content
stringlengths
0
129k
এটা বিজ্ঞান সম্মতভাবে ঠিক কথা না-কারন আসলে বিবর্তন বা তাপগতিবিদ্যা হিউরিস্টিকি ফর্মুলেশনের বেশী কিছু দেয় না
মহাকর্ষকে ব্যাখ্যার জন্য নিউটনের সূত্রও এক ধরণের রিডাকশনিজম
সেত বিজ্ঞানের সূত্র মাত্রই রিডাকশনিজম-সেটাতে ত কিছু কেও বলছে না
প্রশ্ন হচ্ছে সমাজবিজ্ঞানের জৈবিক রিডাকশনিজম চলবে কি না
অভিজিৎ আগস্ট 17, 2010 2:32 পূর্বাহ্ন -
@বিপ্লব পাল,
প্রশ্ন হচ্ছে সমাজবিজ্ঞানের জৈবিক রিডাকশনিজম চলবে কি না
কেন নয়? এতদিন সমাজবিজ্ঞানীরাও নানা ধরণের রিডাকশনিজম করে এসেছিলেন, কিন্তু জীববিজ্ঞানকে বাইরে রেখে
পুরুষেরা সহিংস কেন, কিংবা সিরিয়াল কিলার পুরুষদের মধ্যে বেশি কেন, কেন পুরুষেরা পর্নগ্রাফি বেশি দেখে, আর মেয়েরা রোমান্স নভেল বেশি পড়ে - এগুলো কেবল সামাজিক অবস্থান, প্রতিপত্তি, পাওয়ার প্লে, সংস্কৃতি এগুলোদিয়েই ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছিল
এখন দেখা যাচ্ছে বিবর্তনের ট্রেন্ড না বুঝলে পুরোটা কখনোই কেবল স্ট্যান্ডার্ড সোশাল সায়েন্স মডেল দিয়ে ব্যাখ্যা দেয়া যায় না
মূলতঃ এখন অনেক বিজ্ঞানীই মনে করেন আসলে সোশাল সায়েন্স সুড বি দ্যা ব্রাঞ্চ অব বায়োলজি
এটা দেখতে পার
আর বইয়ের জন্য -
: এই বইটা অসাধারণ
সোশাল সায়েন্সের মডেলের ত্রুটিগুলো খুব চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে, দেখানো হয়েছে বিবর্তনকে গোনায় না ধরায় তাদের মডেল কেন অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে
আসলে, বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন থেকে সাড়া পৃথিবীতেই এখন খুব ভাল কাজ হচ্ছে
সেই কাজগুলো জানানোর জন্যই আমার প্রচেষ্টা
দেখি কতদূর যাওয়া যায়
বিপ্লব পাল আগস্ট 17, 2010 2:53 পূর্বাহ্ন -
বিহেভেরিয়াল জেনেটিক্সের অনেক তথ্য এবং পরীক্ষা আইডেন্টিক্যাল টুইন স্টাডি থেকে-যত এই ধরনের পরীক্ষা হয়েছে-প্রতিটি পরীক্ষাই প্রশ্নবিদ্ধ
হয় স্যাম্পল সাইজের সমস্যা-নইলে পুওর করিলেশনকে স্ট্রং বলে চালানো থেকে অনেক ধরনের সংখ্যাতাত্ত্বিক জালিয়াতির সাহায্য অনেকেই নিয়েছেন-ফলে অনেকেই গে জিন পর্যন্ত আবিস্কার করে ফেলেছিলেন আর কি! সবটাই নিজেদের গবেষনার জন্যে ফান্ড আনার একাডেমিক তাগিদ আর কি
সেটাকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার মানে নেই
সমাজ একটি কমপ্লেক্স সিস্টেম-এটার সিম্পল রিডাকশনিজম মার্কসবাদ বা বিবর্তন যা দিয়েই করার চেষ্টা হোক না কেন-সেটা খুব সফল কোনদিনই হবে না
মার্কসবাদ বা বিবর্তন একটা ধারাপাতিক আইডিয়া দিতে পারে-কার্যকারন সম্পর্ক-কিন্ত সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক সত্য বা সূত্রের কোনকিছুরই পর্যায়ভুক্ত করা যাবে না-যদ্দিনা পর্যন্ত একই সাথে তাপগতিবিদ্যা, বিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানের জটিল মডেলিং অনেক পাওয়ারফুল কম্পুতে করা সম্ভব হবে
অভিজিৎ আগস্ট 17, 2010 3:16 পূর্বাহ্ন -
বৈজ্ঞানিক গবেষণা বৈজ্ঞানিকভাবেই করতে হবে
স্যাম্পল সাইজ ছোট থাকলে ভবিষ্যতের গবেষণায় বড় সাইজ নিয়ে করা হবে, কিংবা আরো ভাল কোন পদ্ধতি পাওয়া গেলে সেটাও ব্যবহার করা হবে
এভাবেই তো এগুবো
কোন কিছু ভুল হলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্যেই ভুল প্রমাণ করা যাবে
আর প্রানী জগতের বিবর্তন একটি প্রমাণিত বিষয়
এটাকে মানুষের সমাজের জন্য প্রয়োগ কয়ার যাবে না কেন? এমন তো নয় যে, বিবর্তন শিম্পাঞ্জি বা গরিলা পর্যন্ত এসে শেষ হয়ে গেছে যে মানুষকে এর বাইরে রেখে মডেল করতে হবে
কিংবা অংগ প্রত্যঙ্গের বিবর্তন গলার কাছে এসে থেকে গেছে, মাথা পর্যন্ত আর যায় নি, যে সমাজ সংস্কৃতিকে এর বাইরে রাখতে হবে! আসলে সোশাল সায়েন্টিস্টরা বহুদিন ধরে এভাবেই চিন্তা করছিলেন
আসলে এই ধারণার একটা বড় কারণ নিজেদের অজান্তেই মানুষকে 'এক্সেপশনাল' কিংবা 'স্বর্গীয়' ধরে নিয়ে বাকি সমস্ত প্রানীজগত থেকে আলাদা রাখার একটা ইচ্ছা
বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান বিজ্ঞানের নতুন শাখা
যত দিন এগুবে এর ভিত্তি ততই মজবুদ হবে
তবে তুমি ঠিকই বলেছ যে, ভবিষ্যতে অনেক পাওয়ারফুল কম্পুতে করা সম্ভব হলে ব্যাপারগুলো আরো সঠিক ফলাফল নিয়ে আসবে
বিপ্লব পাল আগস্ট 17, 2010 4:22 পূর্বাহ্ন -
আর প্রানী জগতের বিবর্তন একটি প্রমাণিত বিষয়
এটাকে মানুষের সমাজের জন্য প্রয়োগ কয়ার যাবে না কেন?
মার্কসীয় তত্ত্বও ত বিবর্তনের ওপর দাঁডিয়ে
এমরফিক প্রিন্সিপাল হিসাবে বিবর্তন ত আসবেই-সমস্যা হচ্ছে জৈবিক বিবর্তনের সাথে সাথে আরো অনেক কিছু এসেই যায়-যেমন মানুষের জৈবিক বিবর্তনের স্পিডের থেকে বর্তমানে উৎপাদন ব্যাবস্থার বিবর্তন অনেক বেশী দ্রুত-তারপরে মেডিক্যাল সিস্টেমের জন্যে শিশু মৃত্যু হয় না-ফলে জৈবিক বিবর্তনের বেসিকটাই বর্তমান সমাজের বিবর্তনে মিসিং
ফলে একজন মানুষ যখন গে হয় তখন কতটা জেনেটিক্সের জন্য আর কতটা সমাজের জন্য-এই সমস্যাটাই সমাধান করা যায় না-বা ধর হিউম্যান জেনোম প্রজেক্টের লোকেরাই বলেছে জেনেটিক মার্কারের সাথে মানুষের ব্যাবহারে কোরিলেশন আছে কিন্ত তা দুর্বল-কারন মানুষের নৈতিকতা বা ব্যাবহার শুধু জেনেটিক্স দিয়ে প্রভাবিত না
সমস্যা হচ্ছে কি মার্কসবাদি আর কি ধার্মিক আর কি নিধার্মিক-সবাই একটা কনফার্মেশন কমফোর্ট জোন চাই
ফলে জটিল সিস্টেমের ফাজি ব্যাপার স্যাপার অনেকেরই ভাল লাগে না
বরং একটা পরিস্কার কার্য কারন সম্পর্ক দেখতে সবাই ভালবাসে
মেয়েরা কেন হিংসুটে সেটার যদি এখন একটা বিবর্তনবাদি প্রমান দাও অনেকেই বিশ্বাস করবে-কিন্ত বাস্তব ত এটাই এগুলোও সেই মার্কসবাদের মতন কোথাও হইবে কোথাও হইবে না
ভেবে দেখ মার্কসবাদ ও কিন্ত ভুল না-কিন্ত সামাজিক একটা কমপ্লেক্স সিস্টেমের সরল রিডাকশনিজম করে এবং সেটাকে বিজ্ঞান বলে চালিয়ে কত গুলো নর পিশাচের সৃষ্টি করেছিল?
এই ধরনের ফিল্ডে যারা গবেষনা করে সবাই খবরে আসার জন্যে
দেদারসে রেজাল্ট ম্যানিপুলেট করে-কারন স্ট্রাইকিং ক্লেইম না হলে, পরের ফান্ড পেতে সমস্যা হয়
ফলে এই ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষনার অধিকাংশই ফাঁপানো-যার প্রায় সবটাই পরবর্তীকালে আবর্জনা বলে প্রমানিত
উদাহরন সমকামিতার এর ওপর সব জেনেটিকাল গবেষনা পরে গারবেজ বলে প্রমানিত হয়েছে ১০ বছরের মধ্যেই
সুতরাং এসব গবেষনার দিকে আমাদের চোখ রাখতেই হবে-কিন্ত পাশাপাশি এটা ভুললেও চলবে না-মার্কসবাদ বা তাপগতিবিদ্যা ইত্যাদি দিয়েও কিছু কিছু সামাজিক ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া গেছে-বিবর্তন দিয়েও আরো কিছু যাবে-কিন্ত শুধু বিবর্তন বা শুধু মার্কসবাদ দিয়েই মানুষের বা সমাজের ব্যাবহার সব কিছু বুঝে যাব -এটা ভাবাই অবৈজ্ঞানিক
মার্কসবাদ দিয়ে মানুষের কান্নাকে বিশ্লেষন করা যেমন হাস্যকর হবে-ঠিক তেমনই সামাজিক বৈষম্যের বিশ্লেষনে জৈবিক বিবর্তন ও চলবে না
এর কারনটাই হচ্ছে জটিল সিস্টেমকেশুধু কিছু কিছু ক্ষেত্রেই সিম্পল সিস্টেম হিসাবে রিডিউস করা যায়
রৌরব আগস্ট 17, 2010 4:26 পূর্বাহ্ন -
@বিপ্লব পাল, ::
অভিজিৎ আগস্ট 17, 2010 4:43 পূর্বাহ্ন -
@বিপ্লব পাল,
ফলে একজন মানুষ যখন গে হয় তখন কতটা জেনেটিক্সের জন্য আর কতটা সমাজের জন্য-এই সমস্যাটাই সমাধান করা যায় না-বা ধর হিউম্যান জেনোম প্রজেক্টের লোকেরাই বলেছে জেনেটিক মার্কারের সাথে মানুষের ব্যাবহারে কোরিলেশন আছে কিন্ত তা দুর্বল-কারন মানুষের নৈতিকতা বা ব্যাবহার শুধু জেনেটিক্স দিয়ে প্রভাবিত না
কেউ তো সেটা বলছে না যে, সবকিছুই জেনেটিক
মানুষের কোন ব্যবহারের পেছনে একটিমাত্র জিন খোঁজা খুব সরল এবং হাস্যকর
'আলকোহলের জিন', স্মোকিং জিন, গে জিন এভাবে দেখাটাই ভুল
কিন্তু তা বলে মানব প্রকৃতি গঠনে জিনের গুরুত্ব একেবারেই নেই তাও নয়
সেজন্যই তো উইলসন ব্যাপারটাকে বলেছেন 'জিন-কালচার কোএভুলুশন'
প্রায় প্রতিটি ট্রেইটই আসলে জেনেটিক্স আর পরিবেশের সুষম সমন্বয়
শুধু একটি দিয়ে ব্যাখ্যা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পুর্ণ
এতদিন সমাজবিজ্ঞানীরাই বরং বায়োলজিকাল পার্টটিকে অস্বীকার করে মডেল তৈরি করেছিলান
সেটা ভুল ছিল
আবার কিছু জেনেটিক্সওয়ালারা জিনকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে পরিবেশকে অস্বীকার করেছিলেন
পরে এপিজেনেটিক্স সহ অনেক গবেষণাতেই পরিবেশের গুরুত্ব প্রকাশিত হয়েছে
এখন কোন ট্রেইটের কতটুকু পরিবেশের জন্য আর কতটুকু জেনেটিক, তা নিয়ে গবেষণা চলবেই, বিতর্কও হবে, কিন্তু এর মাধ্যমেই আবার বহু সঠিক ব্যাপার বেড়িয়ে আসবে
তৈরি হবে নতুন নতুন গবেষণার ক্ষেত্র
যা হোক বিতর্ক অনেক লম্বা হয়ে যাচ্ছে, আপাততঃ ইস্তফা দেই
স্বাধীন আগস্ট 18, 2010 3:18 পূর্বাহ্ন -
@অভিজিৎ'দা ও বিপ্লব'দা
বিতর্কটা কিন্তু খারাপ লাগছিল না
আমি অবশ্য এটাকে বিতর্ক না বলে আলোচনাই বলবো
বিতর্কে দিন শেষে হার/জিতের বিষয় থাকে, আলোচনায় যেটা নেই
এ কারণে বিতর্ক পরিহার করে চলি
যা হোক, রিডাকশনিজমকে আমি খারাপ হিসেবে ধরবো না যতক্ষন আমি জানি যে এটা রিডাকশনিজম
যতক্ষন একটি কমপ্লেক্স সিস্টেমকে পুরোপুরি জানতে না পারছি ততক্ষন সেটার সরল অবস্থা নিয়ে গবেষণায় ক্ষতি নেই
অধিকাংশ ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে আমরা এটা প্রয়োগ করে থাকি
কিন্তু মনে রাখতে হবে যে সত্যিকার সিস্টেম আরো জটিল, এবং সরল অবস্থা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল সরাসরি জটিল সিস্টেমে ব্যবহার করা যাবে না
গেলেও জানতে হবে সেটা অনেক ক্ষেত্রে কাজ করবে, অনেক ক্ষেত্রে করবে না
আমিও বিপ্লব'দার সাথে একমত হবো যে সব ক্ষেত্রেই কাজ করবে দাবী করা হবে অতিরঞ্জিত
কিন্তু তাই বলে রিডাক্শনিজম বাতিল হয়ে যাবে না
এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া
এটাও একটি বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া
সরল গবেষনা হতে পরবর্তী ধাপে আরেকটু জটিল অবস্থা নিয়ে গবেষণা হবে, তারপর আরো জটিলতর, এবং পর্যায়ক্রমে আমাদের জ্ঞান আরো সুদৃঢ় হবে
সামাজিক মডেল, অর্থনৈতিক মডেল গুলোকে আমার কাছে মনে হয় যথেষ্ট নন-লিনিয়র এবং যথেষ্ট কম্পলেক্স মডেল
সিম্পল সলিউশান নেই কোন
এবং নন-লিনিয়রের মূল কারণ হল এই বিবর্তনীয় মন
আপনি যে সলিউশনই দিন না কেন কিছু মানুষ সেই সলিউশনের মাঝে ফাঁক বের করে ফেলে
অনেকটা ভাইরাস/ব্যাক্টেরিয়ার এর সাথে আমাদের মেডিসিনের যুদ্ধের মত
আসলে এই চোর-পুলিশ খেলাই মনে হয় আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
আমার কাছে মনে হয় দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি দিয়ে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা যায়
বিবর্তনকেও এই দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির মাঝেই ফেলা যায়
জিনকে টিঁকিয়ে রাখা এবং এর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য যে যুদ্ধ সে দ্বন্দ্বই আমাদের তাবৎ প্রাণী জগতকে এগিয়ে নিচ্ছে বলে আমার মনে হয়
যার ফলাফল হিসেবে চলে আসে ন্যাচারাল সিলেকশন, গ্রুপ সিলেকশন অথবা সেক্সুয়াল সিলেশান
যা হোক আপনাদের আলোচনা হতে উপকৃত হলাম, এটা জানাতেই মন্তব্য করা