জাতীয় |
কুলদা রায়ের লেখাটা পড়া যাবে এখান থেকে - |
অন্য আলোয় দেখা -পর্ব ৪ : প্রিয়পুত্র শমী এবং প্লানচেট |
এই ধরণের রবীন্দ্র স্তাবকদের আমি কি করে বোঝাই আমার লেখার উদ্দেশ্য রবীন্দ্র বিরোধিতা ছিল না |
বরং এটিই বলা উদ্দেশ্য ছিলো যে, ব্যক্তিপূজায় ভেসে গিয়ে আমরা অনেক সময় সব কিছুই ভুলে যাই |
আমি রবীন্দ্রনাথের প্ল্যানচেট করাকে সঠিক মনে করি না, তা তিনি যতই প্রিয়জন হারানোর শোকে করে থাকুন না কেন (বলা বাহুল্য এরকম প্রিয়জন আমরা সকলেই হারাই, কিন্তু প্ল্যানচেট শুরু করি না) |
আমি সমর্থন করতে পারি না রবীন্দ্রনাথ রমা বাইয়ের বক্তৃতা উপলক্ষে প্রবন্ধে যেভাবে মেয়েদের ছোট করে বলেছেন - ' যেমন করেই দেখো প্রকৃতি বলে দিচ্ছে যে, বাইরের কাজ মেয়েরা করতে পারবে না |
'' এটা বলা কি রবীন্দ্রবিদ্বেষ? আমি তো শেখ মুজিব যে চাকমাদের বলেছিলেন "তোরা সব বাঙ্গালি হইয়া যা' - সেই মনোভাবও সমর্থন করতে পারি না |
তবে কি আমি মুজিব বিদ্বেষী হয়ে গেলাম? আসলে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভিঙ্গি আমাদের সংস্কৃতিতে একটু বিরলই বটে |
হয় দেবতা, নইলে রাজাকার |
এই ধরণের বিভাজন অনেক সময় খুব বিপজ্জনক হয়ে ওঠে |
অনেকটা বুশের মতোই - 'আইদার উইথ মি, অর উইথ দেম'! |
কুলদার সেই লেখায় ধ্রুব বর্ণনও কিছু শক্তিশালী মন্তব্য করেছিলেন |
প্রাসঙ্গিক মনে করায় উঠিয়ে দিচ্ছি - |
এখানটায় রবীন্দ্রনাথকে শক্তভাবে সমালোচনা করাটাই বেশি জরুরি, রবীন্দ্রনাথ বাঙালির কাছে একটি প্রভাবশালী অস্তিত্ব |
তার ভুলগুলো জানাটা, জানানোটা, স্পষ্ট সমালোচনা করাটা তাই বেশি জরুরি |
এইটাই সার কথা |
প্রদীপ দেব মে 8, 2011 9:40 পূর্বাহ্ন - |
@অভিজিৎ, |
বিভিন্ন সময়ে লেখা রবীন্দ্রনাথের ষোলটি বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধের সংকলন "বিজ্ঞান" শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রবীন্দ্র রচনাবলীতে |
অনলাইনে এখন সবগুলোই পাওয়া যাচ্ছে এখানে |
আজকের কালের কন্ঠে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন " |
(খ) প্রসঙ্গ সত্যেন বসু |
আইনস্টাইনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দেখা হলো |
অনেক আলাপ-আলোচনার মধ্যে হঠাৎ করে আইনস্টাইন জানতে চাইলেন, পদার্থবিদ সত্যেন বসু কেমন আছেন? |
রবীন্দ্রনাথ সত্যেন বসুকে চিনতে পারলেন না |
আইনস্টাইন অবাক |
পদার্থবিদ্যার একজন বাঙালি গ্র্যান্ডমাস্টারকে রবীন্দ্রনাথ চিনতে পারছেন না? |
রবীন্দ্রনাথ লজ্জা পেলেন |
তাঁর লজ্জা তো আর আমাদের দশজনের লজ্জা না |
তাঁর লজ্জাতেও ফসল উঠে আসে |
তিনি বিজ্ঞান নিয়ে অনেক পড়লেন |
একটি বই লিখলেন, 'বিজ্ঞানের কথা' |
বিজ্ঞান নিয়ে লেখা রবীন্দ্রনাথের একমাত্র গ্রন্থ |
বইটি উৎসর্গ করলেন সত্যেন বসুকে |
এই মানুষটিকে না-চেনার প্রায়শ্চিত্ত এভাবেই করলেন |
" |
রবীন্দ্রনাথ সত্যেন বসুকে চিনতে পারেন নি এই তথ্য হুমায়ূন আহমেদ কোথায় পেলেন জানি না |
সত্যেন বসুর অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ যে বইটি লেখেন এবং সত্যেন বসুকে উৎসর্গ করেন তার নাম "বিশ্ব পরিচয়" - 'বিজ্ঞানের কথা' নয় |
হুমায়ূন আহমেদের মত মানুষ এরকম ভুল তথ্য প্রচার করবেন তা আকাঙ্খিত নয় |
সত্যেন বসু ১৯৫৬ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব ভারতীর উপাচার্য হয়েছিলেন |
নৃপেন্দ্র সরকার মে 8, 2011 9:54 পূর্বাহ্ন - |
@প্রদীপ দেব, |
হুমায়ূন আহমেদের মত মানুষ এরকম ভুল তথ্য প্রচার করবেন তা আকাঙ্খিত নয় |
খুবই অদ্ভূত লাগছে |
অভিজিৎ মে 8, 2011 11:07 অপরাহ্ন - |
@নৃপেন্দ্র সরকার, |
নৃপেনদা, আমার কাছে অদ্ভুত লাগেনি |
হুয়ায়ূন আহমেদ এখন কিছু পড়েন টড়েন বলে মনে হয় না |
ভাব নেন পড়ার |
আর প্রায়শই বিশ্লেষণের মধ্যে অনর্থক নিজের ছোট ছেলে নয়তো বউ শাওনের কথা নিয়ে আসেন |
যেমন কয়েকদিন আগে ইউনুসকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলেন প্রথম আলোয়, সারবত্তাহীন লেখা, তার মধ্যে হঠাৎ করেই সেঁদিয়ে দিলেন অমূল্য একটি লাইন - |
আমার ছোট ছেলে নিষাদ 'সাহস' বলতে পারে না |
'হ' উচ্চারণে তার সমস্যা হয় |
সে বলে 'সাগস' |
আমিও তার মতো করে বলছি, অধ্যাপক ইউনূসকে ছোট করছে কার এত বড় সাগস |
আমার পড়েই মনে হয়েছিলো, হুমায়ূন আহমেদ বানানটাও তো 'হ' দিয়ে |
আই অ্যাম শিওর, তার ছেলে তাকে গুমায়ুন ডাকে |
🙂 |
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্রথম আলোর লেখাটায়ও অনাবশ্যকভাবে আবার শাওনের প্রসংগ নিয়ে এসেছেন |
তিনি আসলে তথ্যের যে এগুলো তাফালিং-এই মনোযোগী বেশি ইদানিং |
সৈকত চৌধুরী মে 9, 2011 1:34 পূর্বাহ্ন - |
@অভিজিৎ, |
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্রথম আলোর লেখাটায়ও অনাবশ্যকভাবে আবার শাওনের প্রসংগ নিয়ে এসেছেন |
একটি পত্রিকায় হুমায়ুন ফেইসবুক নিয়ে আলোচনা করেছেন দেখলাম |
সেখানেও রীতিমত শাওন চলে এসেছেন |
🙂 |
আদিল মাহমুদ মে 9, 2011 9:46 অপরাহ্ন - |
@সৈকত চৌধুরী, |
হুমায়ুন আহমদের সাম্প্রতিক (গত ৪/৫ বছরের) সব বই, কলাম সব লেখাতেই কারনে অকারনে শাওনের সাথে তার অতি সুখী দাম্পত্য জীবনের বর্ননা এসে যাবেই যাবে |
রীতিমত বিরক্তিকর পর্যায়ে চলে গেছে |
আমার মনে হয় ভদ্রলোক সমালোচনা যতটা পাত্তা দেন না দেখাতে চান অতটা না, শাওন সম্পর্কিত আলোচনা সমালোচনার গিলটি ফিলিংস থেকেই তার কারনে অকারনে কেবল দেখাতে হয় বর্তমানে তিনি কত সুখী |
তার মত লেখকের লেখার মানকে যে এই ধরনের শস্তা ব্যাক্তিগত আলাপ কোথায় টেনে নামাচ্ছে তা তাকে বলার মতও কেউ নেই |
অভিজিৎ মে 10, 2011 8:45 পূর্বাহ্ন - |
@প্রদীপ দেব, |
রবীন্দ্রনাথ সত্যেন বসুকে চিনতে পারেন নি এই তথ্য হুমায়ূন আহমেদ কোথায় পেলেন জানি না |
আমি একটা লিঙ্ক খুঁজে পেয়েছি, যেখানে কিছুটা হলেও হূমায়ুন আহমেদকে সঠিক বলে ধরা যেতে পারে - |
, ( 1930) " ?" ( ) . , , , , ", !" |
, . ' 1941. ' " , ..." |
তবে এই উক্তির কোন রেফারেন্স দেয়া হয়নি, কেবল বলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে (উপরে বলা হয়েছে সত্যেন বোসের গ্র্যান্ডসনের বায়োগ্রাফিকাল রিসার্চ) |
হুমায়ুন আহমেদও অবশ্য রেফারেন্স খোঁজার প্রইয়োজন মনে করেননি মনে হয় |
আর হুমায়ুন আহমেদ বইয়ের নামটা আসলেই ভুল লিখেছিলেন |
যে বইটি তিনি সত্যেন বসুকে উৎসর্গ করেন তার নাম "বিশ্ব পরিচয়" - 'বিজ্ঞানের কথা' নয় |
ফরিদ আহমেদ মে 8, 2011 10:41 পূর্বাহ্ন - |
@অভিজিৎ, |
আমার পড়াশুনা খুব ভাল নয় |
আমার কাছে যা তথ্য আছে তার ভিত্তিতে আমি জানতাম 'বিশ্বপরিচয়'ই রবীন্দ্রনাথের একমাত্র বিজ্ঞানভিত্তিক বা বিজ্ঞানের বই, যেটা তিনি লিখেছিলেন তার ছিয়াত্তুর বছর বয়সে এসে |
'বিজ্ঞান' নামে অন্য কোন বইয়ের কথা আমি শুনিনি (যদূর জানি বঙ্কিমচন্দ্রের একটা বই আছে বিজ্ঞান রহস্য নামে) |
নাম না শুনলেও অপরাধ কিছু নেই |
ভদ্রলোক পয়ষট্টি বছর ধরে লিখে গিয়েছেন এক নাগাড়ে |
তাঁকে জিজ্ঞেস করলে হয়তো নিজেও বলতে পারবেন না সব বইয়ের নাম |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.