content stringlengths 0 129k |
|---|
অনলাইন রচনাবলীর যে লিঙ্কটি প্রদীপ দিয়েছেন, সেটি সম্ভবতঃ কোন বই এর লিঙ্ক নয়, সে সময়কার বিভিন্ন সাময়িক পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের নিজ নামে কিছু লেখা, আর অন্যগুলো রবীন্দ্রনাথের বলে মনে করা হয় (অস্বাক্ষরিত লেখা ) সেগুলো একসাথে সঙ্কলন করা হয়েছে |
যেমন, সামুদ্রিক জীব প্রকাশিত হয়েছিল ভারতী পত্রিকায় ১২৮৫ বঙ্গাব্দে, বৈজ্ঞানিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বালক পত্রিকায় (এ পত্রিকাটি ১২৯২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল), আর আপনার এই বিখ্যাত 'মাকড়সা-সমাজে স্ত্রীজাতির গৌরব' প্রকাশিত হয়েছিল সাধনা পত্রিকায় ১২৯৮ সালের দিকে ইত্যাদি |
এগুলো কেবল ছোট ছোট রচনা, বিজ্ঞানের পূর্নাংগ বই নয় |
আপনি চাইলে রেফারেন্স দিতে পারুম! |
ফরিদ আহমেদ মে 10, 2011 9:18 পূর্বাহ্ন - |
@অভিজিৎ, |
বই হোক আর অনলাইন সংকলনই হোক, লেখাতো সেই বুড়োরই |
ছোট ছোট রচনা বলে পার পাওয়া যাবে না, কারণ এগুলো বিজ্ঞানের উপরেই লেখা |
🙂 |
বিশ্বপরিচয় রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব লেখা, নাকি প্রমথনাথের লেখাকেই ঘষেমেজে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, এই রকম একটা ক্ষীণ সন্দেহ গত দুইদিন ধরে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে |
মাথা থেকে বিশ্বপরিচয়ের উৎসর্গের ওই লাইন কটাকে দূর করতে পারছি না কিছুতেই |
প্রমথনাথ লেখা শুরু করে শেষ করলেন না কেন? কতখানি-ই বা তিনি শুরু করেছিলেন? সেটুকু কি সহলেখক হিসাবে নাম যাবার মত পর্যাপ্ত ছিল না? |
অভিজিৎ মে 10, 2011 11:40 পূর্বাহ্ন - |
@ফরিদ আহমেদ, |
বিশ্বপরিচয় রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব লেখা, নাকি প্রমথনাথের লেখাকেই ঘষেমেজে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, এই রকম একটা ক্ষীণ সন্দেহ গত দুইদিন ধরে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে |
আপনার সন্দেহ একদম অমূলক নয় |
আজকে আমার খুব পয়মন্ত দিন |
কিছু বিরল মণিমানিক্য খুঁজে পেয়েছি, আপনি জানলে অবাক হবেন (এই মানিক্য যদি আগে পেতাম, তবে এই লেখাটা আমি লিখতামই না) |
একে একে বলি তাইলে - |
তরুণ শিক্ষক প্রমথনাথ শান্তিনিকেতনে চাকরী পেয়েছিলেন সত্যেন বোস এবং জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের সুপারিশে |
তিনি বিজ্ঞানের ভাল ছাত্র ছিলেন |
কিন্তু বাংলায় খুব বেশি দখল ছিল না, (অন্ততঃ রবীন্দ্রনাথের সমপর্যায়ের নন) |
রবীন্দ্রনাথ প্রমথবাবুকে ব্রিটিশ পদার্থবিদ জেমস জিনসের একটা বই - থ্রু স্পেস অ্যান্ড টাইম' পড়তে দিয়েছিলেন |
জেমস জিন্স খুব বড় মাপের বিজ্ঞানী ছিলেন না, কিন্তু জনপ্রিয় বিজ্ঞানগ্রন্থের প্রণেতা হিসেবে কিছু সুনাম ছিল |
ফলে তার বই থেকে জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বই কিভাবে লিখতে হয়, তার একটা রসদ পাবেন প্রমথবাবু - সেরকম একটা ধারণা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ |
কাজেই রবীন্দ্রনাথ যখন প্রমথবাবুকে বই লেখার প্রস্তাব দেওয়ায় (তখন কি তিনি কস্মিনকালেও জানতেন, তার এই রসদ রবিবাবু পুরোটাই নিজের বইয়ের কাজে ব্যবহার করবেন) যার পর নাই খুশি হয়েছিলেন |
কি রকম উচ্ছ্বাস তার হয়েছিল, তা প্রমথবাবুর ভাস্য থেকেই শোনা যাক - |
'সেদিন থেকেই বিজ্ঞানের সহজ বই পড়তে লেগে গেলাম, তারপর ধীরে ধীরে শুরু হল বই লেখার কাজ |
সে এক বিপর্যয় কান্ড |
কোনদিন বৈজ্ঞানিক তথ্য দিয়ে সুসংবদ্ধ বাংলা রচনায় হাত দেইনি, দু একটা ছোতখাট রচনা যা লিখেছি তা ছিলো ইংরেজীতে |
তাই এই অনভ্যস্ত পথে প্রতিপদে কেবল হোঁচট খেতে হল |
এগোন আর হচ্ছিলো না |
নিজের লেখা নিজেরই এত খারাপ লাগতে লাগল যে, দু এক পাতা লিখেই তা ছিঁড়ে ফেলতাম |
ফলে ছিন্ন কাগজের পাতায় ঝুড়ি ভর্তি হয়ে উঠল |
খাতাখানাও সম্বল হারিয়ে ক্রমশঃ শীর্ণকায় হয়ে উঠল |
অবশ্য এতে একজন খুব খুশি হলেন, উনুন ধরাবার কাজে অনায়াসলব্ধ এই ছিন্নপত্রগুলো আমার স্ত্রী যথাযথ সদ্গতি করে চললেন |
এই উদ্ধৃতিটি আছে প্রমথনাথ সেনগুপ্তের আনন্দরূপম বইয়ে, যা বাসুমতি, কলকাতা থেকে একসয় প্রকাশিত হয়েছিল (এখন পাওয়া যায় না) |
এই উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায় লেখক বাংলা নিয়ে অতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না, কিন্তু এটি অন্ততঃ ভেবেছিলেন বইটি তারই হবে |
এ সময় পাঠভবনের অধ্যাপক তনয়বাবু (তননেন্দ্রনাথ ঘোষ) এসে বললেন - |
এভাবে তো হবে না, আপনি যা পারেন লিখুন |
তবে তথ্যের দিক থেকে যেন হাল্কা না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন |
আমাদের বিচারে যে ভাষা সাধারণতঃ ভালো বলে আখ্যা পায়, গুরুদেবের হাতে পড়লে তার খোল-নলচে বদলে গিয়ে এক নতুন ভাষা প্রকাশ পায় |
কাজেই বৈজ্ঞানিক তথ্য পর পর সাজিয়ে দিন, ভাষার ভার গুরুদেব নেবেন |
গুরুদেব সেই ভাষা দেখে পরবর্তী পর্যায়ে লিখতে শুরু করবেন |
' |
ফরিদ ভাই, বুঝতেই পারছেন, কোথাকার জল কোথায় গড়িয়ে যাচ্ছে |
কিভাবে রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে ভাষার মাধুর্য বাড়িয়ে তথ্যগুলো হাতিয়ে নেবার পায়তারা চলছে |
কিন্তু তারপরেও বইলেখার এ পদ্ধতি ঠিক হবার পরেও হতভাগ্য প্রমথবাবু কিন্তু ভাবছেন বইটা তারই হবে |
তিনি বইয়ের নামও ঠিক করে রেখেছিলেন - 'বিশ্বরচনা' - |
'ওদের উপদেশ মেনে নিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হল |
বইটার নামকরণ করলাম "বিশ্বরচনা" |
ধীরে ধীরে কাজ এগুতে লাগল |
'পরমাণুলোক' দিয়ে শুরু হল বইয়ের প্রথম অধ্যায়, এটা শেষ করে গুরুদেবের কাছে নিয়ে যেতে হবে |
' |
প্রথম অধ্যায় লেখা শেষ করে প্রমথনাথ রবীন্দ্রনাথের কাছে নিয়ে গেলেন |
রবীন্দ্রনাথ দেখে বললেন, "রচনাটি আমার কাছে রেখে যাও, কাল ফেরৎ পাবে |
বিজ্ঞানের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটাতে হলে ভাষাটা কীরকম হবে, তাই শুধু দেখিয়ে দেব" |
শুধু পরমাণুলোক নয়, এর পর নক্ষত্রলোক, সৌরজগৎ, ভূলোক এবং উপসংহার সব অধ্যায়ই লিখেছেন প্রমথবাবু |
আর রবীন্দ্রনাথ খোল নলচে বদলে দিয়েছেন 🙂 |
সেই সংশোধন করা পাণ্ডুলিপিগুলো প্রমথনাথ অবশ্য আনন্দরূপম বইয়ে ছাপিয়েছিলেন কিছু কিছু |
প্রমথবাবু উপসংহার টংহার শেষ করার পরে রবীন্দ্রনাথ ঠিক করেন বইটার নাম বিশ্বপরিচয় হবে |
আর একধরণের নাটকের অবতারণা করলেন ধীরেন্দ্রমোহন সেনকে নিয়ে এসে |
নাটক বলছি কেন শুনুন |
নিজেই বুঝতে পারবেন |
ডঃ সেন হঠাৎ ওকে (প্রমথ বাবুকে) বললেন, |
'বিশ্বপরিচয় নিয়ে আপনি যে পরিশ্রম করেছেন তাতে বইটার যুক্তগ্রন্থকার হওয়া উচিৎ - রবীন্দ্রনাথ-প্রমথনাথ |
গুরুদেব সাথে সাথে বললেন, |
"সে কীরে, বইটার বিষয়বস্তু রচনার কাজ তো প্রমথই করেছে |
আমি শুধু ভাষার দিকটা দেখে দিয়েছি |
গ্রন্থকার তো প্রমথেরই হওয়া উচিৎ |
তবে আমার নামের সাথে যদি প্রমথ যুক্ত করতে চান, তাহলে প্রমথনাথ-রবীন্দ্রনাথ হওয়াই ঠিক হবে |
' |
নিঃসন্দেহে এটা প্রমথবাবুর জন্য ধাক্কা ছিল বড় রকমের |
তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন তার নামেই বইটা হবে |
বইয়ের সব তথ্য যে তারই যোগাড় করা! তারপরেও রবীন্দ্রনাথ যেহেতু ভাষার সবকিছু ঢেলে সাজিয়েছেন, সেহেতু যুক্তগ্রন্থকার হলেও খুব বেশি হারাবার নেই বলেই ভেবেছিলেন হয়তো |
সেই বিহবল অবস্থা ধরা পড়ে প্রমথবাবুর লেখায় - |
তারপর পান্ডুলিপি নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনা করলেন, তারপর ওখান থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে ডক্টর সেন বললেন যে, সম্ভব হলে ঐ গ্রীষ্মের ছুটির মধ্যেই যেন 'পৃথ্বী-পরিচয়' বইটা আমি শেষ করি |
ওর কথা বলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছিল 'বিশ্বপরিচয়' বইটার লেখকের নাম নিয়ে কোথায় যেন একতা সংশয় জেগেছে, অবশ্য এ ব্যাপারে ওঁকে খোলাখুলি কিছু জিজ্ঞেস করাও সম্ভব নয় |
' |
এর বেশ কিছুদিন পর নাটকের আসল যবনিকাপাত |
রবি বুড়ো ঠিক করলেন প্রমথবাবুকে জানাবেন ব্যাপারটা, যে নিজেই বইয়ের লেখক হবেন |
কিভাবে সেটা প্রমথবাবুর মুখেই শোনা যাক - |
গ্রীষ্মের ছুটির পর গুরুদেব আলমোড়া থেকে ফিরে একদিন সন্ধ্যার সময় ডেকে পাঠালেন |
উত্তরায়নে গিয়ে দেখি ক্ষিতিমোহনবাবু ও শাস্ত্রীমশায়ের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন, আমাকে ডেকে সস্নেহে প্পাশে বসালেন, কুশল প্রশ্ন করলেন |
তারপর বললেন, "দেখো, বিশ্বপরিচয় লিখতে লিখতে দেখলুম এর ভাষাটা আমারই হয়ে গেছে, তাই এর মধ্যে তোমাকে কোথাও স্থান দিতে পারলুম না |
" একটু থেকে বললেন, "অবশ্য তুমি শুরু না করলে আমি সমাধা করতে পারতুম না, তা ছাড়া বিজ্ঞানের অনভ্যস্ত পথে চলতে শেষপর্যন্ত এই অধ্যবসায়ীর সাহসে কুলাতো না |
তুমি ক্ষুন্ন হয়ো না |
এই হচ্ছে বিশ্বপরিচয় গ্রন্থ রচনার ইতিবৃত্ত |
আবার পড়েন রবিবুড়ার স্মরণীয় উক্তিটা - দেখো, বিশ্বপরিচয় লিখতে লিখতে দেখলুম এর ভাষাটা আমারই হয়ে গেছে, তাই এর মধ্যে তোমাকে কোথাও স্থান দিতে পারলুম না |
🙂 কেমন বুঝতাছেন? |
এখন রেফারেন্স দেই |
আপনি আনন্দরূপম বইটা সম্ভবতঃ পাবেন না, পাইলে আর কিছু লাগবো না |
তবে, আমি দীপঙ্কর চট্টোপাধায়ের একটা বইয়ে (রবীন্দনাথ ও বিজ্ঞান, আনন্দ পাবলিশার্স) ঘটনার পুরা বিবরণ পাইছি |
উনি অবশ্য রবীন্দ্রস্তাবকদের একজন |
যথারীতি রবিকাকারে মাথায় করছেন |
তারপরেও তার গুরুজির মেধাসত্ত্ব মেরে দেয়ার এই লজ্জা তিনিও লুকাতে পারেন নাই |
যেমন দীপঙ্কর মশাই বলছেন - |
'কিন্তু একটা কথা মানতেই হবে |
গোড়া থেকেই প্রমথনাথের মনে কবি একটা প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছিলেন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.