content
stringlengths
0
129k
সেটা অবিশ্যি নানা কারণেই হতে পারে
কর্নেল! আমি একটু উত্তেজিত হয়ে উঠলাম
কাল ভটচাযমশাই প্রথমে আপনাকে বলছিলেন ওঁর খটকা লেগেছে
পরে বললেন, আসল মূর্তিটা উদ্ধার করে দিতে হবে
তার মানে উনি বুঝতে পেরেছিলেন এই বিষ্ণুমূর্তি নকল!
কর্নেল হাসলেন, ওঁর খটকাতে আমারও খটকা লেগেছিল
যাই হোক, এখন ওসব কথা থাক্
ছন্দা পাশের ঘরের দরজার পর্দা তুলে ট্রেতে দু পেয়ালা কফি আর এক প্লেট পটাটো চিপস্ নিয়ে এলেন
আস্তে বললেন, শ্বশুরমশাই আজ সওয়া দশটাতেই জেগে গেছেন
জিজ্ঞেস করেছিলেন, কারা এসেছে? আমি ওঁকে বললাম, দুজন ভদ্রলোক আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন
একটু পরে ওঁদের নিয়ে আসছি
আপনারা কফি খান
আমি গেট বন্ধ করতে ভুলে গেছি
এখনই খাটালের গোরু-মোষ এসে ঢুকে পড়বে
ছন্দা ব্যস্তভাবে চলে গেলেন
কর্নেল কফিতে চুমুক দিয়ে বললেন, আমার মনে পড়ছে, কুমারবাহাদুর সত্যেন্দ্রনাথ বলতেন, এই বাড়িটা বেচে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাবেন
শুধু ওঁদের গৃহদেবতার জন্য তার পারছেন না
গৃহদেবতাকে স্থানচ্যুত করা নাকি পাপ
আপনি তো সব কিছুতেই নাক গলান! হাসতে হাসতে বললাম
এই অদ্ভুত মন্দিরের ব্যাপারটা আপনার অজানা থেকে গেছে
কর্নেল একটু পরে বললেন, সত্যেন্দ্রনাথের সঙ্গে আমি ক্যাক্টাস্ নিয়েই আলোচনা করতে আসতাম
উনি একজন ক্যাক্টাস্ বিশেষজ্ঞ
এই মন্দির সম্পর্কে উনি বিশেষ কিছু বলেননি
তাই আমারও কৌতূহল জাগেনি
তাছাড়া সব অভিজাত বা বনেদি পরিবারেরই ঠাকুরবাড়ি থাকে
কাজেই তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণ ছিল না
কিছুক্ষণ পরে ছন্দা ফিরে এলেন
বললেন, এতদিন ভটচাকাকুই শ্বশুরমশাইকে বাথরুমে নিয়ে যেতেন
দেখতে রোগা মানুষ হলেও ওঁর হাতে জোর ছিল
দুহাতে শ্বশুরমশাইকে বিছানা থেকে পাঁজাকোলা করে তুলতে পারতেন
এমন সমস্যায় পড়া গেছে
টিনিকে দিয়ে জংবাহাদুরকে আবার ডাকতে পাঠালাম
মনে ক্ষোভ আছে
তাই আসছে না
আপনারা প্লিজ আর একটু অপেক্ষা করুন
কর্নেল উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, তুমি বীরেশ্বরবাবুর চিঠিটা কি খুঁজে দেখেছ?
ওঃ! একেবারে ভুলে গেছি
আমার মাথার ঠিক নেই দেখছি
ততক্ষণ আমরা নীচে ঘুরে আসি
আর যদি আপত্তি না থাকে, হলঘর থেকে মন্দিরে ঢোকার চাবিটা দাও
আমি আরেকবার মন্দিরটা দেখতে চাই
ছন্দা বলল, ওই দরজা ছাড়াও মন্দিরে যাওয়ার একটা পথ আছে
আসুন দেখাচ্ছি
সে আমাদের বারান্দায় নিয়ে গেল
তারপর শেষ একটা লোহার ঘোরালো সিঁড়ি দেখাল
সিঁড়ির মরচে ধরা
ধাপগুলো কোনওক্রমে টিকে আছে
সে বলল, ভেঙে পড়বে না! তবে সাবধানে একে-একে নামতে হবে
আমি অনেক সময় শর্ট কাটে এদিক থেকেও ঠাকুরবাড়িতে যাই
টিনি তো রোজ যখন-তখন নেমে যায়
অবিশ্যি ওর ওজন আর একজন বয়স্ক মানুষের ওজন
কর্নেল হাসলেন
আমার ওজন সহ্য করবে কি না পরীক্ষা করা যাক
আমার ভয় করছিল
কিন্তু কর্নেলের সামরিক জীবনের ট্রেনিং আবার কাজে লাগল
দিব্যি নেমে গেলেন
আমি একসময় কর্নেলের তাগিদে কিছুদিন মাউন্টেনিয়ারিঙে ট্রেনিং নিয়েছিলাম
অনেক কসরত করে নেমে গেলাম
মন্দির প্রাঙ্গণের এক কোণে একটা ঝাপালো ছাতিম গাছ আছে
তাছাড়া সিঁড়িটা বাড়ির পশ্চিমদিকে এবং মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে কয়েক হাত দূরে বলে তখন চোখে পড়েনি
এবার মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকতে একটু দুর্ভোগ সইতে হল
ফুলগাছগুলো ঠেলে সরিয়ে গুঁড়ি মেরে ঢুকতে হল
বললাম, কর্নেল! খুনী এখানেও লুকিয়ে থাকতে পারত
কর্নেল অন্যমনস্কভাবে বললেন, পারত
তবে তা হলে তাকে বাড়ির দোতলায় উঠতে হত
কথাটা বলে উনি পুকুরঘাটের দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন
দরজার সামনেটা আগাছার জঙ্গলে ঢেকে আছে সে-কথা আগেই বলেছি
কর্নেল সেখানে দাঁড়িয়ে কিছু দেখছিলেন
হঠাৎ বললেন, আশ্চর্য তো!
কী আশ্চর্য?
কিছু ঝোপ বেঁকে গেছে
ওই ঝোপটার ডাল ভেঙে গেছে
টাটকা ভাঙা
উত্তেজিতভাবে বললাম, খুনী ঝোপটার ওখানেই ওত পেতে ছিল
থাকতে পারে
কিন্তু দরজাটা-আশ্চর্য! দরজার হুড়কো ঠিকভাবে বসানো নেই
কেউ নিশ্চয় খুলেছিল
কিন্তু এত শিগগির কপাটের ওপর মাকড়সা জাল বুনে ফেলল?
পোকামাকড় বিষয়ে তো আপনি বিশেষজ্ঞ
বিদেশি পত্রিকায় প্রবন্ধ লেখেন
আমি একটা পত্রিকায় পড়েছিলাম, মাকড়সার জাল লম্বা করলে নাকি পাঁচশো মাইল হয়
এই জালটা লম্বা করে দেখবেন নাকি?
কর্নেল আমার রসিকতায় কান দিলেন না
ঝোপঝাড় ঠেলে কয়েক পা এগিয়ে গেলেন
তারপর সরে এসে বললেন, রাতে এই এলাকায় বৃষ্টি হয়েছিল
মাকড়সা জাল বুনেছে বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর
কিন্তু বৃষ্টির আগে কেউ ওই দরজাটা খুলেছিল
কেন খুলেছিল বোঝা যাচ্ছে না
বললাম, কর্নেল! এ সবের চেয়ে বড় প্রশ্ন-আপনাকেই কোর্ট করে বলছি, এই খুনের মোটিভ
আপনিই বলেন, মোটিভ খুঁজে পেলেই খুনীকে খুঁজে পাওয়া সহজ হয়
কর্নেল একটু হেসে বললেন, তোমার কী ধারণা বলো শুনি?
ভটচাযমশাই আপনার বাড়ি থেকে আসার পর হয় তো কে মূর্তিচোর তা জানতে পেরেছিলেন
তাই খুনী তার মুখ চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে
জানতে পারলে ছন্দাকে তিনি নিশ্চয় বলতেন
তাছাড়া তিনি তখনই টেলিফোনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন
ছন্দাও যোগাযোগ করতে পারত
ছন্দাকে আমার সন্দেহ হচ্ছে
বীরেশ্বর সেন নামে ওঁর স্বামীর এক কলিগ ওঁকে চিঠি লিখেছিলেন
চিঠিটা উনি যেন আপনাকে দেখাতে অনিচ্ছুক
ভদ্রলোকের সঙ্গে ছন্দার-