content
stringlengths
0
129k
রাস্তায় নামার পরেই শুরু হলো অন্ধকারে পথ চলা
হোটেল থেকে পুবে দুশ'গজ পরে পাহাড় ও নদীর মাঝের প্যাসেজটা সবচেয়ে সংকীর্ণ
কোন রকমে দুটি গাড়ি এই প্যাসেজ দিয়ে পাশাপাশি চলতে পারে
এটাই সিলভার উপত্যকায় প্রবেশের গেট
কিন্তু গেটে কোন দরজা নেই
গেট পার হয়ে ওপারে পৌছে গেল সবাই
ওপারে পৌছতেই পেছন থেকে ফিগোর কণ্ঠ শোনা গেল
বলে উঠছে সে, 'যে যেভাবে আছ সেভাবে দাঁড়াও
'
ফিগোর কণ্ঠ চাপা বজ্রের মত শোনাল
সবাই দাঁড়িয়ে গেল
আবার ধ্বনিত হলো ফিগোর কণ্ঠ
বলল তার দুজন সাথীকে লক্ষ্য করে, 'জেভি ও কষ্টা, তোমরা শয়তান দুটোকে বেঁধে ফেল
'
আহমদ মুসা দাঁড়াবার আদেশ পেতেই হাসান তারিকও তার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে
হাসান তারিক পাশে দাঁড়াতেই আহমদ মুসা ফিসফিস কণ্ঠে বলে উঠল, 'ওরা দ্রুত কিছু ঘটাতে পারে
প্রস্তুত
'
ফিগোর নির্দেশ পাবার পর জেভি ও কষ্টা নামের দুই ব্যক্তি এগুলো আহমদ মুসাদের দিকে
আহমদ মুসা ও হাসান তারিক পুবমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
জেভি ও কষ্টা পেছন থেকে এগুচ্ছে ওদের দিকে
চারদিকের নিশ্ছিদ্র নিরবতার মাঝে তাদের পায়ের কেডস পাথুরে রাস্তার বুকে শব্দ তুলছে
আহমদ মুসার কান দুটি উৎকর্ণ সেই শব্দের দিকে
প্রতিটি পদক্ষিপ যেন গুণছে
পায়ের শব্দটি আহমদ মুসার পেছনে এসে দাঁড়াবার সাথে সাথে আহমদ মুসা একদিকে তার ডান হাতকে এগিয়ে দিল শোল্ডার হোলষ্টারে রাখা তার এম-১০ মেশিন রিভলবারের দিকে
অন্যদিকে বোঁ করে এবাউট টার্ণে তার বাঁ হাতকে ছুঁড়ে দিল পেছনে দাঁড়ানো লোকটির গলার দিকে
হাতটি অক্টোপাশের মত লোকটির গলা পেঁচিয়ে তাকে যখন টেনে নিয়ে আসছিল আহমদ মুসার দিকে, তখন আহমদ মুসার ডান হাতে উঠে আসা এম-১০ বুলেট বৃষ্টি শুরু করেছিল সামনে দাঁড়ানো লোকদের দিকে
ভোজবাজীর মত এ ঘটনা বুঝে ওঠার আগে তাদের রিভলবারের ট্রিগার টেপার সময় পেছনের লোকরা পেল না
শুধু রিভলবারের ট্রিগার টেপার সময় পেয়েছিল ফিগো
দুটো গুলীও ছুঁড়েছিল আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে
কিন্তু গুলী দুটো আহমদ মুসার বক্ষ ভেদ না করে তার বুকে চেপে ধরা ফিগোর সাথীরই পিঠ ফুটো করে দিল
তৃতীয় গুলী ছোঁড়ার সুযোগ ফিগো আর পায়নি
আহমদ মুসা ও হাসান তারিকের গুলীবৃষ্টি তাকেও ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল
আহমদ মুসা গুলী বর্ষণ শুরু করার সাথে সাথে হাসান তারিক হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিল
সেই সাথে তার হাতে আসা মেশিন রিভলবার প্রথমেই গুলী করেছিল তাকে বাঁধতে আসা লোকটিকে এবং তারপর সামনের দিকে ব্রাশ-ফায়ার করেছিল অনির্দিষ্ট লক্ষ্যে
আহমদ মুসা ও হাসান তারিকের রিভলবার যখন নিরব হলো, তখন অন্ধকারেই দেখা গেল সামনে কেউ দাড়িয়ে নেই
তবে অন্ধকারের কারণে বুঝার উপায় নেই কার কি অবস্থা
'নিশ্চয় কেউ বেঁচে নেই
' প্রথম কথা বলল হাসান তারিক
'হ্যাঁ তাই
বেঁচে থাকলে গুলী করার এই সুযোগ তারা নিত
' বলল আহমদ মুসা
আহমদ মুসার কথা শেষ হতেই তারা শুনতে পেল তাদের পেছনে ইঞ্জিনের গর্জন
আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজনেই পেছন ফিরে পুব দিকে তাকাল
দেখতে পেল অল্প সামনে তিনটি গাড়ির ছয়টি হেডলাইট জ্বলে উঠেছে
এগিয়ে আসছে গাড়িগুলো
'গুলীর শব্দ শুনে কি ঘটেছে তা দেখার জন্যই নিশ্চয় ওরা আসছে
' বলল হাসান তারিক
'এবং তারা মনে করছে, যে গুলীর শব্দ তারা শুনেছে তা তাদের লোকদেরই
' হাসান তারিক থামতেই বলে উঠল আহমদ মুসা
'তাহলে এখন আমরা কি করব?' হাসান তারিক বলল
'আমরা কিছু করব না, ওরা কি করে সেটা দেখতে চাই
'
কথাটা বলে একটু থেমেই আবার বলে উঠল, 'চল, আমরা সিলভার ভ্যালির দিকে হেঁটে গিয়ে ভ্যালির মুখের ওপাশে দাঁড়াই
ওরা এস সাথীদের লাশ দেখুক
তারপর কি করে দেখা যাক
'
বলে আহমদ মুসা সিলভার ভ্যালির দিকে হাঁটা শুরু করল
হাঁটতে লাগল হাসান তারিক আহমদ মুসার পেছনে
তিন গাড়ির বহরটি লাশগুলোর সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল
সামনের গাড়ির হেডলাইটের আলো ছড়িয়ে পড়ল লাশগুলোর উপর
তিনটি গাড়ির হেডলাইটই জ্বলছে
হেডলাইটের আলোতে গাড়িগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে
সবার সামনে মাইক্রো
মাইক্রোর ছাদে বিশাল সাইজের একটা মেশিনগান ফিট করা
গাড়ি তিনটি লাশের সামনে থামার সাথে সাথে মাইক্রোর পেছনের জীপ থেকে দুজন দ্রুত নেমে এল
তারা মাইক্রোর আড়াল থেকে লাশগুলো দেখে আবার দ্রুত ফিরে গেল জীপে
তারা জীপে ফিরে যেতেই মাইক্রোর ছাদে ফিট করা মেশিনগান গর্জন করে উঠল
গুলীর বৃষ্টি প্রবেশ করল সংকীর্ণ পথ দিয়ে উপত্যকরা ভেতরে
আহমদ মুসা ও হাসান তারিক পাহাড়ের আড়ালে না থাকলে তাদের দেহ ঝাঁঝরা হয়ে যেত
গুলীবৃষ্টির মধ্যে মাইক্রো থেকে মানুষ নামল
তারা এক এক করে লাশগুলো নিয়ে গাড়িতে তুলতে লাগল
আহমদ মুসা ফিসফিস করে বলল, 'তারিক, ওরা আক্রমণে আসছে না
ওদের মেশিনগানের গুলী ওদের লাশ সরিয়ে নেবার ঢাল মাত্র
'
'কিন্তু এত তাড়াতাড়ি ওরা রণে ভংগ দেবে?' বলল হাসান তারিক
তার চোখে বিস্ময়
'একটি কারণে হতে পারে
সেটা হলো যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে তাদের সর্দার রয়েছে
' আহমদ মুসা বলল
'হ্যাঁ ভাইয়া, ঠিক বলেছেন
ওদের লিডার যে ছিল সে কোন বড় নেতাই হবে
কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাদের লাশ নিয়ে যাবার এই গরজ কেন?' বলল হাসান তারিক
'লাশ পড়ে থাকলে লাশের মাধ্যমে তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়বে, হয়তো এটা ওরা চায় না
' আহমদ মুসা বলল
অব্যাহত গুলীর আড়ালে তারা সবগুলো লাশ তুলে নিল গাড়িতে
গুলী তাদের বন্ধ হয়ে গেল
কিন্তু গাড়িগুলো নড়ল না
নিজেদের জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে রইল
আহমদ মুসা ও হাসান তারিক পাহাড়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে উপত্যকার সংকীর্ণ মুখটায় এসে দাঁড়াল
'ওরা দাঁড়িয়ে কেন
সামনেও এগুচ্ছে না, পেছনেও সরছে না
কারণ কি?'
ভ্রু-কুঞ্চিত হয়ে উঠল আহমদ মুসার
বোঁ করে আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়াল
ঘুরা অবস্থায় আহমদ মুসা তার এম-১০ এর ব্যারেল তুলে নিচ্ছিল
কিন্তু আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়িয়ে স্থির হবার আগেই একই সাথে দুটি গুলী এসে আঘাত করল তার এম-১০ মেশিন রিভলবারটিকে
আঘাতে তার তর্জনীও আহত হলো
রিভলবার পড়ে গেল তার হাত থেকে
আহমদ মুসার চেয়েও অবস্থা খারাপ হাসান তারিকের