content stringlengths 0 129k |
|---|
আমি আজ লাঞ্চের পর টেলিফোন গাইড দেখে ওঁদের টেলিফোন করেছিলাম |
একটা পার্সোনাল কম্পিউটার কেনার ছল করতে হয়েছিল |
তো ওঁরা জানিয়ে ছিলেন এখানে কম্পিউটার বিক্রি হয় না |
ওটা একটা নিলামসংস্থা |
তাহলে রহস্য ঘনীভূত বলা চলে! |
কর্নেল দাড়ি নেড়ে সায় দিলেন |
ঘনীভূত তো বটেই! বরফের মতো ঘনীভূত |
জল জমে ঘন হলে বরফ বলা হয় |
বরফে তাপ ওঠে |
খুব ভাপ উঠছে |
ওঃ কর্নেল! আপনি রসিকতা করছেন |
কর্নেল কফি শেষ করার পর চুরুট ধরিয়ে বললেন, রসিকতা কী বলছ ডার্লিং! ফোনে আমাকে বুড়ো ঘুঘু বলে গাল দিল কেউ |
তারপর বলল, সাবধান! ফাঁদ পাতা আছে |
ওই যে কথায় বলে, ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি! |
এই সময় টেলিফোন বাজল |
কর্নেল রিসিভার তুলে সাড়া দিলেন |
বলুন মিঃ নন্দী!..মর্গের রিপোর্টে তা-ই বলেছে নাকি? ধন্যবাদ |
...আঁ! বলেন কী?...তাহলে আপনাদের থিওরি কারেক্ট |
হা-সাট্টাডন লোকটার ফোন নাম্বার দিতে অসুবিধে আছে?...এক মিনিট |
বলে কর্নেল টেবিলে রাখা প্যাডের পাতা ওল্টালেন |
কলম বাগিয়ে ধরলেন |
বলুন মিঃ নন্দী!...অসংখ্য ধন্যবাদ |
ফোন রেখে কর্নেল আমার দিকে তাকালেন |
বললেন, তোমার কৌতূহল স্বাভাবিক |
দমদম নর্থ রেঞ্জের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর সুমন নন্দীকে তোমার অবিশ্যি চেনা উচিত |
নাম শুনেছি |
ওই এলাকার সব সাট্টাবাজের খবর ওঁর নখদর্পণে |
কর্নেলের কথার ওপর বললাম, নরহরি ভটচায সাট্টা খেলতেন নাকি? |
কর্নেল জিভ কেটে বললেন, না, না! উনি সাট্টা খেলতেন না |
ওই এলাকার এক সাট্টাডন হাজারিলাল আজ কথাপ্রসঙ্গে মিঃ নন্দীকে জানিয়েছে, সে মোহনপুর প্যালেস কেনার জন্য কুমারবাহাদুরের সঙ্গে অনেকদিন ধরে কথাবার্তা চালিয়ে আসছে |
কুমারবাহাদুর বিক্রি করতে রাজি |
কিন্তু হাজারিলালের কট্টর শত্রু জনৈক দুর্গাপ্রসাদ সিংহের সাহায্যে নাকি নরহরিবাবুই বাগড়া দিচ্ছিলেন |
কুমারবাহাদুর এই দুর্গাদাসের কাছে বহু টাকা ধার করেছেন |
এখন হাজারিলাল খুব খুশি |
নরহরিবাবু মারা পড়েছেন |
মোহনপুর প্যালেস গোপনে কিনে ফেলতে আর অসুবিধে নেই |
দুর্গাদাসকে আর কে খবর দেবে যে, কুমারবাহাদুর বাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছেন? যখন দুর্গাদাস সে খবর পাবে, তখন কুমারবাহাদুর তার দেনা শোধ করে দেবেন! হাজারিলালের যুক্তিটা হল এই |
পুলিস তাহলে হাজারিলালকে ধরছে না কেন? নরহরিবাবুকে খুন করার মোটিভ তো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে |
কর্নেল হাসলেন |
হাজারিলালকে ধরা শক্ত |
তার মুরুব্বির জোর আছে, তাছাড়া সে নিজে বা তার লোক দিয়ে নরহরিবাবুকে খুন করেছে, তার প্রমাণ পুলিস পায়নি |
শুধু অনুমানের ভিত্তিতে এসব লোককে ধরা যায় না |
মর্গের রিপোর্টের কথা বলছিলেন |
ওতে কী বলা হয়েছে? |
কোনও ভোঁতা আর শক্ত জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল |
মাথার পেছন দিকে একটা বিশেষ জায়গায় আঘাত করলে মৃত্যু অনিবার্য |
কর্নেল এবার ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজলেন |
আমি একটা বিদেশী পত্রিকা তুলে নিয়ে পড়ার চেষ্টা করছিলাম |
বীরেশ্বর সেনের প্রতীক্ষা করতে করতে যেন সারা জীবন কেটে যাবে |
বীরেশ্বর এলেন সওয়া আটটায় |
বেশ স্বাস্থ্যবান এবং স্মার্ট ঝকমকে চেহারা |
পঁয়তিরিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে বয়স |
আলাপ-পরিচয়ের পর তিনি একটু গম্ভীর মুখে বললেন, আমি আপনার কাছে এসব ব্যাপারে আসতাম না কর্নেল সরকার! কিন্তু নরহরিকাকু মৃত্যুর সময় নাকি আমার ডাকনাম উচ্চারণ করেছিলেন |
এটাই আশ্চর্য লেগেছে |
ছন্দার মুখে একথা শোনার পর আমার মনে হল, আপনার সঙ্গে দেখা করা উচিত |
কর্নেল ষষ্ঠীকে ডেকে কফির হুকুম দিয়ে বললেন, আগের ঠাকুরমশাই জয়রাম শর্মা নিখোঁজ হওয়ার পর আপনার সুপারিশেই নাকি নরহরিবাবুকে সেবাইত করা হয়েছিল? |
বীরেশ্বর একটু চুপ করে থাকার পর বললেন, মৃগেন আমার কলিগ এবং বন্ধু ছিল |
সে-ই আমাকে একজন বিশ্বস্ত সেবাইত যোগাড় করে দিতে বলেছিল |
তো নরহরিবাবু আমার ছোটবেলা থেকেই আমাদের বাড়িতে গৃহদেবতার পুজোর জন্য আসতেন |
ওঁর এটাই ছিল একমাত্র জীবিকা |
অনেক বাড়িতে পুজো করে বেড়াতেন |
কাজেই মৃগেনকে আমি ওঁর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলাম |
মৃগেন ওঁকে তার বাবার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন |
মৃগেনের বাবাকে আমি জ্যাঠামশাই বলি |
উনি খুব বুদ্ধিমান এবং সতর্ক মানুষ |
কথাবার্তা বলে সন্তুষ্ট হয়ে তবে উনি নরহরিবাবুকে কাজে বহাল করেছিলেন |
মোহনপুর প্যালেসে রাজমন্দিরে বিষ্ণুমূর্তি নিশ্চয় আপনি দেখেছেন? |
ওঁদের নিয়মকানুন বড্ড কড়া |
একবার মাত্র দেখেছিলাম |
সে-ও সন্ধ্যাবেলায় বাইরে থেকে দেখা |
প্রদীপ জ্বলছিল ভেতরে |
কর্নেল চুরুটের ধোঁয়া হাত দিয়ে সরিয়ে আস্তে বললেন, ছ ইঞ্চি উঁচু মূর্তিটা নিরেট সোনার |
ওজন প্রায় এক কিলোগ্রাম |
চোখের তারায় দুটো পদ্মরাগ মণি বসানো আছে |
আমি অতকিছু লক্ষ্য করিনি |
আমাদের গৃহদেবতা রাধাবল্লভ |
অষ্টধাতুর বিগ্রহ |
মন্দিরের কপাট এবং তালা কি দেখেছেন |
তবে মনে হয়েছিল, দরজার দুই পাশে কপাট দুটো ঢুকে গেছে |
লিফটের দরজার মতো |
আমি প্রণাম করেই মৃগেনের সঙ্গে চলে এসেছিলাম |
বীরেশ্বর তাকালেন |
একটু পরে বললেন, কেন? হলঘর থেকে যে পথে |
মন্দিরে যাওয়া যায়! |
দোতলার পশ্চিমপ্রান্তে একটা লোহার সিঁড়ি দিয়ে নেমেও মন্দির যাওয়া যায় |
ওটা দেখেছেন কি? |
সিঁড়িটা দেখেছি |
তবে পুরনো মরচে ধরা লোহার সিঁড়ি |
আমি জানতাম না ওই সিঁড়ি দিয়ে মন্দিরে যাওয়া যায় |
আপনার কাছেই প্রথম শুনছি |
আপনি কি আপনার কোম্পানির কাজেই আমেরিকায় ছিলেন? |
আমাকে নিউ ইয়র্ক ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়েছিল |
আবার কলকাতা হেড অফিসে ফিরে আসার অর্ডার গেল |
তাই চলে এলাম |
ষষ্ঠীচরণ কফি আনল |
বীরেশ্বর মার্কিনদের মতো শুধু লিকার ঢেলে নিলেন কাপে |
কর্নেল বললেন, আপনাদের কোম্পানি জয় ট্রেডার্স নিলামে পুরনো দামী জিনিস বিক্রি করে |
বীরেশ্বরের চোখ দুটো জ্বলে উঠল হঠাৎ |
গলার ভেতর বললেন, সো হোয়াট? |
কর্নেল আস্তে বললেন, আমি আপনার সহযোগিতা চাই |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.