content stringlengths 0 129k |
|---|
অবিশ্যি আমার চোখের ভুলও হতে পারে |
জোর দিয়ে বলতে পারছ না তা হলে? |
ছন্দা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বললেন, রেখাটা হয়তো দেখেছিলাম |
তোমাদের হলঘরে শ্রীবিষ্ণুর যে ফোটো আছে, তাতে বুকের কাছে কোনও রেখা নেই |
ছন্দা চমকে উঠলেন |
তারপর আস্তে বললেন, ভটচাকাকুকে মিথ্যাবাদী ভাবতে পারছি না |
কর্নেল চুরুট ধরিয়ে বললেন, তুমি বীরেশ্বরবাবুর চিঠিটা খুঁজে পেলে ওঁর ঠিকানাটা ফোনে আমাকে জানিয়ে দিয়ো |
আর একটা কথা |
তোমার শ্বশুর মশাই বীরেশ্বরবাবুকে চেনেন |
তার সুপারিশেই উনি ভটচাযমশাইকে সেবাইত নিযুক্ত করেছিলেন |
তুমি জানতে এ কথা? |
ছন্দা অবাক হয়ে গেলেন |
টিনির বাবাও আমাকে কিছু বলেনি |
তোমার বিয়ে হয়েছে দশ বছর আগে |
তোমার শ্বশুরমশাইয়ের কাছে তা তিনি এখন কোথায় আছেন, এসব কথা উনি বলতে চাইলেন না |
তুমি এ বিষয়ে কিছু জানো? |
ছন্দা আবার চমকে উঠলেন |
তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন |
তার নাম কী? |
জয়রাম শর্মা বলেই তাঁকে জানতাম |
রাত্রে তিনি মদ খেয়ে মাতলামি করতেন |
শ্বশুরমশাই তাকে মারধর করেছিলেন |
তারপর তিনি নিখোঁজ হন |
জয়রাম শর্মা তাহলে মন্দিরের তালা খোলার কৌশল জানতেন! |
না জানলে পুজো করবেন কী ভাবে? |
কিন্তু তিনি নিখোঁজ হলে তোমার শ্বশুরমশাই কি তালার কোনও রদবদল করেছিলেন? |
টিনির বাবার কাছে শুনেছি, তালার নাম্বার সিস্টেম বদলাতে জানেন |
কাজেই উনি ছাড়া আর কে বদলাবেন? |
ঠিক আছে চলি |
কর্নেলকে তাঁর বাড়ি পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম |
কিন্তু ই এম বাইপাসের মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালের জন্য গাড়ি দাঁড় করাতেই উনি হঠাৎ নেমে গেলেন এবং অবাক হয়ে দেখলাম, একটা খালি ট্যাক্সিও পেয়ে গেলেন |
হয়তো তার সাদা দাড়ি দেখেই ট্যাক্সিচালকরা ওঁকে না করতে পারেন না |
কিংবা উনি ট্যাক্সিচালকদের বশীভূত করার মন্ত্র-টন্ত্র জানেন |
বরাবর এই ব্যাপারটা আমার কাছে রহস্যময় মনে হয় |
অবিশ্যি মোহনপুর প্যালেসে ছোট্ট মেয়ে টিনি কর্নেলের সাদা দাড়ির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল!... |
সেদিনই সন্ধ্যায় দৈনিক সত্যসেবক পত্রিকার অফিসে কর্নেলের টেলিফোন এল |
জয়ন্ত! বাড়ি ফেরার পথে একবার দেখা করে যেও |
ডিনার খাওয়া না-খাওয়া তোমার ইচ্ছা |
তবে ইউ মে বি ইন্টারেস্টেড়! |
উত্তেজিতভাবে বললাম, আবার কি কিছু ঘটেছে? |
তেমন কিছু ঘটেনি |
ফোনে হুমকি দেওয়াটা নতুন নয় |
তার মানে আজ আবার আপনাকে ফোনে কেউ হুমকি দিয়েছে! |
হুমকির চেয়ে মজার কথা, ষষ্ঠী মিসেস অ্যারাথুনের বেড়ালটাকে খুব জব্দ করেছে |
হেসে ফেললাম |
ওঃ কর্নেল! বেড়ালের ব্যাপারে আমার কোনও ইন্টারেস্ট নেই |
বেড়ালকে অনেকেই অপছন্দ করে |
কারণ এই খুদে চতুষ্পদ প্রাণীটি মাছ-মাংস-দুধের লোভ্র গোপনে হানা দেয় |
কাজেই দুধের গ্লাস সাবাড় করতে এসে তা উল্টে গেলে মোহনপুর প্যালেসের একটা বেড়ালও জব্দ হতে পারে |
কর্নেল কথাগুলো বলেই ফোন রেখে দিলেন |
পি পি শব্দ শুনতে পেলাম |
কর্নেলের হেঁয়ালি করার অভ্যাস আছে |
কিন্তু মোহনপুর প্যালেসের বেড়াল জব্দ হওয়াটা হেঁয়ালি হলেও অর্থবহ |
চৌরঙ্গি এলাকার একটা হোটেলে ডাকাতির খবরটা লালবাজার পুলিস হেডকোয়ার্টার-সূত্রে টেলিফোনে জেনে নিয়েছিলাম |
সেই খবর লেখা শেষ করেই বেরিয়ে পড়লাম |
ইলিয়ট রোডে যখন পৌঁছুলাম, তখন প্রায় পৌনে আটটা বাজে |
তিনতলায় কর্নেলের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে দেখি, ড্রয়িংরুমে যথারীতি চুরুট কামড়ে ধরে টেবিলে ঝুঁকে আছেন এবং একটা কাগজে কী সব লেখালিখি করছেন |
আমাকে দেখে মুখ তুলে সহাস্যে বললেন, বেড়াল ইন্টারেস্টিং প্রাণী |
তবে আগে কফি খাও |
কফি নার্ভকে চাঙ্গা করে |
ষষ্ঠী! কফি নিয়ে আয় শিগগির! |
সোফায় বসে বললাম, মোহনপুর প্যালেসে বেড়াল জব্দ হওয়ার ব্যাপারটা আগে বলুন! |
ষষ্ঠী কফি নিয়ে এল |
সে একগাল হেসে বলল, আজ পাজি বেড়ালটার লেজ ধরে ফেলেছিলাম দাদাবাবু! কিন্তু হাত ফসকে পালিয়ে গেলে কী হবে? খুব জব্দ হয়েছে |
আর ভুলেও উঁকি দিতে আসবে না |
সে বেরিয়ে গেলে কর্নেল মিটিমিটি হেসে বললেন, মিসেস অ্যারাথুনের বেড়াল আর মোহনপুর প্যালেসের বেড়ালের মধ্যে বুদ্ধির তফাত আছে |
ওই বেড়ালটা অবিশ্যি লেজ ধরতে দেয়নি |
কিন্তু বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছে |
প্লিজ কর্নেল! হেঁয়ালি শোনার মুড নেই |
কর্নেল এবার একটু গম্ভীর হলেন |
বিকেলে ছন্দা ফোন করেছিল |
তার শ্বশুরমশাই সন্ধ্যার আগে এক গ্লাস দুধ খান |
দুধটা সে খাটের পাশে টেবিলে রেখে এসেছিল |
একটু পরে গিয়ে সে অবাক হয়ে দেখেছে, দুধের গ্লাস উল্টে মেঝেতে পড়ে আছে এবং তার শ্বশুরমশাই রাগে ফুঁসছেন |
কোথা থেকে একটা বেড়াল এসে তার দুধের গ্লাস উল্টে ফেলেছে |
তার ডান হাত অকেজো |
.বাঁ হাতে খপ করে বেড়ালটা ধরে রাগের চোটে তিনি আছাড় মেরেছেন |
আছাড় খেয়েই বেড়ালটা মারা পড়েছে |
আমার উৎসাহ মিইয়ে গেল |
বললাম, এটা কী এমন ইন্টারেস্টিং ব্যাপার! ওঁকে দেখেই তো মনে হচ্ছিল খুব রাগী আর গোঁয়ার মানুষ |
কর্নেল কফিতে চুমুক দিয়ে বললেন, হ্যাঁ |
রাগী আর গোঁয়ার মানুষ তো বটেই |
কিন্তু না এইজন্য তোমাকে আসতে বলিনি |
ছন্দা বলল, আজ সকালের ফ্লাইটে বীরেশ্বর সেন কলকাতা এসেছেন |
তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছেন |
ছন্দা তাঁরে নরহরি ভট্টাচার্য খুন হওয়ার কথা জানিয়েছে, আমার কথাও বলেছে, আমার ফোন নাম্বার দিয়েছে |
বীরেশ্বরবাবু কিছুক্ষণ আগে আমাকে ফোন করেছিলেন |
তিনি আটটা-সাড়ে আটটার মধ্যে আমার কাছে আসছেন |
শোনামাত্র উৎসাহটা ফিরে এল |
বললাম, হ্যাঁ |
তাহলে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার |
কর্নেল হাসলেন |
তার চেয়েও ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, মৃগেন্দ্র এবং বীরেশ্বর যে কোম্পানিতে চাকরি করতেন, সেটা একটা অকশন কোম্পানি |
নানা দেশে এই কোম্পানির ব্রাঞ্চ আছে |
প্রাচীন অভিজাত ধনী পরিবারের মূল্যবান জিনিসপত্র বা ধনরত্ন কিনে নিলামে বিক্রি করেন ওঁরা |
কুমারবাহাদুরের কাছে এই কোম্পানির নাম আজ তুমিও শুনেছিলে! |
শুনেছিলাম মনে পড়ছে |
কী যেমন নামটা |
জয় ট্রেডার্স |
নাম শুনে কিছু বোঝা যায় না |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.