content
stringlengths
0
129k
প্রথমে তো বলেছিলেন বইটা প্রমথবাবুকেই লিখতে হবে
রবীন্দ্রনাথ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন, বিশেষ করে ভাষার ব্যাপারে
এটা বলা কতদূর সঙ্গত হয়েছিল সেটাই প্রশ্ন
তারপরেই আবার রবীন্দ্রনাথের সাফাই গেয়েছেন এই বলে -
রবীন্দ্রনাথের একটা মজার ব্যাপার ছিল
অনেককেই তিনি গল্পের প্লট দিতেন, গল্প লিখিয়ে নিতেন
অনেক কবিযশঃপ্রার্থীর কবিতা সংশোধন করে দিতেন
এসব তিনি করেছেন খ্যাতির চূড়ায় বসেও
অত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি এসব কী করে করতেন কে জানে!
উক্তিটা শুনে সেই ব্যাঙ-এর গল্পের কথা মনে পড়ছে না? রবীন্দ্রনাথের জন্য যেটা 'মজার ব্যাপার' সেটা অন্য অনেকের জন্য সর্বনাশের কারণ? 🙂
বাকি আপনে বুইঝা নেন
নীল রোদ্দুর মে 10, 2011 2:07 অপরাহ্ন -
@অভিজিৎ, অভিজিৎ দা, আজ আমার মনের দ্বিধা কেটে গেলো
নবম শ্রেনীতে আমার লেখা প্রথম কবিতা পড়ে সবাই বলেছিল, রবীন্দ্রনাথের ছাপ
সেটা ভালো না খারাপ আমি জানতাম না
কিন্তু কিন্তু আম্র লেখার রহস্য উদ্ধার করতেই আমি রবীন্দ্রনাথে ডুবেছিলাম
দুই আড়াই বছর আমি ছেলেমানুষি করে কবিতা লিখেছি আর ছিড়ে ফেলে দিয়েছি
আমি যত সাধারণ, যত তুচ্ছই হই না কেন, রবীন্দ্রনাথের প্রেতাত্মা হতে চাই না
একসময় আমার এলোমেলো কবিতাগুলো সেই বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়েছে
🙂
কিন্তু সমস্যাটা আমার হয়ে গেলো অন্য জায়গায়
রবীন্দ্রনাথের এতো সমৃদ্ধ সাহিত্য ভান্ডারে আমি মুগ্ধ হয়ে ডুবে থাকি, কবিতাগুলোর অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাই
কিন্তু কেন যেন, তাকে সেইভাবে শ্রদ্ধা করতে পারিনা
এখনো আমি রবীন্দ্রসংগীতে মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে যাই, গানগুলোর জন্য অসম্ভব ভালোলাগা আমার, কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে মনের মধ্যে ঠাঁই দিতে পারিনা
আশেপাশে সবাইকে রবীন্দ্রনাথকে মাথায় তুলতে দেখে আমারই কষ্ট লাগতো, সমস্যা আমার, আমিই পারিনা! আপনি আজ রবিঠাকুরের মেধাস্বত্ত্ব চুরির ঘটনাটা জানিয়ে উনাকে মন থেকে শ্রদ্ধা করতে না পারার গ্লানি থেকে মুক্তি দিলেন আমাকে
আমি যেমন তাকে শ্রদ্ধা করার যোগ্য নই, তেমনি শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও আমার মনে ঠাঁই পাবার যোগ্য নন
🙂
অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া, অনেক অনেক
🙂
🙂
রৌরব মে 10, 2011 5:52 অপরাহ্ন -
@অভিজিৎ,
দুর্দান্ত!!!
ভাষাটা আমারই হয়ে গেছে, তাই এর মধ্যে তোমাকে কোথাও স্থান দিতে পারলুম না
:- ;-( ::
আপনার এই আবিষ্কার আলাদা প্রবন্ধ হবার যোগ্য
রবীন্দ্রনাথের প্রতিমা-নিধনের এই সুযোগটা হাতছাড়া করা উচিত হবে না
অভিজিৎ মে 10, 2011 7:54 অপরাহ্ন -
@রৌরব,
আরেকটু দেখি - আর কোন মনিমানিক্য পাওয়া যায় কিনা! নাইলে স্তাবকের শিষ্যরা আবার ঝাপায় পড়তে পারে
তবে এইটা আবারো বোঝা গেল - মুক্তচিন্তকদের কোন গুরু থাকতে নেই, সেটা মুহম্মদই হোক, গান্ধীই হোক আর রবীন্দ্রনাথই হোক
স্কেপ্টিসিজম ইজ এ জার্ণি, নট এ ডেস্টিনেশন
আর আমি তো আগেই বলেছি - আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে হচ্ছে ব্যক্তি পূজার উর্ধ্বে উঠে নির্মোহ দৃষ্টিতে ব্যক্তি, সমাজ ও সভ্যতাকে বিশ্লেষণ করা
ফরিদ আহমেদ মে 10, 2011 6:26 অপরাহ্ন -
@অভিজিৎ,
গতরাতে মন্তব্যটা করার পর থেকে মনের মধ্যে একটু সুপ্ত আতংক নিয়েই ঘুমোতে গিয়েছিলাম
ভেবেছিলাম কোনো রবীন্দ্রপূজারী হয়তো আক্রোশে ফেটে পড়বেন এই বলে যে, কোথাকার কোন ফরিদ আহমেদ রবীন্দ্রনাথের লেখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে
তোমার এই নব্য আবিষ্কারের পরেই সেই আতংক এখন অনাবিল আনন্দে রূপান্তরিত হয়েছে
আগে জানতাম যে, শুধু সুর চুরি করেছেন তিনি গানের জন্য
এখন জানলাম যে, শুধু ছিঁচকে চুরিই নয়, একেবারে ডাকাতি পর্যন্ত করেছিলেন নিজেকে বিজ্ঞানের সমঝদার প্রমাণের জন্য
যেভাবে এবং যে ভাষায় প্রমথনাথের বইটাকে হাইজ্যাক করলেন, সেটা আগেকার দিনে গরীব প্রজা বা অধঃস্তন কর্মচারীর সুন্দরী বউকে লম্পট জমিদাররা কেড়ে নিয়ে শয্যাশায়ী করার ঘটনার অনুরূপই মনে হলো
তবে এই ডাকাতির জন্য প্রমথনাথের দায়ও কম নয়
তার অন্ধ গুরভক্তিই এর জন্য দায়ী
তাঁর নিজের ভাষাটা এমন কিছু খারাপ নয় (আনন্দরূপম এর যেটুকু উদ্ধৃতি এখানে দেখলাম তার ভিত্তিতেই বলছি), অথচ আত্মবিশ্বাসহীন তিনি গুরুভক্তির প্রাবল্যে ভেবে নিয়েছেন যে রবীন্দ্রনাথের ভাষা ছাড়া এই বই লেখাই হবে না
এই ভাবনার খেসারত দিয়েছেন তিনি খ্যাতিমান নোবেল লরিয়েটের আরো খ্যাতির লোভের পাল্লায় পড়ে
(এই মানিক্য যদি আগে পেতাম, তবে এই লেখাটা আমি লিখতামই না)
আরে কোনো ব্যাপার না এইটা
পরস্পরবিরোধিতাই হচ্ছে সাধারণ (বিশেষত সৃজনশীল শিল্পীদের মধ্যে), তার অভাবটাই অসাধারণ
(কপিরাইট রৌরব)
দীপংকর চট্টোপাধ্যায়ের বইটা যদি পিডিএফ ফর্মে থাকে তাইলে পাঠায় দাও
পড়ে টড়ে দেখি কেমন বিজ্ঞানে অবদান ছিল রবি ঠাকুরের
নীল রোদ্দুর মে 10, 2011 10:02 অপরাহ্ন -
@ফরিদ আহমেদ,
গতরাতে মন্তব্যটা করার পর থেকে মনের মধ্যে একটু সুপ্ত আতংক নিয়েই ঘুমোতে গিয়েছিলাম
ভেবেছিলাম কোনো রবীন্দ্রপূজারী হয়তো আক্রোশে ফেটে পড়বেন এই বলে যে, কোথাকার কোন ফরিদ আহমেদ রবীন্দ্রনাথের লেখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে
তোমার এই নব্য আবিষ্কারের পরেই সেই আতংক এখন অনাবিল আনন্দে রূপান্তরিত হয়েছে
অপেক্ষা অপেক্ষা
সংশয় প্রকাশের কারণে এবার রবীন্দ্রপূজারীরা আক্রোশে ফেটে না পড়লেও রবীন্দ্রনাথের দেব মূর্তিকে নাঙ্গা করার অপরাধ মনে তারা ক্ষমা করবেন না
আপনাদের জন্য এইবার তারা :: ছুড়বে
:-[
ইরতিশাদ মে 10, 2011 10:45 অপরাহ্ন -
@অভিজিৎ, @ফরিদ,
রবীন্দ্রনাথের একশত পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকীতে রবীন্দ্রনাথের 'নট-সো-গ্লোরিয়াস' কার্যকলাপ নিয়ে যে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে তা শুধু মুক্তমনাদের পক্ষেই সম্ভব
তোমাদের অভিনন্দন
মানুষকে দেবতা বানালে আশাহত হতেই হবে
রবীন্দ্রনাথের ভাষাতেই বলি, 'সত্য যে কঠিণ, কঠিণেরে ভালো বাসিলাম
'
নৃপেন্দ্র সরকার মে 11, 2011 7:23 অপরাহ্ন -
@অভিজিৎ,
"দেখো, বিশ্বপরিচয় লিখতে লিখতে দেখলুম এর ভাষাটা আমারই হয়ে গেছে, তাই এর মধ্যে তোমাকে কোথাও স্থান দিতে পারলুম না
" একটু থেকে বললেন, "অবশ্য তুমি শুরু না করলে আমি সমাধা করতে পারতুম না, তা ছাড়া বিজ্ঞানের অনভ্যস্ত পথে চলতে শেষপর্যন্ত এই অধ্যবসায়ীর সাহসে কুলাতো না
তুমি ক্ষুন্ন হয়ো না
ছি, ছি, ছি
তারপরেও, তিনি জীবনের সকল অনুভূতির এত গভীরে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন যে, তাঁকে অস্বীকার করার উপায় নেই
আমার মনের ভাব প্রকাশ করতে আবার তাঁর কথাই ব্যবহার করতে হচ্ছে
এ জগতে হায়
সেই বেশী চায়
আছে যার ভূড়ি ভুড়ি
তিনি নিজেই নিজেই কথা প্রমাণ করে গেছেন
ফরিদ আহমেদ মে 8, 2011 11:24 অপরাহ্ন -
রবীন্দ্রনাথের বয়সের শেষপর্বে এসে মন অভিভূত থাকা বৈজ্ঞানিক মায়াবাদ নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু বললেন না দেখে, আলোচনার এইপর্বে এসে মনটাই অভিমানে ভরে গেল আমার
🙁
অভিজিৎ মে 9, 2011 12:02 পূর্বাহ্ন -
@ফরিদ আহমেদ,
আপনে দেখতেছি হয়রানের মত
কেউ এর ছাইপাশরে গুরুত্ব দেয়া না বইলা মনে করে 'আমি জিচ্ছি'
বৈজ্ঞানিক মায়াবাদ জানেন না মিয়া? এইটা হইল হলোগ্রাফিক প্রিন্সিপাল
জীবনটা আর জগৎটা পুরাই মায়া - এইটা ফারুক সাহেব বৈজ্ঞানিকভাবে দেখাইসে এইখানে
তারপরেও আপনে না বুঝলে আমি কি ব্লমু? রবীন্দনাথ সেই কবেই এই বৈজ্ঞানিক মায়াবাদ প্রেডিক্ট করে গেসিলো ...
ফরিদ আহমেদ মে 9, 2011 2:02 পূর্বাহ্ন -