id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
5179 | শামসুর রাহমান | রঙিন নিশ্বাসের জন্যে | সনেট | খুব একা হাঁটি বোবা কালা অন্ধ বামনের ভিড়ে।
নোনা ঘামগন্ধ, মুখ-গহ্বরের কটু গন্ধ ঝাঁকে,
ভীষণ দুঃস্বপ্ন যাপি রুদ্ধশ্বাস এ বন্দীশিবিরে।
যেখানেই যাই কালো সন্ত্রাস আমাকে ধরে ঘিরে,
অনিদ্রার রক্তজবা জ্বলে চোখে, যদি কোনো ফাঁকে
দৃষ্টি থেকে মরুভূমি সরে যায়, চেতনাকে ঢাকে
বিষলতা, নিশ্বাসও বিকিয়ে যায় এমন তিমিরে।তাহলে কী লাভ বলো, প্রিয়... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/rongin-nisshaser-jonye/ |
6005 | হুমায়ূন আহমেদ | রাশান রোলেট | রূপক | টেবিলের চারপাশে আমরা ছ’জন
চারজন চারদিকে ; দু’জন কোনাকুনি
দাবার বোড়ের মত
খেলা শুরু হলেই একজন আরেকজনকে খেয়ে ফেলতে উদ্যত ।
আমরা চারজন শান্ত, শুধু দু’জন নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে আছে ।
তাদের স্নায়ু টানটান।
বেড়ালের নখের মত তাদের হৃদয় থেকে
বেরিয়ে আসবে তীক্ষ্ম নখ ।
খেলা শুরু হতে দেরি হচ্ছে,
আম্পায়ার এখনো আসেনি।
খেলার সরঞ্জ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/1115.html |
1736 | পাবলো নেরুদা | লেবু | চিন্তামূলক | অনুবাদ: ইমন জুবায়েরলেবু ফুল থেকে
ঢিলেঢালা ভাবে
জ্যোস্নায়, প্রেমের
সুদৃঢ় তৃষ্ণার
সারৎসার,
গন্ধে পরিপূর্ন,
লেবু গাছের হলদে
উত্থান,
লেবুগুলো
গাছের কৃত্রিমভবন থেকে
নিচের দিকে নড়ছে
সংবেদনশীল বানিজ্য!
বন্দর এ নিয়ে বৃহৎ
বাজার
আলোর জন্য ও
বর্বর স্বর্ণের জন্য।
আমরা
অলৌকিকের
অর্ধেকটা খুলি,
আর, নোনা স্তরের কিনারে
জমাট এসিড:
সৃষ্ট... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3956.html |
5462 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | চিল | মানবতাবাদী | পথ চলতে চলতে হঠাৎ দেখলামঃ
ফুটপাতে এক মরা চিল!
চমকে উঠলাম ওর করুণ বীভৎস মূর্তি দেখে।
অনেক উঁচু থেকে যে এই পৃথিবীটাকে দেখেছে
লুণ্ঠনের অবাধ উপনিবেশ;
যার শ্যেন দৃষ্টিতে কেবল ছিল
তীব্র লোভ আর ছোঁ মারার দস্যু প্রবৃত্তি-
তাকে দেখলাম, ফুটপাতে মুখ গুঁজে প'ড়ে।
গম্বুজশিখরে বাস করত এই চিল,
নিজেকে জাহির করত সুতীক্ষ্ণ চীৎকারে;
হা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/266 |
2824 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | একা আমি ফিরব না আর | ভক্তিমূলক | একা আমি ফিরব না আর
এমন করে–
নিজের মনে কোণে কোণে
মোহের ঘোরে।তোমায় একলা বাহুর বাঁধন দিয়ে
ছোটো করে ঘিরতে গিয়ে
আপনাকে যে বাঁধি কেবল
আপন ডোরে।যখন আমি পাব তোমায়
নিখিলমাঝে
সেইখনে হৃদয় পাব
হৃদয়রাজে।
এই চিত্ত আমার বৃন্ত কেবল
তারি ‘পরে বিশ্বকমল;
তারি ‘পরে পূর্ণ প্রকাশ
দেখাও মোরে।২ আষাঢ়, ১৩১৭
(গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/eka-ami-firbo-na-ar/ |
2197 | মহাদেব সাহা | পটভূমি পাল্টে যায় | প্রকৃতিমূলক | পাল্টে যায় পটভূমি, কবিতার থীম,
মর্মতল কেঁপে ওঠে, নামে বর্ষা, হিম।
রৌদ্র-আলো নিভে যায় নেমে আসে মেঘ
হঠাৎ আগুন জ্বলে, ফুরায় আবেগ,
ফুলদানি ভেঙে যায় নামে অন্ধকার
অনন্ত শূন্যতা ছাড়া কিছু নাই আর।
সামান্য আগেও ছিলো এইখানে ফুল
মুহূর্তে বর্ষণ-মেঘে ভাসলো দুকূল,
আবার কখন দেখি জেগে ওঠে চর
ভালোবেসে মানুষেরা বাঁধে এসে ঘর।
কিন্তু ফের ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1428 |
160 | আহসান হাবীব | জোনাকিরা | প্রকৃতিমূলক | তারা- একটি দুটি তিনটি করে এলো
তখন- বৃষ্টি-ভেজা শীতের হাওয়া
বইছে এলোমেলো,
তারা- একটি দু’টি তিনটি করে এলো।
থই থই থই অন্ধকারে
ঝাউয়ের শাখা দোলে
সেই- অন্ধকারে শন শন শন
আওয়াজ শুধু তোলে।
ভয়েতে বুক চেপে
ঝাউয়ের শাখা , পাখির পাখাউঠছে কেঁপে কেঁপে ।
তখন- একটি দু’টি তিনটি করে এসে
এক শো দু শো তিন শো করে
ঝাঁক বেঁধে যায় শেষে
তার... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3811.html |
5219 | শামসুর রাহমান | শারদ বিকেলে, রাত্তিরে | চিন্তামূলক | শারদ বিকেলে মন অকস্মাৎ নেচে ওঠে দূরে
কোথাও জীবনসঙ্গিনীকে
নিয়ে চ’লে যেতে প্রাত্যহিক এলেবেলে
ঝুট-ঝামেলার দাঁত-খিঁচুনি পিছনে ফেলে রেখে।আমরা সদরঘাটে পৌঁছে মোটামুটি
সুন্দর একটি নৌকো ভাড়া ক’রে ভুলে গিয়ে সব
গ্লানি, অর্থক্ষয়ের দুশ্চিন্তা আর নায়ের নতুন গতি
মুছে দিল শারীরিক গ্লানি আমাদের স্বামী-স্ত্রীর।প্রকৃতির পবিত্র চুম্বনে এই... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/sharod-bikele-rattire/ |
2476 | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | কী জবাব সাঁই | সনেট | কে বাঁশি বাজাস তুই আকাশের মতো উদলা গায়
কোমরের ত্যানা যেন উপমেয় মলিন মেঘের
বাতাস কেবল কাঁদে হুহু করে অবুঝ বীণায়
নদীর ঘাটের কোন কিশোরীর বুকে আবেগের
ঘাই লাগে ঘাই লাগে ঘাই লাগে ঢেউ-ভাঙ্গা ঘাই
দুপুরের নির্জনতা অবিরাম পুড়ে হয় ছাই
বাঁশিকে কাঁদাস তুই না-কি তুই নিজেই কাঁদিস
কে তুই কোথার থেকে কতো দূর পথ ভেঙে এলি
তরুণ যুবার ... | https://www.bangla-kobita.com/rafiquzzaman/ki-jobab-shai/ |
2565 | রফিক আজাদ | যাও, পত্রদূত | প্রেমমূলক | যাও পত্রদূত, বোলো তার কানে-কানে মৃদু স্বরে
সলজ্জ ভাষায় এই বার্তা: “কোমল পাথর, তুমি
সুর্যাস্তের লাল আভা জড়িয়ে রয়েছো বরতনু;
প্রকৃতি জানে না নিজে কতোটা সুন্দর বনভূমি।”
যাও, বোলো তার কানে ভ্রমরসদৃশ গুঞ্জরণে,
চোখের প্রশংসা কোরো, বোলো সুঠাম সুন্দর
শরীরের প্রতি বাঁকে তার মরণ লুকিয়ে আছে,
অন্য কেউ নয়, সে আমার আকণ্ঠ তৃষ্ণা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/357 |
4339 | শামসুর রাহমান | আচমকা কুয়াশা-কাফন | মানবতাবাদী | আচমকা কুয়াশা-কাফন চকচকে দুপুরেই গিলে ফেলে
আমাকে চলিষ্ণু ভিড়ে। কয়েকটি হাত লুফে নেয়
আমার শরীর এক লহমায় পথের কিনার থেকে এবং ঠেলতে
শুরু করে কে জানে কোথায়। এ রকম আচানক ঘটনায়
ভীষণ বিব্রত, বলা যেতে পারে, বিপন্ন বোধের
দখলে আটকে পড়ি। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দু’টি চোখ জ্বালা করে।কতিপয় মুণ্ডহীন অস্পষ্ট শরীর বয়ে নিয়ে
চলেছে আমাকে কোথায় যে, ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/achomka-kuasha-kafon/ |
5104 | শামসুর রাহমান | মাতাল ঋত্বিক | সনেট | কখনো কখনো মনে হয় আট কোটি লোক শোনে
আমার নিভৃত উচ্চারণ, কখনো-বা মনে হয়
আমার কথার জন্যে পিপাসার্ত একজনও নয়।
প্রত্যহ সকাল-সন্ধ্যা অত্যন্ত একাকী গৃহকোণে
বসে শব্দ দাও শব্দ দাও বলে কী গহন বনে,
পর্বতে, পাতালে হই নতজানু, করি আয়ুক্ষয়
প্রতীকের প্রতীক্ষায়, কম্পমান একটি হৃদয়
বিজন সৈকতে সারাক্ষণ রহস্যের ঢেউ গোনে।যে-কথা হৃদয়ে ফোটে, হ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/matal-hrittik/ |
4184 | লালন শাহ | ধর চোর হাওয়ার ঘরে ফান্দ পেতে | ভক্তিমূলক | ধর চোর হাওয়ার ঘরে ফান্দ পেতে।
সে কি সামান্য চোর ধরবি কোনা-কাঞ্চিতে।।
পাতালে চোরের বহর
দেখায় আসমানের উপর
তিন তারে করেছে খবর
হাওয়ার মূল ধরতে তাতে।।১
কোথা ঘর কি বাসনা
কে জানে ঠিক ঠিকানা
হাওয়ায় তার বারামখানা
শুভ শুভ যোগমতে।।২
চোর ধরে রাখবি যদি
হৃদ-গারদ কর গে খাঁটি
লালন কয়, নাটিখুঁটি
থাকতে কি সে দেয় ছুঁতে।। | http://kobita.banglakosh.com/archives/4419.html |
2609 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অপরাহ্নে এসেছিল জন্মবাসরের আমন্ত্রণে | চিন্তামূলক | অপরাহ্নে এসেছিল জন্মবাসরের আমন্ত্রণে
পাহাড়িয়া যত।
একে একে দিল মোরে পুষ্পের মঞ্জরি
নমস্কারসহ।
ধরণী লভিয়াছিল কোন্ ক্ষণে
প্রস্তর আসনে বসি
বহু যুগ বহ্নিতপ্ত তপস্যার পরে এই বর,
এ পুষ্পের দান,
মানুষের জন্মদিনে উৎসর্গ করিবে আশা করি।
সেই বর, মানুষেরে সুন্দরের সেই নমস্কার
আজি এল মোর হাতে
আমার জন্মের এই সার্থক স্মরণ।
নক্ষত্র... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/yaprrane-ashechlu-jamobasher-amantna/ |
4685 | শামসুর রাহমান | গেরিলা | স্বদেশমূলক | দেখতে কেমন তুমি? কী রকম পোশাক-আশাক
প'রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?
পেছনে দেখাতে পারো জ্যোতিশ্চক্র সন্তের মতন?
টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবরজং, ঢোলা
পাজামা কামিজ গায়ে মগডালে এক শিস দাও
পাখির মতোই; কিংবা চা-খানায় বসো ছায়াচ্ছন্ন?দেখতে কেমন তুমি? অনেকেই প্রশ্ন করে, খোঁজে
কুলুজি তোমার আঁতিপাঁতি। তোমার সন্ধানে ঘোরে
ঝানু ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/gerila/ |
708 | জয় গোস্বামী | বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে | স্বদেশমূলক | ১
বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে,
রক্ত
গড়িয়ে পড়ছে…
কেউ ছুটে গেল খালের ওদিকে
বুক ফাটা গলায় কার মা ডাকল : “রবি রে…”
উত্তরের পরিবর্তে, অনেকের স্বর মিলে একটি প্রকাণ্ড হাহাকার
ঘুরে উঠল…
কে রবি? কে পুষ্পেন্দু? ভরত?
কাকে খুঁজে পাওয়া গেছে? কাকে আর পাওয়া যায় নি?
কাকে শেশ দেখা গেছে
ঠেলাঠেলি জনতাগভীরে?
রবি তো পাচার হচ্ছে লাশ ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/1677.html |
3047 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | চিরদিন আছি আমি অকেজোর দলে | চিন্তামূলক | চিরদিন আছি আমি অকেজোর দলে;
বাজে লেখা, বাজে পড়া, দিন কাটে মিথ্যা বাজে ছলে।
যে গুণী কাটাতে পারে বেলা তার বিনা আবশ্যকে
তারে “এসো এসো” ব’লে যত্ন ক’রে বসাই বৈঠকে।
কেজো লোকদের করি ভয়,
কব্জিতে ঘড়ি বেঁধে শক্ত করে বেঁধেছে সময়–
বাজে খরচের তরে উদ্বৃত্ত কিছুই নেই হাতে,
আমাদের মতো কুঁড়ে লজ্জা পায় তাদের সাক্ষাতে।
সময় করিতে নষ্ট আম... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/chirodin-achi-ami-okejor-dole/ |
5170 | শামসুর রাহমান | যে-তুমি আমার স্বপ্ন | সনেট | পুনরায় জাগরণ, পুল্মঢাকা আমার গুহার
আঁধারে প্রবিষ্ট হলো রশ্মিঝর্না, জাগালো কম্পন
এমন নিঃসাড় ম্রিয়মান সত্তাতটে। যে-চুম্বন
মৃতের পান্ডুর ওষ্ঠে আনে উষ্ণ শিহরণ, তার
স্পর্শ যেন পেলাম সহসা এতকাল পরে, আর
তৃণহীন বীতবীজ মৃত্তিকায় মদির বর্ষণ
দেখালো শস্যের স্বপ্ন। শিরায় শিরায় সঞ্চরণ
গোলাপের, নতুন মুদ্রার মতো খর পুণিমার।পাথুরে গুহা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/je-tumi-amar-swapno/ |
1094 | জীবনানন্দ দাশ | পাখিরা | প্রকৃতিমূলক | ঘুমে চোখ চায় না জড়াতে —
বসন্তের রাতে
বিছানায় শুয়ে আছি;
— এখন সে কত রাত!অই দিকে শোনা যায় সমুদ্রের স্বর,
স্কাইলাইট মাথার উপর
আকাশে পাখিরা কথা কয় পরস্পর
তারপর চলে যায় কোথায় আকাশে?
তাদের ডানার ঘ্রাণ চারিদিকে ভাসে।শরীরে এসেছে স্বাদ বসন্তের রাতে,
চোখ আর চায় না ঘুমাতে;
জানালার থেকে অই নক্ষত্রের আলো নেমে আসে,
সাগরের জলের বাতাস... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/pakhira/ |
4623 | শামসুর রাহমান | কোকিলের ডাক | সনেট | বহুদিন পর আজ কোকিলের ডাক শুনলাম
বন্ধুর সৌজন্যে টেলিফোনে কথা বলার সময়।
তার রিসিভার থেকে আচানক মাদকতাময়
কুহু কুহু স্বর এলো ভেসে কানে, যেন শূন্য জাম
ভরে ওঠে সাকীর সুরায়, আমি ওমর খৈয়াম
যেন, বুঁদ হয়ে যাই। শ্যামলীতে কখনো শুনিনি
কোকিলের ডাক, অন্য পাখিদের কাছে আমি ঋণী
সর্বদাই, যেহেতু এখানে ওরা আসে ছিমছাম।নিঃসঙ্গ কোকিল কী ব্যাক... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kokiler-dak/ |
1377 | তসলিমা নাসরিন | হিসেব | প্রেমমূলক | কতটুকু ভালোবাসা দিলে,
ক তোড়া গোলাপ দিলে,
কতটুকু সময়, কতটা সমুদ্র দিলে,
কটি নির্ঘুম রাত দিলে, ক ফোঁটা জল দিলে চোখের — সব যেদিন ভীষণ আবেগে
শোনাচ্ছিলে আমাকে, বোঝাতে চাইছিলে আমাকে খুব ভালোবাসো, আমি বুঝে নিলাম তুমি
আমাকে এখন আর একটুও ভালোবাসো না।
ভালোবাসা ফুরোলেই মানুষ হিসেব কষতে বসে, তুমিও বসেছো।
ভালোবাসা ততদিনই ভালোবাসা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/2005 |
5968 | হুগো ফন হফমান্সথাল | বহির্জীবনের ব্যালাড -, অনুবাদ_ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | চিন্তামূলক | গভীর দু চোখ নিয়ে শিশু বড়ো হয়
কিছুই জানে না তারা, বড়ো হয়, ফের মরে যায়।
মানুষেরা চলে যায় যে-যার রাস্তায় ।
তেতো ফল একদিন মিষ্টি হয়ে ওঠে
মরা পাখিদের মতো ঝরে যায় রাতে
কয়েকদিন পড়ে থাকে, ফের মরে যায় ।
হাওয়া আছে সব সময়, তবু বার বার
কত কথা শুনি আমরা কত কথা বলি
শরীরের যন্ত্রপাতি সুখ আর দুঃখ ভোগ করে ।... | https://banglapoems.wordpress.com/2016/03/19/%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a1-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%97/ |
73 | আবিদ আনোয়ার | চোখেই তোমার মঙ্গা | চিন্তামূলক | "আমি খুঁজি কোনো প্রকৃত কবিকে"
বলেছিলে কবে চিরকুটে লিখে
সেই থেকে আমি নিজে খুঁজে ফিরি প্রকৃত কবির সংজ্ঞা-
ঘেঁটেছি অনেক কাব্যবোধিনি
বাস্তবে বহু কবিকেও চিনি
ফসল না-হোক কবি ফলিয়েছে উর্বরা মাতা গঙ্গা!
নিজেও লিখেছি কম নয় - ঢের
ওজনেই হবে দশ-বারো সের:
আসলেই আমি প্রাচুর্যময়, চোখেই তোমার মঙ্গা!ঠাকুর জানতো প্রেম জমে ভালো সমিল মাত্... | https://www.bangla-kobita.com/abid50anwar/chokhei-tomar-monga/ |
1923 | পূর্ণেন্দু পত্রী | হে স্তন্যদায়িনী | চিন্তামূলক | তোমার দুধের মধ্যে এত জল কেন?
তোমার দুধের মধ্যে এত ঘন বিশৃঙ্খলা কেন?
রক্ত-ঝড়ে না ভেজালে
কোনো সুখ দরজা খোলে না।
ময়ূরও নাচে না তাকে দু-নম্বরী সেলামী না দিলে।
হাতুড়ির ঘায়ে না ফাটালে
রাজার ভাঁড়ার থেকে এক মুঠো খুদ খেতে
পায় না চড়-ই।
স্বপ্নে যারা পেয়ে গেছে সচেতন ফাউন্টেনপেন
তাদেরও কলমে দেখ
সুর্যকিরণের মতো কোনো কালি নেই।
হে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1181 |
4517 | শামসুর রাহমান | ওডেলিস্ক | প্রেমমূলক | সে রাতে তুমিই ছিলে ঘরের মিয়ানো অন্ধকারে
বিছানায় উন্মোচিত। তোমার বিশদ
ডাগর নগ্নতা আমি আকুল আঁজলা ভ’রে পান
ক’রে বারবার
মৃত্যুকে তফাৎ যাও বলবার দীপ্র অহংকার
অর্জন করেছিলাম। নিপোশাক তোমার শরীর
জ্যোৎস্না-কমান ধোয়া মসজিদের মতো
তখন বস্তুত
আমার চোখের নিচে। স্তনপল্লী জ্বলে,
যেমন সন্তের জ্যোতিশ্চক্র অবলীলাক্রমে আর
তৃষ্ণাতুর ওষ্ঠ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/odelisk/ |
4350 | শামসুর রাহমান | আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, তোমাকে | ভক্তিমূলক | এই যে এখন বসে পুরনো চেয়ারে
এবং ঈষৎ ঝুঁকে টেবিলে লিখতে শুরু ক’রে
মনে গাছপালা, নদী, জ্যোৎস্নাস্নাত ক্ষেত
জেগে ওঠে বয়েসী আমার কিয়দ্দূরে। মাঝে মাঝে
পাখি গান গেয়ে ওঠে, জ্যোৎস্না নৃত্যপরায়ণ হয়।
এমন সময়ে মনে পড়লো তোমার কথা হে বন্ধু, যে-তুমি
সুদূর বিদেশে একা শীতার্ত রাত্তিরে
পড়ছো জরুরি বই অথবা লিখছো স্বদেশের
পত্রিকার প্রয়োজনে ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/abdul-goffar-chowdhury-tomake/ |
1765 | পূর্ণেন্দু পত্রী | আমরা | চিন্তামূলক | মৃত্যুর মুহুর্ত আগে
‘সভাতার সংকট’ এর মতো তীব্র রক্তাক্ত আগুন
নিজের পাঁজনে যিনি জালিয়েছিলেন,
আমরা তাঁহারই যোগ্য বংশধরগুলি
দৈনিকের মাসিকের বার্ষিকের নিউজপ্রিন্টের
হলুদ মাঠের পরে গান্ডীবের ভাঙা বাঁট নিয়ে
খেলিতেছি অপূর্ব ডাংগুলি। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1271 |
744 | জয় গোস্বামী | সিদ্ধি, | চিন্তামূলক | সিদ্ধি, জবাকুসুম সংকাশ
মাথার পিছনে ফেটে পড়েদপ করে জ্বলে পূর্বাকাশ
(…?) মাথায় রক্ত চড়েসিদ্ধি, মহাদ্যুতি–তার মুখে
চূর্ণ হয় যশের হাড়মাসহোমাগ্নিপ্রণীত দুটি হাত
আমাতে সংযুক্ত হয়, বলে:বল তুই এই জলেস্থানে
কী চাস? কেমনভাবে চাস?আমি নিরুত্তর থেকে দেখি
সূর্য ফেটে পড়ে পূর্ণ ছাইছাই ঘুরতে ঘুরতে পুনঃপুন
এক সূর্য সহস্র জন্মায়সূর্যে সূ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%9c%e0%a6%af/ |
4129 | রেদোয়ান মাসুদ | জানি তুমি আসবে | প্রেমমূলক | জানি তুমি আসবে,
দু’চোখে তোমার অশ্রু ঝরবে
হৃদয়ে তোমার ভালবাসা জাগবে
আমার জন্য তোমার হৃদয় কাদবে
যেদিন থাকবোনা আমি
থাকবে শুধু তুমি
আর সেদিন ই তুমি আমায় খুজবে।
জানি তুমি আসবে।
জানি তুমি ভালবাসবে !! | http://kobita.banglakosh.com/archives/2107.html |
1006 | জীবনানন্দ দাশ | গতিবিধি | চিন্তামূলক | সর্বদাই প্রবেশের পথ র'য়ে গেছে;
এবং প্রবেশ ক'রে পুনরায় বাহির হবার;-
অরণ্যের অন্ধকার থেকে এক প্রান্তরের আলোকের পথে;
প্রান্তরের আলো থেকে পুনরায় রাত্রির আঁধারে;
অথবা গৃহের তৃপ্তি ছেড়ে দিয়ে নারী, ভাঁড়, মক্ষিকার বারে।এই সব শরীরের বিচরণ।
ঘুমায়ে সে যেতে পারে।
(সচেতন যাত্রার পথ তবু আরো প্রসারিত।
আলো অন্ধকার তার কাছে কিছু নয়।)
উ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/gotibidhi/ |
2669 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজি জন্মবাসরের বক্ষ ভেদ করি | চিন্তামূলক | আজি জন্মবাসরের বক্ষ ভেদ করি
প্রিয়মৃত্যুবিচ্ছেদের এসেছে সংবাদ;
আপন আগুনে শোক দগ্ধ করি দিল আপনারে
উঠিল প্রদীপ্ত হয়ে।
সায়াহ্নবেলার ভালে অস্তসূর্য দেয় পরাইয়া
রক্তোজ্জল মহিমার টিকা,
স্বর্ণময়ী করে দেয় আসন্ন রাত্রির মুখশ্রীরে,
তেমনি জ্বলন্ত শিখা মৃত্যু পরাইল মোরে
জীবনের পশ্চিমসীমায়।
আলোকে তাহার দেখা দিল
অখন্ড জীবন, যা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/aje-janmabasher-bakh-bat-kare/ |
1191 | জীবনানন্দ দাশ | লঘু মুহূর্ত | রূপক | এখন দিনের শেষে তিনজন আধো আইবুড়ো ভিখিরীর
অত্যন্ত প্রশান্ত হ'লো মন;
ধূসর বাতাস খেয়ে এক গাল- রাস্তার পাশে
ধূসর বাতাস দিয়ে ক'রে নিলো মুখ আচমন।
কেননা এখন তারা যেই দেশে যাবে তাকে রাঙা নদী বলে;
সেইখানে ধোপা আর গাধা এসে জলে
মুখ দেখে পরস্পরের পিঠে চড়ে যাদুবলে।তবুও যাবার আগে তিনটি ভিখিরী মিলে গিয়ে
গোল হ'য়ে বসে গেল তিন মগ চায়ে;
এ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/loghu-muhurto/ |
5494 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | পরিশিষ্ট | মানবতাবাদী | অনেক উল্কার স্রোত বয়েছিল হঠাৎ প্রত্যুষে.
বিনিদ্র তারার বে পল্লবিত মেঘ
ছুঁয়েছিল রশ্মিটুকু প্রথম আবেগে।
অকস্মাৎ কম্পমান অশরীরী দিন,
রক্তের বাসরঘরে বিবর্ণ মৃত্যুর বীজ
ছড়াল আসন্ন রাজপথে।
তবু স্বপ্ন নয়ঃ
গোদূলীর প্রত্যহ ছায়ায়
গোপন স্বার সৃষ্টি কচ্যুত গ্রহ-উপবনেঃ
দিগন্তের নিশ্চল আভাস।
ভস্মীভূত শ্মশানক্রন্দনে,
রক্তিম আকা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1121 |
2602 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অন্ধকারের পার হতে আনি | রূপক | অন্ধকারের পার হতে আনি
প্রভাতসূর্য মন্দ্রিল বাণী,
জাগালো বিচিত্রেরে
এক আলোকের আলিঙ্গনের ঘেরে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ondhokarer-par-hote-ani/ |
1126 | জীবনানন্দ দাশ | বাতাসের শব্দ এসে | চিন্তামূলক | বাতাসের শব্দ এসে কিছুক্ষণ হরিতকী গাছের শাখায়
মিথিরিত হয়ে থেমে যায়, তার মৃত্যু হলো বলে।
এক পা দুই পা করে দুই-চার মাইল
প্রান্তরের সাথে আরো পরিচিত হলে
এমনি প্রান্তর থাকে রৌদ্রময়, শব্দবিহীন,
যতক্ষণ অপরাহ্ন বুকের উপরে পড়ে থাকে
তার; শালিখ পাখিকে আমি নাম ধরে ডাকি;
ছায়া বা অনলোজ্জ্বল পাখিনীকে ডাকে
তবুও সে; মানুষের অন্তঃসার অবহ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/batasher-shobdo-eshe/ |
1242 | জীবনানন্দ দাশ | সূর্য নক্ষত্র নারী - ২ | প্রেমমূলক | চারিদিকে সৃজনের অন্ধকার র’য়ে গেছে, নারী,
অবতীর্ণ শরীরের অনুভূতি ছাড়া আরো ভালো
কোথাও দ্বিতীয় সূর্য নেই, যা জ্বালালে
তোমার শরীর সব অলোকিত ক’রে দিয়ে স্পষ্ট ক’রে দেবে কোনো কালে
শরীর যা র’য়ে গেছে।
এই সব ঐশী কাল ভেঙে ফেলে দিয়ে
নতুন সময় গ’ড়ে নিজেকে না গ’ড়ে তবু তুমি
ব্রহ্মান্ডের অন্ধকারে একবার জন্মাবার হেতু
অনুভব কর... | https://banglarkobita.com/poem/famous/552 |
5180 | শামসুর রাহমান | রঞ্জিতাকে মনে রেখে | প্রেমমূলক | রঞ্জিতা তোমার নাম, এতকাল পরেও কেমন
নির্ভুল মসৃণ মনে পড়ে যায় বেলা-অবেলায়।
রঞ্জিতা তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল কোনো কে
গ্রীষ্মের দুপুরে দীপ্র কবি সম্মেলনে
কলকাতায় ন’বছর আগে, মনে পড়ে?সহজ সৌন্দর্যে তুমি এসে বসলে আমার পাশে।
কবি প্রসিদ্ধির
অমেয় ভাণ্ডার থেকে রত্নরাজি নিয়ে
আজ আর সাজাব না তোমাকে রঞ্জিতা। শুধু বলি,
তোমার চোখের মতো অ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ronjitake-mone-rekho/ |
5433 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | আজিকার দিন কেটে যায় | চিন্তামূলক | আজিকার দিন কেটে যায়,—
অনলস মধ্যাহ্ন বেলায়
যাহার অক্ষয় মূর্তি পেয়েছিনু খুঁজে
তারি পানে চেয়ে আছি চক্ষু বুজে৷
আমি সেই ধনুর্ধর যার শরাসনে
অস্ত্র নাই, দীপ্তি মনে মনে,
দিগন্তের স্তিমিত আলোকে
পূজা চলে অনিত্যের বহ্নিময় স্রোতে৷
চলমান নির্বিরোধ ডাক,
আজিকে অন্তর হতে চিরমুক্তি পাক৷
কঠিন প্রস্তরমূর্তি ভেঙে যাবে যবে
সেই দিন আমাদের অ... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/ajikar-din-kete-jay/ |
4999 | শামসুর রাহমান | বসতিতে, মনীষায় | চিন্তামূলক | আজকাল বিছানায় বড় বেশি শুয়ে থাকে একা,
বালিশে অনেকক্ষণ মুখ গুঁজে সময় যাপন
করে, কড়িকাঠ গোনে। বাড়িটা পুরনো, নড়বড়ে;
বুড়ো কাকাতুয়ার বিবর্ণ
পালকের মতো রঙ দেয়ালে অস্পষ্ট। পলেস্তরা
খসে পড়ে মাঝে-মধ্যে; প্রাচীন পদ্যের ঋদ্ধ পংক্তির মতন
কি যেন গুমরে ওঠে ক্ষয়ে-যাওয়া বাঘছালে ইঁদুরের দৌড়
কাঠের চেয়ারে শাদা বেড়ালের স্বপ্নাশ্রিত মাথা,
খব... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/bostire-monishay/ |
5715 | সুনির্মল বসু | হবুচন্দ্রের আইন | হাস্যরসাত্মক | হবুচন্দ্র রাজা বলেন গবুচন্দ্রে ডেকে–
“আইন জারী করে দিও রাজ্যেতে আজ থেকে,
মোর রাজ্যের ভিতর–
হোক্ না ধনী, হোক্ না গরীব, ভদ্র কিংবা ইতর,
কাঁদতে কেহ পারবে নাক, যতই মরুক শোকে–
হাসবে আমার যতেক প্রজা, হাসবে যত লোকে।
সান্ত্রী-সেপাই, প্যায়দা, পাইক ঘুরবে ছদ্মবেশে,
কাঁদলে কেহ, আনবে বেঁধে, শাস্তি হবে শেষে।”
বলে গবু- “হুজুর–
ভয় যদি... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4317.html |
3352 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পথিক দেখেছি আমি পুরাণে কীর্তিত কত দেশ | সনেট | পথিক দেখেছি আমি পুরাণে কীর্তিত কত দেশ
কীর্তি-নিঃস্ব আজি; দেখেছি অবমানিত ভগ্নশেষ
দর্পোদ্ধত প্রতাপের; অন্তর্হিত বিজয়-নিশান
বজ্রাঘাতে স্তব্ধ যেন অট্টহাসি; বিরাট সম্মান
সাষ্টাঙ্গে সে ধুলায় প্রণত, যে ধুলার পরে মেলে
সন্ধ্যাবেলা ভিক্ষু জীর্ণ কাঁথা, যে ধুলায় চিহ্ন ফেলে
শ্রান্ত পদ পথিকের, পুনঃ সেই চিহ্ন লোপ করে
অসংখ্যের নিত্... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/pothik-dekhechi-ami-purane-kirtito-koto-desh/ |
999 | জীবনানন্দ দাশ | কোথায় গিয়েছে | চিন্তামূলক | কোথায় গিয়েছে আজ সেইসব পাখি-আর সেইসব ঘোড়া-
সেই শাদা দালানের নারী?
বাবলা ফুলের গন্ধে-সোনালি রোদের রঙ্গে ওড়া
সেইসব পাখি-আর সেইসব ঘোড়া
চলে গেছে আমাদের এ পৃথিবী ছেড়ে;
হৃদয় কোথায় বলো-কোথায় গিয়েছে আজ সব
অন্ধকার; মৃত নাসপাতিটির মতন নীরব। | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/kothay-giese/ |
4508 | শামসুর রাহমান | এখানেই বেইলি রোডে | রূপক | (বিপ্রদাশ, বড়ুয়া প্রিয়বরেষু)এখানে বেইলি রোডে তোমরা এসেছো আজ বিনা
আমন্ত্রণে ওগো পক্ষীকুল দূরদেশ থেকে জানি
আশ্রয়ের খোঁজে; তোমরাও নিরাপত্তা চাও, ধূর্ত
শিকারির শর কিংবা গুলি এড়িয়ে বাঁচার সাধ
তোমাদেরও বুকে জ্বলে প্রদীপের মতো। এইসব
নাগরিক গাছে কেন নিলে ঠাঁই শীতের দুপুরে?
পাড়াটা নীরব কিছু, তবু মোটর কারের হর্ন
বেজে ওঠে মাঝে মা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekhanei-baili-road/ |
3825 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রায়ঠাকুরানী অম্বিকা | ছড়া | রায়ঠাকুরানী অম্বিকা।
দিনে দিনে তাঁর বাড়ে বাণীটার লম্বিকা।
অবকাশ নেই তবুও তো কোনো গতিকে
নিজে ব’কে যান, কহিতে না দেন পতিকে।
নারীসমাজের তিনি তোরণের স্তম্ভিকা।
সয় নাকো তাঁর দ্বিতীয় কাহারো দম্ভিকা। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/raithakurani-ombika/ |
4009 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্মৃতি | সনেট | ওই দেহ-পানে চেয়ে পড়ে মোর মনে
যেন কত শত পূর্ব-জনমের স্মৃতি ।
সহস্র হারানো সুখ আছে ও নয়নে,
জন্মজন্মান্তের যেন বসন্তের গীতি ।
যেন গো আমারি তুমি আত্মবিস্মরণ,
অনন্ত কালের মোর সুখ দুঃখ শোক,
কত নব জগতের কুসুমকানন,
কত নব আকাশের চাঁদের আলোক ।
কত দিবসের তুমি বিরহের ব্যথা,
কত রজনীর তুমি প্রণয়ের লাজ --
সেই হাসি সেই অশ্রু সেই-সব কথ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/smriti/ |
3239 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুয়ারে তোমার ভিড় ক’রে যারা আছে | রূপক | দুয়ারে তোমার ভিড় ক’রে যারা আছে,
ভিক্ষা তাদের চুকাইয়া দাও আগে।
মোর নিবেদন নিভৃতে তোমার কাছে–
সেবক তোমার অধিক কিছু না মাগে।
ভাঙিয়া এসেছি ভিক্ষাপাত্র,
শুধু বীণাখানি রেখেছি মাত্র,
বসি এক ধারে পথের কিনারে
বাজাই সে বীণা দিবসরাত্র।দেখো কতজন মাগিছে রতনধূলি,
কেহ আসিয়াছে যাচিতে নামের ঘটা–
ভরি নিতে চাহে কেহ বিদ্যার ঝুলি,
কেহ ফিরে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/duare-tomar-vir-kore-jara-ache/ |
2685 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আধা রাতে গলা ছেড়ে | ছড়া | আধা রাতে গলা ছেড়ে
মেতেছিনু কাব্যে,
ভাবিনি পাড়ার লোকে
মনেতে কী ভাববে।
ঠেলা দেয় জানলায়,
শেষে দ্বার-ভাঙাভাঙি,
ঘরে ঢুকে দলে দলে
মহা চোখ-রাঙারাঙি–
শ্রাব্য আমার ডোবে
ওদেরই অশ্রাব্যে।
আমি শুধু করেছিনু
সামান্য ভনিতাই,
সামলাতে পারল না
অরসিক জনে তাই–
কে জানিত অধৈর্য
মোর পিঠে নাববে! (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/adha-rate-gola-chere/ |
5251 | শামসুর রাহমান | সক্রেটিস ১ | চিন্তামূলক | এ-কথা সবাই জানে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস
ব্যতিক্রমী মত প্রকাশের দায়ে নিজহাতে বিষ
করেছেন পান কারাগারে। মৃত্যু উঠেছিলো নেচে
যখন সে প্রাজ্ঞ ওষ্ঠে কালো মোরগের মতো, বেঁচে
ছিলেন গৃহিনী তাঁর, ছিলো ছেঁড়াখোঁড়া সংসারের
স্মৃতিচিত্র, হাট-বাজারের সংলাপ, তরুণদের
নিয়ত সত্যাভিসারী দৃষ্টিপাত। তখন কি তাঁর
পড়েছিলো মনে এইসব খুঁটিনাটি? নাকি... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/sokretis-1/ |
1578 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | ঘরবাড়ি ও অজস্র ঘটনা | প্রেমমূলক | দৌড়তে দৌড়তে দিন যায়,
অতর্কিতে রাত্রি নেমে আসে,
তারপরে সে যেতে চায় না আর।
কবে যেন সকালবেলায়
দেখেছিলি কার নয়নে ভাসে
উন্মীলিত পদ্মের বাহার।
সে কি গতকল্যের, না গত-
জন্মের স্মৃতির একটি কণা?
প্রশ্ন করে বিষন্ন সানাই।
সামনে রাত্রি, পিছনে নিহত
ঘরবাড়ি ও অজস্র ঘটনা,
অর্থ তারই বুঝে নিতে চাই। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1555 |
3907 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সজনি সজনি রাধিকালো | ভক্তিমূলক | সজনি সজনি রাধিকালো
দেখ অবহুঁ চাহিয়া,
মৃদুল গমন শ্যাম আওয়ে
মৃদুল গান গাহিয়া।
পিনহ ঝটিত কুমুম হার,
পিনহ নীল আঙিয়া।
সুন্দরি সিন্দূর দেকে
সীঁথি করছ রাঙিয়া।
সহচরি সব নাচ নাচ
মধুর গীত গাওরে,
চঞ্চল মঞ্জীর রাব
কুঞ্জ গগন ছাওরে।সজনি অব উজার মঁদির
কনক দীপ জ্বালিয়া,
সুরভি করছ কুঞ্জ ভবন
গন্ধ সলিল ঢালিয়া ।
মল্লিকা চমেলি বেলি
... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/sojoni-sojoni-radhikalo/ |
3730 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মুক্তপথে | প্রেমমূলক | বাঁকাও ভুরু দ্বারে আগল দিয়া,
চক্ষু করো রাঙা,
ঐ আসে মোর জাত-খোয়ানো প্রিয়া
ভদ্র-নিয়ম-ভাঙা।
আসন পাবার কাঙাল ও নয় তো
আচার-মানা ঘরে-
আমি ওকে বসাব হয়তো
ময়লা কাঁথার 'পরে।
সাবধানে রয় বাজার-দরের খোঁজে
সাধু গাঁয়ের লোক.
ধুলার বরন ধূসর বেশে ও যে
এড়ায় তাদের চোখ।
বেশের আদর করতে গিয়ে ওরা
রূপের আদর ভোলে-
আমার পাশে ও মোর মন... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/mukta-protha/ |
3669 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ভূমিকম্প | চিন্তামূলক | হায় ধরিত্রী, তোমার আঁধার পাতালদেশে
অন্ধ রিপু লুকিয়েছিল ছদ্মবেশে--
সোনার পুঞ্জ যেথায় রাখ,
আঁচলতলে যেথায় ঢাক
কঠিন লৌহ, মৃত্যুদূতের চরণধূলির
পিণ্ড তারা, খেলা জোগায়
যমালয়ের ডাণ্ডাগুলির।
উপর তলায় হাওয়ার দোলায় নবীন ধানে
ধানশ্রীসুর মূর্ছনা দেয় সবুজ গানে।
দুঃখে সুখে স্নেহে প্রেমে
স্বর্গ আসে মর্তে নেমে,
ঋতুর ডালি ফুল-... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bumekhapu/ |
5807 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | নীরা তোমার কাছে | প্রেমমূলক | সিঁড়ির মুখে কারা অমন শান্তভাবে কথা বললো?
বেরিয়ে গেল দরজা ভেজিয়ে, তবু তুমি দাঁড়িয়ে রইলে সিঁড়িতে
রেলিং-এ দুই হাত ও থুত্নি, তোমায় দেখে বলবে না কেউ থির বিজুরি
তোমার রঙ একটু ময়লা, পদ্মপাতার থেকে যেন একটু চুরি,
দাঁড়িয়ে রইলে
নীরা, তোমায় দেখে হঠাৎ নীরার কথা মনে পড়লো।
নীরা, তোমায় দেখি আমি সারা বছর মাত্র দু’দিন
দোল ও সরস্বতী ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1893 |
1827 | পূর্ণেন্দু পত্রী | তোমার মধ্যে | প্রেমমূলক | তোমার মধ্যে নিষ্ঠুরতা ছিল
এনভেলাপে ভূল ঠিকানা তাই
তোমার মধ্যে ভালোবাসাও ছিল
তারই আগুন জ্বালাচ্ছে দেশলাই।
তোমর মধ্যে ভালোবাসাও ছিল
লাল হয়েছে ছুরির নীল ধার
তোমার মধ্যে নিষ্ঠুরতাও ছিল
উপড়ে দিলে টেলিফোনের তার। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1280 |
1344 | তসলিমা নাসরিন | নিঃস্ব | প্রেমমূলক | শরীর তোকে শর্তহীন দিয়েই দিলাম,
যা ইচ্ছে তাই কর,
মাচায় তুলে রাখ বা মশলা মেখে খা
কী যায় আসে আমার তাতে, কিছু কি আর আমার আছে!
সেদিন থেকে আমার কিছু আমার নেই, যেদিন থেকে মন পেলি তুই,
সবই তোকে দিয়ে থুয়ে নিঃস্ব হয়ে মরে আছি।
আমি তোর হাতের মুঠোয়,
আমি তোর মনের ধুলোয়,
গায়ে পায়ে শক্তি ছিল, নেই। সবই তোর, তুই ঋদ্ধ ভগবান।
শরীরটাকে কষ্... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1992 |
6054 | হেলাল হাফিজ | ব্যবধান | মানবতাবাদী | অতো বেশ নিকটে এসো না, তুমি পুড়ে যাবে,
কিছুটা আড়াল কিছু ব্যবধান থাকা খুব ভালো।
বিদ্যুত সুপারিবাহী দু’টি তার
বিজ্ঞানসম্মত ভাবে যতোটুকু দূরে থাকে
তুমি ঠিক ততোখানি নিরাপদ কাছাকাছি থেকো,
সমূহ বিপদ হবে এর বেশী নিকটে এসো না।
মানুষ গিয়েছে ভূলে কী কী তার মৌল উপাদান।
তাদের ভেতরে আজ বৃক্ষের মতন সেই সহনশীলতা নেই,
ধ্রুপদী স্নি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/125 |
4670 | শামসুর রাহমান | গদ্য সনেট_ ৫ | প্রেমমূলক | অন্তত তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাবো আজ, এমন
প্রত্যাশার দোয়েল শিস দিয়েছিল বারবার ভাবনার উঠোনে।
এইমাত্র ঘড়িতে রাত এগারোটা পঁয়ত্রিশ মিনিটের
সঙ্কেত; পাশের শিশুপল্লী ঘুমোচ্ছে, গলি নিঝুম,
রাত্রি কালো কফিনের ভিতর শুয়ে আছে, কুয়াশা
নামছে তার চোখে। দূরের নক্ষত্রেরা তাকিয়ে রয়েছে
কফিনের দিকে, অথচ তোমার টেলিফোন সরোদের তানের
ধরনে বেজে ও... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/godyo-sonet-5/ |
5006 | শামসুর রাহমান | বাঁশিঅলা | চিন্তামূলক | বলা যেতে পারে-
সে-তো আজ নয়, বহুকাল আগে,
যখন আমার দেহ মনে
কৈশোর নিভৃতে খেলছিল অপরূপ
খেলা ভোরবেলা, রৌদ্রময় দ্বিপ্রহর,
মেঘঢাকা গাঢ় সন্ধ্যায় আর
গভীর রহস্যময় রাতে ছিলাম নিমগ্ন আর
কে এক রহস্যময়ী সঙ্গিনী ছিলেন উদ্যানের মায়াপথেসে-রাতে, এখনও মনে পড়ে-
দিগন্তের দিকে হেঁটে যেতে যেতে কানে
ভেসে এসেছিল কোন্ এক
বংশীবাদকের মন-জয়-করা স... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/bashiola/ |
441 | কাজী নজরুল ইসলাম | ভীরু | প্রেমমূলক | আমি জানি তুমি কেন চাহ না ক' ফিরে।
গৃহকোন ছাড়ি আসিয়াছ আজ দেবতার মন্দিরে।
পুতুল লইয়া কাটিয়াছে বেলা
আপনারে ল'য়ে শুধু হেলা-ফেলা,
জানিতে না, আছে হৃদয়ের খেলা আকুল নয়ন-নীরে,
এত বড় দায় নয়নে নয়নে নিমেষের চাওয়া কি রে?
আমি জানি তুমি কেন চাহ না ক' ফিরে।।আমি জানি তুমি কেন চাহ না ক' ফিরে।
জানিতে না আঁখি আঁখিতে হারায় ডুব... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/viiru/ |
6011 | হেলাল হাফিজ | অচল প্রেমের পদ্য- ০১-১৩ | প্রেমমূলক | ০১- “অচল প্রেমের পদ্য”
আছি।
বড্ড জানান দিতে ইচ্ছে করে, – আছি,
মনে ও মগজে
গুন্ গুন্ করে
প্রণয়ের মৌমাছি।
০২- “অচল প্রেমের পদ্য”
কোনদিন, আচমকা একদিন
ভালোবাসা এসে যদি হুট করে বলে বসে,-
‘চলো যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাই’,
যাবে?
০৩- “অচল প্রেমের পদ্য”
তোমার জন্য সকাল, দুপুর
তোমার জন্য সন্ধ্যা
তোমার জন্য সকল গোলাপ
এবং ... | https://www.bangla-kobita.com/helalhafiz/ocol-premer-podya/ |
1101 | জীবনানন্দ দাশ | পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে | চিন্তামূলক | পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে ঘুরে গেলে দিন
আলোকিত হয়ে ওঠে—রাত্রি অন্ধকার
হয়ে আসে; সর্বদাই, পৃথিবীর আহ্নিক গতির
একান্ত নিয়ম, এই সব;
কোথাও লঙ্ঘন নেই তিলের মতন আজো;
অথবা তা হতে হলে আমাদের জ্ঞাতকুলশীল
মানবীয় সময়কে রূপান্তরিত হয়ে যেতে হয় কোনো
দ্বিতীয় সময়ে; সে-সময় আমাদের জন্যে নয় আজ।
রাতের পর দিন—দিনের পরের রাত নিয়ে সুশৃঙ্খল
পৃথিবীকে... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/prithibii-shurjokey-ghirey/ |
2638 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আঁখি পানে যবে আঁখি তুলি | প্রেমমূলক | আঁখি পানে যবে আঁখি তুলি
দুখ জ্বালা সব যাই ভুলি।
অধরে অধরে পরশিয়া
প্রাণমন উঠে হরষিয়া।
মাথা রাখি যবে ওই বুকে
ডুবে যাই আমি মহা সুখে।
যবে বল তুমি, “ভালবাসি’,
শুনে শুধু আঁখিজলে ভাসি।Heinrich Hein
(অনুবাদ কবিতা) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/akhi-pane-jobe-akhi-tuli/ |
5274 | শামসুর রাহমান | সাক্ষাৎকার, মধ্যরাতে | মানবতাবাদী | উনিশশো ছিয়াশির মার্চ মাসে রাত বারোটায় কী উদ্বেল
কে যে কড়া নেড়ে
ভাঙাল আমার ঘুম, যদিও সুইচ টিপে বেল
বাজালেই হতো; প্রায় তেড়ে
এসে দেখি সুপ্রাচীন ধরাচূড়া নিয়ে একজন
আছেন দাঁড়িয়ে একা, আমার ফ্ল্যাটের দরজায়। আমি তাঁকে
‘ভেতর আসুন’ বলে সোফায় আসন
গ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানালাম। পথের কুকুর ডাকে
নির্জন রাস্তাকে চমকিয়ে। ‘ঘোর কলি মহাশয়,
... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/sakhkhatkar-modhyorate/ |
650 | জয় গোস্বামী | কূর্ম চলেছেন | রূপক | কূর্ম চলেছেন। তাঁর পিঠ থেকে হঠাৎ
পৃথিবী গড়িয়ে পড়ে যায়
শূন্যে সে-গোলক ধরতে, ঘুম ভেঙে, শশক লাফায়
আকাশ ঝকঝক করে ওঠে
শ্বেতশুভ্র একটি উল্কায় | https://banglarkobita.com/poem/famous/1731 |
1547 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | আশ্বিনদিবসে | চিন্তামূলক | আশ্বিন বলতেই চোখে ভেসে ওঠে রোদ্দুরের ছবি,
চক্রাকারে চিল
মাথার উপর দিয়ে ডানা মেলে
উড়ে যায়
মেঘের জানলার দিকে। আশ্বিন বলতেই
আলোর-তরঙ্গে-ধোয়া দৃশ্যাবলি চোখের সমুখে
দেখতে পাই।
দেখি নদী, দেখি নৌকা, গেরুয়া বাদাম
স্রোতের দুরন্ত টানে ঘুরে যায়।
এমন আশ্বিন ছিল একদা, এখন
বাহির-পৃথিবী থেকে তাড়া খেয়ে ভিতরে ঢুকেছে।
বাহিরে আঁধার।
লো... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1604 |
3232 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুই উপমা | নীতিমূলক | যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে
সহস্র শৈবালদাম বাঁধে আসি তারে;
যে জাতি জীবনহারা অচল অসাড়
পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার।
সর্বজন সর্বক্ষণ চলে যেই পথে
তৃণগুল্ম সেথা নাহি জন্মে কোনোমতে;
যে জাতি চলে না কভু তারি পথ-’পরে
তন্ত্র-মন্ত্র-সংহিতায় চরণ না সরে। (চৈতালি কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dui-upoma/ |
4537 | শামসুর রাহমান | কথার জেরুজালেম | মানবতাবাদী | এখন বলার কিছু নেই আর তাই থাকি আপাতত
চুপচাপ, প্রায় বোবা, বলা যায়। তুমিও আগের
মতো কথা পুষ্পসারে দাওনা ভরিয়ে ক্ষণে ক্ষণে
আমার প্রহর আজ। যদিও কখক নই নিপুণ, তুখোড়,
তবু ছিলো দীর্ঘস্থায়ী কথোপকথন
আমাদের; ছিলো, মনে পড়ে, প্রহরে প্রহরে।এখন আমার চোখ কথা বলে, প্রতিটি আঙুলে
সযত্বে সাজায় শূন্যে কথামালা, আমার বুকের
রোমারাজি কথা হয়ে ফো... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kothar-jerujalem/ |
4605 | শামসুর রাহমান | কুচকাওয়াজ, কুচকাওয়াজ | রূপক | কখনও সখনও যে চা-খানায় চা খেতে যাই কিংবা কিছু সময় কাটাতে,
সেখানেই তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বলা-কওয়া নেই লোকটা গ্যাঁট হয়ে
বসল আমার মুখোমুখি। কোনও কোনও মানুষ আছে যাদের দেখলেই মনে
পড়ে পাখির কথা। লোকটা সে ধরনের একজন মানুষ। কেন জানি না, তাকে
মনে হলো একটা দাঁড়কাকের মতো, যদিও এই বিশেষ প্রাণীটির সঙ্গে তার
কোনও মিল আমি খুঁজে বের ক... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kuchkawaj-kuchkawaj/ |
5201 | শামসুর রাহমান | লোকগুলোর কী হয়েছে | মানবতাবাদী | লোকগুলোর কী হয়েছে বলোতো
মুখে কুচকুচে অথবা ধবধবে দাড়ি দেখলেই
অথর্ব মোল্লা ঠাউরে নেয় আর
উশকো খুশকো চুল ময়লা ট্রাউজার
হলুদ উদাসীনতা-ছাওয়া
চোখ দেখলেই ছন্নছাড়া পদ্যলিখিয়েকী যে বোঝাতে চায় এই নিদ্রাচারীরা
ওরা নিজেরাই তার মর্মেদ্ধার
করতে পারবে কি না তা’ নিয়ে
বিস্তর জল্পনা কল্পনা করা যেতে পারে
ঘুমের জঠরে ক্ষণিক বসবাসকালীন সময়ে ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/lokgulor-ki-hoyeche/ |
2853 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ওরে পাখি | প্রকৃতিমূলক | ওরে পাখি,
থেকে থেকে ভুলিস কেন সুর,
যাস নে কেন ডাকি—
বাণীহারা প্রভাত হয় যে বৃথা
জানিস নে তুই কি তা।অরুণ-আলোর প্রথম পরশ
গাছে গাছে লাগে,
কাঁপনে তার তোরই যে সুর
পাতায় পাতায় জাগে—
তুই যে ভোরের আলোর মিতা
জানিস নে তুই কি তা।জাগরণের লক্ষ্মী যে ওই
আমার শিয়রেতে
আছে আঁচল পেতে,
জানিস নে তুই কি তা।
গানের দানে উহারে তুই
করিস নে ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ore-pakhi/ |
3504 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বন-ফুল (ষষ্ঠ সর্গ) | কাহিনীকাব্য | ‘কমলা ভুলিবে সেই শিখর কানন,
কমলা ভুলিবে সেই বিজন কুটীর—
আজ হতে নেত্র! বারি কোরো না বর্ষণ,
আজ হতে মন প্রাণ হও গো সুস্থির।অতীত ও ভবিষ্যত হইব বিসমৃত।
জুড়িয়াছে কমলার ভগন হৃদয়!
সুখের তরঙ্গ হৃদে হয়েছে উত্থিত,
সংসার আজিকে হোতে দেখি সুখময়।বিজয়েরে আর করিব না তিরস্কার
সংসারকাননে মোরে আনিয়াছে বলি।
খুলিয়া দিয়াছে সে যে হৃদ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bon-ful-soshtho-sorgo/ |
4357 | শামসুর রাহমান | আমরা ক’জন শুধু | মানবতাবাদী | নিজের সঙ্গেই আজ সারাদিন খেলি কানামাছি
কী জানি কিসের ঘোরে। মাঝে-মধ্যে কেমন অদ্ভুত
মনে হয় নিজেকে নিজেরই কাছে। কী ক’রে যে আছি
ভুল ইতিহাস শুনে, মূঢ়দের প্রগতির দূতভেবে নিয়ে; ঐ তো ওরা সর্বক্ষণ পেছনের দিকে
টেনে নিতে চায়, মনে ছড়ায় আঁধার মুঠো মুঠো।
এসব মুখের কোনো বাস্তবতা নেই, ওরা টিকে
আছে মিথ্যা পুঁজি ক’রে কুড়িয়ে ভ্রান্তির খড়ক... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/amara-kojon-shudhu/ |
631 | জয় গোস্বামী | ঈশ্বর আর প্রেমিকের সংলাপ | প্রেমমূলক | – ‘সে যদি তোমাকে অগ্নিতে ফেলে মারে?’
বিনা চেষ্টায় মরে যাব একেবারে
— ‘সে যদি তোমাকে মেঘে দেয় উত্থান?’
বৃষ্টিতে, আমি বৃষ্টিতে খানখান
— ‘সে যদি তোমাকে পিষে করে ধুলোবালি?’
পথ থেকে পথে উড়ে উড়ে যাব খালি
— ‘উড়বে?– আচ্ছা, ছিঁড়ে দেয় যদি পাখা?’
পড়তে পড়তে ধরে নেব ওর শাখা
— ‘যদি শাখা থেকে নীচে ফেলে দেয় তোকে?’
কী আর করব? জড়... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1707 |
1250 | জীবনানন্দ দাশ | সৃষ্টির তীরে | মানবতাবাদী | বিকেলের থেকে আলো ক্রমেই নিস্তেজ হ'য়ে নিভে যায়- তবু
ঢের স্মরণীয় কাজ শেষ হ'য়ে গেছেঃ
হরিণ খেয়েছে তার আমিষাশী শিকারীর হৃদয়কে ছিঁড়ে;
সম্রাটের ইশারায় কঙ্কালের পাশাগুলো একবার সৈনিক হয়েছে;
স্বচ্ছল কঙ্কাল হ'য়ে গেছে তারপর;
বিলোচন গিয়েছিলো বিবাহ-ব্যাপারে;
প্রেমিকেরা সারাদিন কাটায়েছে গণিকার বারে
সভাকবি দিয়ে গেছে বাক্বিভূতিকে গালা... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/srishtir-tirey/ |
5510 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | বৈশম্পায়ন | চিন্তামূলক | আকাশের খাপছাড়া ক্রন্দন
নাই আর আষাঢ়ের খেলনা।
নিত্য যে পাণ্ডুর জড়তা
সথীহারা পথিকের সঞ্চয়।
রক্তের বুকভরা নিঃশ্বাস,
আঁধারের বুকফাটা চীৎকার-
এই নিয়ে মেতে আছি আমরা
কাজ নেই হিসাবের খাতাতে।
মিলাল দিনের কোনো ছায়াতে
পিপাসায় আর কূল পাই না;
হারানো স্মৃতির মৃদু গন্ধে
প্রাণ কভু হয় নাকো চঞ্চল।
মাঝে মাঝে অনাহূত আহ্বান
আন... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1115 |
483 | কাজী নজরুল ইসলাম | রাজ-ভিখারী | মানবতাবাদী | কোন ঘর-ছাড়া বিবাগীর বাঁশি শুনে উঠেছিল জাগি'
ওগো চির-বৈরাগী!
দাঁড়ালে ধুলায় তব কাঞ্চন-কমল-কানন ত্যাগি'-
ওগো চির বৈরাগী।ছিলে ঘুম-ঘোরে রাজার দুলাল,
জানিতে না কে সে পথের কাঙ্গাল
ফেরে পথে পথে ক্ষুধাতুর-সাথে ক্ষুধার অন্ন মাগি',
তুমি সুধার দেবতা 'ক্ষুধা ক্ষুধা' বলে কাঁদিয়া উঠিলে জাগি'-
ওগো চির-বৈরাগী!আঙ্গিয়া তোমার নিলে বে... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/rah-bhikhari/ |
1585 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | চিত্রমালা | রূপক | গাঢ় নীল মেঘের
এলো খোঁপাটাকে খুলে ফেলতেই
নীচের মাটিতে
লাফিয়ে নামল
নদী।
লোহার-হৃদপিণ্ড-নিংড়ানো তার রক্তবর্ণ জলের মধ্যে
পোচড়া ডুবিয়ে
জঙ্গলের গায়ে ছিটিয়ে দিতেই
ফুটে উঠল
টকটকে লাল
মোরগ-ফুল।
জঙ্গলের মধ্যে ছিল
ধূমল-বর্ণ হাতির পাল।
ক্যানেস্তারা পেটাতে-পেটাতে
দিগন্তের দিকে তাদের
তাড়িয়ে দেওয়া হল।
আর সঙ্গে-সঙ্গেই আকাশের গায়ে
জে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1563 |
1463 | নির্মলেন্দু গুণ | আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও | প্রেমমূলক | তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও।এই নাও আমার যৌতুক, এক-বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।
ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব,
শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে।
আমি জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব,
তোমার পায়ের কাছে নামাব পাহাড়।
আমিও অমর হব, আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও।পায়ের আঙুল হয়ে সা... | https://banglapoems.wordpress.com/2013/02/21/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a7%80-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%93-%e0%a6%a8%e0%a6%bf/ |
3041 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | চিত্রা | স্তোত্রমূলক | জগতের মাঝে কত বিচিত্র তুমি হে
তুমি বিচিত্ররূপিণী।
অযুত আলোকে ঝলসিছ নীল গগনে,
আকুল পুলকে উলসিছ ফুলকাননে,
দ্যুলোকে ভূলোকে বিলসিছ চলচরণে,
তুমি চঞ্চলগামিনী।
মুখর নূপুর বাজিছে সুদূর আকাশে,
অলকগন্ধ উড়িছে মন্দ বাতাসে,
মধুর নৃত্যে নিখিল চিত্তে বিকাশে
কত মঞ্জুল রাগিণী।
কত না বর্ণে কত না স্বর্ণে গঠিত
কত যে ছন্দে কত সংগীতে রটিত
... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/post20150129104746/ |
6032 | হেলাল হাফিজ | ডাকাত | রূপক | তুমি কে হ?
সোনালী ছনের বাড়ি তছনছ করে রাতে
নির্বিচারে ঢুকে গেলে অন্দর-মহলে
বেগানা পুরুষ, লাজ-শরমের মাথা খেয়ে
তুমি কে হে?
তোমাকে তো কখনো দেখিনি আগে এ তল্লাটে
মারী ও মড়কে, ঝড়ে, কাঙ্ক্ষিত বিদ্রোহে।
আমাদের যুদ্ধের বছরে
ভিন্ গেরামের কতো মানুষের পদচারণায়
এ বাড়ি মুখর ছিলো, তোমাকে দেখিনি ত্রি-সীমায়।
চতুর বণিক তুমি আ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/105 |
3274 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নগাধিরাজের দূর নেবু-নিকুঞ্জের | চিন্তামূলক | নগাধিরাজের দূর নেবু-নিকুঞ্জের
রসপাত্রগুলি
আনিল এ শয্যাতলে
জনহীন প্রভাতের রবির মিত্রতা,
অজানা নির্ঝরিণীর
বিচ্ছুরিত আলোকচ্ছটার
হিরন্ময় লিপি,
সুনিবিড় অরণ্যবীথির
নিঃশব্দ মর্মরে বিজড়িত
স্নিগ্ধ হৃদয়ের দৌত্যখানি।
রোগপঙ্গু লেখনীর বিরল ভাষার
ইঙ্গিতে পাঠায় কবি আর্শীবাদ তার। (আরোগ্য কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/nogadhirajer-dur-nebu-nikunjer/ |
3684 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মধ্যাহ্ন | চিন্তামূলক | বেলা দ্বিপ্রহর।
ক্ষুদ্র শীর্ণ নদীখানি শৈবালে জর্জর
স্থির স্রোতোহীন। অর্ধমগ্ন তরী-পরে
মাছরাঙা বসি, তীরে দুটি গোরু চরে
শস্যহীন মাঠে। শান্তনেত্রে মুখ তুলে
মহিষ রয়েছে জলে ডুবি। নদীকূলে
জনহীন নৌকা বাঁধা। শূন্য ঘাটতলে
রৌদ্রতপ্ত দাঁড়কাক স্নান করে জলে
পাখা ঝটপটি। শ্যামশষ্পতটে তীরে
খঞ্জন দুলায়ে পুচ্ছ নৃত্য করি ফিরে।
চিত্রবর্ণ প... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/modhannho/ |
4261 | শঙ্খ ঘোষ | ত্রিতাল | চিন্তামূলক | তোমার কোনো ধর্ম নেই, শুধু
শিকড় দিয়ে আঁকড়ে ধরা ছাড়া
তোমার কোনো ধর্ম নেই, শুধু
বুকে কুঠার সইতে পারা ছাড়া
পাতালমুখ হঠাত্ খুলে গেলে
দুধারে হাত ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়া
তোমার কোনো ধর্ম নেই, এই
শূন্যতাকে ভরিয়ে দেওয়া ছাড়া।
শ্মশান থেকে শ্মশানে দেয় ছুঁড়ে
তোমারই ঐ টুকরো-করা-শরীর
দু:সময়ে তখন তুমি জানো
হলকা নয়, জীবন বোনে জরি।
তোমার কোনো ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%96-%e0%a6%98%e0%a7%8b%e0%a6%b7/ |
3226 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে | চিন্তামূলক | দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে
এসেছে আমার দ্বারে;
একমাত্র অস্ত্র তার দেখেছিনু
কষ্টের বিকৃত ভান, ত্রাসের বিকট ভঙ্গি যত—
অন্ধকার ছলনার ভূমিকা তাহার।যতবার ভয়ের মুখোশ তার করেছি বিশ্বাস
ততবার হয়েছে অনর্থ পরাজয়।
এই হার-জিত-খেলা—জীবনের মিথ্যা এ কুহক—
শিশুকাল হতে বিজড়িত পদে পদে এই বিভীষিকা—
দুঃখের পরিহাসে ভরা।
ভয়ের বিচিত্র... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dukkher-adhare-ratri-bare-bare/ |
1073 | জীবনানন্দ দাশ | নিঃসরণ | চিন্তামূলক | দুর্গের গৌরবে ব'সে প্রাংশু আত্মা ভাবিতেছে টের পূর্বপুরুষের কথাঃ
যারা তারে জঙ্ঘা দিল,- তবু আজ তরবার পরিত্যাগ করার ক্ষমতা
যারা দিল;- প্রাচীন পাথর তারা এনেছিল পর্বতের থেকে
স্থির কিছু গড়িবার প্রয়োজনে; তারপর ধূসর কাপড়ে মুখ ঢেকে
চ'লে গেছে;- পিছন পেঁচা যা ওড়ে জ্যোৎস্নায়- সেইখানে তাদের মমতাঘুরিতেছে- ঘুরিতেছে- শত্রু মঙ্গলের মত;... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/nishoron/ |
2632 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অসহ্য ভালবাসা | প্রেমমূলক | বুঝেছি গো বুঝেছি সজনি,কী ভাব তোমার মনে জাগে,বুক-ফাটা প্রাণ-ফাটা মোর ভালোবাসাএত বুঝি ভালো নাহি লাগে।
এত ভালোবাসা বুঝি পার না সহিতে,এত বুঝি পার না বহিতে।
যখনি গো নেহারি তোমায়–মুখ দিয়া আঁখি দিয়া বাহিরিতে চায় হিয়া,
শিরার শৃঙ্খলগুলি ছিঁড়িয়া ফেলিতে চায়,ওই মুখ বুকে ঢাকে,
ওই হাতে হাত রাখে,কী করিবে ভাবিয়া না পায়,যেন... | https://banglapoems.wordpress.com/2011/11/30/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be/ |
1661 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | মল্লিকার মৃতদেহ | প্রকৃতিমূলক | উদ্যানে গিয়েছি আমি বারবার। দেখেছি, উদ্যান
বড় শান্ত ভূমি নয়। উদ্যানের গভীর ভিতরে
ফুলে-ফুলে
তরুতে-তরুতে
লতায়-পাতায়
ভীষণ চক্রান্ত চলে; চক্ষের নিমেষে খুন রক্তপাত
নিঃশব্দে সমাধা হয়। উদ্যানের গভীর ভিতরে
যত না সৌন্দর্য, তার দশ গুণ বিভীষিকা।
উদ্যানে গিয়েছি আমি বারবার। সেখানে কখনও
কেহ যেন শান্তির সন্ধানে আর নাহি যায়।
যাওয়া অর... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1669 |
2426 | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | অস্ট্রেলিয়া | ব্যঙ্গাত্মক | আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বদরুল মিয়া
মাথায় কী পোকা হল গেল অস্ট্রেলিয়া
ফোন করে যখন আমি খোঁজ নিতে যাই
অবাক ব্যাপার - তার নিশানাই নাই।
সহজ সরল মানুষ বদরুল মিয়া
পিছলা খেয়ে পড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া গিয়া। | https://banglarkobita.com/poem/famous/2026 |
5109 | শামসুর রাহমান | মানবের ব্যাখ্যা | মানবতাবাদী | মানবের ব্যাখ্যা নিয়ে ঘামাই না মাথা আজকাল।
মানুষ বিষয়ে কী বলেছে রেনেসাঁস, কাকে বলে
মানবতা, শুভাশুভ, দুর্জনের অনাচার, সাধু
সন্তের উদার ঐশী পর্যটন, ইত্যাদি কিছুই
এখন ভাবিনা আর। সংসারে ক’জন নিরিবিলি
অন্ন ভাগ করে খাই, কখনো পান্থনিবাসে ঠাঁই
খুঁজি, ঘুর একা একা ভেঙ্গে যাওয়া মেলায় কখনো,
নিজের শরীর থেকে পশুগন্ধ মুছে ফেলি কিছু।মা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/manober-byakkha/ |
3098 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জীবন পবিত্র জানি | চিন্তামূলক | জীবন পবিত্র জানি,
অভাব্য স্বরূপ তার
অজ্ঞেয় রহস্য-উৎস হতে
পেয়েছে প্রকাশ
কোন্ অলক্ষিত পথ দিয়ে,
সন্ধান মেলে না তার।
প্রত্যহ নূতন নির্মলতা
দিল তারে সূর্যোদয়
লক্ষ ক্রোশ হতে
স্বর্ণঘটে পূর্ণ করি আলোকের অভিষেকধারা,
সে জীবন বাণী দিল দিবসরাত্রিরে,
রচিল অরণ্যফুলে অদৃশ্যের পূজা-আয়োজন,
আরতির দীপ দিল জ্বালি
নিঃশব্দ প্রহরে।
চিত... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jibon-pobitro-jani/ |
3977 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সেই আমাদের দেশের পদ্ম | রূপক | সেই আমাদের দেশের পদ্ম
তেমনি মধুর হেসে
ফুটেছে, ভাই, অন্য নামে
অন্য সুদূর দেশে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/sei-amader-desher-poddo/ |
5427 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | অভিবাদন | মানবতাবাদী | হে সাথী, আজকে স্বপ্নের দিন গোনা
ব্যর্থ নয় তো, বিপুল সম্ভাবনা
দিকে দিকে উদ্যাপন করছে লগ্ন,
পৃথিবী সূর্য-তপস্যাতেই মগ্ন।
আজকে সামনে নিরুচ্চারিত প্রশ্ন,
মনের কোমল মহল ঘিরে কবোষ্ণ
ক্রমশ পুষ্ট মিলিত উন্মাদনা,
ক্রমশ সফল স্বপ্নের দিন গোনা।
স্বপ্নের বীজ বপন করেছি সদ্য,
বিদ্যুৎবেগে ফসল সংঘবদ্ধ!
হে সাথী, ফসলে শুনেছো প্রাণে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1100 |
5761 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | গহন অরণ্যে | চিন্তামূলক | গহন অরণ্যে আর বারবার একা যেতে সাধ হয় না-
শুকনো পাতার ভাঙা নিশ্বাসের মতো শব্দ
তলতা বাঁশের ছায়া, শালের বল্লরী,
সরু পথ
কালভার্টে, টিলার জঙ্গলে একা বসে থাকা কী-করম নিঝুম বিষন্ন
বড় হিংস্র দুঃখময়।
অসংখ্য আত্মার মতো লুকোনো পাখী ও প্রাণী, অপার্থিব নির্জনতা
ফুলের সুবর্ণরেখা গন্ধ, সামনে ঢেউ উৎরাই-
অসহিষ্ণু জুতোর ভিতরে বালি, শিরদ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1857 |
4302 | শামসুর রাহমান | অনুবাদ | প্রেমমূলক | তোমার ঘুমানো, জেগে-থাকা, হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়া
ঘর ছেড়ে কিংবা শীর্ণ ভিখারীর ক্ষয়া হলদে দাঁতে
চোখ রাখা, কাজান্তজাকিস পড়া, স্তব্ধ মধ্যরাতে
সুদূর গ্রীসের কথা ভাবা, ছিপছিপে নৌকো বাওয়া
স্বপ্নের অসীম ঝিলে বুকে নিয়ে স্মৃতিময় হাওয়া,
মরণ আবৃত্তিকারী এক ঝাঁক লাল-নীল বুড়ো
কাকাতুয়া দেখা, চোখে অতিদূর পূর্ণিমার গুঁড়ো,
বেডশীট আঁকড়েধর- সবই... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/onubad/ |
5147 | শামসুর রাহমান | যখন সে লেখে | সনেট | যখন সে লেখে তার ধমনীতে নেচে নেচে মেশে
গোলাপের পাপড়ি একরাশ, টেবিলের গ্রীবা ঘেঁষে
জেগে ওঠে বহুবর্ণ অশ্বপাল কেশর দুলিয়ে,
দেবদুত মাঝে সাজে দ্যায় তার মাথাটা বুলিয়ে।
যখন সে লেখে, দ্যাখে তার শৈশবের খড়স্তূপে
খরগোশ নাকের ডগা থেকে ঝাড়ে খড়কুটো চুপে
এবং আলেখ্যবৎ আস্তাবলে সহিস ঘুমায়।
যখন সে লেখে, দ্যাখে তার পদাবলী উড়ে যায়,একজন তরুণ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jokhon-se-lekhe/ |
1409 | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | খবরাখবর | প্রেমমূলক | আমি শুধু যাই না কোথাও ।
মেঘের প্রাসাদ ভেঙে , মেঘেরাও চলে যায় দূরে
শোণিতে আগুন জ্বলে , কখনো- বা শ্বৈত্যপ্রবাহ
মাটির লালিমা ঢেকে দেয় হিমবাহ
বিবস্ত্র মানচিত্রে লেগে থাকে বন্যা
মহামারী হাঙ্গামা মড়ক
আমি শুধু যাই না কোথাও ।
অমূর্ত প্রহরে এক বিপন্ন তরুণী তার
বুকের দেরাজ খুলে ডাকছে আমায়
দ্বিধায় দ্বিধায় কাটে আরো কিছুক্ষণ
... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1039 |
1846 | পূর্ণেন্দু পত্রী | পাওয়া না-পাওয়ার কানামাছি | চিন্তামূলক | রঙীন রুমালে চোখ দুটো বাঁধা
নিজের সঙ্গে নিজের অষ্টপ্রহর- কানামাছি খেলা
ভারী চমৎকার ধাঁধা।
যাকে ছোঁবার তাকে না ছুঁয়ে
আকাশ ধরতে হাত বাড়িয়ে আমি ধুলো মাটির ভূয়ে।
হাত বাড়ালে হাতে জলের বদলে শামুক
অথচ ভেতরটা পরাগসুদ্ধ ফুলের জন্যে আপাদমস্তক কামুক।
সিদুর রঙের কিছু দেখলেই মন উসখুস, ইচ্ছেয় আগুন
বিশ্বাসের বাকলে সত্যিই এল ফাল্গুন?
ক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1234 |
1799 | পূর্ণেন্দু পত্রী | কাঠঠোকরা | প্রেমমূলক | কুড়োলে কাটার বয়স হয়ে এল।
এবার চোখে ছানি, চুলে পাক।
এখনো তোর ক্ষিধে মিটল না হারামজাদা?
আমি কি গাছ আছি সেই আগের মতো?
ছাল ফেটে আটখানা, হাজারটা ক্ষত
হাড়ে-মাংসে এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় সেলাই।
সুতোটা রঙিন, তাই রক্ষে
ফোঁপরা ভেতরটা এড়িয়ে যায় দশজনের চক্ষে।
যখন বয়স ছিল, দিয়েছি, যখন যা চেয়েছিস।
ঠুকরে খেয়েছিস।
চাইলি নদীর মতো শর... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1250 |
3958 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সিন্ধুপারে | রূপক | পউষ প্রখর শীতে জর্জর, ঝিল্লিমুখর রাতি;
নিদ্রিত পুরী, নির্জন ঘর, নির্বাণদীপ বাতি।
অকাতর দেহে আছিনু মগন সুখনিদ্রার ঘোরে--
তপ্ত শয্যা প্রিয়ার মতন সোহাগে ঘিরেছে মোরে।
হেনকালে হায় বাহির হইতে কে ডাকিল মোর নাম--
নিদ্রা টুটিয়া সহসা চকিতে চমকিয়া বসিলাম।
তীক্ষ্ণ শাণিত তীরের মতন মর্মে বাজিল স্বর--
ঘর্ম বহিল ললাট বাহিয়া, রোমা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/post20150129112842/ |
1476 | নির্মলেন্দু গুণ | কাক | চিন্তামূলক | কাকের মুখে তুলে দিয়েছি নষ্ট ডিম,
এ নষ্ট জীবন আমি কার কাছে দেবো?
বাসন্তী কোকিল হতে গিয়ে
আমি ভুল করে হয়ে গেছি কাক।অথবা ছিলাম কাক, অপরাধে এই জন্মে
নষ্ট ডিমের মত হয়েছি মানুষ।এরকম নষ্ট মানুষ আমি কোথায় লুকাবো?
কার মুখে তুলে দেবো, জন্মান্তরে
ভুল হয়ে যাওয় এরকম মানুষিক কাক? | https://www.bangla-kobita.com/nirmalendugoon/kaak/ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.