content
stringlengths
0
129k
'
চোখ ভরা অশ্রু নিয়ে হেসে উঠেছিল ভ্যানিসা
বলেছিল, 'আপনি কেন বন্দুক হাতে নিতে গেলেন ভাইয়া
এক শান্তির নীড়ে, এক স্নেহময় ভাইয়ের প্রতিচ্ছবি আপনি
মাত্র কয়েক ঘন্টার পরিচয় আপনার সাথে
তবু আমি ভাবছি, আপনার জাতীয় ও সামাজিক রূপের চাইতে আপনার পারিবারিক রূপটাই হবে মনোমুগ্ধকর বেশি
'
একটু থামল ভ্যানিসা
কিন্তু আহমদ মুসাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মুহূতর্কালের মধ্যেই আবার বলে উঠেছিল, 'আপনার প্রস্তাবে এক শর্তে রাজী
'
'কি সেই শর্ত?' বলেছিল আহমদ মুসা
'সরাইখানার বিছানা ব্যবহার করতে পারবেন না, খাবার খেতেও আপনি পারবেন না
বিছানা আমাদের বাসা থেকে ওখানে যাবে, খাবারও যাবে নিয়মিত সেখানে
' ভ্যানিসা বলেছিল
'আমি তোমার প্রস্তাবে রাজী, তবে একটা শর্তে
' বলেছিল আহমদ মুসা
'কি শর্ত?' জানতে চেয়েছিল ভ্যানিসা
'বিছানা, খাবার তোমাদের বাসা থেকে আসতে পারবে, আমরা তাতে পরম আনন্দও বোধ করব, তবে শর্ত হলো এ বিষয়টা কাকপক্ষীরও জানা চলবে না
' বলেছিল আহমদ মুসা
'আমি রাজী এ শর্তে
' ভ্যানিসা বলেছিল আনন্দিত কণ্ঠে
'কিন্তু ভ্যানিসা, কাকপক্ষী না জানার শর্ত পূরণ করে কিভাবে তুমি নিয়মিত খাবার পাঠাবে?' বলেছিল সার্গিও
হেসেছিল ভ্যানিসা
বলেছিল, 'আমাদের ভেড়া-ছাগল-গরুর পালটা এখন উপত্যকার পুব-মুখ ঘেঁষেই অবস্থান করছে
পালের সাথে চার পাঁচজন রাখাল রয়েছে
তাদের যাতায়াত আছে সরাইখানায়
ওরাই খাবার পৌছাবে
'
খুশি হয়েছিল সার্গিও
ভ্যানিসাকে ধন্যবাদ দিয়ে সে বলেছিল, 'এ চিন্তা তোমার মাথায় এল কি করে? যতই চিন্তা করি এ বিষয়টা আমার মাথায় আসতো না
'
আহমদ মুসাও ধন্যবাদ দিয়েছিল ভ্যানিসাকে
সত্যি ভ্যানিসা তার কথা অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করেছে
রাখালরাই তিন বেলা তার খাবার নিয়ে আসে
হোটেল মালিক নুনো কাপুচোর কাছ থেকেও খাবার আসে
ওগুলো রাখালরা নিয়ে যায় নিজেরা ভোজ করার জন্যে
আহমদ মুসা শুকরিয়া আদায় করল যে, এখন পর্যন্ত কোন দিক থেকে কিছু ঘটেনি
ভালই যাচ্ছে সময়
মনে মনে আহমদ মুসা কৃতজ্ঞতা জানাল সার্গিও ও ভ্যানিসাদের
আহমদ মুসা তার চোখ ফিরিয়ে আনল ভ্যানিসাদের বাড়ির দিক থেকে
পেছনে পায়ের শব্দ পেয়েছে আহমদ মুসা
দৃষ্টিটা ফিরিয়ে তাকাল আহমদ মুসা পেছন দিকে
দেখল হাসান তারিক ও হোটেলের মালিক নুনো কাপুচো ব্যালকনিতে প্রবেশ করেছে
এই অসময়ে হোটেল মালিক নুনো কাপুচোকে আসতে দেখে কিছুটা বিস্মিতই হলো আহমদ মুসা
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়িয়ে একটা চেয়ার টেনে সামনে এনে বসতে বলল নুনো কাপুচোকে
আহমদ মুসার পাশের চেয়ারে বসল হাসান তারিক
বসেই হাসান তারিক বলে উঠল, 'ভাইয়া, মি. কাপুচো বলছেন কিছু লোক নাকি ভ্যালীতে বিদেশীদের খোঁজ করছে
'
ভ্রুকুচকালো আহমদ মুসা
চেয়ারে নড়ে-চড়ে বসল
বলল, 'মি. কাপুচো, ঘটনা কি?'
'হ্যাঁ, হঠাৎ যেন সবাই আজ বিদেশী খোঁজ করতে লেগে গেছে
আজ বাজারে আমাদের তিনজন কাবিলা প্রধান আমাকে জিজ্ঞেস করেছে আমাদের সিলভার ভ্যালিতে আমি দুজন বিদেশীকে দেখেছি কিনা
আজ দুপুরের পর দুজন বাইরের লোক এসেছিল হোটেলে
জিজ্ঞেস করেছিল, হোটেলে কোন বিদেশী এসেছে কিনা, এসেছিল কিনা
আমি বুঝতে পারছি না ঘটনা কি!' বলল নুনো কাপুচো
'বাইরে থেকে এসেছিল ওরা কারা?' জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা
তার চোখে-মুখে ভাবনার ছাপ
'ওরা ফল ব্যবসায়ীর লোক
মাঝে মাঝেই ওরা আসে ফল মূলের পাইকারী মার্কেটে
' বলল নুনো কাপুচো
'ওরা কাকে খুঁজছে, কেন খুঁজছে বলেছে কিছু?' জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার
'সে রকম সুনির্দিষ্টি করে কিছু বলেনি
বলেছে, দুজন বিদেশী হারিয়ে গেছে, তাদেরকেই ওরা খুঁজছে
ওরা নাকি গনজালো প্যালেসেও খোঁজ করেছে
সেখানেও কোন বিদেশী নেই
' বলল নুনো কাপুচো
'দেখা যাচ্ছে, অনেক লোক লেগেছে খোঁজ করতে?' আহমদ মুসা বলল
'হ্যাঁ অনেক লোক
ভ্যালিরও অনেক লোক লেগেছে
কয়েকজন কবিলা প্রধানও
যে কোন মূল্যে বিদেশীদের নাকি ওদের খুঁজে বের করা চাই
' বলল নুনো কাপুচো
'আমরাও তো বিদেশী
কেউ তো আমাদের খোঁজ করেনি?' আহমদ মুসা বলল
'আমি তো বিদেশী বলিনি
আমি বলেছি আমার দুজন মেহমান আছে, আর কেউ নেই আমার হোটেলে
' বলল নুনো কাপুচো
'আপনার কথা ওরা বিশ্বাস করেছে?' আহমদ মুসা বলল
'তারা বিশ্বাস করা বা না করার সাথে আমার কিছু এসে যায় না
তারা নিজেরাও খোঁজ নিতে পারে
তাছাড়া তারা শুধু তো আমাকে নয়, আরও অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে
' বলল নুনো কাপুচো
হাসল আহমদ মুসা
বলল, 'ঠিকই বলেছেন আপনি
'
নুনো কাপুচো উঠে দাঁড়াল
বলল, 'উঠি আমি এখন, বাইরে কাজ আছে
'
'দুয়ে দুয়ে চার যেমন সত্য, এটাও তেমনি সত্য হাসান তারিক
ওরা আসবে এটা অবধারিত ছিল
' বলল আহমদ মুসা
আহমদ মুসার কথা শেষ হতেই ব্যালকনিতে প্রবেশ করল যুটো, সার্গিওদের হেড রাখাল
'কি ব্যাপার যুটো? তুমি এ সময়?' জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা
'স্যার, কিছুটা সামনে ভ্যালির বাইরে দুটি ট্রাক ও একটি মাইক্রো বোঝাই লোক এসেছে
তার সাথে এসেছে একটা জীপ
আমি কথাবার্তায় শুনেছি, তারা এই হোটেল রেড করবে
দুজন বিদেশীকে তারা ধরবে
আমি খবরটা নিয়ে গিয়েছিলাম আমাদের স্যারের কাছে
তিনি আপনাকে এই চিঠি দিয়েছেন