content
stringlengths
0
129k
দুর্গাপ্রসাদের কাছে কুমারবাহাদুরের নাকি অনেক টাকা দেনা আছে?
থাকতে পারে
হাজারিলাল এবার চাপা গলায় বলল, দেড় মাস আগে খবর পেলাম, মোহনপুর প্যালেসের দেবতা যে-কোনও দিন চুরি যাবে
তখন বাড়ি কেনার ছল নিয়ে কুমারবাহাদুরকে সাবধান করে দিলাম
কী সূত্রে আপনি খবর পেলেন?
হাজারিলাল বাঁকা হাসল
তা বলব না
শুধু জেনে রাখুন সব জায়গায় আমার লোক আছে
জয় ট্রেডার্সেও আছে
বীরেশ্বর তখন আমেরিকায় ছিল
স্মার্ল্ড মাল কীভাবে সে সেখানকার কাস্টমস্ ডিপার্টমেন্টের চোখের আড়ালে ডেলিভারি নেবে তার ধান্দায় ছিল
কিন্তু মাল ঠিক সময়ে পৌঁছাল না
কুমারবাহাদুর অ্যালার্ট ছিলেন
তাই নরহরি ঠাকুরমশাই হয়তো দেবতা চুরির সুযোগ পায়নি
কিন্তু ঠাকুরমশাই খুন হয়ে গেলেন!
আমার লোক তার গায়ে হাত দেয়নি
কিন্তু পুলিস আমার লোকদের হ্যারাস করছে
কিন্তু নরহরি ভট্টাচার্য খুন হলেন কেন?
খুন করেছে দুর্গাপ্রসাদের লোক
প্রথমে আমার সন্দেহ ছিল, ঠাকুরমশাই অ্যাডভান্স কিছু টাকা নিয়েছিল
কিন্তু দেবতা চুরি করে দিতে পারছিল না
সেই জন্য হয়তো রাগে দুর্গাপ্রসাদ তাকে মেরে ফেলেছে
বাট আই নিড ইওর হেল্প
হাজারিলাল একটু পরে বলল, কাল বিকেলে আমার লোক বীরেশ্বরকে দুর্গাপ্রসাদের বাড়ি ঢুকতে দেখেছে
তাই আমার অন্যরকম সন্দেহ হচ্ছে
দেবতা চুরি করে ঠাকুরমশাই হয়তো দুর্গাপ্রসাদের লোককে দিয়েছিল
আর বাকি টাকা যাতে না দিতে হয়, সেইজন্য ঠাকুরমশাইকে খুন করা হয়েছে
তাছাড়া ঠাকুরমশাইয়ের মুখ বন্ধ করারও দরকার হয়েছিল
এখন আমি আপনাকে রিকোয়েস্ট করছি, দেবতা সত্যি চুরি হয়েছে কি না ইনভেস্টিগেট করে দেখুন
আর যদি চুরি হয়ে থাকে, তা যাতে স্মার্ল্ড না হয় তার ব্যবস্থা করুন
আপনার সব খবর আমি পেয়ে গেছি কর্নেল সরকার! ইউ আর দি রাইট পার্সন টু ডু ইট
হা-পুলিস যেমন আমাকে বিশ্বাস করে না, তেমনি আমিও পুলিসকে বিশ্বাস করি না
আই নো দেম ওয়েল
কর্নেল নিভে যাওয়া চুরুট জ্বেলে বললেন, দেবতা চুরি যায়নি
কুমারবাহাদুর কাল দুপুরে মন্দিরে গিয়ে দেখে এসেছেন
তখন আমি তার বাড়িতে ছিলাম
হাজারিলাল গুম হয়ে বলল, মন্দিরের দরজা লোহার
ওতে একটা তালা আছে
আপনি কি দেখেছেন সেটা?
হাত তুলে হাজারিলাল বলল, জানি
হাই টেকনলজির প্রসেসে তৈরি তালা
আমি বলি কী, আপনি কুমারবাহাদুরকে ইনসিস্ট করে থোক যেভাবে হোক, নিজের চোখে দেখুন দেবতা আছেন কি না
কেন? কুমারবাহাদুর কি মিথ্যা বলেছেন আমাকে?
বলতেও পারেন
কেন বলবেন?
বাড়ির দাম আমি ন-লাখ দিতে চেয়েছি
আর দেবতার দাম ধরা হয়েছে
তিরিশ লাখ
থার্টি নাইন লাখস্
আর বেশি কিছু বলব না
বলে হাজারিলাল উঠে দাঁড়াল
কর্নেলের মুখে বিস্ময় ফুটে উঠেছিল
কুমারবাহাদুর তাঁদের পূর্বপুরুষের গৃহদেবতা বেচতে চান এ কথা আমার বিশ্বাস হয় না
বিশ্বাস করা না করা আপনার ইচ্ছা
আচ্ছা! আমি চলি
আপনি আমাকে টেলিফোনে শুধু কথাটা জানিয়ে দেবেন
আপনাকে আমি দশ হাজার টাকা দেব
হাজারিলাল নমস্কার করে চলে গেল
কর্নেল ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজলেন
চুরুটেল নীল ধোঁয়ার একটা রেখা আঁকাবাঁকা হয়ে তাঁর টাক ছুঁয়ে ফ্যানের বাতাসে মিলিয়ে গেল
হতবাক হয়ে বসেছিলাম
কিছুক্ষণ পরে বললাম, তাহলে সব রহস্য ফাঁস হয়ে গেল
কর্নেল চোখ না খুলেই বললেন, মোটেও হল না
আরও জট পাকিয়ে গেল
আর জট কোথায়?
কর্নেল আমার কথায় কান না দিয়ে হঠাৎ সোজা হয়ে বসলেন
তারপর হাত বাড়িয়ে টেলিফোনের রিসিভার তুলে ডায়াল করতে ব্যস্ত হলেন
সাড়া পেয়ে বললেন, ছন্দা! আমি কর্নেল নীলাদ্রি সরকার বলছি
তোমার শ্বশুরমশাই কি ঘুম থেকে উঠেছেন?..বাহ! ভালো খবর! এক বাহাদুরকে ফিরে পেয়ে আরেক বাহাদুর চাঙ্গা হতেই পারেন! তো বীরেশ্বর কি তোমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন?...শোনো! আমি তোমাদের বাড়ি যাচ্ছি
শ্বশুরমশাইকে কিছু জানিও না এখন
উনি বিরক্ত হতে পারেন
তুমি নীচে অপেক্ষা করবে
টেলিফোন রেখে কর্নেল বললেন, বীরেশ্বর ছন্দাদের বাড়িতে যাননি
টেলিফোনে ওকে বলেছেন, এখন ব্যস্ত বলে যেতে পারছেন না
সময় পেলে যাবেন
যাই হোক, চলো! বেরিয়ে পড়া যাক
এক মিনিট! আমার কিটব্যাগ আর অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আসি
এটা একটা অভিযান জয়ন্ত!...
আমরা সাড়ে এগারোটা নাগাদ মোহনপুর প্যালেসে পৌঁছুলাম
ছন্দা পোর্টিকোর নীচে অপেক্ষা করছিল
হলঘর থেকে বাহাদুর বেরিয়ে এসে সেলাম দিল
একগাল হেসে বলল, কুমারসাবকে আমি থোড়াগোড়া হাঁটাতে পারছি কর্নিলসাব! হাত-পা মালিশ করে দিচ্ছি
আমি একরকম মালিশ জানি
আমার বাবার কাছে শিখেছিলাম
আমাদের পাহাড়ি মুলুকের বুঢ়া আদমিরা সবাই জানে
কফি পাহাড়ে থেকে ফিরে গেলে এইরকম আচানক হাত-পায়ে খিচ ধরে যায়
এইটা পেরালিসিস না আছে কর্নিলসাব!
ছন্দা বললেন, বাহাদুর! গেট বন্ধ করে দিয়ে এসো
বাহাদুর বলল, কুমারসাব আমাকে এক কামে ভেজলেন
গেট বন্ধ করে যাচ্ছি
লেকিন কিছু দরকার থাকে তো বলুন
কিছু দরকার নেই
শ্বশুরমশাই তোমাকে কোথায় পাঠাচ্ছেন?
বাহাদুর গুম হয়ে বলল, মানা আছে বহুরানিদিদি! বলতে পারব না
সে চলে গেলে ছন্দা বাঁকা মুখে বললেন, বুঝেছি
আবার হাজারিলালের ফাঁদে শ্বশুরমশাই পা দিতে যাচ্ছেন
আপনারা আসুন!
কর্নেল চাপা গলায় বললেন, একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আমি এসেছি ছন্দা
তোমার একটু সহযোগিতা চাই!
তুমি মন্দিরে যাওয়ার দরজাটা খুলে দাও