content
stringlengths 0
129k
|
|---|
তারপর কফি
|
বললাম, কাল সন্ধ্যায় ফোন করেছিলাম
|
কোথায় বেরিয়েছিলেন?
|
বিকেলে ছন্দা ফোন করেছিল
|
আমি চলে আসার পর কুমারবাহাদুর জঙ্গ বাহাদুরের কোলে চেপে মন্দিরে গিয়েছিলেন
|
তারপর কেলেঙ্কারি! কর্নেল তাঁর অট্টহাসিটি হাসলেন
|
মন্দিরে বিষ্ণুমূর্তি নেই
|
কুমারবাহাদুর হইচই বাধিয়েছেন
|
পুলিসকেও জানিয়েছেন
|
আমিই নাকি মূর্তি চুরি করেছি
|
সে কী! তারপর?
|
ওকে আশ্বস্ত করে বললাম, আমি যাচ্ছি
|
তারপর ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর মিঃ নন্দীকে ফোন করলাম
|
প্রথমে গেলাম তার কাছে
|
যতটুকু বলা উচিত, তাকে বললাম
|
তারপর মোহনপুর প্যালেসের দিকে যাচ্ছি
|
হঠাৎ শুনি বোমাবাজি শুরু হয়েছে
|
ওই এরিয়ায় দুর্গাপ্রসাদ আর হাজারিলালের গ্যাং প্রায়ই মারপিট বোমাবাজি করে
|
লোকেদের গা সওয়া ঘটনা, পুলিসও যায়-তবে যথা সময়ে
|
কী আর করা যাবে? ফিরে আসছিলাম
|
পথে আমার আরে পুরনো বন্ধু রঘুবীর সিংহের সঙ্গে দেখা
|
দমদম ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন
|
উনিও এক কর্নেল
|
রিটায়ার করে বাড়ি করেছেন ভি. আই. পি. রোডের ধারে
|
তার বাড়িতে আড্ডা দিয়ে-
|
ষষ্ঠী এ ঘরে ব্রেকফাস্টের ট্রে আনায় ওঁর কথায় বাধা পড়ল
|
ব্রেকফাস্টের সময় বললাম, এবার চিচিং ফাঁকের ব্যাপারটা বলুন
|
কর্নেল বাঁ হাতে টেবিলের ড্রয়ার থেকে সেই তার নকশাটা বের করে বললেন, এটা লক করা
|
তালাটার মাঝখানে বিন্দুগুলো জোড়ের চিহ্ন
|
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তালাটা দুটো অর্ধবৃত্তে ভাগ হয়ে যায়
|
বললাম, মাথামুণ্ডু কিছু বুঝতে পারছি না
|
কর্নেল বললেন, টিনির ছড়াটা স্মরণ করো
|
নীচে নামো বাঁয়ে ঘোরো
|
তবেই তোমার পোয়াবারো
|
কর্নেল ছড়াটা আওড়ে বললেন, টি হরফ থেকে নীচে নামলে এইচ
|
এবার দেখ, ওপরে এক হরফের কাছে তীরচিহ্ন আছে
|
নবটা ঘোরাতে হবে বাঁদিকে
|
এইচ থেকে বাঁয়ে ঘুরিয়ে এইচ-কে তীরচিহ্ন-আঁকা এক হরফের জায়গায় পৌঁছে দিলেই পোয়াবারো
|
তার মানে, কার্যসিদ্ধি
|
দরজা খুলে যাবে
|
এই সূত্রটার সঙ্গে নরহরি ভট্টাচার্যের অন্তিম মুহূর্তের কথাটা আমার মাথায় এসেছিল
|
উনি বীরু বলেছিলেন, নাকি হিরো বলেছিলেন? লক করো! নীচে নেমে অর্থাৎ এইচ হরফ ধেকে বাঁদিকে পড়লে হিরো শব্দটা পেয়ে যাচ্ছি
|
মধ্যিখানে নবের ওপর লেখা টি হরফ ইংরেজি টার্ন শব্দটার আভাস দিচ্ছে
|
টি মানে টার্ন অর্থাৎ ঘোরাও বা ঘোরো
|
বাহ! বেশ কারিগরি কৌশল তো
|
আবার এই দেখুন, টি থেকে নেমে ডাইনে ঘুরে পড়লে দাঁড়াচ্ছে!
|
ইচ্ছে করেই এই গোলকধাঁধা তৈরি করা হয়েছে
|
কিন্তু নরহরিবাবু হিরো শব্দটা বলেছিলেন কেন?
|
মন্দিরের দরজার ভেতরদিকেও একই তালা আছে
|
ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলেও লর্ড হয়ে যাবে
|
তখন বেরুতে হবে নব ঘুরিয়ে তীরচিহ্ন থেকে হিরো সাজতে হবে
|
কর্নেল স্যান্ডউইচের শেষ টুকরো গিলে বললেন, তখন ছন্দাকে আসতে দেখে আততায়ী মন্দিরের ভেতর লুকিয়ে দরজা টেনে লন্ড করে দিয়েছিল
|
নরহরি ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন, হিরো শুনে বুদ্ধিমতী ছন্দা যদি তালার দিকে তাকায়-সেটা খুবই স্বাভাবিক ছিল
|
তুমি হিরো শব্দটা শোনার পর তালার দিকে তাকালেই শব্দটা দেখতে পাবে
|
ঠিক বলেছেন
|
এখন চোখে পড়ছে বটে
|
ছন্দার হিরো শুনে লকের দিকে তাকানো উচিত ছিল
|
কারণ এত বছর ধরে সে তালাটা দেখছে
|
সে জানে, তালাটার নাম্বারিং সিস্টেম আছে
|
বিশেষভাবে ঘোরালেই খুলে যাবে
|
কিন্তু সে হিরো শুনতে বীরু শুনেছিল
|
কারণ বীরু তার স্বামীর বন্ধু
|
পরিচিত নাম
|
তা হলে আততায়ী তখন মন্দিরের ভেতর ছিল বলছেন?
|
নরহরিবাবু চেয়েছিলেন, ছন্দা আততায়ীকে দেখুক
|
কে সেই আততায়ী?
|
কর্নেল বাঁহাতে টেবিলের ড্রয়ার থেকে একটা সলিউশনের শিশি বের করে বললেন
|
এটা তরল আঠার মতো পিছল
|
জলের মতো রঙ
|
কোনও শানবাঁধানো জায়গায় মাখিয়ে রাখলে চোখে পড়বে না
|
কিন্তু পা দিলেই তুমি আছাড় খাবে
|
আচমকা আছাড় খেলে সব বীরপুরুষই অসহায়! হা-এটা ক্যাকটাসের রোগের সেই ওষুধ
|
চমকে উঠে বললাম, বলেন কী! তা হলে কুমারবাহাদুর
|
কুমারবাহাদুরই খুনী
|
জরিদারি রক্ত
|
তাছাড়া বরাবর রাগী এবং গোঁয়ার মানুষ
|
এদিকে গৃহদেবতা শ্রীবিষ্ণুকে যে চুরি করতে চাইবে, সে-ই তার কোপানলে পড়বে
|
জয়রাম শর্মা নিখোঁজ হয়েছিলেন
|
তখন কুমারবাহাদুরের পক্ষে কাকেও নিখোঁজ করে ফেলার সামর্থ্য ছিল এখন অতটা নেই
|
সময়ও পাননি
|
ছন্দা দৌড়ে গিয়েছিল!
|
কিন্তু ওঁর ডান হাত এবং পায়ে
|
ওটা চালাকি
|
নরহরি ভট্টাচার্যকে মেরে ফেলার ফাঁদ
|
কিন্তু নরহরিবাবুকে খতম করে উনি মন্দিরে আত্মগোপন করেছিলেন, সে-কথা আপনি কী ভাবে জানতে পারলেন?
|
ছন্দা কাল টেলিফোনে আমার কাছে স্বীকার করেছে, নরহরিবাবুর খুন হওয়ার খবর তার শ্বশুরমশাইকে দিতে এসে সে বিছানায় ওঁকে দেখতে পায়নি
|
কোনও সত্যিকার পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষ বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না
|
তা হলে ছন্দা জানত কে খুনী?
|
তার সন্দেহ স্বাভাবিক
|
তখন নীচের হলঘরে মন্দিরে যাওয়ার দরজা ওদিক থেকে বন্ধ ছিল
|
কাজেই কুমারবাহাদুর লোহার ঘোরানো সিঁড়ি দিয়ে নেমে যান
|
ছন্দা আমাদের ওই সিঁড়িটা দেখিয়ে এবং সেখান দিয়ে নামতে বলে আসলে একটা আভাস দিতে চেয়েছিল
|
তাছাড়া কাল টেলিফোনে তার শ্বশুরমশাইয়ের বেড়াল মারার ঘটনা বলেও সে জানাতে চেয়েছিল, কুমারবাহাদুরের হাত কত ক্ষিপ্রগতি এবং কত শক্তিশালী!
|
আপনি পুলিসকে জানাচ্ছেন না কেন?
|
যা প্রমাণ করতে পারব না, তা জানিয়ে কী লাভ? কুমারবাহাদুর এতটুকু সূত্র রাখেননি, যা দিয়ে ওঁকে খুনী প্রমাণ করা যাবে
|
হাতুড়ি বা লোহার রড জাতীয় কিছু ওঁর মার্ডার উইপন
|
সেটা উনি সম্ভবত মন্দিরের পেছনের পুকুরে ফেলে দিয়েছেন
|
তা উদ্ধার করা কঠিন
|
করলেও প্রমাণ করা যাবে না, উনিই ওটা ব্যবহার করেছিলেন
|
কর্নেল ব্রেকফাস্ট শেষ করে কফির পেয়ালা তুলে নিলেন
|
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.