content
stringlengths 0
129k
|
|---|
আর ওপরে গিয়ে তোমার শ্বশুরমশাইয়ের হাত মালিশ করো
|
আমি লক্ষ্য করেছি, বিছানায় উনি শুলে ওঁর ডানদিকে উত্তরের জানালা দিয়ে নীচে মন্দিরটা চোখে পড়ে
|
তুমি জানালার ধারে বসে হাত মালিশ করবে
|
ছন্দা অবাক হয়ে শুনছিল
|
বলল, কিন্তু উনি আমাকে হাত মালিশ করতে যদি না দেন?
|
তুমি ইনসিস্ট করবে
|
তাহলে আমার ধারণা, উনি আপত্তি করবেন না
|
ছন্দা একটু ভেবে নিয়ে বলল, ঠিক আছে
|
আজ থেকে টিনির স্কুলে ছুটি শুরু হয়েছে
|
বরং টিনিকেও ওঁর পা মালিশ করতে বলছি
|
টিনিকে উনি বাধা দেবেন না! সেই সুযোগে আমিও কাজে লেগে যাব
|
ইউ আর ইনটেলিজেন্ট
|
ছন্দা মন্দিরে যাওয়ার দরজা খুলে দিয়ে বললেন, আমি তালা এঁটে দিচ্ছি
|
আপনারা লোহার সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে যাবেন
|
কাল দেখলাম, সিঁড়িটা এখনও মজবুত আছে
|
করিডরে মিনিট দশেক অপেক্ষা করার পর কর্নেল বললেন, জয়ন্ত! তুমি দেয়াল ঘেঁষে চুপিচুপি পশ্চিমের ফুলগাছগুলোর আড়ালে যাও
|
ওখানে চুপচাপ বসে অপেক্ষা করো
|
ডাকাতি করতে যাচ্ছি দিন-দুপুরে
|
চমকে উঠেছিলাম
|
কর্নেল! আপনি
|
ঠোঁটে আঙুল রেখে কর্নেল চোখে হেসে বললেন, বীরু!
|
বীরু! ব্যস! আর কোনও কথা নয়
|
ফুলগাছের আড়ালে গুঁড়ি মেরে বসে অবাক হয়ে দেখলাম, কর্নেল দিব্যি মন্দিরের দরজা খুলে ফেললেন
|
দরজার কপাটদুটো নিঃশব্দে লিফটের কপাটের মতোই দুধারে ঢুকে গেল
|
কর্নেলও ঢুকে গেলেন এবং মিনিট দুই পরে বেরিয়ে এলেন
|
তারপর মন্দিরের দরজার কপাট টেনে বন্ধ করলেন
|
ফুলগাছের কাছে এসে চাপা গলায় বললেন, আগে তুমি উঠে যাও
|
বললাম, আশ্চর্য! আপনি চিচিং ফাঁক মন্ত্র জানেন দেখছি!
|
কর্নেল হাসলেন
|
চিচিং ফাঁক বীরু...
|
নীচে নামো বাঁয়ে ঘোরো
|
সেই মরচে ধরা ঘোরালো লোহার সিঁড়ি দিয়ে আগে কর্নেল উঠে গেলেন
|
তারপর আমি সাবধানে উঠলাম
|
দোতলার বারান্দায় উঠে কর্নেল আস্তে কাসলেন
|
একটু পরে ছন্দা বেরিয়ে এলেন
|
তাকে খুব গম্ভীর দেখাচ্ছিল
|
কর্নেল বললেন, এবার তোমার শ্বশুরমশাইকে খবর দাও, আমি দেখা করতে চাই
|
ছন্দা টিনির পড়ার ঘরে আমাদের বসিয়ে চাপা গলায় বললেন, আমি আপনাকে মন্দিরে ঢুকতে দেখলাম
|
আপনি কীভাবে লক খুললেন?
|
যথাসময়ে বলব
|
তুমি কুমারবাহাদুরকে খবর দাও!
|
ছন্দা ভেতরের একটা দরজার পর্দা সরিয়ে চলে গেলেন
|
বললাম, মন্দিরের ভেতরে বিষ্ণুমূর্তি দেখতে পেলেন তো?
|
কর্নেল বললেন, এখন কোনও কথা নয়
|
মুখ বুজে থাকবে কিন্তু!
|
মুখ বুজে থাকলাম
|
কিছুক্ষণ পরে টিনির সাড়া পাওয়া গেল
|
সে সেই ছড়াটা
|
সুর ধরে বলতে বলতে এ ঘরে ঢুকল
|
তারপর থমকে দাঁড়িয়ে কর্নেলকে বলল, আবার তুমি এসেছ? তোমার দাড়ি সাদা কেন বলোনি
|
এখন বলবে?
|
কর্নেল তাকে হাত বাড়িয়ে ধরতে গেলেন
|
সে ছিটকে সরে গেল
|
কর্নেল বললেন, তোমার দাদু কেন বেড়াল মেরেছেন আগে বলো
|
তা হলে বলব
|
আমি দেখিনি
|
আহা, বেড়ালটাকে তো দেখেছ?
|
বাহাদুর মরা বেড়ালটা কোথায় ফেলে দিয়েছে
|
বাহাদুরকে জিজ্ঞেস করলে বলবে
|
তুমি তা-ও দেখনি?
|
এই সময় ছন্দা এসে বললেন, আপনারা ভেতরে যান
|
আমি টিনিকে স্নান করাতে যাচ্ছি! টিনি! কাল স্নান করিসনি
|
আজ স্নান করবি আয়!
|
টিনি পালাতে যাচ্ছিল
|
ছন্দা তাকে ধরে ফেললেন
|
আমরা ভেতরের ঘরে ঢুকলাম
|
এ ঘরটা ফাঁকা
|
শুধু কিছু পুরনো আসবাব এক কোণে পড়ে আছে
|
কর্নেল ঘরটায় চোখ বুলিয়ে সামনের দরজার পর্দা তুলে বললেন, মর্নিং কুমারবাহাদুর
|
তারপর ঢুকে গেলেন
|
আমি ওঁকে অনুসরণ করলাম
|
সত্যেন্দ্রনাথ তার বিছানায় পা ছড়িয়ে কালকের মতো বালিশে হেলান দিয়ে বসেছিলেন
|
মুখটা খুব গম্ভীর মনে হল
|
বললেন, কর্নেলসায়েব! আমি বুঝতে পেরেছি কেন আপনি আবার এসেছেন
|
একজন ক্রিমিন্যাল শয়তানের জন্য আপনার কেন এত দয়া বুঝতে পারছি না
|
কর্নেল খাটের পাশে চেয়ার টেনে বসলেন
|
আমিও বসলাম
|
তারপর কর্নেল সহাস্যে বললেন, কুমার বাহাদুর! আপনি ভুল বুঝেছেন
|
আমার কয়েকটা ক্যাকটাসের গায়ে কতকগুলো রেড স্পট দেখা দিয়েছে
|
সেই ব্যাপারেই আমি কথা বলতে এসেছি
|
আমার মনে পড়ছে, আপনি একবার আমাকে কী একটা ওষুধ লিখে দিয়েছিলেন
|
প্লিজ যদি সেটা আবার লিখে দেন
|
আমার ডান হাত অচল
|
আমি বলছি, আপনি লিখে নিন
|
কর্নেল পকেট থেকে নোট বই আর কলম বের করে কী একটা খটোমটো নাম লিখে নিলেন
|
তারপর বললেন, এটা কি যে কোন কেমিস্টের কাছে পাওয়া যায়? সেবার অনেক ঘোরাঘুরি করে তবে একটা ফার্মেসিতে পেয়েছিলাম
|
এই পাড়াতেই পাবেন
|
কুণ্ডু ফার্মেসি-আপনার যাওয়ার পথেই পড়বে
|
ছন্দা বলল, আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে অসুখটা নাকি প্যারালেসিস নয়
|
সত্যেন্দ্রনাথ ডান হাত একটু তুলে মুঠো করে বললেন, ইচ্ছাশক্তি
|
বাহাদুর কাল থেকে ওদের দেশের প্রথায় মালিশ করে দিচ্ছে
|
একটু আগে বউমাও মালিশ করে দিচ্ছিল
|
আশা করি, এই সপ্তাহের শেষাশেষি চলাফেরা করতে পারব
|
আপনি কফি খাবেন তো?
|
ধন্যবাদ! অসময়ে আর বিরক্ত করব না আপনাকে
|
বসলেন তো আর একটু বসুন
|
আমি ঠিক করেছি, একটু সুস্থ হলেই এই বাড়ি আর গৃহদেবতাসহ মন্দির বেঁচে দিয়ে মোহনপুরে আমাদের পুরনো বাড়িতে গিয়ে থাকব
|
মোহনপুরের বাড়িটা আপনার মনে পড়তে পারে
|
মেরামত করলে আরও দু-তিনশো বছর বাস করা যাবে
|
কর্নেল হাসলেন
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.