content
stringlengths
0
129k
'
বলে যুটো একটা চিঠি তুলে দিল আহমদ মুসার হাতে
আহমদ মুসা তাড়াতাড়ি চিঠিটা খুলল
পড়লঃ
'ভাই সাহেব,
আপনাদের অবস্থান শত্রুদের কাছে ধরা পড়ে গেছে
যুটো আপনাকে বলবে
আমি ও ভ্যানিসা গোপন একটা গিরিপথে চারটা ঘোড়া নিয়ে অপেক্ষা করছি
যুটোর সাথে আপনারা চলে আসুন
শত্রুকে কাঁচকলা দেখিয়ে আমরা উপত্যকা থেকে বেরিয়ে যাব
সংঘাত এড়ানোর আপনার কৌশল সামনে রেখেই আমি এই ব্যবস্থা করেছি
''
আপনার ভাই,
'সার্গিও'
চিঠিটা আহমদ মুসা পড়ে হাসান তারিকের হাতে তুলে দিল পড়ার জন্যে
তারপর তাকাল যুটোর দিকে
বলল, 'উপত্যকার মুখে ওরা কখন এসেছে?'
'এক ঘন্টা আগে
' বলল যুটো
'কিন্তু ওরা বাইরে অপেক্ষায় কেন? ঢুকছে না কেন ভেতরে?' বলল আহমদ মুসা
আড়াল থেকে ওদের কথা যতটুকু শুনেছি তাতে ধারণা হয়েছে ওরা লোক পাঠিয়েছে ওদের পরিচিত কয়েকজন কাবিলা প্রধানের কাছে উপত্যকায় ঢোকার অনুমতির জন্যে
অনুমতি পেলে মনে হয় ওরা ঢুকবে
'কাবিলা প্রধানরা অনুমতি দেবে?' আহমদ মুসা জিজ্ঞেস করল
'সরাসরি দেবে না
আমাদের স্যার উপত্যকা কমিটির প্রধান
তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে
সে অনুমতি ওরা পাচ্ছে না
কারণ আমাদের স্যার ইতিমধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন
' বলল যুটো
'তাহলে অনুমতি ওরা পাচ্ছে না
অনুমতি না নিয়ে কি ওরা ঢুকবে?' বলল আহমদ মুসা
'উপত্যকাবাসীদের সাথে লড়াই-এ ওরা নামতে চাইবে না
গাড়ি বোঝাই হয়ে না ঢুকে এমনি দু'চারজন ঢুকতে পারে
' চিঠি পড়া হয়ে গিয়েছিল হাসান তারিকের
বলল, 'ভাইয়া কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?'
'সার্গিও ঠিকই বলেছে
চল আমরা বের হই
' আহমদ মুসা বলল
পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ওরা তৈরী হয়ে দুতলার সিঁড়ির মুখে এসে মিলিত হলো
তাকাল আহমদ মুসা হাসান তারিকের দিকে
বলল, 'তোমার মেশিন রিভলবারটা কোথায়?'
'আমার ব্যাগে
' বলল হাসান তারিক
'না, ওটা শোল্ডার হোলষ্টারে নাও
কোটের বোতাম খুলে রাখ
' আহমদ মুসা বলল
'ঠিক আছে ভাইয়া
' বলে হাসান তারিক ব্যাগ থেকে রিভলবার শোল্ডার হোলষ্টারে পুরল
সিঁড়ি দিয়ে নামল আহমদ মুসারা
হোটেলের কাউন্টারের সামনে আসতেই বিভিন্ন দিক থেকে বেরিয়ে এসে জনাছয়েক লোক আহমদ মুসাদের ঘিরে ধরল
কাপড়ের ভেতর থেকে তারা বের করল রিভলবার
এক সাথে ছয়টা রিভলবার তাক করা আহমদ মুসাদের দিকে
ছয় দিক থেকে ছয়টা রিভলবারকে হা করে উঠতে দেখে আর্তনাদ করে উঠল যুটো
আহমদ মুসা তাকাল হাসান তারিকের দিকে
বলল, 'তুমি যুটোর মত চিৎকার করো না
না জেনে-শুনে এরা নিশ্চয় গুলী করবে না
নিশ্চয় কোথাও ভুল হয়েছে এদের
'
বলে আহমদ মুসা রিভলবারধারী ছয়জনের দিকেই একবার করে তাকাল
তারপর এক জনের দিকে চোখ স্থির করে বলল, 'আপনিই নিশ্চয় এদের চীফ
এখন বলুন ঘটনা কি?'
'ঘটনা কিছুই নয়, আমাদের সাথে চলুন
একটু জিজ্ঞাসাবাদ আছে
' বলল লোকটি
'কোথায় যেতে হবে?' জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা
'এই একটু সামনে
' বলল লোকটি
'জিজ্ঞাসা কেন বলুন তো? কোন কেস-টেস আছে নাকি আমাদের বিরুদ্ধে
' জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার
'সবই জানতে পারবেন
' বলল লোকটি
'না জেনে যেতে যদি না চাই?' আহমদ মুসা বলল
'আমার নাম ফিগো
আমি পাখির মত মানুষ মারতে পারি
দ্বিতীয়বার আমি আর আদেশ করব না
এই মুহূর্তে যাবার জন্যে পা না তুললে গুলী করবে আমার লোকরা
' বলল ফিগো লোকটা
কৃত্রিম ভয় ফুটিয়ে তুলল আহমদ মুসা তার চোখে-মুখে
বলল, 'গুলীর দরকার নেই
আমরা যাব, এবং আপনাদের কি জিজ্ঞাসাবাদ আছে শুনব
'
একটু থামল
থেমেই আবার বলে উঠল, 'মি. ফিগো, হোটেলের বিল মিটিয়ে দিয়ে কি আমরা বেরোবো?'
বিস্ময় ফুটে উঠল ফিগোর চোখে-মুখে
বলল, 'বিল নিয়ে এখন আপনি ভাবছেন? ঠিক আছে বিল মিটিয়ে দিন
'
আহমদ মুসা হোটেলের কাউন্টারের দিকে এগুলো
কাউন্টারে একজন অল্প বয়সি বয় কাঠ হয়ে বসেছিল, যেন ফাঁসির আসামী
আহমদ মুসা তার সামনে একটা পাঁচশ ডলারে নোট রেখে বলল, 'বিল কত হয়েছে তুমি তো বলতে পারবে না
মি. কাপুচোকে এই টাকাটা দিয়ে দিয়ো
যদি কিছু বাকি থাকে পরে শোধ করব
'
আহমদ মুসা কাউন্টার থেকে সরে এল
তাকাল হাসান তারিকের দিকে
বলল, 'চল, না গিয়ে তো বাঁচা যাচ্ছে না
'
বলে আগে আগে হাঁটতে লাগল আহমদ মুসা
তার পেছনে হাসান তারিক শুরু করল হাঁটা
তাদের পেছনে ঐ ছয়জন
তাদের রিভলবারগুলো এখন আগের মত আহমদ মুসাদের দিকে তাক করা নয় এবং ট্রিগার পয়েন্টেও নয়