content stringlengths 0 209k |
|---|
বেশীরভাগ সময়ই আমরা আত্মসমর্পণ করে বসি ক্ষুদ্রতার কাছেই, কারণ বেশীরভাগ সময়েই এগুলোকে মাপা যায়, ধরা যায়, স্পর্শ করা যায় চারপাশের মানুষগুলোর তীক্ষ্ণ স্ক্রুটিনির মাঝে |
কিন্তু জীবনের অনেক বড় বড় অর্জনগুলোর উপর যেহেতু স্ক্যান করে দামের ট্যাগ বসানো যায় না, অনেক সময়েই তারা কোথায় যেন হারিয়ে যায় |
মাঝে মাঝে মনে হয়, এগুলোকে ধরে রাখতে পারার মধ্যেই হয়তো এই অর্থহীন জীবনের অর্থটা নিহিত রয়েছে |
গত কয়েক বছরে আমার নিজের এবং খুব কাছের কিছু মানুষের জীবনের ঘটনাবলী যেন মহাকালের এই উদাসীনতা এবং বিক্ষিপ্ততাকেই বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে |
সবই যেন কেমন তাশ খেলার মত, অনবরত শাফলিং চলছে, কখন যে কার কোন পিঠ উঠে আসবে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই |
সময় বড় অল্প আমাদের হাতে, প্রতিটা জীবন যেন এক টাইম বোম, টিক টিক করে যেন মহাবিস্ফোরণের সেই সময়টার হিসেব করে চলেছে |
তাই যাকে এমনভাবে চেয়েছেন তাকে ধরে রাখার জন্য যা যা করা দরকার সবই তো করা উচিত, এত বড় একটা প্রাপ্তিকে হারিয়ে ফেলার মধ্যে আসলেই তো কোন সার্থকতা নেই |
আমার তো মনে হয় আপনি অনেক সৌভাগ্যবান যে আপনার মাঝে বেশীরভাগ মানুষের মত নিত্যদিনের ছোট ছোট চাওয়া পাওয়া নিয়ে নিজেকে তিক্ত করার আর্জি কাজ করে না, আমার কাছে এই 'না চাইতে পারা'র শক্তিটাকেও একটা বিশাল মানবিক ক্ষমতা বলে মনে হয় |
এতে করে আপনার ভিতরে তো ঘুণ নয় বরং এক ধরণের প্রসন্ন স্থিতিশীলতা কাজকরার কথা |
হয়ত আশে পাশের মানুষগুলোর বিরামহীন গুতাগুতিতে সাময়িকভাবে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে |
যাত্রাপথের এই স্বল্প বিরতিটা পার হয়ে গেলেই হয়তো দেখবেন আবার সব কিছুই ফিরে গেছে আপনার সেই চির চেনা জগতে যেখানে এসব ছোটখাটো জিনিস নিয়ে আর বিচলিত বোধ করবেন না |
ফরিদ আহমেদ জুলাই 27, 2010 1:42 পূর্বাহ্ন - |
@বন্যা আহমেদ, |
এই লেখার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে হয় তোমার এই মন্তব্য |
এরকম সাহিত্যরসসমৃদ্ধ মনোহারিণী মাধুর্যময় মন্তব্য যে বিজ্ঞানী বন্যার হাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে তা কি কেউ কল্পনাও করতে পেরেছে কখনও |
আমি যে সবসময় বলি তোমার বাংলা অভির চেয়েও অষ্টগুণ ভাল, বিশ্বাসতো করো না |
এবার মুক্তমনার পাঠকেরাই সেটা স্বাক্ষ্য দেবে |
আমার আর কিছু বলা লাগবে না |
এধরনের অনায়াসসাধ্য অনুনকরণীয় মন্তব্য লেখার অভিলাষ অভির অভক্ষিতই থেকে যাবে |
দিলামতো পারিবারিক ক্যাঁচাল বাধাইয়া |
এইবার ঠ্যালা সামলাও |
😀 |
বন্যা আহমেদ জুলাই 27, 2010 2:28 পূর্বাহ্ন - |
@ফরিদ ভাই, দাম্পত্য কলহ হবে না মনে হয়, তবে এই উষ্কানিমূলক মন্তব্যটা করে আপনি যে অপূরণীয় ক্ষতিটা করলেন সেটা কিন্তু আর ভাষায় প্রকাশ করা যাছে না |
এরপর থেকে আমি যখন আমার লেখায় অদ্ভূত সব ভুল শব্দ বসিয়ে দিব, ব্যাকরণগতভাবে ভুল বাক্য লিখব, তখন আর অভি আমাকে বাঁচাতে আসবে না |
এতদিন তো অভি আমার ভুলভাল লেখা পড়ে প্রথমে হাসাহাসি করলেও, পরে কিছুটা হলেও ঠিকঠাক করে দিত, এখন বলবে 'ফরিদ ভাই কই, ওনারে কও ঠিক কইরা দিতে' |
দিলেন তো লেখক হিসেবে আমার ক্যারিয়ারটাই অঙ্কুরে বিনষ্ট করে :- |
তনুশ্রী রয় জুলাই 27, 2010 10:04 পূর্বাহ্ন - |
@বন্যা আহমেদ, আপনি বলেছেন, |
আমার তো মনে হয় আপনি অনেক সৌভাগ্যবান যে আপনার মাঝে বেশীরভাগ মানুষের মত নিত্যদিনের ছোট ছোট চাওয়া পাওয়া নিয়ে নিজেকে তিক্ত করার আর্জি কাজ করে না, আমার কাছে এই 'না চাইতে পারা'র শক্তিটাকেও একটা বিশাল মানবিক ক্ষমতা বলে মনে হয় |
এতে করে আপনার ভিতরে তো ঘুণ নয় বরং এক ধরণের প্রসন্ন স্থিতিশীলতা কাজকরার কথা |
এটা মনে হয় বাইরে, ভিতরে মেলাবার, চাইবার তীব্র বাসনা কাজ করে, প্রকাশে সেটাকে মেলানো যায় না |
রৌরব জুলাই 26, 2010 9:39 অপরাহ্ন - |
ফরিদ আহমেদ, উপন্যাস লিখুন |
স্পষ্টতই আপনি কবিতার লোক |
শুধু নিজের লেখাতেই নয়, পাঠকের মধ্যেও অক্লেশে ছন্দ-সঞ্চারণে আপনার ক্ষমতা বিস্ময়কর, যেটা পাঠকদের মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার |
কিন্তু আমি আপনার লেখার প্রথমাংশে এবং কিছু মন্তব্যে উপন্যাসের উপকরণ দেখছি |
কবিতাকে সংহত করে গদ্যই লিখে ফেলুননা |
প্রদীপ দেব জুলাই 26, 2010 8:13 অপরাহ্ন - |
ফরিদ ভাই, |
জীবন থেকে উঠে আসা কষ্টগুলো যে মহৎ সাহিত্যে পরিণত হয় আবারো বুঝতে পারলাম আপনার লেখা পড়ে |
না পাওয়ার যন্ত্রণা এক ধরনের |
আবার পেলেও হারানোর ভয় এসে ঘিরে ধরে |
নইলে কেন বলতে হয় 'তোমাকে দেবো না হারাতে'? |
ফরিদ আহমেদ জুলাই 28, 2010 10:41 অপরাহ্ন - |
@প্রদীপ দেব, |
যতই বলি না কেন যে কল্পনার কোন সীমা-পরিসীমা নেই, মানুষের কল্পনা আসলে সীমাবদ্ধই |
সব মহৎ সাহিত্যের পিছনেই লেখকের অভিজ্ঞতাটা কোথাও না কোথাও ঠিকই থেকে যায় |
অভিজ্ঞতাহীন লেখক যতই সৃষ্টিশীল আর শক্তিশালী হোক না কেন, তাঁর লেখাতে খামতিটা সেকারণে থেকেই যাবে |
অনভিজ্ঞ পাঠককে হয়তো ফাঁকি দেয়া যায় কথার বুননে, কিন্তু অভিজ্ঞ পাঠকের শক্তিশালী চোখে সেই ফাঁকিবাজি ঠিকই ধরা পরে যায় |
আমি সাহিত্যিক নই, সাহিত্য রচনার কোন দূরাশাও করি না কখনও |
মুক্তমনার মাধ্যমে নিজের ভাবনাগুলোকেই শুধু সহভাগিতা করি সমমনা মানুষদের সাথে |
আফরোজা আলম জুলাই 26, 2010 5:34 অপরাহ্ন - |
@ ফরিদ আহমেদ, |
এইটা একটা কবিতার নাম |
"অম্লকান্তি রদ্দুর হতে চেয়েছিলো" এইটা অজিত পানডে গান হিসাবে গেয়েছেন |
তাই না? |
ফরিদ আহমেদ জুলাই 26, 2010 5:50 অপরাহ্ন - |
@আফরোজা আলম, |
হ্যাঁ ওটা একটা কবিতার অংশ, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখা |
পুরো কবিতাটা নীচে দিয়ে দিলাম |
অমলকান্তি |
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী |
অমলকান্তি আমার বন্ধু, |
ইস্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম |
রোজ দেরি করে ক্লাসে আসতো, পড়া পারত না, |
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে |
এমন অবাক হয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতো যে, |
দেখে ভারী কষ্ট হত আমাদের |
আমরা কেউ মাষ্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল |
অমলকান্তি সে-সব কিছু হতে চায়নি |
সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল! |
ক্ষান্তবর্ষণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক রোদ্দুর, |
জাম আর জামরুলের পাতায় |
যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে |
আমরা কেউ মাষ্টার হয়েছি, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল |
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি |
সে এখন অন্ধকার একটা ছাপাখানায় কাজ করে |
মাঝে মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে; |
চা খায়, এটা-ওটা গল্প করে, তারপর বলে, "উঠি তাহলে |
" |
আমি ওকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি |
আমাদের মধ্যে যে এখন মাষ্টারি করে, |
অনায়াসে সে ডাক্তার হতে পারত, |
যে ডাক্তার হতে চেয়েছিল, |
উকিল হলে তার এমন কিছু ক্ষতি হত না |
অথচ, সকলেরই ইচ্ছেপূরণ হল, এক অমলকান্তি ছাড়া |
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি |
সেই অমলকান্তি-রোদ্দুরের কথা ভাবতে-ভাবতে |
ভাবতে-ভাবতে |
যে একদিন রোদ্দুর হতে চেয়েছিল |
সেন্টু টিকাদার জুলাই 26, 2010 5:09 অপরাহ্ন - |
ফরিদ ভাইএর লেখা টি বেশ কয়েক বার পড়লাম |
এই ধরনের লেখায় কোন লেখক যখন লিখতে বসেন, তখন উনি এক অন্য জগতে প্রবেশ করে যান যা পাঠকদের বেশী ভাগ সময়েই প্রবেশ করা সম্ভব হয়না |
তাই বিভিন্ন পাঠক বিভিন্ন মানে করেন |
সব মানে গুলই ঊপভগ্য |
লেখাটি আত্যন্ত রোমান্টিসিজমে ভরা কিন্তু এই রোমান্টিসিজমের ভিতরেও কড়া বিষাদের গন্ধ |
বুঝতে পারছি আবার যেন কেমন বুঝতে পারছিনা |
পড়তে ইচ্ছা করছেনা আবার যেন পড়তে ইচ্ছা করছে |
এই খানেই লেখকের লেখার 'ম্যগনেটিজম' |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.