content
stringlengths
0
129k
আমার জ্ঞানগর্মি এমনিতেই কম
আপনার প্রশ্নের সঠিক ব্যাখ্যা আমি কতটুকু দিতে পারব জানি না
তবে যেটুকু বুঝি মানুষ এ ধরণের পরিস্থিতি সামলাতে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই সাহায্য নেয়
যার এ ধরণের পরিস্থিতিতে জীবন যাপনের অভিজ্ঞতা বেশি তার সমাধানও তত চৌকষ এবং বাস্তব সম্মত হবে
একজন সমতলভূমিতে বাস করা লোকের পক্ষে পাহাড় ডিঙ্গানো আর পাহাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাস করা একটি লোকের পাহাড় ডিঙ্গানোতে পার্থক্য থাকবেই
আর তা থাকবে তাদের স্বীয় অভিজ্ঞতার কারণে
যে কখনো জলে নামেনি তাকে সাঁতার নিয়ে যতই জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দেন না কেন, সেই অভিজ্ঞতার ফলাফল খুব বেশি সুখপ্রদ হবে না বলাই বাহুল্য
আবার আপনি ঠিকই ধরেছেন - আমাদের ঘটনা বিশ্লেষণের ব্যাপারটাও আমাদের অভিজ্ঞতার উপরে অনেকাংশেই নির্ভরশীল
এমন হতেই পারে আপনি ঘটনাটি যেভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, অন্য কেউ অন্য ভাবে হতো করতো
'লক্ষ মানুষের জীবন সাধনার নাম সংস্কৃতি' -উক্তিটি চমৎকার লাগলো
বিপ্লব রহমান আগস্ট 14, 2010 7:09 অপরাহ্ন -
@কেয়া রোজারিও,
চমৎকার পর্যবেক্ষণ! :: অনেকদিন আপনার লেখা পড়ি না! ::
রনবীর সরকার আগস্ট 14, 2010 4:02 পূর্বাহ্ন -
" হ্যা,শতধা বিভক্তি সত্ত্বেও মানব কালচারগুলো আসলে সম্মিলিতভাবে সার্বজনীন সংস্কৃতি বা কালচারাল ইনিভার্সাল ( )কেই উর্ধ্বে তুলে ধরে, অন্ততঃ বিবর্তন মনোবিজ্ঞানীদের তাই অভিমত
বুঝতে একটু অসুবিধা হচ্ছে
ধরুন কান্নার ব্যাপারটা
জিওগ্রাফী চ্যানেলে তো একবার দেখলাম জেব্রার দল নদী পার হওয়ার সময় এক জেব্রাকে কুমিরে খেয়ে ফেলার পর তার মা কান্না করতেছিল
তারপর ধরুন মা তার সন্তানকে লালন-পালন করে
এই বৈশিষ্ট্যতো অন্য প্রাণীদের মধ্যেও পাওয়া যায়
তারপর ধরুন দলবদ্ধভাবে বাস করা, একে অপরের সাথে যুদ্ধ করা এসবের ওতো উদাহরন আছে
আমি আসলে বলতে চাচ্ছি কিছু মিল পশুদের সাথে খুজলে পাওয়া যেতে পারে যেখানে হয়ত মানুষের নিজেদের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিল অনেক বেশি
কিন্তু অমিলও কিন্তু খুব কম নয়
তাই সেটাকে কি পুরোপুরি সার্বজনীন বলা যায়?
মানব প্রজাতির পুরাটা নিশ্চয়ই বিবর্তনের একই পথ ধরে যাবে না
এবং এক সময় হয়ত বিবর্তনের পথ ধরে সাংস্কৃতিক ভিন্নতা প্রকট আকার ধারন করতে পারে যদিও কিছু সাধারন বৈশিষ্ট্য অবশ্যই থাকবে
মোটের ওপর আমার কথা হলো, অভিন্ন সংস্কৃতির ব্যাপারটা অনেকটা পরিমানগত , প্রকারগত নয়
আসলে অল্পবিদ্যা ভয়ংঙ্করী
তাই হয়ত উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে ফেলতে পারি
সেজন্য ক্ষমাপার্থী
কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো পেলাম না
১.কান্নায় মানুষের চোখে জল আসার বিবর্তনীয়ব্যাখা
২.যুদ্ধ এবং ছবি আকার ব্যাপারটা যদিও বুঝতে পেরেছি তবে নাচ-গানের কি বিবর্তনীয়ব্যাখা দেয়া যায়?
অভিজিৎ আগস্ট 14, 2010 8:59 পূর্বাহ্ন -
@রনবীর সরকার,
বুঝতে একটু অসুবিধা হচ্ছে
ধরুন কান্নার ব্যাপারটা
জিওগ্রাফী চ্যানেলে তো একবার দেখলাম জেব্রার দল নদী পার হওয়ার সময় এক জেব্রাকে কুমিরে খেয়ে ফেলার পর তার মা কান্না করতেছিল
তারপর ধরুন মা তার সন্তানকে লালন-পালন করে
এই বৈশিষ্ট্যতো অন্য প্রাণীদের মধ্যেও পাওয়া যায়
তারপর ধরুন দলবদ্ধভাবে বাস করা, একে অপরের সাথে যুদ্ধ করা এসবের ওতো উদাহরন আছে
আমি আসলে বলতে চাচ্ছি কিছু মিল পশুদের সাথে খুজলে পাওয়া যেতে পারে যেখানে হয়ত মানুষের নিজেদের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিল অনেক বেশি
কিন্তু অমিলও কিন্তু খুব কম নয়
তাই সেটাকে কি পুরোপুরি সার্বজনীন বলা যায়?
ঠিক আছে আরো একবার বোঝার চেষ্টা করা যাক
প্রথম কথা হল, বিবর্তন যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের পৃথিবীতে দেখা জীবজগতের মধ্যে উৎপত্তিগতভাবে, বংশধারার উত্তরাধিকারসূত্রে পারষ্পরিক একটা সম্পর্ক রয়েছে
অর্থাৎ, তিনশ বছর আগে থেকে শুরু করে বর্তমানকালের সকল জীবই আসলে একে অন্যের আত্মীয়! কাজেই সে হিসেবে মানুষের সাথেও অন্য জীবের কিছু না কিছু মিল থাকবেই, কারণ মানুষও বিবর্তনের ধারাবাহিকতাতেই উদ্ভুত
কিন্তু কথা হচ্ছে কতটুকু মিল? যে প্রজাতি থেকে আমরা যত পরে বিচ্ছিন্ন হয়েছি,তাদের সাথে আমাদের নৈকট্য তত বেশি হবে
শিম্পাজিদের সাথে আমাদের অনেক মিল, সে তুলনায় মুরগীর সাথে আমাদের মিল কম, কলাগাছের সাথে আরো কম
এর কারণ হচ্ছে কলাগাছ থেকে আমাদের লিনিয়েজ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বহু আগে, তার অনেক পরে মুরগী থেকে আর অনেক পরে শিম্পাঞ্জিদের কমন পূর্বপুরুষ থেকে
কাজেই শিম্পাঞ্জিদের সাথেই আমাদের য়াচার ব্যবহারে অনেক বেশি মিল থাকবে মুরগীর আচরণের চেয়ে
ঠিক তাই পাওয়া যাচ্ছে
কিন্তু তারপরেও বলা যাবে না যে, শিম্পাঞ্জিদের সাথে আমাদের সবকিছুই মিলবে
কারণ মানুষ শিম্পাঞ্জি নয়, তার প্রকৃতি শিম্পাঞ্জির প্রকৃতির সাথে আলাদা হবে, বেশ কিছু জায়গায় মিল থাকা সত্ত্বেও
ব্যাপারটা আরো ভাল ভাবে ব্যাখ্যা করতে গেলে মস্তিস্কের শেয়ার্ড এবং ইউনিক মডিউল গুলোর কথা জানতে হবে
ধরা যাক, আমাদের পুর্বপূরষদের কথা যদি বলতে হয়, তবে সব স্তন্যপায়ী প্রানীদের পুর্বপুরুষ ছিলো সরিসৃপেরা
কাজেই কিছু মডিউল থাকবেই মানুষের জন্য 'ইউনিক' নয়
সুবিন যেমন দেখিয়েছেন - আমাদের দেহগত স্ট্রাকচারে 'ইনার ফিশ' এর ছোয়া আছে, আমাদের মস্তিস্ক বিশ্লেষন করলেও আমাদের সরিসৃপ কিংবা মৎস প্রজাতির বিভিন্ন মডিউল পাওয়া যাবে - যা আমরা শেয়ার করি
কিন্তু তারপরেও কিছু মডিউল পাওয়া যাবে ইউনিক
কুমির এবং মানুষের - উভয়েরই চোখ আছে - এবং দুজনেই একই পূর্বপূরুষ হতে বিবর্তিত এবং বিকশিত, কিন্তু তার মানে এই নয় যে একটি মানুষের 'কুমিরের চোখ' আছে
মানব প্রজাতিতে চোখের বৈশিষ্ট কুমিরের বৈশিষ্ট থেকে আলাদা
আমি আমার লেখায় পাকস্থলির উপমা দিয়ে বুঝিয়েছি যে, সলিমুল্লাহ কসাই খুব ভাল করেই আমাদের দেখিয়ে দিতে পারবেন গরুর পাকস্থলি কেমন হয়, খাসিরটা কেমন, ভেড়ারটা কেমন আর মুরগীরটা কেমন
মানুষের পাকস্থলি এদের থেকে আলাদা হবে
বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, পেটের ভিতরে পাকস্থলির যেমন একটা প্রকৃতি আছে, তেমনি মানুষের মনেরও আলাদা একটা প্রকৃতি আছে - যেটা অন্য প্রানী থেকে আলাদা
এই প্রকৃতিটি সার্বজনীন
আমি লেখায় বলেছি - একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, সংস্কৃতির যত বিভাজনই থাকুক না কেন, প্রত্যেক সংস্কৃতিতেই দেখা যায়, মানুষেরা একইভাবে রাগ অনুরাগ, হিংসা, ক্রোধ প্রকাশ করে থাকে
নাচ, গান, ছবি আঁকার ব্যাপারগুলো সব সংস্কৃতিতেই কম বেশি বিদ্যমান
প্রকাশভঙ্গি হয়ত সংস্কৃতিভেদে আলাদা হতে পারে, কিন্তু সার্বজনীনরূপটি সব জায়গাতেই একই রকম হবে
কোন সংস্কৃতি খুঁজলেই পাওয়া যাবে না যে, নারীরা পুরুষদের চেয়ে বেশি ভায়োলেন্ট, কিংবা কোন সংস্কৃতিতেই পাওয়া যাবে না যে, নারীদের মধ্যে সিরিয়াল কিলার বেশি কিংবা নারীরা বেশি পর্ণগ্রাফির ভক্ত, ইত্যাদি
যুদ্ধের ব্যাপারটাও প্রতিটি সংস্কৃতিতেই কম বেশি আছে
কেউ বা যুদ্ধ করেছে লাঠি সটা দিয়ে, কেউ বা বল্লম দিয়ে, কেউ বা তীর ধনুক দিয়ে কিংবা কেউ বুমেরাং ব্যবহার করে, কেউ বা কামান বন্ধুক ব্যবহার করে, কেউ বা পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্র বানিয়ে
আদিম গুহাচিত্রগুলোতে চোখ রাখলেই দেখা যায় তীক্ষ্ণ সেসব অস্ত্র ব্যবহার করে তারা পশু শিকার করেছে, কখনো বা হানাহানি মারামারি করেছে নিজেদের মধ্যেই
কাজেই কেউ যদি দাবী করে কোন এক 'এক্সোটিক' সংস্কৃতিতে মানুষ এতোই শান্তিপ্রিয় যে তাদের ভাষাতে সহিংসতা, আগ্রাসন কিংবা সংঘর্ষসূচক কোন শব্দই নেই, তাহলে সেটা সার্বজনীনতার বিরুদ্ধে যায়
কিন্তু সেরকম কিছু পাওয়া যায়নি
বরং যারা সেরকম কিছু দাবী করেছিলেন, তাদের দাবীই হোক্স বলে প্রমাণিত হয়েছে (টেসাডে, স্যামোয়া প্রভৃতি)
কাজেই, বাহ্যিকভাবে যত পার্থক্যই আমরা দেখি না কেন, আসলে আমরা মানুষেরা এক অভিন্ন সংস্কৃতির অংশ
যুদ্ধ এবং ছবি আকার ব্যাপারটা যদিও বুঝতে পেরেছি তবে নাচ-গানের কি বিবর্তনীয়ব্যাখা দেয়া যায়?
এটা নিয়ে আমি আগেই বলেছি
জিওফ্রি মিলার তার মেটিং মাইণ্ড বইয়ে চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এ নিয়ে
আপনি পড়ে দেখতে পারেন
তার মতে শুধু নাচ গানই নয়, শিল্পানুরাগ, ক্রিয়েটিভিটি, কাব্য চর্চা - এগুলো আসলে আমাদের পূর্বপুরুষদের কেয়ারফুল সেক্সুয়াল সিলেকশনের ফল
এই নাচ গানগুলো আমাদের বেঁচে থাকায় কোন বাড়তি উপযোগিতা দেয়নি, কিন্তু এই গুণগুলো দ্বারা আমাদের পূর্বপুরুষেরা বহুমাত্রায় আকৃষ্ট হয়েছিল, আর তা নির্বাচন করেছিল যৌনতার নির্বাচনের মাধ্যমে , ঠিক যেভাবে ময়ুরী নির্বাচন করে দীর্ঘপুচ্ছবিশিষ্ট ময়ুরকে
এ ছাড়াও আরো অনেক ব্যাখ্যা আছে সেগুলোতে আর গেলাম না
নৃপেন্দ্র সরকার আগস্ট 14, 2010 7:26 অপরাহ্ন -
@রনবীর সরকার,
কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো পেলাম না
১.কান্নায় মানুষের চোখে জল আসার বিবর্তনীয়ব্যাখা
২.যুদ্ধ এবং ছবি আকার ব্যাপারটা যদিও বুঝতে পেরেছি তবে নাচ-গানের কি বিবর্তনীয়ব্যাখা দেয়া যায়?
আমিও উত্তর খুজছিকান্নায় মানুষের চোখে জল আসার বিবর্তনীয়ব্যাখা
ভবঘুরে বলেছেন
আমরা প্রথমেই যে ভুলটি করি তা হলো- আমরা ধরে নেই বিবর্তন-প্রক্রিয়ার যাবতীয় রহস্য বোধ হয় বিজ্ঞানীরা বের করে ফেলেছেন, আর সেই পয়েন্ট থেকেই আমরা সব প্রশ্নগুলোর উত্তর খোজার চেষ্টা করি
বিবর্তন প্রক্রিয়ার আভ্যন্তরীন গঠন কাঠামোর অনেক কিছুই হয়ত জানা গেছে কিন্তু সেই আভ্যন্তরীন গঠন কাঠামো কিভাবে জীবের জীবনাচারে ও স্বভাব-চরিত্রে সার্বিক প্রভাব ফেলে বা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে তা এখনও বেশী জানা যায়নি
ক্রমাগত গবেষণার মাধ্যমে তা হয়ত ভবিষ্যতে জানা যাবে এটুকুই আপাতত বলা যায়
অভিজিৎ রায়ের নীচের মন্তব্য থেকে কিছু লিঙ্ক পাওয়া গেছে
আমার গতি শম্বুকের ন্যায়
কাজেই প্রচুর সময় লাগবে বুঝতে
, , , সহ অনেকেই আবেগের বিবর্তনীয় উৎস নিয়ে কাজ করেছেন
কেউ কম সময়ে সারাংশ চাইলে চাইলে উইকি থেকে লেখাটি দেখে নিতে পারেন
আর বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা চাইলে দেখতে পারেন & 'র প্রবন্ধটি
অভিজিৎ আগস্ট 14, 2010 8:12 অপরাহ্ন -