content stringlengths 0 129k |
|---|
ছন্দা হঠাৎ চুপ করলে কর্নেল বললেন, আপনি বীরু কথাটা শুনেছিলেন তা হলে? |
কিন্তু বীরুবাবু তো আমেরিকায় থাকেন |
মাস তিনেক আগে আমাকে একটা চিঠি লিখেছিলেন |
বন্ধুর মৃত্যুসংবাদ তিনি জানতেন না |
জানার পর চিঠিটা লিখে পাঠিয়েছেন |
চিঠিটা আছে আপনার কাছে? |
খুঁজে দেখতে হবে |
কর্নেল মন্দিরের বারান্দায় ওঠার ধাপের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ভটচাযমশাই বলছিলেন, মন্দিরের দরজা লোহার |
ঠিক তা-ই দেখছি |
আর লকটা-ভারি অদ্ভুত লক তো! |
ছন্দা বললেন, হ্যাঁ |
মাথামুণ্ডু কিছু বোঝা যায় না |
ওটা কীভাবে খোলা যায় তা জানতেন ভটচাকাকু, আর জানেন আমার শ্বশুরমশাই |
কর্নেল পকেট থেকে একটা নোট বই বের করে গোলাকার অদ্ভুত তালাটা আঁকতে ব্যস্ত হলেন |
লক্ষ্য করলাম, তালাটার মধ্যিখানে রোমান হরফে টি লেখা ছোট্ট বৃত্তটা একটা ন এবং সেই নক্টা উঁচু হয়ে আছে |
তা ছাড়া তালাটা বসানো আছে লোহার দুটো কপাটের ঠিক মাঝখানে |
দরজার আয়তন প্রায় ৬ ফুট লম্বা এবং প্রায় ৪ ফুট |
তালাটা দরজা খুললে দু ভাগ হয়ে যায় |
লক্ষ্য করলাম, তালাটার মধ্যিখানে রোমান হরফে টি লেখা ছোট্ট বৃত্তটা একটা ন এবং সেই নক্টা উঁচু হয়ে আছে |
তা ছাড়া তালাটা বসানো আছে লোহার দুটো কপাটের ঠিক মাঝখানে |
দরজার আয়তন প্রায় ৬ ফুট লম্বা এবং প্রায় ৪ ফুট চওড়া |
তালাটা দরজা খুললে দু ভাগ হয়ে যায় |
কর্নেল জুতো খুলে বারান্দায় উঠলেন |
তারপর আতস কাচ বের করে কপাট পরীক্ষায় মন দিলেন |
ছন্দা বললেন, মন্দিরের দরজাটা লোহার বলা হয় বটে, কিন্তু আমার ধারণা ওটা ইস্পাতের |
কারণ ওতে কোথাও মরচে ধরতে দেখিনি |
কর্নেল নবটা কয়েকবার ঘুরিয়ে দেখে বললেন, সম্ভবত এতে কোনও সূক্ষ্ম ব্যালান্সের ব্যাপার আছে |
নবটা খুবই মসৃণ |
লেটারগুলো এক জায়গায় স্থির দেখাচ্ছে |
কিন্তু নব ঘোরালেই ওগুলো যেন পিছলে যাচ্ছে একটার পর একটা |
অসাধারণ কারিগরি কৌশলে এটা তৈরি করা হয়েছিল |
কর্নেল নেমে এসে জুতো পরলেন |
তারপর হঠাৎ বারান্দার ধাপের নীচে বাঁদিকে ঝুঁকে পড়লেন |
আঙুল দিয়ে কী একটা পরীক্ষা করে দেখে বললেন, আপনি কি কোনও ওয়াশিং পাউডার দিয়ে বারান্দা ধুয়েছেন? |
ছন্দা বললেন, না তো! এমনি দু বালতি জল ছিটিয়ে ধুয়েছি |
বডি কী অবস্থায় ছিল বলুন? |
ছন্দা আঙুল দিয়ে দেখালেন |
দরজার কাছে মাথা আর শরীরের বাকি অংশ লম্বালম্বি পড়ে ছিল |
পা দুটো ছিল এই ধাপের ওপর |
কর্নেল নিজের আঙুল দেখতে দেখতে বললেন, একটু জল চাই |
ওই ট্যাপের জলে হাত ধুয়ে নিন |
কিছু নোংরা লেগেছে কি? এখানে নোংরা |
কিছু থাকার কথা নয় |
রোজ ভটচাকাকু দুবেলা মন্দির আর উঠোন পরিষ্কার করতেন |
কর্নেল উঠোনের কোণে কয়েকটা ফুলগাছের পাশে একটা ট্যাপ খুলে রগড়ে হাত ধুলেন |
তারপর একটু হেসে বললেন, খুনি খুব ধূর্ত |
বারান্দার ওই ধাপে গ্লিসারিন জাতীয় কোনও আঠালো পিচ্ছিল লিকুইড জিনিস ছড়িয়ে রেখেছিল |
ছন্দা চমকে উঠলেন |
সে কী! কেন? |
ভটচাযমশাই খালি পায়ে মন্দিরে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাবেন |
তখন তার মাথার পেছনে মোক্ষম আঘাতের সুযোগ পাওয়া যাবে |
তিনি দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে কাজটা তত সহজ হত না, যতটা সহজ হয়েছে উনি পড়ে যাওয়ার ফলে |
বলে কর্নেল ঘড়ি দেখলেন |
চলুন! এবার চা বা কফি কিছু খাওয়া যাক |
আমি অবিশ্যি কফিরই ভক্ত |
ছন্দা করিডরে ঢুকে বললেন, শ্বশুরমশাইয়ের কাছে শুনেছি আপনি কফির ভক্ত |
কিন্তু আমার অনুরোধ কর্নেলসায়েব! আমাকে আপনি তুমি বলে ডাকবেন |
তো ছন্দা, তুমি কি কাল রাতে ভটচাযমশাইকে বলেছিলে যে আমি কুমার বাহাদুরের পরিচিত? |
শুনে উনি খুব অবাক হয়েছিলেন |
ছন্দা হলঘরের সেই দরজায় তালা এঁটে দিয়ে এগিয়ে গেলেন |
দোতলার বারান্দায় উঠে একটা ঘরের দরজা |
দেখিয়ে আস্তে বললেন, এই ঘরে শ্বশুরমশাই থাকেন |
পাশের ঘরে আমি আর, টিনি থাকি |
আমার ঘর থেকে ওঁর ঘরে ঢোকা যায় |
ভটচাযমশাই কোন ঘরে থাকতেন? |
ওই যে দেখছেন! শেষ দিকের ঘরে |
ছন্দা একটা ঘরের সামনে গিয়ে ডাকলেন, টিনি! টিনি! |
কর্নেল বারান্দার রেলিঙের কাছে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলারে চারপাশটা দেখছিলেন |
একটু হেসে বললেন, আপনার মেয়ে নীচে স্কিপিং করছে |
ছন্দা দেখে নিয়ে বললেন, দেখছ কাণ্ড? কখন হলঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে গেছে |
দরজা ভেজিয়ে রেখেছে বলে টের পাইনি |
আপনারা ভেতরে এসে বসুন |
কর্নেল বললেন, বাহ্! টিনি স্কিপিং করতে করতে মজার ছড়া বলছে তো |
ছড়াটা শুনতে পেলাম- |
নীচে নামো বাঁয়ে ঘোরো |
তবেই তোমার পোয়া বারো |
বিষ্ণুমূর্তি এবং দুই বাহাদুর |
আমাদের বসিয়ে রেখে ছন্দা চলে গিয়েছিলেন |
এই ঘরটা কিছুটা সাজানো গোছানো |
দেয়ালে টাঙানো একটা ছবিতে ছন্দা এবং মৃগেন্দ্রকে দেখতে পেলাম |
সম্ভবত বিয়ের পর তোলা ছবি |
একটা জানালার পাশে টিনির লেখাপড়ার টেবিল এবং বইখাতা সাজানো |
টেবিলে মৃগেন্দ্রের একটা বাঁধানো ছবি রাখা আছে |
মৃগেন্দ্র সুদর্শন ছিলেন বলে মনে হল |
অবশ্যি রাজবংশধরদের চেহারায় একটা উদ্ধত ধরনের লাবণ্য থাকে দেখেছি |
কিংবা এটা আমার মতো সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের চোখের ভুল! |
কর্নেল মন্দিরের দিকের জানালায় গিয়ে বাইনোকুলারে কী দেখেছিলেন |
একটু পরে সেখান থেকে সরে এসে চেয়ার টেনে বসলেন |
বললেন, মন্দিরের পেছনে পুকুরটা একসময় জলা ছিল |
অনেকখানি ভরাট করে বাড়ি উঠেছে |
বাকিটাও ভরাট করা হচ্ছে |
বললাম, মন্দিরের ওখানে পুকুরঘাটে নামার দরজা দেখে এলাম |
কেউ ওদিক থেকে পাঁচিল ডিঙিয়ে এসে ফুলগাছের আড়ালে ওত পেতেছিল হয় তো |
তারপর যেই ভট্টচামশাই আছাড় খেয়ে পড়ে গেছেন, অমনি সে |
জল্পনা করে লাভ নেই জয়ন্ত! কর্নেল আমার কথার ওপর বললেন |
তবে হ্যাঁ |
ছন্দা বলছিল ওই দরজাটা নাকি বহু বছর ভোলা হয়নি |
তা ঠিক নয় |
দরজায় সামনে আগাছার জঙ্গলটা লক্ষ্য করেছি |
কিছু কিছু ঝোপ বেঁকে আছে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.