content
stringlengths
0
209k
ফরিদ আহমেদ জুলাই 27, 2010 12:56 পূর্বাহ্ন -
@সেন্টু টিকাদার,
এই লেখাটা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত অসম ঘনত্ববিশিষ্ট দুটি কেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে উঠেছে
আপনি খুব সাফল্যজনকভাবে অপেক্ষাকৃত ঘনটাকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন
আফরোজা আলম জুলাই 26, 2010 4:58 অপরাহ্ন -
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল
এই কথাটা আমি আগে কোথাও পড়েছি
বাদবাকি লেখা ভালো লাগলো
সাহিত্যের ছোঁয়া আছে পুরোটায়
তনুশ্রী রয় জুলাই 27, 2010 10:01 পূর্বাহ্ন -
@আফরোজা আলম, এটা কবিতা, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর
অমলকান্তি আমার বন্ধু,
ইস্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম
রোজ দেরি করে ক্লাসে আসতো, পড়া পারত না,
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে
এমন অবাক হয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতো যে,
দেখে ভারী কষ্ট হত আমাদের
আমরা কেউ মাষ্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল
অমলকান্তি সে-সব কিছু হতে চায়নি
সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল!
ক্ষান্তবর্ষণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক রোদ্দুর,
জাম আর জামরুলের পাতায়
যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে
আমরা কেউ মাষ্টার হয়েছি, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি
সে এখন অন্ধকার একটা ছাপাখানায় কাজ করে
মাঝে মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে;
চা খায়, এটা-ওটা গল্প করে, তারপর বলে, "উঠি তাহলে
"
আমি ওকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি
আমাদের মধ্যে যে এখন মাষ্টারি করে,
অনায়াসে সে ডাক্তার হতে পারত,
যে ডাক্তার হতে চেয়েছিল,
উকিল হলে তার এমন কিছু ক্ষতি হত না
অথচ, সকলেরই ইচ্ছেপূরণ হল, এক অমলকান্তি ছাড়া
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি
সেই অমলকান্তি-রোদ্দুরের কথা ভাবতে-ভাবতে
ভাবতে-ভাবতে
যে একদিন রোদ্দুর হতে চেয়েছিল
তনুশ্রী রয় জুলাই 27, 2010 10:02 পূর্বাহ্ন -
ওহো, লেখক আগেই লিংক দিয়েছেন
গীতা দাস জুলাই 26, 2010 3:24 অপরাহ্ন -
ফরিদের কিছু কিছু লেখায়, কোন কোন মন্তব্যে দুঃখবোধের গভীরতর দীর্ঘশ্বাসের আভাস পাই
তোমাকে দেবো না হারাতে লেখায়ও এরই অনুরণন
লেখাটি পড়ে নির্মলেন্দু গুণের একটি কবিতা মনে পড়ে গেল - - -
হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে,
মন বাড়িয়ে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করি না
এক কে করি দুই।
হেমের মাঝে শুই না যবে,
প্রেমের মাঝে শুই
তুই কেমন করে যাবি?
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া
আমাকেই তুই পাবি।
তবুও তুই বলিস যদি যাই,
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই।
তখন আমি একটু ছোঁব,
হাত বাড়িয়ে জাড়াব তোর
বিদায় দুটি পায়ে,
তুই উঠবি আমার নায়ে,
আমার বৈতরনী নায়ে।
নায়ের মাঝে বসব বটে,
না-এর মাঝে শোব।
হাত দিয়েতো ছোঁব না মুখ,
দু:খ দিয়ে ছোঁব।
তুই কেমন করে যাবি?
অনেকে হয়ত ফরিদের লেখার সাথে গুণের এ কবিতার উদ্ধৃতি কেন এবং কীভাবে মেলালাম সে প্রশ্ন তুলবেন
এখানে আমার কোন উত্তর নেই
ব্লাডি সিভিলিয়ান জুলাই 26, 2010 12:59 অপরাহ্ন -
আপনার একজন হাতের কাছে বন্ধু আছে, আমার তো সেরকম আষ্টেপিষ্ঠে ঘনিষ্ট বন্ধু তেমন কেউই নেই
অথবা, বন্ধু আছে, সুচিরসঙ্গী নেই
নেই এমন কেউ যার সাথে ভাগাভাগি করা যায় সবকিছু, সবকিছুই
আমিও হয়তো বলতে পারবো না নিজের সব না বলা কথা; ব্যর্থ চেষ্টাই করছি গত তিন বছর ধরে
তারপরও আশা, হয়তো একদিন, হয়তো একদিন...কিন্তু, হায় এতোদিন, এতোদিন...তবুও...বৃথাই আশা, বৃথা খেলা, বৃথা মেলা, বৃথা বেলা গেল ভাসি...আর আবাহন নয়, আশা নয়, মনকে বলি, আর নয় সুযোগ, এবার চলো বোঁচকা কাঁধে শেষ পারানির কড়ি গুনতে গুনতে সূর্যাস্তের দিকে...আর কি, আর কতো...
বদলে দেওয়া আমার এই পৃথিবী যে শুধু তার কারণেই পাওয়া
সে না এলে এগুলোর কিছুই যে জানতাম না আমি
জীবন থেকে যেত অনাড়ম্বরহীন, অতৃপ্ত
স্বাদগন্ধবর্ণহীন শুকনো পাতার মতন
প্রকৃতির সমস্ত সৌন্দর্য থেকে যেত অনালোকিত, অনাবিষ্কৃত, অনাস্বাদিত
কামনা করি যেন পেয়ে হারানোর বেদনা আপনাকে বিদ্ধ না করে নিরন্তর
আপনার বন্ধুপ্রেমের উদ্দেশে একটি কবিতা:
মুকুল যখন ভাসে
তখন চোখের পাতায়
দু'একটি জলবিন্দু এসে
মার্জনা চায়
দু'একটি জলবিন্দু তখন
চোখের আলোয়
দুর্বল সেই দীপকে বলে,
"আমায় জ্বালো"...
জ্বালতে জ্বালতে দীপ নিজেকেই
জ্বালায় পোড়ায়
পুড়তে পুড়তে আকাশতীরের
বন্ধুকে পায়
বন্ধু তাকে ঝড়বাদলে
আগলে রাখে
কাছে পেয়েও বন্ধুকে সে
স্বপ্নে ডাকে
স্বপ্নটিকে সত্যি করে
মুকুল ভাসায়
বন্ধুটি তার চোখের পাতায়