content
stringlengths
0
129k
ধন্যবাদ দু'জনকেই
অভিজিৎ আগস্ট 17, 2010 12:33 পূর্বাহ্ন -
প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করি আর সমাজকেই ব্যাখ্যা করি রিডাকশনের ব্যাপার সবসময়ই চলে আসে
মহাকর্ষকে ব্যাখ্যার জন্য নিউটনের সূত্রও এক ধরণের রিডাকশনিজম
আইনস্টাইনের তত্ত্বও তাই
সামাজিক প্যাটার্ন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও কিন্তু তা খাটে
এতদিন স্ট্যান্ডার্ড সোশাল সায়েন্সের মডেলে ( , ) সমাজের গতি-প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছিল, এখন দেখা যাচ্ছে এর অনেককিছুতেই আরো ভাল ব্যাখ্যা পাওয়া যায় বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের সাহায্যে
জন টুবি আর লিডা কসমাইডসের : লেখাটায় অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা হয়েছে
ডেনিয়েল ডেনেটের মতই বলি - রিডাকশনিজম কোন সমস্যা না, সমস্যা হচ্ছে গ্রিডী রিডাকশনিজম
বিপ্লব পাল আগস্ট 16, 2010 10:44 অপরাহ্ন -
সাংস্কৃতিক বিষয় গুলি নিয়ে পর্যবেক্ষন থেকে বৈজ্ঞানিক সূত্রে রিডাকশন বিপজ্জনক
সাধারনত সমাজবিজ্ঞানের গবেষণাতে সার্বজনী্ন ব্যাপারটাকে প্রমান করা হয় নাল হাইপোথেসিস থেকে
এবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সে রিডিউসড সিস্টেমের ওপর এটা করা হচ্ছে, তার রিডাকশনিজমই প্রশ্নবিদ্ধ
মানব সভ্যতার মতন একটা কাওটিক সিস্টেমের এই ধরনের রিডাকশনিজম না করে-বরং একটা কোয়ালিটেটিভ বক্তব্য রাখা উচিত-
যে মানব আচরনকে বিবর্তন ঘটিত কিছু হিউরিস্টিক মডেলে ব্যাখ্যা করা যায়
তবে তা বৈজ্ঞানিক সূত্রের পর্যায়ে ফেলা যাবে না
জওশন আরা আগস্ট 14, 2010 12:59 অপরাহ্ন -
গবেষনা ভালো লেগেছে
বিবর্তনের সাথে মনোবিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি গভীরভাবে সম্পর্ক যুক্ত
আসলে, সংস্কৃতি এমন একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দেয়, যা আমাদের দারুনভাবে প্রভাবিত করে
আমরা তখন কাজ করতে থাকি ঐ মানদন্ডের সাপেক্ষে
আমাদের কাজগুলোকেও যাচাই করি একি মানদন্ডের সাপেক্ষে
অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই আমরা সেই মান্দন্ডকে উপেক্ষা করতে পারিনা
আমাদের চিন্তায় স্বাভাবিক ভাবেই একটা ছাঁচ আছে, যার ব্যাপারে মানুষ সাধারনত সতর্ক নয়
অনেকটা বাতাসের মধ্যে আছি বলেই বাতাসকে উপেক্ষা করে বাঁচতে পারিনা
এটমোস্ফেয়ারিক প্রেসারকে উপেক্ষা করেই আমরা প্রেসার মাপি
অ্যাবসলিউট প্রেসার মাপতে গেলে মনে পড়ে, এটমোস্ফিয়ারিক প্রেসারকে বিবেচনায় আনতে হবে
আমাদের আবেগ অনুভূতি গুলোও গড়ে উঠেছে টাইম অ্যান্ড স্পেস সেন্সের উপর ভিত্তি করে
সংস্কৃতি এইখানে এটমোস্ফিয়ারিক প্রেসারের মত
আমরা যখন বলি, আমাদের চিন্তা আমাদের স্বতন্ত্র, তখন আসলে এটা বিবেচনায় আনি না, স্বতন্ত্র চিন্তা গড়ে ওঠার বহু আগেই পারিপার্শ্বিক সংস্কৃতি একটা ভিত্তিভূমি গড়ে দিয়েছে
আমাদের স্বাতন্ত্র্য পরিমাপ করি, পারিপার্শ্বিকতার সাপেক্ষে আমরা কতটুকু ভিন্ন ভাবে চিন্তা করি, কাজ করি, সেইটুকু বিচার করে
কিন্তু সত্যিকার অর্থে আমরা ইউনিভার্সাল হিউম্যান কালচারের বাইরে যাই না
কেবল বহুল প্রচলিতর চেয়ে ভিন্ন পন্থা অনুসরন করি
স্বজন হারানোয় কে চল্লিশ দিন কাঁদল আর কে চোখ শুষ্ক করে রেখেছিল, সেগুলো কেবল মাত্র মানদন্ড থেকে ভিন্নতার উদাহরণ
ভিত্তিভূমি হল, স্বজন হারানোতে বিচ্ছেদ ব্যথা বা কষ্ট অনুভব করা
এইখানেই সার্বজনীনতা
সংশপ্তক আগস্ট 14, 2010 1:54 অপরাহ্ন -
@জওশন আরা,
আবেগটা আসলে বিশ্বজনীন একই কিন্তু এর প্রকাশের ধরনে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পার্থক্য বিদ্যমান
আলবেনিয়ার কথা ধরা যাক
সেখানে মাথা দু দিকে নাড়ালে হ্যা সূচক এবং উপর নিচ করলে না সূচক অর্থ প্রকাশ পায়
বাংলাদেশে ঠিক এর উল্টোটা সত্যি
জওশন আরা আগস্ট 14, 2010 8:04 অপরাহ্ন -
@সংশপ্তক, সহমত
আবেগ বিশ্বজনীন, প্রকাশভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে
অভিজিৎ আগস্ট 14, 2010 8:15 অপরাহ্ন -
@জওশন আরা,
মুক্তমনায় স্বাগতম
খুবই চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন
বিশেষ করে আপনার বলা শেষ কটি লাইনই বোধ হয় আমার লেখার সারাংশ -
সত্যিকার অর্থে আমরা ইউনিভার্সাল হিউম্যান কালচারের বাইরে যাই না
কেবল বহুল প্রচলিতর চেয়ে ভিন্ন পন্থা অনুসরন করি
স্বজন হারানোয় কে চল্লিশ দিন কাঁদল আর কে চোখ শুষ্ক করে রেখেছিল, সেগুলো কেবল মাত্র মানদন্ড থেকে ভিন্নতার উদাহরণ
ভিত্তিভূমি হল, স্বজন হারানোতে বিচ্ছেদ ব্যথা বা কষ্ট অনুভব করা
এইখানেই সার্বজনীনতা
চাইব যে, আপনি মুক্তমনায় নিয়মিত লিখুন
জওশন আরা আগস্ট 14, 2010 8:27 অপরাহ্ন -
@অভিজিৎ, চেষ্টা করব
আশা করছি, প্রথম লেখাটা দিতে পারব কিছুদিনের মধ্যে, হাতে লেখার মত যথেষ্ট সময় পেলে
সংশপ্তক আগস্ট 14, 2010 10:59 পূর্বাহ্ন -
@কেয়া রোজারিও , অভিজিৎ রায় ,
আমাদের বুঝতে হবে , আমাদের মস্তিষ্ক কিভাবে তথ্য প্রসেস করে
ডানহাতি -বামহাতির মত সব মানুষের মস্তিষ্কের এই প্রসেসিং য়াকে এনকোড এবং ডিকোডের সাথে তুলনা করা যেতে পারে - এক রকম নয়
একটা কমপিউটার ফাইল যেমন বিভিন্ন ফরমেটে ( . ,, , , , , , ইত্যাদি ) হতে পারে , তেমনি একেকজন মানুষের মস্তিষ্কে একেক ফরমেটে ( , , / , , , ইত্যাদি ) কাজ করতে পছন্দ করে
একটা খাবারের স্বাদ কিছু মানুষের মস্তিষ্কে ছবি বা শব্দ ফরমেটেও এনকোড হতে পারে
এখন এই এনকোডিং আমাদের চিন্তায় যথেষ্ট প্রভাব ফেলে
যেমন, একজন মানুষের মস্তিষ্ক যত শব্দ প্রতি সেকেণ্ডে প্রসেস করে , তার চেয়েও বহুগুন বেশী পরিমান ছবি সে একই সমযে প্রসেস করতে সক্ষম
তাহলে, একটা মানুষ , একজন মানুষের চেয়ে সমান সমযে দ্রততর চিন্তা করে সর্বোত্তম সমাধান বের করতে সক্ষম
কেয়া রোজারিও আগস্ট 14, 2010 12:48 অপরাহ্ন -
@সংশপ্তক, অভিজিৎ রায়
মেনে নিচ্ছি, কিন্তু মনে নিতে পারছি না
কেনো পারছি না -বলছি
যদি "মানুষের মস্তিষ্কের এই প্রসেসিং কে এনকোড এবং ডিকোডের "সাথে তুলনা করি অথবা "পরিস্থিতি সামলাতে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই সাহায্য নেয়
" ধরে নেই তাহলে একজন তুখোড় খেলুড়ে দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে পর দিন ই কেনো অন্য খেলোয়াড় দের হিংসে করছেন? যার জীবন আচরণে হয়তো কোন দিন ই হিংসের লেশ মাত্র ছিলো না
তার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি কি তাকে রিসোশালাইজেশন বা পুণঃ সামাজীকিকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে না? এই নতুন মানষিক অবস্থা নিশ্চয় শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত
শারীরিক পরিবর্তনটা নিয়ন্ত্রন করছে তার পুরো চিন্তার ধরনটা
সংশপ্তক আগস্ট 14, 2010 1:39 অপরাহ্ন -
@কেয়া রোজারিও,
একজন তুখোড় খেলুড়ে দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে পর দিন ই অন্য খেলোয়াড় দের হিংসে করছেন তার এবং এর মধ্যকার সংঘর্ষের কারণে
হিংসে করা একটা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি কিন্তু আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব
যার জীবন আচরণে হয়তো কোন দিন ই হিংসের লেশ মাত্র ছিলো না , এবং এর মধ্যকার সংঘর্ষের কারণে তিনি এই বিশেষ আচরণকে আর নিয়ন্ত্রণ করছেন না
কেয়া রোজারিও আগস্ট 14, 2010 5:47 পূর্বাহ্ন -
অভিজিৎ রায়,
স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে থাকে তবে যতদুর মনে পড়ছে ছোটবেলায় একবার বাবার সঙ্গে জয়পুর হাটের পাচঁবিবির ভেতর আতাপুর - তারো ভেতরে এক গ্রাম উচাঁই ওখানে এক প্রজেক্ট দেখতে গিয়েছিলাম
নির্দিষ্ট একটা জায়গায় এসে থেমে যেতে হোল গাড়ী আর এগুবে না
তিনখানা মোটর সাইকেল জোগাড় হলো , চালক প্রজেক্টের ই কর্মী, আমরা সহযাত্রী হলাম
বেশ কিছু দুর্গম পথ পাড়ি দেবার পর সাইকেল তিনটি একটা জলের ছড়ার কাছে এসে থেমে গেলো
বেশ জল জমা
কে যেনো একটা গাছের গুড়ি ফেলে রেখেছে পারাপারের জন্যে
মোটর সাইকেল চালক তিনজন -একজন ময়মনসিং এলাকার গারো
অন্যজন সমতল এলাকার , বাকী জন সাওঁতাল -উত্তর বঙ্গের
আমি তখন ক্লাস সেভেন এ পড়ি , ছোট বেলা থেকেই মানুষ পড়তে খুব ভালোবাসতাম
লক্ষ্য করলাম গারো ( মান্দী) ভদ্রলোক ম্যালাক্ষন তাকিয়ে থেকে মোটর সাইকেল টা নিয়ে অনেক অনেক ঘোরা পথে সেই ছড়ার জায়গাটা পেরুলেন
সমতলের ভদ্রলোক সেই পড়ে থাকা কাঠের গুড়ির ওপর দিয়েই ছাগলের দু'কান চেপে ধরার মত তার মোটর সাইকেলের হাতলে হাত রেখে ঘষ্টাতে ঘষ্টাতে ওঠাবার চেষ্টা করতে থাকলেন , পিছলিয়ে পড়ছেন আবার উঠছেন কিন্তু তিনি ক্রমাগত " দেখিয়ে দেয়া পথেই" পেরুবার চেষ্টা করছেন
চোখ পড়লো সাওঁতাল ভদ্রলোক সালভাতোর পাউরিয়ার দিকে , দেখলাম থার্ড বা ফোর্থ গিয়ারে তুলে খিপ্র গতিতে প্রায় উড়েই পেরিয়ে গেলেন জলাটা
আচ্ছা, এই যে এক ই পরিস্থিতি তে তিনজনের তিনটি কর্মপন্থা বেছে নেয়া একি নিছক ব্যাক্তিগত ইচ্ছেই? নাকি সামাজিকীকরন, সামাজিক অভিযোজন নাকি পারিপাশ্বিকতার প্রভাব নাকি জাতিতত্বের কোন ছিটে ফোঁটা? আমি কাব্য করে বলি লক্ষ মানুষের জীবন সাধনার নাম সংস্কৃতি - এটি কি সংস্কৃতির কোন প্রভাব? নাকি এর অন্য কোন ব্যাখা আছে? অথবা এমন ও তো হতে...
অভিজিৎ আগস্ট 14, 2010 9:59 পূর্বাহ্ন -
@কেয়া রোজারিও,
কেয়া, অনেকদিন পরে লিখলেন
নিয়মিত লিখতে অনুরোধ করি