content
stringlengths
0
129k
সেকথা টেলিফোনে নাকি বলা যাবে না
মুখোমুখি বলবে
নো কিন্তু! তুমি আরও ঝুলির বেড়াল দেখতে চাইলে কাল সকাল নটার আগেই চলে এস!...
উত্তেজনায় সে-রাতে ভাল ঘুম হল না
টেবিল ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিলাম
সাড়ে সাতটায় উঠে আটটার মধ্যে তৈরি হয়ে বেরুলাম
কর্নেলের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে দেখি, তখনও উনি ছাদে তার বাগানের পরিচর্যা করছেন
বাগানে যত রাজ্যের অদ্ভুত-অদ্ভুত ক্যাকটাস, অর্কিড আর নানা রকম উদ্ভিদ
এককোণে প্রজাপতিদের জন্য ছোট্ট কাঁচঘর
ডিম থেকে তিনটি পর্যায়ে বিবর্তনের পর রঙবেরঙের প্রজাপতি জন্মায়
সে এক বিচিত্র জগৎ
উঁকি মেরে দেখলাম বৃদ্ধ প্রকৃতিবিদ গার্ডেনিয়ের পোশাক পরে হাঁটু দুমড়ে একটা টাবের কাছে বসে আছেন
টবে একটা অষ্টাবক্র ক্যাক্টাস
এ সময় আমাকে দেখলেই ওঁর জ্ঞান বিতরণ শুরু হয়ে যাবে
তাই নেমে এসে ড্রয়িং রুমে বসলাম
ষষ্ঠীচরণ বলল, দাদাবাবুর মুখ দেখে মনে হচ্ছে বেরেকফাস্টো হয়নি
বললাম, না ষষ্ঠী! আমি বেরেকফাস্টো করেই বেরিয়েছি
ষষ্ঠী হাসল, ব্রেকফাস্ট! বাবামশাই আমাকে ভেংচি কেটে বেরেকফাস্টো বলেন কিনা! তাই বাবামশাইকে ভেংচি কাটলাম
বলেই সে দ্রুত পর্দা তুলে উধাও হয়ে গেল
কর্নেল সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছিলেন
সিঁড়িটা এই ড্রয়িং রুমের শেষপ্রান্ত থেকে চিলেকোঠায় উঠে গেছে
কর্নেল আমার দিকে না তাকিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলেন
তারপর বাথরুম থেকে বেরিয়ে পর্দা তুলে ভেতরে গেলেন
মিনিট দশেক পরে সেজেগুজে ঝকঝকে চেহারায় বেরিয়ে এলেন
বললাম, আজ মর্নিং সম্ভাষণ করলেন না যে?
কর্নেল বললেন, তুমি যখন আমার শূন্যোদানে উঁকি দিচ্ছিলে, তখনই করেছি
তুমি শুনতে পাওনি!
আপনি আমার দিকে পিঠ ফিরিয়ে বসে ছিলেন
আমার পেছনেও চোখ আছে ডার্লিং!
কর্নেল ইজিচেয়ারে বসে বললেন, আমার কান-দুটোই পেছনের চোখ
তুমি জানো, যৌবনে গেরিলা যুদ্ধের তালিম নেওয়ার সময় আমার কান দুটো খুব প্রখর করতে হয়েছিল
কোনদিকে কী শব্দ হল, তা কিসের শব্দ এবং আমার কাছ থেকে তার দূরত্ব কত, এইসব শিখতে হত
যাইহোক, ষষ্ঠী ঠিকই বলছিল, তোমার বেরেকফাস্টো হয়নি
এখন সাড়ে আটটা বাজে
আমি রোজ নটায় ব্রেকফাস্ট করি
আজ এখনই সেরে নিতে হবে
কারণ নটার পর যে-কোনও সময় হাজারিলালের আবির্ভাব ঘটবে
হাজারিলাল এল পৌনে দশটায়
তাকে দেখে খুব অবাক হয়ে গেলাম
সাট্টাডন আজকাল একটা সাংঘাতিক কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে
এদের কয়েকজনকে আমার পেশার সুবাদে না দেখেছি এমন নয়
কিন্তু হাজারিলাল একে তো বয়সে তরুণ, তার ওপর রোগা টিঙটিঙে
পরনে যেমন-তেমন প্যান্ট-হাওয়াই শার্ট
মাথার চুলে সামান্য কেতা আছে
গায়ের রঙ কালো
চেহারায় অমায়িক হাবভাব
রাস্তাঘাটে ও ধরনের যুবক সর্বত্র দেখা যায়
ভিড় থেকে এদের আলাদা করে চেনা যায় না
সে কর্নেলকে নমস্কার করে বিনীতভাবে বসল
কর্নেল আমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলেন
কিন্তু সে আমার দিকে মনোযোগ দিল না
কর্নেল তাকে কফি খেতে অনুরোধ করলেন
কিন্তু সে করফেঁড়ে বলল, আমি বাইরে কিছু খাই না
তার কথায় এতটুকু অবাঙালি টোন নেই
কর্নেল বললেন, বলুন হাজারিলালজি! জয়ন্তের কাছে আমার কিছু লুকোনো থাকে না
তা ছাড়া আপনাকে কথা দিচ্ছি, খবরের কাগজে আপনার কোনও কথা ফাঁস করা হবে না
হাজারিলাল বলল, দেখুন কর্নেল সরকার
আপনার পরিচয় আমি রাতেই পেয়ে গেছি
সব মহলে আমার চেনা-জানা লোক আছে
অন্য কেউ আমার সঙ্গে এভাবে জোক করলে আমি সহ্য করতাম না
কিন্তু আপনার মতো একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভের দরকার আছে বলেই
কর্নেল জোরে মাথা নেড়ে বললেন, আমি ডিটেকটিভ নই
কথাটা আমার পছন্দ নয়
কারণ টিকটিকি কথাটা ডিটেকটিভের স্ল্যাং!
আমাকে আরও অবাক করে হাজারিলাল বলল, বাট আই নিড ইওর হেলপ কর্নেল সরকার!
বলুন কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?
হাজারিলাল একটু চুপ করে থাকার পর বলল, লোকে আমাকে সাট্টাডন বলে
আমি সাট্টা-জুয়ার কারবারি
এ কারবার খারাপ না ভালো তা নিয়ে আমি ভাবি না
বেঁচে থাকতে হলে টাকা কামাতে হয়
যে যেভাবে পারে টাকা কামায়
তো দুর্গাপ্রসাদও কামায়
বাট ডু ইউ নো হাউ হি আর্নস্ এ লট অব মানি? সে দেশের ঠাকুরদেবতাকে ফরেনে স্মাগল করে
হাজারিলাল দু হাত কপালে রেখে ঠাকুরদেবতার উদ্দেশে প্রণাম করল
এবার বলুন কে বেশি পাপী? আমি, না দুর্গাপ্রসাদ?
বুঝলাম যে খুব ধর্মবিশ্বাসী
কর্নেল বললেন, দুর্গাপ্রসাদ বেশি পাপী
হাজারিলাল বলল, আমি সাট্টা-জুয়ার কারবারি
প্রফিটের টাকায় আমি সোশ্যাল ওয়ার্ক করি
খেলার ক্লাব, মেডিক্যাল ইউনিট, মন্দির, আশ্রয় সব কিছুতে আমি টাকা দিই
লোকের হাউজিং প্রব্লেম আছে
তার জন্যই মোহনপুর প্যালস কিনে আমি মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং করতে চেয়েছি
একি আমার দোষ?
তো মোহনপুর প্যালেসের মন্দিরে সোনার দেবতা আছেন
দুর্গাপ্রসাদ অনেক বছর থেকে সেই দেবতাকে চুরি করে ফরেনে স্মার্ করার চেষ্টায় আছে
তার সঙ্গে একটা কোম্পানির কন্ট্যাক্ট আছে
জয় ট্রেডার্স?
হাজারিলাল তাকাল
দেন ইউ নো ইট!
বীরেশ্বরবাবুর কথা বলুন
বীরেশ্বর দুর্গাপ্রসাদের কনট্যাক্টম্যান
সে নরহরি ঠাকুরমশাইকে দিয়ে মোহনপুর প্যালেসের মন্দির থেকে দেবতা চুরির ধান্দায় ছিল
সেইজন্য আমি প্যালেসের জমি জবরদখলের জন্য পাড়ার কিছু লোককে লাগিয়েছিলাম
জবরদখল তারা সত্যি সত্যি করত না
ওটা আমার একটা ট্যাটিস
প্রেসার ক্রিয়েট করতে চেয়েছিলাম
ভেবেছিলাম, ঝামেলা দেখে কুমারবাহাদুর আমাকে প্যালেস বিক্রি করে দেবেন
উনি বিক্রি করতেই তো চান
পারছেন না শুধু দুর্গাপ্রসাদের জন্য
সে তাকে লোভ দেখাচ্ছে, আরও বেশি দাম দিয়ে প্যালেস কেনার লোক সে যোগাড় করে দেবে