id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
3874 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শূন্য পাতার অন্তরালে | রূপক | শূন্য পাতার অন্তরালে
লুকিয়ে থাকে বাণী,
কেমন করে আমি তারে
বাইরে ডেকে আনি।
যখন থাকি অন্যমনে
দেখি তারে হৃদয়কোণে,
যখন ডাকি দেয় সে ফাঁকি—
পালায় ঘোমটা টানি। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shunno-patar-ontorale/ |
1199 | জীবনানন্দ দাশ | শব | চিন্তামূলক | যেখানে রূপালি জ্যোৎস্না ভিজিতেছে শরের ভিতর,
যেখানে অনেক মশা বানায়েছে তাহাদের ঘর;
যেখানে সোনালি মাছ খুঁটে-খুঁটে খায়
সেই সব নীল মশা মৌন আকাঙ্ক্ষায়?
নির্জন মাছের রঙে যেইখানে হ’য়ে আছে চুপ
পৃথিবীর একপাশে একাকী নদীর গাঢ় রূপ;
কান্তারের একপাশে যে-নদীর জল
বাবলা হোগলা কাশে শুয়ে-শুয়ে দেখিছে কেবল
বিকালের লাল মেঘ; নক্ষত্রের রাতের আ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/shob/ |
4182 | লালন শাহ | তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে | মানবতাবাদী | তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে
তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে ।।একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে দৌড়ে গিয়ে
আবার হরি বলে পড়ছে ঢলে
ধূলার মাঝে ।।একটা নারকেলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা করঙ্গ সে
পাগলের সঙ্গে যাবি পাগল হবি
বুঝবি শেষে ।।পাগলের নামটি এমন
বলিতে অধীন লালন হয় তরাসে
চৈতে নিতে অদ্বৈ পাগল
নাম ধরে সে ।।তোরা কেউ যাসনে... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4427.html |
1519 | নির্মলেন্দু গুণ | স্বপ্ন নব-ভৌগোলিক শিখা | চিন্তামূলক | এখন আমার বয়স কত হবে? একশ? নব্বই? আশি?
হায়রে আমার বেশি-বয়সের স্বপ্ন, আমার একশ হবে না ।
আমি ময়মনসিংহের কবি, নীরার একান্ত বাধ্য স্বামী,
আমার বয়স পঁয়ত্রিশ, আমি ঢাকায় এসেছি স্বরচিত
কবিতা পড়তে । আমার বড় ভাই পশ্চিম বাংলার,
আমি স্বদেশের মায়ায় জড়ানো কবি ।আয়াতুল্লা খোমিনির মতো আমার মাথার চুলে ব্রহ্মজীবী
শুভ্র-কাশদল, ফাল্গুনের হা... | https://www.bangla-kobita.com/nirmalendugoon/post20161117015029/ |
1800 | পূর্ণেন্দু পত্রী | কাঠের পায়ে সোনার নূপুর | চিন্তামূলক | পাগুলো কাঠের
আর নূপুরগুলো সোনার
এইভাবেই সাজানো মঞ্চে নাচতে এসেছি আমরা
একটু আগে ছুটে গেল যে হলুদ বনহরিনী
ওর পায়ের চেটোয় সাড়ে তিনশো কাঁটা।
সারাটা বিকেল ও শুয়েছিল রক্তপাতের ভিতরে
সারাটা বিকেল ওকে ক্ষতবিক্ষত করেছে
স্মৃতির লম্বা লম্বা পেরেক।
অথচ নাচের ঘন্টা বাজতেই
এক দৌড়ে আগুনের ঠিক মাঝখানে।
বাইরে যখন জলজ্যান্ত দিন
সিঁড়ির... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1173 |
1015 | জীবনানন্দ দাশ | ঘাসের বুকের থেকে | সনেট | ঘাসের বুকের থেকে কবে আমি পেয়েছি যে আমার শরীর –
সবুজ ঘাসের থেকে; তাই রোদ ভালো লাগে — তাই নীলাকাশ
মৃদু ভিজে সকরুণ মনে হয়; — পথে পথে তাই এই ঘাস
জলের মতন স্নিগ্ধ মনে হয়, — কউমাছিদের যেন নীড়
এই ঘাস; — যত দূর যাই আমি আরো যত দূর পৃথিবীর
নরম পায়ের তলে যেন কত কুমারীর বুকের নিঃশ্বাস
কথা কয় — তাহাদের শান — হাত খেলা করে — তাদের খো... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ghasher-buke-theke/ |
129 | আল মাহমুদ | না ঘুমানোর দল | প্রকৃতিমূলক | নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
ডাবের মতো চাদঁ উঠেছে ঠান্ডা ও গোলগাল।
ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে এলেম ঘর
ঘুমন্ত এই মস্ত শহর করছিলো থরথ ।
মিনারটাকে দেখছি যেন দাড়িয়ে আছেন কেউ,
পাথরঘাটার গির্জেটা কি লাল পাথরের ঢেউ ?
চৌকিদারের হাক শুনে যেই মোড় ফিরেছি বায় –
কোত্থেকে এক উটকো পাহাড় ডাক দিল আয় আয়।
পাহাড়টাকে হাত বুলিয়ে লা... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3740.html |
1365 | তসলিমা নাসরিন | যেহেতু তুমি, যেহেতু তোমার | প্রেমমূলক | তোমার কপালের ভাঁজগুলোকেও আমি লক্ষ করছি যে আমি ভালোবাসি,
ভালোবাসি কারণ ওগুলো তোমার ভাঁজ,
তোমার গালের কাটা দাগটাকেও বাসি, যেহেতু দাগটা তোমার
আমার দিকে ছুঁড়ে দেওয়া তোমার বিরক্ত দৃষ্টিটাকেও ভালোবাসছি,
যেহেতু দৃষ্টিটা তোমারই।
তোমার বিতিকিচ্ছিজ্ঞর টালমাটাল জীবনকেও পলকহীন দেখি, তোমার বলেই দেখি।
তোমাকে দেখলেই আগুনের মত ছুটে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1993 |
5873 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | স্পর্শটুকু নাও | প্রেমমূলক | স্পর্শটুকু নাও আর বাকি সব চুপ
ছেঁড়া পৃষ্ঠা উড়ে যায়, না-লেখা পৃষ্ঠাও কিছু ওড়ে
হিমাদ্রি-শিখর থেকে ঝুঁকে-জড়া জলাপ্রপাতের সবই আছে
শুধু যেন শব্দরাশি নেই
স্পর্শটুকু নাও আর বাকি সব চুপ
ভোর আনে শালিকেরা, কোকিল ঘুমন্ত, আর
জেগে আছে দেবদারু বন
নীলিমার হিম থেকে খসে যায় রূপের কিরীট
স্পর্শটুকু নাও আর বাকি সব চুপ
বেলা গেল, শোনোনি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1782 |
892 | জসীম উদ্দীন | সোনার বরণী কন্যা | প্রেমমূলক | সোনার বরণী কন্যা সাজে নানা রঙ্গে,
কালো মেঘ যেন সাজিলরে।
সিনান করিতে কন্যা হেলে দুলে যায়,
নদীর ঘাটেতে এসে ইতি উতি চায়।
বাতাসে উড়িছে শাড়ী, ঘুরাইয়া চোখ,
শাসাইল তারে করি কৃত্রিম রোখ।
হলুদ মাখিয়া কন্যা নামে যমুনায়,
অঙ্গ হলুদ হইয়া জলে ভাইসা যায়।
ডুবাইয়া দেহ জলে থাকে চুপ করে,
জল ছুঁড়ে মারে কভু আকাশের পরে।
খাড়ু জলে নাইমা কন্যা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/750 |
2794 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ঊর্মি, তুমি চঞ্চলা | প্রকৃতিমূলক | ঊর্মি, তুমি চঞ্চলা
নৃত্যদোলায় দাও দোলা,
বাতাস আসে কী উচ্ছ্বাসে—
তরণী হয় পথভোলা। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/urmi-tumi-chonchola/ |
5088 | শামসুর রাহমান | মরুভূমি-বিষয়ক পংক্তিমালা | চিন্তামূলক | মাঝে-মধ্যে স্বপ্নে আমি মরুভূমি দেখি, মরুভূমি
অতিকায় তৃষ্ণার্ত ওষ্ঠের মতো প্রসারিত আমার সত্তায়।
বিদীর্ণ বেহালা, ছিন্ন ভিন্ন বেশভূষা, মর্চে-পড়া
নীল পানপাত্র আর ঘোড়ার করোটি নিয়ে ধুধু বালিয়াড়ি
পড়ে থাকে; পশুরাজ নিঃসঙ্গ রাজার মতো করে বিচরণ-
জ্যোৎস্না তার দু’চোখে, কেশরে।
মরুভূমি ক্রমশ বিস্তৃত হয় স্বপ্নের ভেতরে, কখনো-বা
স্বপ্ন... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/moruvumi-bishoyok-pongktimala/ |
5780 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | জুয়া | চিন্তামূলক | অত্যান্ত ঠান্ডা মাথায় জীবন বদলে নিলাম আমি ও নিখিলেশ,
হাতঘড়ি ও কলম, পকেট বই, রুমাল-
রেডিওতে পাঁচটা বাজলো, আচ্ছা কাল
দেখা হবে,- বিদায় নিলাম,- সন্ধেবেলার রক্তবর্ণ বাতাস ও শেষ
শীতের মধ্যে, একা সিঁড়ি দিয়ে নামবার
সময় মনে পড়লো- ঠিকানা ও টেলিফোন নাম্বার
এসবও বদলানো দরকার, যেমন মুখভঙ্গী ও দুঃখ, হাসির মুহূর্ত
নিখিলেশ ক্রুদ্ধ ও উ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1888 |
5196 | শামসুর রাহমান | লড়ছি সবাই | চিন্তামূলক | মিশমিশে ঘোর অন্ধকারে
কনুই দিয়ে ধাক্কা মারে,
রহিম পড়ে রামের ঘাড়ে,
কেউবা দেখি চুপিসারে
অন্য কারুর জায়গা কাড়ে
পাচ্ছি তা টের হাড়ে হাড়ে।
লাইন থেকে সরছি ক্রমে সরছি।জল খেয়েছি সাতটি ঘাটে,
ফল পেয়েছি বাবুর হাটে,
কিন্তু সে-ফল পোকায় কাটে,
ঘুণ ধরেছে নক্শি খাটে,
কানাকড়ি নেইকো গাঁটে,
চলছি তবু ঠাটে বাটে,
রোজানা ধার করছি শুধুই করছি।পক... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/lorchi-sobai/ |
3250 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দেওয়া নেওয়া | প্রকৃতিমূলক | বাদল দিনের প্রথম কদমফুল
আমায় করেছ দান,
আমি তো দিয়েছি ভরা শ্রাবণের
মেঘমল্লার গান।
সজল ছায়ার অন্ধকারে
ঢাকিয়া তারে
এনেছি সুরে শ্যামল খেতের
প্রথম সোনার ধান।আজ এনে দিলে যাহা
হয়তো দিবে না কাল,
রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল।
স্মৃতিবন্যার উছল প্লাবনে
আমার এ গান শ্রাবণে শ্রাবণে
ফিরিয়া ফিরিয়া বাহিবে তরণী
ভরি তব সম্মান। | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dayua-nayua/ |
1209 | জীবনানন্দ দাশ | শ্মশানের দেশে তুমি আসিয়াছ | সনেট | শ্মশানের দেশে তুমি আসিয়াছ — বহুকাল গেয়ে গেছ গান
সোনালি চিলের মতো উড়ে উড়ে আকাশের রৌদ্র আর মেঘে, —
লক্ষ্মীর বাহন যেই স্নিগ্ধ পাখি আশ্বিনের জ্যোৎস্নার আবেগে
গান গায় — গুনিয়াছি রাখিপূর্ণিমার রাতে তোমার আহ্বান
তার মতো; আম চাঁপা কদমের গাছ থেকে গাহে অফুরান
যেন স্নিগ্ধ ধান ঝরে.. অনন — সবুজ শালি আছে যেন লেগে
বুকে তব; বল্লালের ব... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/shoshaner-deshe-tumi-ashiaso/ |
3869 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শুভক্ষণ | ছড়া | ওগো মা,
রাজার দুলাল যাবে আজি মোর
ঘরের সমুখপথে,
আজি এ প্রভাতে গৃহকাজ লয়ে
রহিব বলো কী মতে।
বলে দে আমায় কী করিব সাজ,
কী ছাঁদে কবরী বেঁধে লব আজ,
পরিব অঙ্গে কেমন ভঙ্গে
কোন্ বরনের বাস।
মা গো, কী হল তোমার, অবাক নয়নে
মুখপানে কেন চাস।
আমি দাঁড়াব যেথায় বাতায়নকোণে
সে চাবে না সেথা জানি তাহা মনে--
ফেলিতে নিমেষ দেখা হবে শ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shuvokkhon/ |
4066 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হেলাভরে ধুলার _পরে | রূপক | হেলাভরে ধুলার 'পরে
ছড়াই কথাগুলো।
পায়ের তলে পলে পলে
গুঁড়িয়ে সে হয় ধুলো। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/helavore-dhular-pore/ |
5184 | শামসুর রাহমান | রাজনীতি | সনেট | রাজনীতি আজকাল ধূর্ত, খল, ভ্রষ্ট, নীতিহীন
অতিশয়; রাজনীতি বড়োই কর্কশ, মিথ্যা বুলি
প্রায়শই সহিংসতা, মানুষের চোখে কড়া ঠুলি
পরিয়ে ঘোরানো, উপহার দেয়া ছলনার দিন।
রাজনীতি এমনকি সুন্দরীর মুখকেও খুব
কঠিন বিকৃত করে তোলে নিমেষে এবং চোখে
মুখে তার জ্বেলে দেয় চৈত্রদাহ, তখন ত্রিলোকে
প্রেমিক অনুপস্থিত, জলাশয়ে প্রেমও দেয় ডুব!তবুও বিবর্ণ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/rajniti/ |
1240 | জীবনানন্দ দাশ | সূর্য নক্ষত্র নারী (২)-বেলা অবেলা কালবেলা - | প্রেমমূলক | চারিদিকে সৃজনের অন্ধকার র’য়ে গেছে, নারী,
অবতীর্ণ শরীরের অনুভূতি ছাড়া আরো ভালো
কোথাও দ্বিতীয় সূর্য নেই, যা জ্বালালে
তোমার শরীর সব অলোকিত ক’রে দিয়ে স্পষ্ট ক’রে দেবে কোনো কালে
শরীর যা র’য়ে গেছে।
এই সব ঐশী কাল ভেঙে ফেলে দিয়ে | https://banglapoems.wordpress.com/2012/10/11/%e0%a6%b8%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a7%a8-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be/ |
2290 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | আশ্বিন মাস | সনেট | সু-শ্যামাঙ্গ বঙ্গ এবে মহাব্রতে রত।
এসেছেন ফিরে উমা, বৎসরের পরে,
মহিষমৰ্দ্দিনীরূপে ভকতের ঘরে;
বামে কমকায়া রমা, দক্ষিণে আয়ত-
লোচনা বচনেশ্বরী, স্বর্ণবীণা করে;
শিখীপৃষ্ঠে শিখীধ্বজ, যাঁর শরে হত
তারক—অসুরশ্রেষ্ঠ; গণ-দল যত,
তার পতি গণদেব, রাঙা কলেবরে
করি-শিরঃ; —আদিব্রহ্ম বেদের বচনে ।
এক পদ্মে শতদল৷ শত রূপবতী—
নক্ষত্রমণ্ডলী ... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/aswin-mas/ |
2741 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আয় রে বসন্ত | প্রকৃতিমূলক | আয় রে বসন্ত, হেথা
কুসুমের সুষমা জাগা রে
শান্তিস্নিগ্ধ মুকুলের
হৃদয়ের গোপন আগারে।
ফলেরে আনিবে ডেকে
সেই লিপি যাস রেখে,
সুবর্ণের তুলিখানি
পর্ণে পর্ণে যতনে লাগা রে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ai-re-bosonto/ |
276 | কাজী নজরুল ইসলাম | কুহেলিকা | চিন্তামূলক | নিত্য কথায় কুহেলিকায় আড়াল করি আপনারে।
সবাই যখন মত্ত হেথায় পান ক’রে মোর সুরের সুরা
সব-চেয়ে মোর আপন যে জন স-ই কাঁদে গো তৃষ্ণাতুরা।
আমার বাদল-মেঘের জলে ভর্ল নদী সপ্ত পাথার,
ফটিক-জলের কণ্ঠে কাঁদে তৃপ্তি-হারা সেই হাহাকার!
হায় রে, চাঁদের জ্যোৎস্না-ধারায় তন্দ্রাহারা বিশ্ব-নিখিল,
কলঙ্ক তার নেয় না গো কেউ, রইল জু’ড়ে চাঁদেরি দিল... | https://banglarkobita.com/poem/famous/819 |
1036 | জীবনানন্দ দাশ | জীবনে অনেক দূর | চিন্তামূলক | জীবনে অনেক দূর সময় কাটিয়ে দিয়ে- তারপর তবু
চলার কিছুটা আরো পথ আছে টের পাই;-
সুমুখে বিস্ময়;-
দেখেছি সূর্যের আলো মাঝে মাঝে জলের কম্পন;
আশ্বিনের ঘন নীল আশ্চর্য আকাশে
দেখেছি আরোহী হাঁস বাষ্পের ভিতর থেকে আসে
হংসীর অনিমেষ দেহ লক্ষ্য ক’রে,
মিশে যায় খুব স্বচ্ছ আলোর ভিতরে।
কোথায় ফুরিয়ে যায় তারা সব- থেকে সফল।
অগ্নির উৎসের মতো সৃষ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/jiboney-onek-dur/ |
1230 | জীবনানন্দ দাশ | সিন্ধুসারস | প্রকৃতিমূলক | দু-এক মুহূর্তে শুধু রৌদ্রের সিন্ধুর কোলে তুমি আর আমি
হে সিন্ধুসারস,
মালাবার পাহাড়ের কোল ছেড়ে অতি দূর তরঙ্গের জানালায় নামি
নাচিতেছে টারান্টেলা- রহস্যের; আমি এই সমুদ্রের পারে চুপে থামি
চেয়ে দেখি বরফের মতো শাদা ডানা দু’টি আকাশের গায়
ধবল ফেনার মতো নেচে উঠে পৃথিবীরে আনন্দ জানায়।
মুছে যায় পাহাড়ের শিঙে-শিঙে গৃধিনীর অন্ধকার গ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/sindhu-sarosh/ |
1009 | জীবনানন্দ দাশ | গুবরে ফড়িং শুধু উড়ে যায় আজ | প্রেমমূলক | গুবরে ফড়িং শুধু উড়ে যায় আজ এই সন্ধ্যার বাতাসে,
খড়কুটা ঝড়ে শুধু শাইকের মুখ থেকে চুপে।
আবার শালিখা, সেই খড়গুনো কুড়ায় নিশ্চুপে।
সন্ধ্যার লাল শিরা মৃদু চোখে ঘরে ফিরে আসে
ঘুঘুর নরম ডাকে—নীরব আকাশে
নক্ষত্রেরা শান্তি পায়—পউষের কুয়াশায় ধূপে
পুঁয়ের সবুজ রাঙা লতা আছে ডুবে।
এ কোমল স্নিগ্ধ হিম সান্ত্বনার মাসে
চোখে তার শান্তি শুধু—... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/gubrey-foring-shudhu-urey-jai-aaj/ |
3829 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রাহুর মতন মৃত্যু | চিন্তামূলক | রাহুর মতন মৃত্যু
শুধু ফেলে ছায়া,
পারে না করিতে গ্রাস জীবনের স্বর্গীয় অমৃত
জড়ের কবলে
এ কথা নিশ্চিত মনে জানি।
প্রেমের অসীম মূল্য
সম্পূর্ণ বঞ্চনা করি লবে
হেন দস্যু নাই গুপ্ত
নিখিলের গুহা-গহ্বরেতে
এ কথা নিশ্চিত মনে জানি।
সব-চেয়ে সত্য ক’রে পেয়েছিনু যারে
সব-চেয়ে মিথ্যা ছিল তারি মাঝে ছদ্মবেশ ধরি,
অস্তিত্বের এ কলঙ্ক কভু
... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/rahur-moton-mrittyu/ |
2533 | যতীন্দ্রমোহন বাগচী | কর্ম | চিন্তামূলক | শক্তি মায়ের ভৃত্য মোরা- নিত্য খাটি নিত্য খাই,
শক্ত বাহু, শক্ত চরণ, চিত্তে সাহস সর্বদাই।
ক্ষুদ্র হউক, তুচ্ছ হউক, সর্ব সরম-শঙ্কাহীন---
কর্ম মোদের ধর্ম বলি কর্ম করি রাত্রি দিন।
চৌদ্দ পুরুষ নিঃস্ব মোদের - বিন্দু তাহে লজ্জা নাই,
কর্ম মোদের রক্ষা করে অর্ঘ্য সঁপি কর্মে তাই।
সাধ্য যেমন - শক্তি যেমন - তেমনি অটল চেষ্টাতে--
দুঃখ... | https://www.bangla-kobita.com/jatindramohan/kormoo/ |
1059 | জীবনানন্দ দাশ | দীপ্তি | প্রেমমূলক | তোমার নিকট থেকে
যত দূর দেশে
আমি চলে যাই
তত ভালো।
সময় কেবলই নিজ নিয়মের মতো- তবু কেউ
সময়স্রোতের ‘পরে সাঁকো
বেঁধে দিতে চায়;
ভেঙ্গে যায়;
যত ভাঙ্গে তত ভালো।
যত স্রোত বয়ে যায়
সময়ের
সময়ের মতন নদীর
জলসিঁড়ি, নীপার, ওডার, রাইন, রেবা, কাবেরীর
তুমি তত বহে যাও,
আমি তত বহে চলি,
তবুও কেহই কারু নয়।
আমরা জীবন তবু।
তোমার জীবন নিয়ে তুমি
... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/diptii/ |
4499 | শামসুর রাহমান | একশ চার ডিগ্রী জ্বর | রূপক | কে যেন আমাকে মাছে মত তেল ছাড়াই
ভাজছে ভাজছে ভাজছে হঠাৎ
কামারের হাপরের নিচে জ্বলজ্বলে পেটা লোহার কথা
মনে পড়ল আমার
এখন আমি বলা যেতে পারে টগবগে
আগ্নেয়গিরির তাপে ভয়াবহভাবে
ঝলসানো আদিম গুহামানবের মত
আমার ভেতর সেদ্ধ হচ্ছে কিছু বনমুরগী আর রাজহাঁসআমি আমার ভেতর থেকে বেরিয়ে
প্রবেশ করেছি এক তন্দুরে
অঙ্গারগুলো তুতেন খামেনের মণিরত্ন... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/eksho-char-digree-jor/ |
282 | কাজী নজরুল ইসলাম | খালেদ | ছড়া | খালেদ! খালেদ! শুনিতেছে নাকি সাহারার আহা-জারি?
কত ‘ওয়েসিস’ রচিল তাহার মরু-নয়নের বারি।
মরীচিকা তার সন্ধানী-আলো দিকে দিকে ফেরে খুঁজি
কোন নিরালায় ক্লান্ত সেনানী ডেরা গাড়িয়াছ বুঝি!
বালু-বোররাকে সওয়ার হইয়া ডাক দিয়া ফেরে ‘লু’,
তব তরে হায়! পথে রেখে যায় মৃগীরা মেশক-বু!
খর্জুর-বীথি আজিও ওড়ায় তোমার জয়ধ্বজা,
তোমার আশায় বেদুইন-বালা... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/khaled/ |
1044 | জীবনানন্দ দাশ | তার স্থির প্রেমিকের নিকট | প্রেমমূলক | বেঁচে থেকে কোনো লাভ নেই,- -আমি বলিনাতো।
কারো লাভ আছে;– সকলেরই;– হয়তো বা ঢের।
ভাদ্রের জ্বলন্ত রৌদ্রে তবু আমি দূরতর সমুদ্রের জলে
পেয়েছি ধবল শব্দ– বাতাসতাড়িত পাখিদের।মোমের প্রদীপ বড়ো ধীরে জ্ব’লে– ধীরে জ্বলে আমার টেবিলে;
মনীষার বইগুলো আরো স্থির,– শান্ত,– আরাধনাশীল;
তবু তুমি রাস্তার বার হ’লে,- ঘরেরও কিনারে ব’সে টের পাবে নাক... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/tar-sthir-premiker-nikot/ |
1317 | তসলিমা নাসরিন | কাঁপন ১৭ | প্রেমমূলক | শরীরের এই হাল, শরীরে গ্রীষ্মকাল!
স্নানের জল আছে? ও যুবক জল আছে তো!
তোর একার জলে না হলে? যুবকের দল কাছে তো! | https://banglarkobita.com/poem/famous/1987 |
969 | জীবনানন্দ দাশ | একদিন জলসিড়ি নদীর ধারে | সনেট | একদিন জলসিড়ি নদীটির পারে এই বাংলার মাঠে
বিশীর্ন বটের নীচে শুয়ে রব- পশমের মত লাল ফল
ঝরিবে বিজন ঘাসে-বাঁকা চাঁদ জেগে রবে- নদীটির জল
বাঙ্গালি মেয়ের মত বিশালাক্ষী মন্দিরের ধূসর কপাটে
আঘাত করিয়া যাবে ভয়ে ভয়ে-তারপর যেই ভাঙ্গা ঘাটে
রূপসীরা আজ আর আসে নাকো,পাট শুধু পচে অবিরল,
সেইখানে কলমির দামে বেধে প্রেতনীর মত কেবল
কাঁদিবে সে ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ekdin-jolshiri-nodir-dharey/ |
2382 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | রামায়ণ | সনেট | সাধিনু নিদ্রায় বৃথা সুন্দর সিংহলে।—
স্মৃতি, পিতা বাল্মীকির বৃদ্ধ-রূপ ধরি,
বসিলা শিয়রে মোর ; হাতে বীণা করি,
গাইলা সে মহাগীত, যাহে হিয়া জ্বলে,
যাহে আজু আঁখি হতে অশ্রু-বিন্দু গলে !
কে সে মূঢ় ভূভারতে, বৈদেহি সুন্দরি,
নাদি আর্দ্রে মনঃ যার তব কথা স্মরি,
নিত্য-কান্তি কমলিনী তুমি ভক্তি-জলে!
দিব্য চক্ষুঃ দিলা গুরু;দেখিনু সু... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/ramayon/ |
4838 | শামসুর রাহমান | দুঃখ | চিন্তামূলক | আমাদের বারান্দায় ঘরের চৌকাঠে
কড়িকাঠে চেয়ারে টেবিলে আর খাটে
দুঃখ তার লেখে নাম। ছাদের কার্নিশ, খড়খড়ি
ফ্রেমের বার্নিশ আর মেঝের ধুলোয়
দুঃখ তার আঁকে চকখড়ি
এবং বুলোয়
তুলি বাঁশি-বাজা আমাদের এই নাটে।আমাদের একরত্তি উঠোনের কোণে
উড়ে-আসা চৈত্রের পাতায়
পাণ্ডুলিপি বই ছেঁড়া মলিন খাতায়
গ্রীষ্মের দুপুরে ঢক্ঢক্
জল-খাওয়া কুঁজোয় গেলাশে,... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/dukkho/ |
1940 | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | আকবর শাহের খোষ রোজ | গীতিগাথা | ১
রাজপুরী মাঝে কি সুন্দর আজি।
বসেছে বাজার, রসের ঠাট,
রমণীতে বেচে রমণীতে কিনে
লেগেছে রমণীরূপের হাট ||
বিশালা সে পুরী নবমীর চাঁদ,
লাখে লাখে দীপ উজলি জ্বলে।
দোকানে দোকানে কুলবালাগণে
খরিদদার ডাকে, হাসিয়া ছলে ||
ফুলের তোরণ, ফুল আবরণ
ফুলের স্তম্ভেতে ফুলের মালা।
ফুলের দোকান, ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/927 |
5275 | শামসুর রাহমান | সাবান | রূপক | পাড়ার দোকান থেকে একটি সাবান কিনে এনে
রেখে দিলো নিজের দেরাজে। মোড়কের ভাঁজ খুলে
প্রায়শই ঘ্রাণ নেয়, আবার গচ্ছিত রাখে স্মিত
হেসে যথাস্থানে, সেই ঘ্রাণ তাকে ন্যালক্ষ্যাপা করে
বারংবার, নিয়ে যায় সময়ের অন্য পারে। কার
গায়ে একরম ঘ্রাণ ছিলো? গোসলের পর খোলা,
ঈষৎ ফাঁপানো চুলে যে আসতো নিঃশব্দে দ্বিপ্রহরে,
তার গায়ে? কখনও-সখনও সোনারুর ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/saban/ |
1275 | জীবনানন্দ দাশ | হায় চিল | প্রেমমূলক | হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!
তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে।
পৃথিবীর রাঙ্গা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?
কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভি... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/hay-chil/ |
620 | জয় গোস্বামী | আমরা | চিন্তামূলক | গাছেদের নাম গাছ
ধুলোদের নাম ধুলো
নদীদের নাম বলতে পারবে গ্রামবাসীরা
কিন্তু ঘরের নাম ঘর দাওয়ার নাম দাওয়া
দাওয়ার ধারে মেয়েটির নাম কী?
তা জানতে হলে তোমাকে নৌকো বাইতে হবে
গুন টানতে হবে
কাঠ কাটতে যেতে হবে বনে
ডাকাতের হাতে পড়তে হবে
বেড়া ডিঙিয়ে পৌঁছতে হবে দাওয়ায়
দাওয়া ডিঙিয়ে ঘরে
ঘরের মধ্যে সে যখন আঁকড়ে নেবে তোমায়
তার ঘূর্ণির ম... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b-%e0%a6%85%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8/ |
4399 | শামসুর রাহমান | আমি কোথায় এসে পড়েছি | রূপক | আমার জীবন কখন যে আচমকা
মুছে যাবে, জানা নেই। হোক না যখনই,
দৈবক্রমে যদি দুনিয়ায় ফিরে আসি
হাজার বছর পর শ্যামলীতে, তখন কি খুঁজে
পাবো এই আমার নিজের বাড়িটিকে? কিছুতেই
পড়বে না দৃষ্টিতে বিনীত সেই বাড়ি। বহুতল
শৌখিন মহল কোনও করবে বিরাজ সেই স্থানে। হয়তো-বা
আগেকার চেনা জায়গাটা, মাথা কুটে মরলেও, চিনবো না।আমার নিজের বংশধর কেউ চিনে ন... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ami-kothai-ese-porechi/ |
1743 | পূর্ণেন্দু পত্রী | অতিক্রম করে যাওয়া | প্রেমমূলক | অতিক্রম করে যাওয়া শিল্পের নিয়ম
ঘুটের ছাপের মতো
ক্ষতচিহ্নে ছেয়ে গেছে জীবন, সময়
রক্তের জানালা ভেঙে
তবু সূর্যকরোজ্জাল বাঁশি ডেকে যায়
ঝড়ের রাতের অভিসারে।
অতিক্রম করে যাওয়া
জীবনেরও নিশ্চিত নিয়ম।
পাহাড়ের চুড়োগুলো অতিক্রম করে গেছে
মেঘ।
কোনার্ক-রথের চাকা
বিংশ শতাব্দীর সীমা অতিক্রম করে চলে যায়
আরো দূর শতাব্দীর কাছে।
তুমি খুব ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1268 |
1391 | তারাপদ রায় | দিন আনি, দিন খাই | মানবতাবাদী | আমরা যারা দিন আনি, দিন খাই,
আমরা যারা হাজার হাজার দিন খেয়ে ফেলেছি,
বৃষ্টির দিন, মেঘলা দিন, কুয়াশা ঘেরা দিন,
স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অধীর প্রতীক্ষারত দিন,
অপমানে মাথা নিচু করে চোরের মত চলে যাওয়া দিন,
খালি পেট, ছেঁড়া চটি, ঘামে ভেজা দিন,
নীল পাহাড়ের ওপারে, সবুজ বনের মাথায় দিন,
নদীর জলের আয়নায়, বড় সাহেবের ফুলের বাগানে দিন,
হ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3894.html |
4935 | শামসুর রাহমান | পূর্বরাগ | প্রেমমূলক | জেনেছি কাকে চাই, কে এলে চোখে ফোটে
নিমেষে শরতের খুশির জ্যোতিকণা;
কাঁপি না ভয়ে আর দ্বিধার নেই দোলা
এবার তবে রাতে হাজার দীপ জ্বেলে
সাজাবো তার পথ যদি সে হেঁটে আসে।
যদি সে হেঁটে আসে, প্রাণের ছায়াপথ
ফুলের মতো ফুটে তারার মতো ফুটে
জ্বলবে সারারাত, ঝরবে সারারাত।
জেনেছি কাকে চাই, বলি না তার নাম
ভিড়ের ত্রিসীমায়; স্বপ্ন-ধ্বনি শ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/purborag/ |
1580 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | ঘাটশিলা থেকে গয়েরকাটা | মানবতাবাদী | ঘাটশিলার কাছে
এন. এইচ. সিক্সের কুচকুচে কালো পিঠের উপর থেকে তার
দিনভর-রোদ্দুর-খেয়ে-গরম-হয়ে-ওঠা
শস্যের
শেষ কয়েকটি দানাকে খুব যত্নভরে
খুঁটে তুলতে-তুলতে
সাড়ে পাঁচ কাঠা জমির মালিক এক চাষি আমাকে বলেছিল,
হাইওয়ে হয়ে ইস্তক
এই তাদের একটা মস্ত উপকার হয়েছে যে,
রাস্তার উপরেই
দিব্যি এখন ধান শুনোনো যায়।
সূর্যদেব তখন
সারা আকাশে তার ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1542 |
1656 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | ভরদুপুরে | প্রকৃতিমূলক | হরেক রাস্তা ঘুরতে-ঘুরতে
ভরদুপুরে পুড়তে-পুড়তে
কোথার থেকে কোথায় যাওয়া।
আকাশ থেকে জলের ঝাড়ি
হয়নি উপুড়, গুমোট ভারী,
কোত্থাও নেই কিচ্ছু হাওয়া।
এই, তোরা সব চুপ কেন রে?
আয় না হাসিঠাট্টা করে
পথের কষ্ট খানিক ভুলি।
কেউ হাসে না। ভরদুপুরে
আমরা দেখি আকাশ জুড়ে
উড়ছে সাদা পায়রাগুলি। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1537 |
3569 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিচিত্র সাধ | ছড়া | আমি যখন পাঠশালাতে যাই
আমাদের এই বাড়ির গলি দিয়ে,
দশটা বেলায় রোজ দেখতে পাই
ফেরিওলা যাচ্ছে ফেরি নিয়ে।
‘চুড়ি চা— ই, চুড়ি চাই' সে হাঁকে,
চীনের পুতুল ঝুড়িতে তার থাকে,
যায় সে চলে যে পথে তার খুশি,
যখন খুশি খায় সে বাড়ি গিয়ে।
দশটা বাজে, সাড়ে দশটা বাজে,
নাইকো তাড়া হয় বা পাছে দেরি।
ইচ্ছে করে সেলেট ফেলে দিয়ে
অম্নি করে বেড়াই নিয়ে ফ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bichitro-sadh/ |
2353 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | বর্ষাকাল | প্রকৃতিমূলক | গভীর গর্জ্জন সদা করে জলধর,
উথলিল নদনদী ধরণী উপর ।
রমণী রমণ লয়ে, সুখে কেলি করে,
দানবাদি দেব, যক্ষ সুখিত অন্তরে।
সমীরণ ঘন ঘন ঝন ঝন রব,
বরুণ প্রবল দেখি প্রবল প্রভাব ।
স্বাধীন হইয়া পাছে পরাধীন হয়,
কলহ করয়ে কোন মতে শান্ত নয়।। | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/borshakal/ |
2213 | মহাদেব সাহা | বাউল | প্রেমমূলক | ভালোবাসা যদি এ-রকমই হয় রক্তমাংস, কাম
লালনেও মিছে লজ্জা পাবো কি, সঙ্কোচে লিখি নাম?
মানুষ লিখেই কতোবার কাটি, মানুষের বেশি নই
কামে-প্রেমে তাই এতো ভার বহি, এমন যাতনা সই!
মানুষে যদি বা মাহাত্ম্য নেই পাষাণেই দেখা হবে
তোমাতে আমাতে আজকাল বাদে এটুকু তো সম্ভবে।
প্রেমের মূল্যে আমাকে ছেড়েছো ঘৃণার মূল্যে দিও
তুমিও জানো না আমিও জানি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1374 |
6034 | হেলাল হাফিজ | তুমি ডাক দিলে | প্রেমমূলক | একবার ডাক দিয়ে দেখো আমি কতোটা কাঙাল,
কতো হুলুস্থূল অনটন আজম্ন ভেতরে আমার।
তুমি ডাক দিলে
নষ্ঠ কষ্ঠ সব নিমিষেই ঝেড়ে মুছে
শব্দের অধিক দ্রুত গতিতে পৌছুবো
পরিণত প্রণয়ের উৎসমূল ছোঁব
পথে এতোটুকু দেরিও করবো না।
তুমি ডাক দিলে
সীমাহীন খাঁ খাঁ নিয়ে মরোদ্যান হবো,
তুমি রাজি হলে
যুগল আহলাদে এক মনোরম আশ্রম বানাবো।
একবার আমন্র... | https://banglarkobita.com/poem/famous/107 |
3179 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তোমার সঙ্গে আমার মিলন | প্রেমমূলক | তোমার সঙ্গে আমার মিলন
বাধল কাছেই এসে।
তাকিয়ে ছিলেম আসন মেলে—
অনেক দূরের থেকে এলে,
আঙিনাতে বাড়িয়ে চরণ
ফিরলে কঠিন হেসে—
তীরের হাওয়ায় তরী উধাও
পারের নিরুদ্দেশে। | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/tomar-songge-amar-milon/ |
3193 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দাঁয়েদের গিন্নিটি | ছড়া | দাঁয়েদের গিন্নিটি
কিপ্টে সে অতিশয়,
পান থেকে চুন গেলে
কিছুতে না ক্ষতি সয়।
কাঁচকলা-খোষা দিয়ে
পচা মহুয়ার ঘিয়ে
ছেঁচকি বানিয়ে আনে–
সে কেবল পতি সয়;
একটু করলে “উহুঁ’
যদি এক রতি সয়! (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dayeder-ginniti/ |
1308 | তসলিমা নাসরিন | এমন ভেঙ্গে চুরে ভালো কেউ বাসেনি আগে | প্রেমমূলক | কী হচ্ছে আমার এসব!
যেন তুমি ছাড়া জগতে কোনও মানুষ নেই, কোনও কবি নেই, কোনও পুরুষ নেই, কোনও
প্রেমিক নেই, কোনও হৃদয় নেই!
আমার বুঝি খুব মন বসছে সংসারকাজে?
বুঝি মন বসছে লেখায় পড়ায়?
আমার বুঝি ইচ্ছে হচ্ছে হাজারটা পড়ে থাকা কাজগুলোর দিকে তাকাতে?
সভা সমিতিতে যেতে?
অনেক হয়েছে ওসব, এবার অন্য কিছু হোক,
অন্য কিছুতে মন পড়ে থাক, অন্য ক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1982 |
576 | কায়কোবাদ | বিদায়ের শেষ চুম্বন | প্রেমমূলক | ( ১ )
আবার, আবার সেই বিদায়-চুম্বন,
আলেয়ার আলো প্রায়,
আঁধারে ডুবায়ে যায়,
স্মৃতিটি রাখিয়া হায় করিতে দাহন!( ২ )
বিদায়-চুম্বন,
উভয়েরি প্রাণে করে অগ্নি বরিষণ,
উভয়ে উভয় তরে,
আকুলি ব্যাকুলি করে,
উভয়েরি হৃদিস্তরে যাতনা-ভীষণ!
এমনি কঠোর হায় বিদায়-চুম্বন!( ৩ )
প্রণয়ের মধুমাখা প্রথম চুম্বনে,
শুধু সুখ সমুল্লাস ;
এতে ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3844.html |
2361 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | ভাষা | সনেট | মূঢ় সে, পণ্ডিতগণে তাহে নাহি গণি,
কহে যে, রূপসী তুমি নহ, লো সুন্দরি
ভাষা!—শত ধিক্ তারে! ভুলে সে কি করি,
শকুন্তলা তুমি, তব মেনকা জননী ?
রূপ-হীনা দুহিতা কি, মা যার অপ্সরী ?—
বীণার রসনা-মূলে জন্মে কি কুধ্বনি ?
কবে মন্দ-গন্ধ শ্বাস শ্বাসে ফুলেশ্বরী
নলিনী ? সীতারে গর্ভে ধরিলা ধরণী ।
দেব-যোনি মা তোমার ; কাল নাহি নাশে
রূপ তাঁর... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/bhasha/ |
1281 | জীবনানন্দ দাশ | হেমন্ত | প্রকৃতিমূলক | আজ রাতে মনে হয়
সব কর্মক্লান্তি অবশেষে কোনো এক অর্থ শুষে গেছে।
আমাদের সব পাপ- যদি জীব কোনো পাপ ক’রে থাকে পরস্পর
কিংবা দূর নক্ষত্র গুল্ম, গ্যাস, জীবানুর কাছে-
হিয়েছে ক্ষয়িত হয়ে।
বৃত্ত যেন শুদ্ধতায় নিরুত্তর কেন্দ্রে ফিরে এল
এই শান্ত অঘ্রাণের রাতে।
যতদূর চোখ যায় বিকোশিত প্রান্তরের কুয়াশায় ব্যাস
শাদা চাদরের মত কুয়াশার নিচে ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/haymento/ |
5849 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | যদি | স্বদেশমূলক | যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো ।
বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ
নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ
প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ-
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভুমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো ।
ধানক্ষেতে চাপ চাপ রক্ত
এইখানে ঝরেছিল মানুষের ঘাম
এখনো স্নানের আগে কেউ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%af%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%93-sunil-gangopadhay/ |
5016 | শামসুর রাহমান | বামনের দেশে | মানবতাবাদী | মেঘম্লান চন্দ্রালোকে ক’জন বামন শুদ্ধাচারী
যাজকের জোব্বা গায়ে মহত্তম যুগের স্মরণে
জুটেছে রাস্তার মোড়ে। “দ্যাখো এই পৃথিবীকে দ্যাখো,
আমাদের কীর্তিমান অগ্রজেরা জোগালেন যাকে
স্মরণীয় দিনের মহিমা, যাকে নাটকের শেষ
দৃশ্যের বিক্ষুব্ধ নায়কের মতো শোকে ত্যাগ করে
কালান্তরে করলেন নিঃশব্দে প্রস্থান, তাকে নোঃরা
করেছে অজস্র জন্তু, পবিত্... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/bamoner-deshe/ |
1994 | বিষ্ণু দে | মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন | মানবতাবাদী | তোমাদেরও মনে হয়, মনে হয় তোমারও প্রত্যেকে লেনিন ?
লাজুক সুকান্ত ওই কথাটাই বলেছিল কৈশোর সংরাগে বহুদিন আগে –
সহজ কিশোর বিনম্র কবি বাংলায় তার কথা শতবর্ষে জাগে |
কারণ লেনিন নন দেবতা বা পুরাণ-নায়ক, তিনি একালের বীর,
স্থির ধীর, ভাবুক, আত্মস্থ, নেতা, মানবিক ; নিজেকে জাহির
কখনোই করেননি ; এমনকি কোন্ এক সভাঘরে স্বয়ং লেনিন
লেনিনিস্... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4102.html |
2640 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আইডিয়াল নিয়ে থাকে | ছড়া | আইডিয়াল নিয়ে থাকে, নাহি চড়ে হাঁড়ি।
প্রাক্টিক্যাল লোকে বলে, এ যে বাড়াবাড়ি।
শিবনেত্র হল বুঝি, এইবার মোলো–
অক্সিজেন নাকে দিয়ে চাঙ্গা ক’রে তোলো। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/aidial-nie-thake/ |
270 | কাজী নজরুল ইসলাম | কাণ্ডারী হুশিয়ার! | মানবতাবাদী | ১
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!!
২
তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/827 |
630 | জয় গোস্বামী | ঈশ্বর | প্রেমমূলক | — ‘সে যদি তোমাকে অগ্নিতে ফেলে মারে?’
বিনা চেষ্টায় মরে যাব একেবারে— ‘সে যদি তোমাকে মেঘে দেয় উত্থান?’
বৃষ্টিতে, আমি বৃষ্টিতে খানখান— ‘সে যদি তোমাকে পিষে করে ধুলোবালি?’
পথ থেকে পথে উড়ে উড়ে যাব খালি— ‘উড়বে?– আচ্ছা, ছিঁড়ে দেয় যদি পাখা?’
পড়তে পড়তে ধরে নেব ওর শাখা— ‘যদি শাখা থেকে নীচে ফেলে দেয় তোকে?’
কী আর করব? জড়িয়ে ধরব ওকেই... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%88%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa/#comments |
4491 | শামসুর রাহমান | একটি মুক্তো | প্রেমমূলক | “একটি স্বপ্নের পথে হেঁটে গিয়েছি সমুদ্রতীরে”,
বলে তুমি দিয়েছিলে স্বপ্নটির নিখুঁত বর্ণনা।
কী যে নাম সমুদ্রের ছিল না তোমার জানা, শুধু
ঝাউবীথি, গোধূলি, ক’জন ভদ্রলোক ছিল চেনা।একটি ঝিনুক তুমি দিলে বাড়িয়ে সবার হাতে
একে একে, হতশ্রী ঝিনুকটিকে ওরা দূরে ছুঁড়ে
ফেলে দিলো অবহেলে। সযত্নে কুড়িয়ে নিয়ে তার
বুক চিরে বের করি একটি অনিন্দ্য... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ekti-mukto/ |
3082 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জয়ধ্বনি | চিন্তামূলক | যাবার সময় হলে জীবনের সব কথা সেরে
শেষবাক্যে জয়ধ্বনি দিয়ে যাব মোর অদৃষ্টেরে।
বলে যাব, পরমক্ষণের আশীর্বাদ
বারবার আনিয়াছে বিস্ময়ের অপূর্ব আস্বাদ।
যাহা রুগ্ন, যাহা ভগ্ন, যাহা মগ্ন পঙ্কস্তরতলে
আত্মপ্রবঞ্চনাছলে
তাহারে করি না অস্বীকার।
বলি, বারবার
পতন হয়েছে যাত্রাপথে
ভগ্ন মনোরথে;
বারে বারে পাপ
ললাটে লেপিয়া গেছে কলঙ্কের ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jaydane/ |
3467 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রেমের আদিম জ্যোতি আকাশে সঞ্চরে | ভক্তিমূলক | প্রেমের আদিম জ্যোতি আকাশে সঞ্চরে
শুভ্রতম তেজে,
পৃথিবীতে নামে সেই নানা রূপে রূপে
নানা বর্ণে সেজে।
(স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/premer-adim-jyoti-akashe-sonchore/ |
5290 | শামসুর রাহমান | সে কোন সুদূরে | চিন্তামূলক | কোনো কোনো ভোর কীভাবে যে শুরু হয়!
লগ কেবিনের বাইরে এলেই পর্বতমালা,
শুভ্র পাগড়ি-পরা কতিপয় সান্ত্রীর মতো
নিথর দাঁড়ানো। তুষারবন্দি হ্রদের সীমানা
পেরিয়ে সহসা ভেসে আসে দূর পর্বতী নিঃশ্বাস।
আমাকে জড়ায় সে কোন সুদূর মরুবাসিনী ছায়া!কাঠবিড়ালিটা কেবিনের দোরে মৃদু ছুটে আসে,
ভিনদেশী এক মানুষের দিকে কেমন তাকায়
আবার পালায়। মনে পড়ে দূর... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/se-kon-sudure/ |
4024 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হায় গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কে বা | প্রেমমূলক | “হায় গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কে বা
ওগো তপন তোমার স্বপন দেখি যে,করিতে পারি নে সেবা।’
শিশির কহিল কাঁদিয়া,
“তোমারে রাখি যে বাঁধিয়া
হে রবি,এমন নাহিকো আমার বল।
তোমা বিনা তাই ক্ষুদ্র জীবন কেবলি অশ্রুজল।’“আমি বিপুল কিরণে ভুবন করি যে আলো,
তবু শিশিরটুকুরে ধরা দিতে পারি
বাসিতে পারি যে ভালো।’
শিশিরের বুকে আসিয়া
কহিল তপন হাসিয়া,
“ছ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/hai-gogon-nohile-tomare-dhoribe-ke-ba/ |
2047 | মহাদেব সাহা | অসুস্থতা আমার নির্জন শিল্প | চিন্তামূলক | অসুস্থতা আমার নির্জন শিল্প, আমি তাকে
দুঃখভরা নকশীকাঁথার মতো আমার শরীরে
করেছি সেলাই,
বড়োই যাতনাময় তবু তার নিবিড় সান্নিধ্যে থেকে আমি
বুঝেছি কেমন এই প্রবাহিত তোমাদের অটুট জীবন
চারধারে, কেমন সুস্থতা
তার মাঝে ক্রমাগত অন্তঃসারশূন্যতার কী গভীর ধস ও ফাটল!
অসুস্থতা আমার নির্জন শিল্প তার কাছে থেকেই তো আমি
প্রথম শিখেছি তোমার মুখে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1514 |
4759 | শামসুর রাহমান | তট ভাঙার জেদ | মানবতাবাদী | বলতে ভাল লাগে, আমার পূর্বপুরুষগণ
মেঘনা নদীর তীরবর্তী পাড়াতলী গাঁয়ের
বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের ছোট বড় কুঁড়ে ঘর
এখন নিশ্চিহ্ন, কিন্তু পুকুর আর পাকা মসজিদটি
আজ অব্দি রয়ে গেছে সগৌরবে। আমার
পিতার সৃষ্ট একটি দালান আর ইশকুল এখনও
দাঁড়ানো মাথা উঁচু করে। দু’তিন বছর অন্তর
আমরা একবার যাই পূর্বপুরুষদের স্মৃতির মঞ্জিলে।দাদাজান, নানাজান... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tot-vangar-jed/ |
2114 | মহাদেব সাহা | কবি ও কৃষ্ণচুড়া | প্রেমমূলক | চৈত্রে হয়তো ফোটেনি কৃষ্ণচুড়া
তাতে ক্ষতি নেই; তোমার ঠোঁটেই দেখি
এসেছে আবার কৃষ্ণচুড়ার ঋতু
তুমি আছে তাই অভাব বুঝিনি তার;
না হলে চৈত্রে কোথায়ইবা পাবো বলো
কৃষ্ণচুড়ার অযাচিত উপহার,
বর্ষায় সেই ফুটবে কদম ফুল
তোমার খোঁপায় চৈত্রেই আনাগোনা।
তাই সন্দেহে চোখ মেলে কেউ কেউ
তাকায় কোথায় ফুটেছে কৃষ্ণচুড়া,
কেউ খোঁজে এই নিরিবিলি ফুলদানি;... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1369 |
28 | অমিয় চক্রবর্তী | বড়োবাবুর কাছে নিবেদন | চিন্তামূলক | তালিকা প্রস্তুত
কী কী কেড়ে নিতে পারবে না-
হই না নির্বাসিত-কেরানি।
বাস্তুভিটে পৃথিবীটার সাধারণ অস্তিত্ব।
যার এক খন্ড এই ক্ষুদ্র চাকরের আমিত্ব।
যতদিন বাঁচি, ভোরের আকাশে চোখ জাগানো,
হাওয়া উঠলে হাওয়া মুখে লাগানো।
কুয়োর ঠান্ডা জল, গানের কান, বইয়ের দৃষ্টি
গ্রীষ্মের দুপুরে বৃষ্টি।
আপন জনকে ভালোবাসা,
বাংলার স্মৃতিদীর্ণ বাড়ি-ফে... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3775.html |
2041 | মল্লিকা সেনগুপ্ত | আপনি | মানবতাবাদী | ছড়া যে বানিয়েছিল, কাঁথা বুনেছিল
দ্রাবিড় যে মেয়ে এসে গমবোনা শুরু
করেছিল
আর্যপুরুষের ক্ষেতে, যে লালন
করেছিল শিশু
সে যদি শ্রমিক নয়, শ্রম কাকে বলে ?
আপনি বলুন মার্কস, কে শ্রমিক,
কে শ্রমিক নয়
নতুনযন্ত্রের যারা মাসমাইনের
কারিগর
শুধু তারা শ্রম করে !
শিল্পযুগ যাকে বস্তি উপহার দিল
সেই শ্রমিকগৃহিণী
প্রতিদিন জল তোলে, ঘর মোছ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b8-mallika-sengupta/ |
3929 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সময়হারা | ছড়া | খবর এল , সময় আমার গেছে ,
আমার-গড়া পুতুল যারা বেচে
বর্তমানে এমনতরো পসারী নেই ;
সাবেক কালের দালানঘরের পিছন কোণেই
ক্রমে ক্রমে
উঠছে জমে জমে
আমার হাতের খেলনাগুলো ,
টানছে ধুলো ।
হাল আমলের ছাড়পত্রহীন
অকিঞ্চনটা লুকিয়ে কাটায় জোড়াতাড়ার দিন ।
ভাঙা দেয়াল ঢেকে একটা ছেঁড়া পর্দা টাঙাই ;
ইচ্ছে করে , পৌষমাসের হাওয়ার তোড়টা ভা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/sumayhara/ |
5482 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | দেয়ালিকা | মানবতাবাদী | এক
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে
লিখি কথা।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার
স্বাধীনতা।দুই
সকালে বিকালে মনের খেয়ালে
ইঁদারায়
দাঁড়িয়ে থাকলে অর্থটা তার
কি দাঁড়ায়?তিন
কখন বাজল ছ’টা
প্রাসাদে প্রাসাদে ঝলসায় দেখি
শেষ সূর্যের ছটা –
স্তিমিত দিনের উদ্ধত ঘনঘটা।চার
বেজে চলে রেডিও
সর্বদা গোলমাল করতেই
‘রেডি’ ও।পাঁচ
জাপানী গো জাপানী
ভারতবর্ষে আ... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/deyalika/ |
3217 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দিয়েছ প্রশ্রয় মোরে, করুণানিলয় | সনেট | দিয়েছ প্রশ্রয় মোরে, করুণানিলয়,
হে প্রভু, প্রত্যহ মোরে দিয়েছ প্রশ্রয়।
ফিরেছি আপন-মনে আলসে লালসে
বিলাসে আবেশে ভেসে প্রবৃত্তির বশে
নানা পথে, নানা ব্যর্থ কাজে– তুমি তবু
তখনো যে সাথে সাথে ছিলে মোর প্রভু,
আজ তাহা জানি। যে অলস চিন্তা-লতা
প্রচুরপল্লবাকীর্ণ ঘন জটিলতা
হৃদয়ে বেষ্টিয়া ছিল, তারি শাখাজালে
তোমার চিন্তার ফুল আপনি ফুটা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/diecho-proshroy-more-korunaniloy/ |
3815 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রাজা ও রানী | ছড়া | এক যে ছিল রাজা
সেদিন আমায় দিল সাজা ।
ভোরের রাতে উঠে
আমি গিয়েছিলুম ছুটে ,
দেখতে ডালিম গাছে
বনের পিরভু কেমন নাচে ।
ডালে ছিলেম চড়ে ,
সেটা ভেঙেই গেল পড়ে ।
সেদিন হল মানা
আমার পেয়ারা পেড়ে আনা ,
রথ দেখতে যাওয়া ,
আমার চিঁড়ের পুলি খাওয়া ।
কে দিল সেই সাজা ,
জান কে ছিল সেই রাজা ?
এক যে ছিল রানী
আমি তার ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/raja-o-rani/ |
130 | আল মাহমুদ | নোলক | স্বদেশমূলক | আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে?
-হাত দিওনা আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।
জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক
সবুজ বনের হরিৎ টিয়ে করে রে ঝিকমিক।
বনের কাছে এই মিনতি, ফিরি... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3711.html |
5762 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | গুহাবাসী | প্রেমমূলক | -চলে যাবে? সময় হয়েছে বুঝি?
-সময় হয়নি, তাই চলে যাওয়া ভালো
-এসো না এখনো এই গুহার ভিতরে খুঁজি
পড়ে আছে কিনা কোনো চুপচাপ আলো
-অথবা দু‘জনে চলো বাইরে যাই?
-আমার এ নির্বাসন-দণ্ড আজ শেষ হবে?
ওসব হেঁয়ালি আমি বুঝি না, তোমাকেসবার
মধ্যে চাই
-বহূদিন জনারণ্যে কাটিয়েছি, উৎসবে-পরবে
পিঁপড়ের মতো আমি খুঁটেখুঁটে জমিয়েছি সুখ
উপভোগ
একদিন স্ব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1811 |
5958 | স্মরণজিৎ চক্রবর্তী | নৌকা | প্রেমমূলক | কে যেন আজ ডাকল তোমায় অন্ধকারে
জলের অতীত স্পর্শ কি আর সবাই পারে?রূপকথাটির দৈত্য ছিল বক্ষ জুড়ে
এক পৃথিবী যেমন করে সূর্য ঘুরেআমার থেকে পৌঁছতে চায় তোমার কাছে
বুঝতে পারে অন্য কোথাও অর্থ আছেএই আলো এই অন্ধকারের বাইরে কোথাও
আমায় তুমি কোটর থেকে বের করে নাওগাছের আঙুল সাজিয়ে তোলো ফুলের ফোঁটায়
যেমন করে একলা পাখি সূর্য ওঠায়ঠি... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%a8%e0%a7%8c%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80/ |
14 | অমিতাভ দাশগুপ্ত | ওকে | মানবতাবাদী | ওর মা মরেছে আটষট্টির বন্যায়
বাপ এ সনের খরায়,
ওকে ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না ছিঃ
ও যে যমের অরুচি!চরায়-বড়ায় খই ফুটেছে তপ্ত খোলা
পাথর মাটি পাথর,
গোয়ালে গাই বিইয়েছে
তার দুধ বাঁটে নেই এক পো,
পুকুর-নদীর জল শুকিয়ে বাষ্প,
কোলে কলসি, কাঁখে কলসি কাতার কাতার
ছা বৌ জোয়ান মদ্দ ভাতারচলছে চলছে—
এক মূকাভিনয়
তার খেজুরের মাথার ওপর খাঁড়ার মতো দ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%93%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a7%9f%e0%a7%8b-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a7%9f%e0%a7%8b-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%bf%e0%a6%83-amitava-dashgu/ |
5197 | শামসুর রাহমান | লালনের গান | চিন্তামূলক | যখন তোমার বাহুর বাসরে
মগ্ন ছিলাম চন্দ্রিত চন্দ্রায়,
আলো-আঁধারির চকিত সীমায়,
লালনের গান দূর হতে এলো ভেসে।
সে গানের ধ্বনি স্তব্ধ সায়রে
ফোটায় নিবিড় অজস্র শতদল।
ধুলোয় উধাও সে গানের কলি
গ্রামছাড়া পথে মনের মানুষ খোঁজে।শৈশব-গাঁথা জামতলা আর
কনক দুপুরে শ্রাবণ দিঘির ডুব,
ঘোরলাগা ভোর, অভিজ্ঞ সাঁঝ-
সবি আছে বুঝি স্মৃতির অভ্রে ডুবে।... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/laloner-gan/ |
1526 | নির্মলেন্দু গুণ | হাসানের | সনেট | প্রেমিকারা নয়, নাম ধরে যারা ডাকে তারা ঝিঁঝি,
তাদের যৎসামান্য পরিচয় জানা থাকা ভালো;
বলতেই মৃত্তিকারা বক্ষ চিরে তোমাকে দেখালো–;
অভ্যন্তরে কী ব্যাকুল তুমি পড়ো ডুয়িনো এলিজি ।
কবরে কী করে লেখো? মাটি কি কাগজ? খাতা?
ভালোবেসে উস্কে দিই প্রাণের পিদিম, এই নাও,
অনন্ত নক্ষত্র তুমি, অন্ধকারে আমাকে সাজাও
ফের মাতৃগর্ভে, বলো দেবদূত প্... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d/ |
2366 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | মলয় মারুত | ভক্তিমূলক | (১) শুনেছি মলয় গিরি তোমার আলয়—
মলয় পবন!
বিহঙ্গিনীগণ তথা গায়ে বিদ্যাধরী যথা,
সঙ্গীত সুধায় পূরে নন্দনকানন; কুসুমকুলকামিনী, কোমলা কমলা জিনি,
সেবে তোমা, রতি যথা সেবেন মদন!(২) হায়, কেনে ব্রজে আজি ভ্ৰমিছ হে তুমি—
মন্দ সমীরণ?
যাও সরসীর কোলে, দোলাও মৃদু হিল্লোলে
সুপ্রফুল... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/moloy-marut/ |
3053 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | চৈত্রের সেতারে বাজে | প্রকৃতিমূলক | চৈত্রের সেতারে বাজে
বসন্তবাহার,
বাতাসে বাতাসে উঠে
তরঙ্গ তাহার। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/choitrer-setare-baje/ |
4006 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্বর্গ হইতে বিদায় | চিন্তামূলক | ম্লান হয়ে এল কণ্ঠে মন্দারমালিকা,
হে মহেন্দ্র, নির্বাপিত জ্যোতির্ময় টিকা
মলিন ললাটে। পুণ্যবল হল ক্ষীণ,
আজি মোর স্বর্গ হতে বিদায়ের দিন,
হে দেব, হে দেবীগণ। বর্ষ লক্ষশত
যাপন করেছি হর্ষে দেবতার মতো
দেবলোকে। আজি শেষ বিচ্ছেদের ক্ষণে
লেশমাত্র অশ্রুরেখা স্বর্গের নয়নে
দেখে যাব এই আশা ছিল। শোকহীন
হৃদিহীন সুখস্বর্গভূমি, উদাসীন... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/post20150129112229/ |
2341 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | পুরুলিয়া | সনেট | পাষাণময় যে দেশ, সে দেশে পড়িলে
বীজকুল, শস্য তথা কখন কি ফলে?
কিন্তু কত মনানন্দ তুমি মোরে দিলে,
হে পুরুল্যে!দেখাইয়া ভকত-মণ্ডলে!
শ্ৰীভ্রষ্ট সরস সম, হায়, তুমি ছিলে,
অজ্ঞান-তিমিরাচ্ছন্ন এ দূর জঙ্গলে;
অজ্ঞান-তিমিরাচ্ছন্ন এ দূর জঙ্গলে;
এবে রাশি রাশি পদ্ম ফোটে তব জলে,
পরিমল-ধনে ধনী করিয়া অনিলে!
প্রভুর কি অনুগ্রহ! দেখ ভাবি ... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/puruliya/ |
375 | কাজী নজরুল ইসলাম | পথের দিশা | মানবতাবাদী | চারিদিকে এই গুণ্ডা এবং বদমায়েসির আখ্ড়া দিয়ে
রে অগ্রদূত, চ’লতে কি তুই পারবি আপন প্রাণ বাঁচিয়ে?
পারবি যেতে ভেদ ক’রে এই বক্র-পথের চক্রব্যুহ?
উঠবি কি তুই পাষাণ ফুঁড়ে বনস্পতি মহীরুহ?
আজকে প্রাণের গো-ভাগাড়ে উড়ছে শুধু চিল-শকুনি,
এর মাঝে তুই আলোকে-শিশু কোন্ অভিযান ক’রবি, শুনি?
ছুঁড়ছে পাথর, ছিটায় কাদা, কদর্যের এই হোর... | https://banglarkobita.com/poem/famous/541 |
4417 | শামসুর রাহমান | ইতিহাস মিথ্যার কুহক ছিঁড়ে | মানবতাবাদী | ভোরবেলা ঘুমছেঁড়া চোখে দেখি, এ কী
ঘোর অমাবস্যা-রাত, হায়,
আমার শহরটিকে রেখেছে গ্রেপ্তার ক’রে। তবে কি সকালে
আজ এই নিঝুম দিবসে সূর্য আর
দেখাবে না মুখ? প্রকৃতির বুক জুড়ে
মহররমের নিস্তব্ধ মাতম মাথা কোটে সর্বক্ষণ।নেই, তিনি নেই, আর রাজধানী, শ্যামল পাড়াগাঁ,
মফস্বলে; জগতের কোথাও পাবে না
কেউ খুঁজে তাঁকে, যে পুরুষ
ছিলেন আকাশ-ছোঁয়া... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/itihash-mithyar-kuhok-chire/ |
5207 | শামসুর রাহমান | শব্দ | চিন্তামূলক | সেই কবে থেকে শব্দ আমাকে স্বস্তি দেয় না,
মস্তিতে রাখে বন্দী, ঘুমোতে দেয় না শান্তিতে, ক্রুদ্ধ
পাখির মতো
একটানা ঠোকরাতে থাকে সকাল সন্ধ্যা, ঘোরায়
অবিরত বনবাদাড়ে, আলো আঁধারে,
তৃষ্ণায় জিভ বেরিয়ে-আসা মাছে, যেখানে
গ্রাম্য বধূর লাশ পশুর লোভের করাতে অপভ্রংশ,
সনাক্ত করণের পরপারে। শব্দ আমাকে হাতছানি দিয়ে
ডেকে নিয়ে নাকানি চুবানি খা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shobdo/ |
940 | জীবনানন্দ দাশ | আলোপৃথিবী | চিন্তামূলক | ঢের দিন বেঁচে থেকে দেখেছি পৃথিবীভরা আলো
তবুও গভীর গ্লানি ছিল কুরুবর্ষে রোমে ট্রয়ে;
উত্তরাধিকার ইতিহাসের হৃদয়ে
বেশি পাপ ক্রমেই ঘনালো।সে গরল মানুষ ও মনীষীরা এসে
হয়তো বা একদিন ক’রে দেবে ক্ষয়;
আজ তবু কন্ঠে বিষ রেখে মানবতার হৃদয়
স্পষ্ট হতে পারে পরস্পরকে ভালবেসে।কোথাও রয়েছে যেন অবিনশ্বর আলোড়নঃ
কোনো এক অন্য পথে- কোন্ পথে নেই... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/aloprithibii/ |
5809 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | নীরার অসুখ | প্রেমমূলক | নীরার অসুখ হলে কলকাতার সবাই বড় দুঃখে থাকে
সূর্য নিভে গেলে পর, নিয়নের বাতিগুলি হঠাৎ জ্বলার আগে জেনে নেয়
নীরা আজ ভালো আছে?
গীর্জার বয়স্ক ঘড়ি, দোকানের রক্তিম লাবণ্য–ওরা জানে
নীরা আজ ভালো আছে!
অফিস সিনেমা পার্কে লক্ষ লক্ষ মানুষের মুখে মুখে রটে যায়
নীরার খবর
বকুলমালার তীব্র গন্ধ এসে বলে দেয়, নীরা আজ খুশি
হঠাৎ উদাস হাওয়া এলো... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1869 |
2148 | মহাদেব সাহা | জাহাজের মতো | প্রেমমূলক | জাহাজ যেমন ডাকে সেইভাবে ডাক দিও তুমি
তোমার ছাড়ার আগে একবার হর্নখানি দিও
সকল বন্ধন ছিঁড়ে তোমার বন্ধন তুলে নেবো,
একটি সামান্য ব্যাগ কিংবা তাও ফেলে দিতে পারি।
তুমি তো জাহাজ নও জলের টিকিট কেন নেবে
অধিক ইলিশপ্রিয় ছিলে যদি জলে বাসই ভালো
তবুও পারো না তুমি, দূরের জাহাজখানি পারে।
আমার জন্মের আগে জল ছিলো জাহাজও কি ছিলো?
হয়তো এমন... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1485 |
3592 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ৮ | প্রেমমূলক | নিদাথের শেষ গোলাপ কুসুম
একা বন আলো করিয়া,
রূপসী তাহার সহচরীগণ
শুকায়ে পড়েছে ঝরিয়া।
একাকিনী আহা, চারি দিকে তার
কোনো ফুল নাহি বিকাশে,
হাসিতে তাহার মিশাইতে হাসি
নিশাস তাহার নিশাসে।
বোঁটার উপরে শুকাইতে তোরে
রাখিব না একা ফেলিয়া–
সবাই ঘুমায়, তুইও ঘুমাগে
তাহাদের সাথে মিলিয়া।
ছড়ায়ে দিলাম দলগুলি তোর
কুসুমসমাধিশয়নে
যেথা তোর বনসখী... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bideshi-fuler-guccho-8/ |
5900 | সুবোধ সরকার | মৃত্যুর আগে তুমি কাজলপরেছিলে | প্রেমমূলক | তুমি গঙ্গার একটা অংশ ছেড়ে চলে যাচ্ছ
কিন্তু তোমার আঁচলে নদীর
আত্মজীবনী লেখা রইল |
বিচানার নীচ থেকে কয়েক লক্ষ কর্কট
বিছানা-সমেত
তোমাকে তুলে নিয়ে চলেছে মহাকাশযানে |
ম়ৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে তাও তুমি কাজল
পড়েছ,
কাজল ও কান্নার মাঝখানে তোমার
মুখে এক চামচ জল
হ্যাঁ, আমি এক চামচ জল হয়ে
এক চামচ অন্তর্জলী হয়ে, এক চামচ
অঞ্জল... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4189.html |
5096 | শামসুর রাহমান | মা তার ছেলের প্রতি | মানবতাবাদী | এখন আমি বড় ক্লান্ত, আমার দৃষ্টি ক্রমশ
ধূসর হয়ে আসেছ। সন্ধ্যার
সোনালি-কালো প্রহরে ভাবছি, বাচ্চু,
কতদিন তোর সঙ্গে আমার দেখা নেই।
দিনের এই হট্রগোল আর
চেঁচামেচিতে কতজনের গলা শুনি,
কিন্তু তোর কণ্ঠস্বর আমি শুনিনা।তোর তিন ভাই প্রায় রোজানা আমার কাছে আসে,
আরেকজনের কাছেই থাকি দিনরাত।
শুধু তুই কালেভদ্রে আসিস, মাঝে-মধ্যে
টেলিফোনে ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ma-tar-cheler-proti/ |
3624 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বৃক্ষবন্দনা | ভক্তিমূলক | অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ,
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা
ছন্দোহীন পাষাণের বক্ষ-'পরে; আনিলে বেদনা
নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে। সেদিন অম্বর-মাঝে
শ্যামে নীলে মিশ্রমন্ত্রে স্বর্গলোকে জ্যোতিষ্কসমাজে
মর্তের মাহাত্ম্যগান করিলে ঘোষ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bikkha-bandana/ |
530 | কাজী নজরুল ইসলাম | সাহেব ও মোসাহেব | হাস্যরসাত্মক | সাহেব কহেন, “চমৎকার! সে চমৎকার!”
মোসাহেব বলে, “চমৎকার সে হতেই হবে যে!
হুজুরের মতে অমত কার?”সাহেব কহেন, “কী চমৎকার,
বলতেই দাও, আহা হা!”
মোসাহেব বলে, “হুজুরের কথা শুনেই বুঝেছি,
বাহাহা বাহাহা বাহাহা!”সাহেব কহেন, “কথাটা কি জান? সেদিন -”
মোসাহেব বলে, “জানি না আবার?
ঐ যে, কি বলে, যেদিন -”সাহেব কহেন, “সেদিন বিকেলে
বৃষ্টিটা ছি... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/sahebomemsaheb/ |
3715 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মানবহৃদয়ের বাসনা | সনেট | নিশীথে রয়েছি জেগে ; দেখি অনিমেখে ,
লক্ষ হৃদয়ে সাধ শূন্যে উড়ে যায় ।
কত দিক হতে তারা ধায় কত দিকে !
কত – না অদৃশ্যকায়া ছায়া – আলিঙ্গন
বিশ্বময় কারে চাহে , করে হায় – হায় ।
কত স্মৃতি খুঁজিতেছে শ্মশানশয়ন —
অন্ধকারে হেরো শত তৃষিত নয়ন
ছায়াময় পাখি হয়ে কার পানে ধায় ।
ক্ষীণশ্বাস – মুমূর্ষুর অতৃপ্ত বাসনা
ধরণীর কূলে কূলে ঘুরিয়া বেড়া... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/manobhridoyer-basna/ |
1270 | জীবনানন্দ দাশ | হরিণেরা | প্রকৃতিমূলক | স্বপ্নের ভিতরে বুঝি–ফাল্গুনের জ্যোৎস্নার ভিতরে।
দেখিলাম পলাশের বনে খেলা করে
হরিণেরা; রূপালি চাঁদের হাত শিশিরে পাতায়;
বাতাস ঝরিছে ডানা — মুক্তা ঝ’রে যায়
পল্লবের ফাঁকে ফাঁকে-বনে বনে-হরিণের চোখে;
হরিণেরা খেলা করে হাওয়া আর মুক্তার আলোকে।
হীরের প্রদীপ জ্বেলে শেফালিকা বোস যেন হাসে
হিজল ডালের পিছে অগণন বনের আকাশে,–
বি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/950 |
4282 | শহীদ কাদরী | বাংলা কবিতার ধারা | রূপক | কে যেন চিৎকার করছে প্রাণপণে `গোলাপ! গোলাপ!’
ঠোঁট থেকে গড়িয়ে পড়ছে তার সুমসৃণ লালা,
`প্রেম, প্রেম’ বলে এক চশমা-পরা চিকণ যুবক
সাইকেল-রিকশায় চেপে মাঝরাতে ফিরছে বাড়ীতে,
`নীলিমা, নিসর্গ, নারী’- সম্মিলিত মুখের ফেনায়
পরস্পর বদলে নিলো স্থানকাল, দিবস শর্বরী হলো
সফেদ পদ্মের মতো সূর্য উঠলো ফুটে গোধূরির রাঙা হ্রদে
এবং স্বপ্নের অভ্... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4169.html |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.