content
stringlengths 0
129k
|
|---|
বলা যায় রাস্তার একটা চিহ্ন এটা
|
ঘোড়া ও মানুষের যাতায়াত এই পথ-চিহ্নের সৃষ্টি করেছে
|
রাস্তার পরেই নিউ টাগুস নদী
|
রাস্তাটা নদীকে অনুসরণ করেই এগিয়ে গেছে আংগ্রা ডে হেরেমা পর্যন্ত
|
পাহাড় ও চড়াই-উৎরাই বাধার কারণে রাস্তাটা সব সময় নদীর তীর বেয়ে এগুতে পারেনি
|
নদীটা খুবই খরস্রোতা
|
সিলভার ভ্যালিতেই শুধু এটা কিছুটা নাব্য, তারপর গোটাটাই অনাব্য
|
হোটেলটা সিলভার ভ্যালির পূব মুখের উপর দারোয়ানের মত দাঁড়িয়ে
|
হোটেলটা উত্তর থেকে এগিয়ে আসা একটা পাহাড়-শ্রেণীর দক্ষিণ প্রান্তের শেষ টিলার উপরে
|
হোটেলের পরেই রাস্তা, রাস্তার পর নদী এবং নদীর পরেই পাহাড়-শ্রেণীটা প্রথমে দক্ষিণে কিছু দূর এগিয়ে দুভাগ হয়ে একটা দক্ষিণে, অন্যটি পশ্চিমে এগিয়ে গেছে
|
পুব দিক থেকে সিলভার ভ্যালিতে প্রবেশের পথ এই একটাই
|
এই প্রবেশ পথেরই দ্বাররক্ষী যেন হোটেলটা
|
হোটেলটাও আবার ঠিক হোটেল নয়
|
অনেকটাই সরাইখানার মত
|
সিলভার ভ্যালিতে উৎপাদিত শস্য, ফল-মুল কেনার জন্যে যে ব্যাপারী, পাইকার ও যেসব ফড়িয়ারা উপত্যকায় আসেন, তারাই এই সরাইখানায় উঠে থাকেন
|
হোটেল বা সরাইখানায় নিয়মিত রান্নার কোন ব্যবস্থা নেই
|
অতিথি কেউ আসলে তার জন্যে রান্না হয়
|
এই হোটেলের মালিক ও তার পরিবার থাকেন পাশেই পাহাড়ের এক গুহাকে কেন্দ্র করে তৈরি বাড়িতে
|
হোটেলের মালিক নব্বই বছর বয়সের এক বৃদ্ধ
|
নাম নুনো কাপুচো
|
আফ্রিকান, রেড ইন্ডিয়ান ও এস্কিমো সবারই কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে তার চেহারা
|
তার ভাষাও এই ধরনের মিশ্র
|
গত দেড় দিনে আহমদ মুসার সাথে তার বেশ ভাব হয়ে গেছে
|
কাপুচো ইতিমধ্যেই আহমদ মুসাকে গর্বের সাথে জানিয়েছে, তারাই দ্বীপপুঞ্জের আদি বাসিন্দা, তাদের ভাষাই দ্বীপপুঞ্জের নিজস্ব ভাষা
|
বিদেশীদের একদিন এই দ্বীপপুঞ্জ ত্যাগ করতেই হবে
|
তবে আহমদ মুসাকে সে বিদেশী বলে না, বলে মেহমান
|
আহমদ মুসা ইজি চেয়ারে বসে ছিল
|
তার মুখ পশ্চিমে সিলভার ভ্যালির দিকে
|
জোৎস্না-স্নাত ভ্যালির বুকে তার চোখ দুটি নিবদ্ধ
|
গত দেড়টা দিন সে ভ্যালিতে ঘুরে বেড়িয়েছে
|
উপত্যকাটার নাম সিলভার ভ্যালি
|
নামটা স্বার্থক
|
সিলভার ভ্যালির চারদিকেই পাহাড়
|
পাহাড় থেকে ভ্যালিতে নেমে এসেছে অনেক সফেদ ঝর্ণা
|
এই ঝর্ণাগুলো সমৃদ্ধ ও বেগবান করেছে উপত্যকার একমাত্র নদী নিউ টাগুসকে
|
এই পাহাড়ী টাগুসের জন্ম আরও পশ্চিমের উঁচু পাহাড়ে
|
সফেদ ঝর্ণা, রূপালী নদী, সবুজ সোনালী শস্যক্ষিত এবং ফলের অজস্র বাগান ও সবুজে আচ্ছাদিত পাহাড়ের দেয়াল অপরূপ করে তুলেছে সিলভার ভ্যালিকে
|
সন্ধ্যার হালকা আঁধারের ওপর রূপালী জ্যোৎস্নার বিচ্ছুরণ এক মায়াময় দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে উপত্যকাটিকে ঘিরে
|
আহমদ মুসা এই দৃশ্যই উপভোগ করছে
|
উপত্যকার গভীরে তারার মত একটা আলো জ্বলজ্বল করে জ্বলছে
|
আহমদ মুসা নিশ্চিত ওটা সার্গিও ভ্যানিসাদের বাড়ির আলো
|
সার্গিও ভ্যানিসাদের বাড়ি সিলভার উপত্যকার মাঝখানে একটা পাহাড়ের উপর
|
পাহাড়ের গোড়া দিয়ে বয়ে যাচ্ছে নিউ টাগুস নদী
|
চারদিকের সবুজের মাঝখানে ওদের সাদা পাথরের সফেদ বাড়িটা ছবির মত সুন্দর
|
কিন্তু আহমদ মুসা তাদের বাড়িতে উঠতে রাজী হয়নি
|
আহমদ মুসা ওদের বাড়িতে উঠতে অস্বীকার করলে কেঁদে ফেলেছিল ভ্যানিসা
|
সার্গিও কাঁদেনি বটে, কিন্তু দুঃখ পেয়েছিল, কিছুটা অপমানিতও বোধ করেছিল
|
আহমদ মুসা ওদের বুঝাতে চেষ্টা করলে সার্গিও বলেছিল, 'আপনি সিলভার ভ্যালিতে এলেন, অথচ আমাদের বাড়িতে না উঠে গিয়ে থাকবেন চাল-চুলোহীন একটা সরাইখানায়, এটা আমাদের জন্যে চরম দুঃখের এবং অপমানেরও
|
' ভারী হয়ে উঠেছিল সার্গিওর কণ্ঠস্বর
|
গম্ভীর হয়ে উঠেছিল আহমদ মুসা
|
ধীর কণ্ঠে বলেছিল, 'তোমাদের ওখানে উঠতে পারলে তোমাদের চেয়ে আমিই খুশি হতাম বেশি
|
কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে আমি এই খুশিকে কুরবানী দিতে চাই
|
'
|
'সে স্বার্থটা কি?' ত্বরিত কণ্ঠে বলে উঠেছিল ভ্যানিসা
|
'তোমরা কঠিন ও মহান এক দায়িত্ব পালন করছ তোমাদের জনগনের পক্ষে
|
আমি চাই, কোনভাবেই যেন আমার দ্বারা তোমাদের এ আন্দোলনের কোন ক্ষতি না হয়
|
' আহমদ মুসা বলেছিল
|
'এ প্রশ্ন উঠছে কেন? আপনি যাচ্ছেন আমাদের বাড়িতে
|
আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষতির প্রশ্ন এখানে ওঠে কি করে?' বলেছিল ভ্যানিসা
|
'তোমাদের বাড়িতে যাওয়া বড় কথা নয়
|
এই যাওয়ার মাধ্যমে তোমাদের সাথে আমার পরিচয় ও সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা সবাই জানবে, এটা বড় কথা
|
এই বিষয়টাকে তোমাদের শত্রুরা, তোমাদের সরকার তোমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে
|
' আহমদ মুসা বলেছিল
|
'কিভাবে?' বলেছিল ভ্যানিসা
|
'বলবে, এটা ওদের স্বাধীনতা আন্দোলন নয়, বরং দেশ বিক্রি করার একটা ষড়যন্ত্র
|
ওরা দেশকে বিদেশ, বিধর্মী ও মৌলবাদের চারণক্ষেত্র বানাতে চায়
|
সম্প্রতি সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী নেতা আহমদ মুসা নাম ভাড়িয়ে এদেশে প্রবেশ করে ওদের বাড়িতে গোপনে অবস্থান করেছে
|
সুতরাং গনজালো পরিবার বিদ্রোহী, ষড়যন্ত্রকারী ও বিদেশীদের এজেন্ট
|
ব্যস, কেল্লাফতে
|
তোমরা তো বলতে পারবে না আমি আসিনি, আমি তোমাদের সাথে থাকিনি
|
' আহমদ মুসা বলেছিল
|
সংগে সংগে কথা বলেনি সার্গিও ও ভ্যানিসা
|
তাদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে ভাবনার চিহ্ন
|
একটু পরে ম্লান হেসেছিল সার্গিও
|
বলেছিল, 'ঠিক বলেছেন ভাই, এই কথা তারা বলতে পারে
|
'
|
'বলতে পারে নয় মি. সার্গিও, তারা বলবে
|
আরও একটা কথা মি. সার্গিও
|
আমার আশংকা যদি সত্য হয়, তাহলে নিশ্চিত জানবেন ওরা আমাদের সন্ধানে আসছে
|
ওরা এসে পড়ার আগেই যদি আমি সিলভার ভ্যালি ত্যাগ করতে না পারি, তাহলে সংঘাত বাধতে পারে
|
সেই সংঘাতে গনজালো পরিবার জড়িয়ে পড়লে মহাক্ষতি হবে আপনাদের পরিবারের এবং আপনাদের মহান আন্দোলনের
|
আমি যদি এই ভ্যালিতেই আলাদা থাকি, তাহলে সংঘাত বাধলেও সেটা হবে আমার ও ওদের মধ্যে
|
মনে করা হবে, আমি ভ্যালিতে এসে লুকিয়েছিলাম
|
ভ্যালির কারো সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই
|
ম্লান হাসি ফুটে উঠেছিল ভ্যানিসার মুখেও
|
বলেছিল আহমদ মুসা থামতেই, 'আপনার কথা সত্য ভাইয়া, কিন্তু এখন আপনার নিজের কথা ভাবার কথা, আমাদের কথা ভাবছেন কেন?'
|
'কৌশল নির্ধারণ করতে হলে সবটা বিষয়ই এক সাথে ভাবতে হবে ভ্যানিসা
|
' বলেছিল আহমদ মুসা
|
গম্ভীর হয়ে উঠেছিল ভ্যানিসার মুখ
|
বলেছিল, 'জনাব আহমদ মুসার সাথে যুক্তি বুদ্ধি কোন দিক দিয়েই পারবো না
|
কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি আমাদেরকে অমন তৃতীয় শ্রেণীর সরাইখানায় রাখতে পারতেন?'
|
আবেগে রুদ্ধ হয়ে উঠেছিল ভ্যানিসার কণ্ঠ
|
ছলছলে হয়ে উঠেছিল তার চোখ
|
ম্লান হাসি ফুটে উঠেছিল আহমদ মুসার ঠোঁটে
|
বলেছিল সান্তনা দেওয়ার সুরে, 'তুমি ঠিক বলেছ ভ্যানিসা
|
আমিও পারতাম না তোমাদেরকে তৃতীয় শ্রেণীর সরাইখানায় রাখতে
|
কিন্তু আমাদের তো এখন সেই শান্তির সময় নয়
|
আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে এখন
|
থাকা, খাওয়া, ঘুম ইত্যাদির যুদ্ধকালিন অবস্থা শান্তির সময় থেকে একদমই আলাদা
|
তুমি যদি এদিকটা ভাব ভ্যানিসা তাহলে আর খারাপ লাগবে না
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.