id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
779 | জসীম উদ্দীন | এত হাসি কোথায় পেলে | ছড়া | এত হাসি কোথায় পেলে
এত কথার খলখলানি
কে দিয়েছে মুখটি ভরে
কোন বা গাঙের কলকলানি।
কে দিয়েছে রঙিন ঠোঁটে
কলমী ফুলের গুলগুলানি।
কে দিয়েছে চলন বলন
কোন সে লতার দোল দুলানী।কাদের ঘরে রঙিন পুতুল
আদরে যে টইটুবানি।
কে এনেছে বরণ ডালায়
পাটের বনের বউটুবানী।
কাদের পাড়ার ঝামুর ঝুমুর
কাদের আদর গড়গড়ানি
কাদের দেশের কোন সে চাঁদের
জোছন... | https://www.bangla-kobita.com/jasimuddin/eto-hashi-kothay-pele/ |
3497 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বন | সনেট | শ্যামল সুন্দর সৌম্য, হে অরণ্যভূমি,
মানবের পুরাতন বাসগৃহ তুমি।
নিশ্চল নির্জীব নহ সৌধের মতন—
তোমার মুখশ্রীখানি নিত্যই নূতন
প্রাণে প্রেমে ভাবে অর্থে সজীব সচল।
তুমি দাও ছায়াখানি, দাও ফুল ফল,
দাও বস্ত্র, দাও শয্যা, দাও স্বাধীনতা;
নিশিদিন মর্মরিয়া কহ কত কথা
অজানা ভাষার মন্ত্র; বিচিত্র সংগীতে
গাও জাগরণগাথা; গভীর নিশীথে
পাতি দ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bon/ |
4754 | শামসুর রাহমান | ডেডেলাস | মানবতাবাদী | না, আমি বিলাপ করবো না তার জন্যে, যে আমার
নিজের একান্ত অংশ, স্বপ্ন, ভবিশ্যত; যাকে আমি
দেখেছি উঠোনে হাঁটি-হাঁটি পা-পা হেঁটে যেতে
আনন্দের মতো বহুবার। যখন প্রথম তার
মুখে ফুটেছিলো বুলি, কি যে আনন্দিত
হয়েছি সেদিন আমি; যখন জননী তার ওকে
বুকে নিয়ে চাঁদের কপালে চাঁদ আয় টিপ দিয়ে
যা ব’লে পাড়াতো ঘুম, আমি
স্বর্গসুখ পেয়েছি তখন।
কতদিন... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/dedelas/ |
2044 | মল্লিকা সেনগুপ্ত | শুভম | প্রেমমূলক | শুভম তোমাকে অনেকদিন পরে
হটাত দেখেছি বইমেলার মাঠে
গতজন্মের স্মৃতির মতন
ভুলে যাওয়া গানের মতন
ঠিক সেই মুখ, ঠিক সেই ভুরু
শুধুই ঈষৎ পাক ধরা চুল
চোখ মুখ নাক অল্প ফুলেছে
ঠোঁটের কোনায় দামি সিগারেট
শুভম, তুমি কি সত্যি শুভম!মনে পড়ে সেই কলেজ মাঠে
দিনের পর দিন কাটত
কীভাবে সবুজ ঘাসের মধ্যে
অন্তবিহীন সোহাগ ঝগড়া!
ক্রমশই যেন রাগ বাড়ছি... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%a8/ |
5500 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | প্রস্তুত | মানবতাবাদী | কালো মৃত্যুরা ডেকেছে আজকে স্বয়ম্বরায়,
নানাদিকে নানা হাতছানি দেখি বিপুল ধরায়।
ভীত মন খোঁজে সহজ পন্থা, নিষ্ঠুর চোখ;
তাই বিষাক্ত আস্বাদময় এ মর্তলোক,
কেবলি এখানে মনের দ্বন্দ্ব আগুন ছড়ায়।অবশেষে ভুল ভেঙেছে, জোয়ার মনের কোণে,
তীব্র ভ্রূকুটি হেনেছি কুটিল ফুলের বনে;
আভিশাপময় যে সব আত্মা আজো অধীর,
তাদের সকাশে রেখেছি প্রাণ... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/prostut/ |
1568 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | কাম্ সেপটেমবর | প্রকৃতিমূলক | কনেকটিকাট অ্যাভেনিউয়ের উপরে আমি দাঁড়িয়ে ছিলুম।
তখন সেপটেমবর মাস,
নতুন বিশ্বে গাছের পাতা তখন হলুদ হয়ে যাচ্ছে।
শেষ রাত্তিরে বৃষ্টি হয়েছিল,
রাস্তার উপরে তার চিহ্ন তখনও মুছে যায়নি।
ইতস্তত জলের বৃত্ত,
তার মধ্যে ঝিকিয়ে উঠছে সকালবেলার রোদ্দুর।
দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে আমি দেখছিলুম।
কাফেটেরিয়ায় গান বাজছিল:
কাম্ সেপটেমবর।
আমি দেখেছিল... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1570 |
166 | আহসান হাবীব | স্বদেশ আমার | স্বদেশমূলক | জেলের সেলে বন্দী ছিলো
মৃতের স্তুপের অন্ধকারে বন্দী ছিলো
বন্দী ছিলো বন্ধ দুয়ার
ভয় থমথম ঘরের মাঝে।
শহর জুড়ে কারফ্যু তার কাফন ছড়ায়
সেই কাফনে বন্দী ছিলো।
ওরা তখন মন্ত্রপুত মশাল নিয়ে নামলো পথে
মৃতের স্তুপে ফোটালো ফুল
নতুন প্রাণে গাঁথলো নতুন দীপাবলি।
আগুন জ্বলে। জ্বলতে থাকে পাশব আঁধার
গ্রাম নগরে রাত পেরিয়ে, রাত পেরিয়... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3815.html |
3567 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিচলিত কেন মাধবীশাখা | প্রকৃতিমূলক | বিচলিত কেন মাধবীশাখা,
মঞ্জরী কাঁপে থরথর।
কোন্ কথা তার পাতায় ঢাকা
চুপিচুপি করে মরমর। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bicholito-keno-madhobishakha/ |
4639 | শামসুর রাহমান | কোমল গান্ধার | মানবতাবাদী | স্ফটিক সকালবেলা সে কী জন্ম কান্না দশদিক
জাগানো আমার
এবং কৈশোরে কোনো এক দ্বিপ্রহরে
আমার নেহার
বোনকে হারিয়ে বুকফাটা চিৎকারে আকাশটিকে
চিনেমাটি বাসনের মতো খানখান
করে দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সবার অলক্ষ্যে সন্ধ্যেবেলা।
যৌবন আমিও গলা ফাটিয়েছি মিছিলে মিছিলে
আর বর্ণমালাকে কী ক্ষিপ্র মুড়ে ঘৃণা
আর অঙ্গীকারে
দিয়েছি প... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/komol-gandhar/ |
5771 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | চোখ বিষয়ে | চিন্তামূলক | আমি তোমাদের কোন্ অনন্ত ছায়ায়
শুয়ে আছি, শুয়ে রবো, আমি তোমাদের
থেকে বহু দুরে তবু ছায়ার ভিতরে
শুয়ে আছি, জেগে আছি, শিয়রে ও পায়ে
ছায়া পড়ে, ছায়া কাঁপে, চোখের ছায়ায়
মাছ খেলা করে, ভাসে, আমি তোমাদের
মাছের মতন চোখ ছায়ার সাঁতারে
তুলে আনি, তোমাদের গোলাপজামের
মতো চোষ ভালোবাসি, মুখে দিই, দাঁতে
‘তোমাদের’ ভালোবাসাময় চোখগুলি
ভেঙে যায়,... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1887 |
2014 | ভবানীপ্রসাদ মজুমদার | বাংলাটা | ব্যঙ্গাত্মক | ছেলে আমার খুব ‘সিরিয়াস’ কথায়-কথায় হাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
ইংলিশে ও ‘রাইমস’ বলে
‘ডিবেট’ করে, পড়াও চলে
আমার ছেলে খুব ‘পজেটিভ’ অলীক স্বপ্নে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।‘ইংলিশ’ ওর গুলে খাওয়া, ওটাই ‘ফাস্ট’ ল্যাঙ্গুয়েজ
হিন্দি সেকেন্ড, সত্যি বলছি, হিন্দিতে ওর দারুণ তেজ।
... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a0%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-bhabani-prasad-majumder/ |
274 | কাজী নজরুল ইসলাম | কারার ঐ লৌহকপাট | মানবতাবাদী | কারার ঐ লৌহকপাট,
ভেঙ্গে ফেল কর রে লোপাট,
রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান,
বাজা তোর প্রলয় বিষাণ
ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।গাজনের বাজনা বাজা,
কে মালিক, কে সে রাজা,
কে দেয় সাজা মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?
হা হা হা পায় যে হাসি, ভগবান পরবে ফাঁসি,
সর্বনাশী শিখায় এ হীন তথ্য কে রে!ওরে ও পাগলা ভোল... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/karar-oi-loho-kapat/ |
3861 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শীতের প্রবেশ | প্রকৃতিমূলক | নম, নম, নম নম।
নির্দয় অতি করুণা তোমার
বন্ধু তুমি হে নির্মম,
যা-কিছু জীর্ণ করিবে দীর্ণ
দণ্ড তোমার দুর্দম।
সর্বনাশার নিঃশ্বাস বায়
লাগল ভালে।
নাচল চরণ শীতের হাওয়ায়
মরণতালে।
করব বরণ, আসুক কঠোর,
ঘুচুক অলস সুপ্তির ঘোর,
যাক ছিঁড়ে মোর বন্ধনডোর
যাবার কালে।
ভয় যেন মোর হয় খান্খান্
ভয়েরি ঘায়ে,
ভরে যেন প্রাণ ভেসে এ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/5758.html |
4168 | রেদোয়ান মাসুদ | হারিয়ে গেছে সে | প্রেমমূলক | হারিয়ে গেছে সে কোন এক মেঘলা দিনে
বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া হয়ে
রোদ্রের সাথে কোন এক ভোরবেলায় কুয়াশা হয়ে
কোন এক শেষ বিকেলে গোধূলি লগনে।
হারিয়ে গেছে সে কোন এক অমাবস্যার রাতে
ভয়ংকর কালো অন্ধকার হয়ে
ঘন কালো মেঘের আড়ালে কোন এক বর্ষা কালে
কোন এক অচেনা নদীর স্রোতের সাথে।
হারিয়ে গেছে সে কোন এক প্রাচীন যুগে
হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা হয়ে
... | http://kobita.banglakosh.com/archives/2155.html |
4839 | শামসুর রাহমান | দুঃখভোগ | সনেট | যাবে যদি চ’লে যাও, কোরো না খামোকা কালক্ষেপ।
অতীত ফেলতে চাও মুছে ইরেজার দিয়ে ঘ’ষে
সাত তাড়াতাড়ি? এত বিরূপতা শুনি, কার দোষে?
আমাকে সাজালে মস্ত অপরাধী করবো না আক্ষেপ
কোনো দিন। এই যে ভুগছি নিত্য, তোমার ভ্রুক্ষেপ
নেই তাতে কিছুমাত্র। তীরে এসে নৌকা ডুবে যায়
বার বার, বিষ্ফারিত চোখে চেয়ে থাকি অসহায়;
করি না প্রার্থনা আর কার্বাঙ্ক... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/dukkhovog/ |
3789 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যে আঁধারে ভাইকে দেখিতে নাহি পায় | রূপক | যে আঁধারে ভাইকে দেখিতে নাহি পায়
সে আঁধারে অন্ধ নাহি দেখে আপনায়। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/je-adhare-vaike-dekhite-nahi-pai/ |
395 | কাজী নজরুল ইসলাম | প্রলয়োল্লাস | মানবতাবাদী | তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখীর ঝড় !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল,
সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল !
মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে
মহাকালের চণ্ড-রূপে—
বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ঙ্কর !
ওরে ঐ হাসছে ভয়ঙ্কর !
তো... | http://kobita.banglakosh.com/archives/352.html |
584 | কুসুমকুমারী দাশ | দাদার চিঠি | ছড়া | আয়রে মনা, ভুতো, বুলী আয়রে তাড়াতাড়ি,
দাদার চিঠি এসেছে আজ, শুনাই তোদের পড়ি |
“কলকাতাতে এসেছি ভাই কালকে সকাল বেলা,
হেথায় কত গাড়ি, ঘোড়া, কত লোকের মেলা |পথের পাশে সারি সারি দু’কাতারে বাড়ি
দিন রাত্তির হুস্ হুস্ করে ছুটেছে রেল গাড়ি |
আমি কি ভাই গেছি বুলে তোদের মলিন মুখ,
মনে পড়লে এখনও যে কেঁপে ওঠে বুক |সেই যে মায়ের জলে... | http://kobita.banglakosh.com/archives/3859.html |
6051 | হেলাল হাফিজ | বাম হাত তোমাকে দিলাম | মানবতাবাদী | এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম।
একটু আদর করে রেখো, চৈত্রে বোশেখে
খরা আর ঝড়ের রাত্রিতে মমতায় সেবা ওশুশ্রূষা দিয়ে
বুকে রেখো, ঢেকে রেখো, দুর্দিনে যত্ন নিও
সুখী হবে তোমার সন্তান।
এই নাও বাম হাত তোমাকে দিলাম।
ও বড়ো কষ্টের হাত, দেখো দেখো অনাদরে কী রকম
শীর্ণ হয়েছে, ভুল আদরের ক্ষত সারা গায়ে
লেপ্টে রয়েছে, পোড়া কপালের হাত... | https://banglarkobita.com/poem/famous/123 |
5627 | সুকুমার রায় | দিনের হিসাব | ছড়া | ভোর না হতে পাখিরা জোটে গানের চোটে ঘুমটি ছোটে-
চোখ্টি খোলো, গাত্র তোলো আরে মোলো সকাল হলো।
হায় কি দশা পড়্তে বসা অঙ্ক কষা, কলম ঘষা।
দশটা হলে হট্টগোলে দৌড়ে চলে বই বগলে!
স্কুলের পড়া বিষম তাড়া, কানটি নাড়া বেঞ্চে দাঁড়া
মরে কি বাঁচে! সমুখে পাছে বেত্র নাচে নাকের কাচে।।
খেলতে যে চায় খেল্বে কি ছাই বৈকেলে হায় সময় কি প... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/diner-hisab/ |
5805 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | নীরা ও জীরো আওয়ার | প্রেমমূলক | এখন অসুখ নেই, এখন অসুখ থেকে সেরে উঠে
পরবর্তী অসুখের জন্য বসে থাকা। এখন মাথার কাছে
জানলা নেই, বুক ভরা দুই জানলা, শুধু শুকনো চোখ
দেয়ালে বিশ্রাম করে, কপালে জলপট্টির মতো
ঠাণ্ডা হাত দূরে সরে গেছে, আজ এই বিষম সকালবেলা
আমার উত্থান নেই, আমি শুয়ে থাকি, সাড়ে দশটা বেজে যায়।
প্রবন্ধ ও রম্যরচনা, অনুবাদ, পাঁচ বছর আগের
শুরু করা উপন... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1892 |
521 | কাজী নজরুল ইসলাম | সন্ধ্যাতারা | প্রকৃতিমূলক | ঘোম্টা-পরা কাদের ঘরের বৌ তুমি ভাই সন্ধ্যাতারা?
তোমার চোখে দৃষ্টি জাগে হারানো কোন্ মুখের পারা।।
সাঁঝের প্রদীপ আঁচল ঝেঁপে
বঁধুর পথে চাইতে বেঁকে
চাউনিটি কার উঠছে কেঁপে
রোজ সাঁঝে ভাই এমনি ধারা।।
কারা হারানো বধূ তুমি অস-পথে মৌন মুখে
ঘনাও সাঁঝে ঘরের মায়া গৃহহীনের শূন্য বুকে।
এই যে নিতুই আসা-যাওয়া,
এমন কর”ণ মলিন চাওয়া... | https://banglarkobita.com/poem/famous/856 |
1764 | পূর্ণেন্দু পত্রী | আবহমান ভগ্নী-ভ্রাতা | স্বদেশমূলক | আপন স্বজন দুজন মাতা।
ভালোবাসার সাঁকোর ওপর পা টলমল পা টলমল
পা বাড়ালেই পদ্মা নদী
হাত বাড়ালেই পদ্ম পাতা
এবার পাবো।
আজান-বাজান ভাটিয়ালীর কন্ঠনালীর ছন্দগাথা
প্রবহমান নদীনালায় গুনতে যাবো।
পাঁজর পোড়া গর্ত খোঁড়া হাটের মাঠের ঘরের ঘাটের
সব দরজা জানলা খুলে খুঁজতে যাবো
অগ্নিবরণ ভোরবেলাতে আমরা কজন আবহমান
ভগ্নি-ভ্রাতা।
ডাইনে ব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/332 |
1876 | পূর্ণেন্দু পত্রী | ময়ূর দিয়েছে | প্রেমমূলক | একটি ময়ুর তার পেখমের সবটুকু অভ্র ও আবীর দিয়েছে আমাকে।
একটি ময়ূর তার হৃদয়ের বিছানা বালিশে
মশারির টাঙানো খাটে, দরজায়, জানালায়, নীল আয়নায়
অতিথিশালার মতো যখন-তখন এসে ঘুমোবার, হেঁটে বেড়াবার
সুখটুকু, স্বাধীনতাটুকু
সোনার চাবির মতো হাতে তুলে দিয়েছে স্বেচ্ছায়।
এটোঁ কলাপাতা ঘেঁটে অকস্মাৎ জাফরাণের ঘ্রাণ পেয়ে গেলে
ভিখারীরা যে রকম ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1313 |
3966 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সুন্দর, তুমি এসেছিলে আজ প্রাতে | প্রেমমূলক | সুন্দর, তুমি এসেছিলে আজ প্রাতে
অরুণ-বরণ পারিজাত লয়ে হাতে।
নিদ্রিত পুরী, পথিক ছিল না পথে,
একা চলি গেলে তোমার সোনার রথে,
বারেক থামিয়া মোর বাতায়নপানে
চেয়েছিলে তব করুণ নয়নপাতে।
সুন্দর, তুমি এসেছিলে আজ প্রাতে। স্বপন আমার ভরেছিল কোন্ গন্ধে
ঘরের আঁধার কেঁপেছিল কী আনন্দে,
ধুলায় লুটানো নীরব আমার বীণা
... | http://kobita.banglakosh.com/archives/509.html |
3345 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পঞ্চমী | প্রেমমূলক | ভাবি বসে বসে
গত জীবনের কথা ,
কাঁচা মনে ছিল
কী বিষম মূঢ়তা ।
শেষে ধিক্কারে বলি হাত নেড়ে ,
যাক গে সে কথা যাক গে ।
তরুণ বেলাতে যে খেলা খেলাতে
ভয় ছিল হারবার ,
তারি লাগি , প্রিয়ে , সংশয়ে মোরে
ফিরিয়েছ বার বার ।
কৃপণ কৃপার ভাঙা কণা একটুক
মনে দেয় নাই সুখ ।
সে যুগের শেষে আজ বলি হেসে ,
কম কি সে কৌতুক
যতটুকু ছিল ভাগ্যে ,
দ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/pronchame/ |
2254 | মহাদেব সাহা | লিরিকগুচ্ছ - ০৯ | প্রেমমূলক | তুমি দিয়ে শুরু একটি বাক্য
শেষ তার তুমিহীন-
একেই আমরা বলেছি তো প্রেম,
বিচ্ছেদ চিরদিন। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1391 |
3225 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুঃখহারী | ছড়া | মনে করো, তুমি থাকবে ঘরে,
আমি যেন যাব দেশান্তরে।
ঘাটে আমার বাঁধা আছে তরী,
জিনিসপত্র নিয়েছি সব ভরি—
ভালো করে দেখ্ তো মনে করি
কী এনে মা, দেব তোমার তরে।
চাস কি মা, তুই এত এত সোনা—
সোনার দেশে করব আনাগোনা।
সোনামতী নদীতীরের কাছে
সোনার ফসল মাঠে ফ'লে আছে,
সোনার চাঁপা ফোটে সেথায় গাছে—
না কুড়িয়ে আমি তো ফিরব না।
পরতে কি চাস মুক... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dukkhohari/ |
527 | কাজী নজরুল ইসলাম | সাম্যবাদী | মানবতাবাদী | আদি উপসনালয়-
উঠিল আবার নতুন করিয়া- ভুত প্রেত সমুদয়
তিন শত ষাট বিগ্রহ আর আমুর্তি নতুন করি'
বসিল সোনার বেদীতে রে হায় আল্লার ঘর ভরি'।
সহিতে না পারি' এ দৃশ্য, এই স্রষ্টার অপমান,
ধেয়ানে মুক্তি-পথ খোঁজে নবী, কাঁদিয়া ওঠে পরান।
"খদিজারে কন- আল্লাতালার কসম, কা'বার ঐ
"লাৎ""ওজ্জার" করিবনা পূজা, জানিনা আল্লা বই।
নিজ হাতে য... | https://banglarkobita.com/poem/famous/533 |
2947 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ক্যামেলিয়া | প্রেমমূলক | নাম তার কমলা,
দেখেছি তার খাতার উপরে লেখা।
সে চলেছিল ট্রামে, তার ভাইকে নিয়ে কলেজের রাস্তায় ।
আমি ছিলেম পিছনের বেঞ্চিতে।
মুখের এক পাশের নিটোল রেখাটি দেখা যায়,
আর ঘাড়ের উপর কোমল চুলগুলি খোঁপার নীচে।
কোলে তার ছিল বই আর খাতা।
যেখানে আমার নামবার সেখানে নামা হল না।এখন থেকে সময়ের হিসাব করে বেরোই --
সে হিসাব আমার কাজের সঙ্গে ঠি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/post20160605060453/ |
3900 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সংশয়ী | ছড়া | কোথায় যেতে ইচ্ছে করে
শুধাস কি মা , তাই ?
যেখান থেকে এসেছিলেম
সেথায় যেতে চাই ।
কিন্তু সে যে কোন্ জায়গা
ভাবি অনেকবার ।
মনে আমার পড়ে না তো
একটুখানি তার ।
ভাবনা আমার দেখে বাবা
বললে সেদিন হেসে ,
' সে - জায়গাটি মেঘের পারে
সন্ধ্যাতারার দেশে । '
তুমি বল , ' সে - দেশখানি
মাটির নিচে আছে ,
যেখান থেকে ছাড়া পেয়ে
ফুল ফোটে সব গাছে ।... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/songshoyi/ |
693 | জয় গোস্বামী | পশ্চিমে বাঁশবন | চিন্তামূলক | পশ্চিমে বাঁশবন। তার ধারে ধারে জল।
বিকেল দাঁড়াল ধানক্ষেতে।
জলে ভাঙা ভাঙা মেঘ। ফিরে আসছে মাছমারা বালকের দল।
খালি গা, কোমরে গামছা, লম্বা ছিপ, ঝুড়ি–
আবছা কোলাহল।
তোমার কি ইচ্ছে করে, এখন ওদের সঙ্গে যেতে?
কয়েদি উত্তর দেয় না। সে শুধু বিকেলটুকু
এঁকে রাখছে ঘরের মেঝেতে। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1748 |
5738 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | ইচ্ছে হয় | চিন্তামূলক | এমনভাবে হারিয়ে যাওয়া সহজ নাকি
ভিড়ের মধ্যে ভিখারী হয়ে মিশে যাওয়া?
এমনভাবে ঘুরতে ঘুরতে স্বর্গ থেকে ধুলোর মর্ত্যে
মানুষ সেজে এক জীবন মানুষ নামে বেঁচে থাকা?
রূপের মধ্যে মানুষ আছে, এই জেনে কি নারীর কাছে
রঙের ধাঁধা খুঁজতে খুঁজতে টনটনায় চক্ষু-স্নায়ু
কপালে দুই ভুরুর সন্ধি, তার ভিতরে ইচ্ছে বন্দী
আমার আয়ু, আমার ফুল ছেঁড়ার নেশা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1805 |
4445 | শামসুর রাহমান | এ কেমন রাত এলো_ | রূপক | সারাদিন কাজ করে সন্ধেবেলা রহমত আলী
গৃহিণীর জন্যে কিছু ফুল নিয়ে বস্তিতে ফেরার
পথে দ্যাখে আসমানে রূপালি টাকার মতো চাঁদ
হাসছে। হঠাৎ এ কী! মিশমিশে অন্ধকার থাবা
দিয়ে ঢেকে ফেলে চতুর্দিক। এ কেমন
তুফান কাঁপিয়ে দিচ্ছে সব কিছু? কেমন ধ্বংসের আলামত?
‘এ কেমন রাত এলো’? রহমত আলী নিজেকেই
প্রশ্ন করে। নড়বড়ে ঘর তার জ্বরতপ্ত রোগীর লাহান
ভ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/e-kemon-rat-elo/ |
3634 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বেলা আটটার কমে | হাস্যরসাত্মক | বেলা আটটার কমে
খোলে না তো চোখ সে।
সামলাতে পারে না যে
নিদ্রার ঝোঁক সে।
জরিমানা হলে বলে,–
“এসেছি যে মা ফেলে,
আমার চলে না দিন
মাইনেটা না পেলে।
তোমার চলবে কাজ
যে ক’রেই হোক সে,
আমারে অচল করে
মাইনের শোক সে।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bela-attar-kome/ |
1051 | জীবনানন্দ দাশ | তোমাকে (অপ্রকাশিত) | প্রকৃতিমূলক | একদিন মনে হতো জলের মতন তুমি।
সকালবেলার রোদে তোমার মুখের থেকে বিভা–
অথবা দুপুরবেলা — বিকেলের আসন্ন আলোয়–
চেয়ে আছে — চলে যায় — জলের প্রতিভা।মনে হতো তীরের উপরে বসে থেকে।
আবিষ্ট পুকুর থেকে সিঙাড়ার ফল
কেউ কেউ তুলে নিয়ে চলে গেলে — নীচে
তোমার মুখের মতন অবিকল।নির্জন জলের রঙ তাকায়ে রয়েছে;
স্থানান্তরিত হয়ে দিবসের আলোর ভিতরে
নিজে... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/tomake/ |
591 | খান মুহাম্মদ মইনুদ্দীন | কানা বগীর ছা | ছড়া | ঐ দেখা যায় তাল গাছ
ঐ আমাদের গাঁ।
ঐ খানেতে বাস করে
কানা বগীর ছা।
ও বগী তুই খাস কি?
পানতা ভাত চাস কি?
পানতা আমি খাই না
পুঁটি মাছ পাই না
একটা যদি পাই
অমনি ধরে গাপুস গুপুস খাই। | http://kobita.banglakosh.com/archives/4331.html |
520 | কাজী নজরুল ইসলাম | সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ-গীতি | শোকমূলক | চল-চঞ্চল বাণীর দুলাল এসেছিল পথ ভুলে,
ওগো এই গঙ্গার কূলে।
দিশাহারা মাতা দিশা পেয়ে তাই নিয়ে গেছে কোলে তুলে
ওগো এই গঙ্গার কূলে।।
চপল চারণ বেণু-বীণে তা’র
সুর বেঁধে শুধু দিল ঝঙ্কার,
শেষ গান গাওয়া হ’ল না ক’ আর,
উঠিল চিত্ত দুলে,
তারি ডাক-নাম ধ’রে ডাকিল কে যেন অস্ত-তোরণ-মূলে,
ওগো এই গঙ্গার কূলে।।
ওরে এ ঝোড়ো হাওয়ায় কারে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/543 |
3381 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পাখিরে দিয়েছ গান, গায় সেই গান | ভক্তিমূলক | পাখিরে দিয়েছ গান, গায় সেই গান,
তার বেশি করে না সে দান।
আমারে দিয়েছ স্বর, আমি তার বেশি করি দান,
আমি গাই গান।
বাতাসেরে করেছ স্বাধীন,
সহজে সে ভৃত্য তব বন্ধনবিহীন।
আমারে দিয়েছ যত বোঝা,
তাই নিয়ে চলি পথে কভু বাঁকা কভু সোজা।
একে একে ফেলে ভার মরণে মরণে
নিয়ে যাই তোমার চরণে
একদিন রিক্তহস্ত সেবায় স্বাধীন;
বন্ধন যা দিলে মোরে করি ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1940 |
3677 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ভোলানাথ লিখেছিল | হাস্যরসাত্মক | ভোলানাথ লিখেছিল,
তিন-চারে নব্বই–
গণিতের মার্কায়
কাটা গেল সর্বই।
তিন চারে বারো হয়,
মাস্টার তারে কয়;
“লিখেছিনু ঢের বেশি”
এই তার গর্বই। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/volanath-likhechilo/ |
4992 | শামসুর রাহমান | বরকতের ফটোগ্রাফ | স্বদেশমূলক | কবেকার ঘাসঢাকা এক টুকরো জমি, ঝোপঝাড়ের
খাসমহল, ঝকমকে আকাশ
অদৃশ্য ঘরের বারান্দা, অন্তরালবর্তিনী
মায়ের তাকিয়ে-থাকা
ইতিহাসের কোনো ইশারা দেখেনি। সকালবেলার হাওয়া
অবিন্যস্ত করেনি তার চুল। তার দৃষ্টি ছিল
সামনের দিকে, ভোরকে সে সোদরপ্রতিম ভেবেছিল?
বলতে পারব না, আমি বলতে পারব না।
তার উপর দিয়ে ঢেউয়ের মতো গড়িয়ে গেছে
বছরের পর বছর। এ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/borkoter-fotograph/ |
1608 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | দুপুরবেলা বিকেলবেলা | রূপক | ।।১।।
কথা ছিল, ঘরে যাব; ‘ঘর হৈল পর্বত প্রমাণ’।
চেয়ে দেখি দিগন্ত অবধি
দুপুরেই এঁকে দিচ্ছ সমস্ত স্বপ্নের অবসান।
বয়সের নদী–
আঁজলায় সামান্য জল তুলে ধরে। বুকের ভিতরে
যতখানি জল, তার চতুর্গুণ নুড়ির ছলনা।
খরায় শুকিয়ে ওঠে ধান।
।।২।।
সারা দুপুর খরায় তোমার ধান পুড়েছে।
বিকেলবেলা
হঠাৎ শুরু উথালপাতাল জলের খেলা।
জল ঘুরে যায়, জল ঘ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1636 |
3611 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিশ্ববীণারবে | প্রকৃতিমূলক | বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে।
স্থলে জলে নভতলে বনে উপবনে
নদীনদে গিরিগুহা-পারাবারে
নিত্য জাগে সরস সঙ্গীতমধুরিমা,
নিত্য নৃত্যরসভঙ্গিমা।–নব বসন্তে নব আনন্দ, উৎসব নব।
অতি মঞ্জুল, অতি মঞ্জুল, শুনি মঞ্জুল গুঞ্জন কুঞ্জে–
শুনি রে শুনি মর্মর পল্লবপুঞ্জে,
পিককূজন পুষ্পবনে বিজনে,
মৃদু বায়ুহিলোলবিলোল বিভোল বিশাল সরোবর-মাঝে
কলগীত সুল... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be/ |
5852 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | রাখাল | চিন্তামূলক | লাল ও সবুজ আলোর মধ্যে অন্তকাল
আমি ডাইনে তাকাই পিছনে ফিরে অন্ধকার গলিতে
অনন্তকাল পিছনে নয়, ডাকদিকে নয়, সবুজ ও লাল-
সুখের মতো ভূবিস্তৃত, ঊরুদ্বয়ে শোকের মতো, দৃষ্টি থেকে ঘুমের মতো
পেরিয়ে যাই, কুসুম এবং ফলের কাছে বীজের মতো
দীক্ষা নিতে,
মৃত্যু থেকে সঙ্গোপনে শুন্য ঘরে, দ্রাক্ষাবনের
ছঅই বাতাস, জ্ঞানী মাথার খুলী, নদীর ভাঙ্গা প... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1900 |
1810 | পূর্ণেন্দু পত্রী | গাছ | প্রকৃতিমূলক | রাজকোষের মতো বোঝেই
কুঁড়িতে, পাতায়, শতপুষ্পে, গন্ধের পেখমে।
তবু শিকড়ের চোখে আত্মগোপনকারী যোদ্ধার আত্মসমালোচনা।
নিজের ভিতরে গভীর কোনো জল-উৎস খুঁজতে খুঁজতে
খুঁড়তে খুঁড়তে ক্লান্ত এবং
বিপদাপন্ন।
কখনো কখনো সোনালি মেঘের শিরা-উপশিরাও
তার কাছে করাতের দাঁত।
কখনো কখনো মেঘ সে নিজেই।
মেঘের ভিতরে নিজেকে দীর্ণ করতেই বানিয়ে চলেছে
বজ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1190 |
792 | জসীম উদ্দীন | কাল সে আসিবে | প্রেমমূলক | কালকে সে নাকি আসিবে মোদের ওপারের বালুচরে,
এ পারের ঢেউ ওপারে লাগিছে বুঝি তাই মনে করে।
বুঝি তাই মনে করে,
বাউল বাতাস টানাটানি করে বালুর আঁচল ধরে।
কাল সে আসিবে, মুখখানি তার নতুন চরের মত,
চখা আর চখী নরম ডানায় মুছায়ে দিয়েছে কত।
চরের চাষীর ধানের খেতের মতই তাহার গা,
কোথাবা হলুদ, আব্ছা হলুদ, কোথাবা হলুদ না।
কাল সে আসিবে, হাসি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/753 |
793 | জসীম উদ্দীন | কাল সে আসিয়াছিল | প্রেমমূলক | কাল সে আসিয়াছিল ওপারের বালুচরে,
এতখানি পথ হেঁটে এসেছিল কি জানি কি মনে করে।
কাশের পাতায় আঁচড় লেগেছে তাহার কোমল গায়,
দুটি রাঙা পায়ে আঘাত লেগেছে কঠিন পথের ঘায়।
সারা গাও বেয়ে ঘাম ঝরিতেছে, আলসে অবশ তনু,
আমার দুয়ারে দাঁড়াল আসিয়া দেখিয়া অবাক হনু।
দেখিলাম তারে- যার লাগি একা আশা-পথ চেয়ে থাকি,
এই বালুচরে মাথা কুটে কুটে ফুকারিয়... | https://banglarkobita.com/poem/famous/754 |
4982 | শামসুর রাহমান | বনে জঙ্গলে | চিন্তামূলক | এই তো আমার নাতি হাঁটি হাঁটি পা পা করে পার
করে দিলো তিনটি বছর। এখনো অক্ষরজ্ঞান তার
হয়নি সঠিক। অবশ্য সে মাঝে-মাঝে আওড়ায়
অ-আ-ক-খম এ-বি সি-ডি, মাতে ছেলেভোলানো ছড়ায়
মায়ের, খালার সঙ্গে। নানা রঙের বই নিয়ে
কখনো সখানো বসে, পড়ে আস্তে ইনিয়-বিনিয়ে,
যেন সে পড় য়া মস্ত। কখনো আমার খুব পুরু
লেন্সের চশমা পরে আর তাকায় টোলের গুরু
মশায়ের ঢ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/bone-jonggole/ |
1856 | পূর্ণেন্দু পত্রী | প্রিয়-পাঠক-পাঠিকাগণ | চিন্তামূলক | প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ!
এখন থেকে আমার কবিতায় তুমুল ওলোট-পালট।
আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন
দমকলের ঘন্টায় বেহদ্দ বেজে বেজে
বহু শব্দের গা থেকে খসে পড়েছে প্লাস্টার এবং পালিশ।
একদিন সোফিয়া লোরেনের মতো মার কাটারি ছিল যে সব শব্দ
এখন গ্রন্থাবলীর অলিতে গলিতে তাদের হিঁজড়ে-নাচ।
অনেক সম্ভাবনাময় শব্দ এখন পয়লা নম্বেরের বখাটে
সেইসব আন... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1281 |
1981 | বিমল গুহ | কার প্রতীক্ষায় আছো | চিন্তামূলক | বলো, কার প্রতীক্ষায় আছো হে আমার দুঃখী শব্দাবলী?
আমার ভেতরে নিশিদিন অগণিত শিশু
পাঠশালা যায় আসে বানায় রঙিন স্বপ্ন কবিতার বই
নিপুণ বাঁধাই জরিমোড়া।
নিশিদিন আমার ভেতরে শব্দ নিয়ে লুফোলুফি হয়
কৌতুক জলসায় মাতে গ্রাম্যবধুরা লোকালয়ে, স্বার্থপর
পারিনি তাদের আমি পরাতে এখনো কোনো
সুনিপুন পোশাক-আশাক, পারিনি দুলাতে আজো
কর্ণমূল... | https://banglapoems.wordpress.com/2008/05/18/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a7%8b-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%b2-%e0%a6%97/ |
3234 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুই পারে দুই কূলের আকুল প্রাণ | রূপক | দুই পারে দুই কূলের আকুল প্রাণ,
মাঝে সমুদ্র অতল বেদনাগান। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/dui-pare-dui-kuler-akul-pran/ |
3599 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিবাহের পঞ্চম বরষে | চিন্তামূলক | বিবাহের পঞ্চম বরষে
যৌবনের নিবিড় পরশে
গোপন রহস্যভরে
পরিণত রসপুঞ্জ অন্তরে অন্তরে
পুষ্পের মঞ্জরি হতে ফলের স্তবকে
বৃন্ত হতে ত্বকে
সুবর্ণবিভায় ব্যাপ্ত করে।
সংবৃত সুমন্দ গন্ধ অতিথিরে ডেকে আনে ঘরে
সংযত শোভায়
পথিকের নয়ন লোভায়।
পাঁচ বৎসরের ফুল্ল বসন্তের মাধবীমঞ্জরি
মিলনের স্বর্ণপাত্রে সুধা দিল ভরি;
মধু সঞ্চয়ের পর
মধুপেরে ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bibaher-ponchom-boroshe/ |
934 | জীবনানন্দ দাশ | আমার এ ছোটো মেয়ে | প্রেমমূলক | আমার এ ছোটো মেয়ে — সব শেষ মেয়ে এই
শুয়ে আছে বিছানার পাশে –
শুয়ে থাকে —উঠে বসে —পাখির মতন কথা কয়
হামাগুড়ি দিয়ে ফেরে
মাঠে মাঠে আকাশে আকাশেভুলে যাই ওর কথা — আমার প্রথম মেয়ে সেই
মেঘ দিয়ে ভেসে আসে যেন
বলে এসে: ‘বাবা, তুমি ভালো আছ? ভালো আছ? — ভালোবাসো?
হাতখানা ধরি তার:ধোঁয়া শুধু কাপড়ের মতো শাদা মুখখানা কেন!‘ব্যথা পাও? কবে আমি... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/amar-e-choto-maye/ |
3964 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সুখেতে আসক্তি যার | নীতিমূলক | সুখেতে আসক্তি যার
আনন্দ তাহারে করে ঘৃণা।
কঠিন বীর্যের তারে
বাঁধা আছে সম্ভোগের বীণা৷ (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/sukhete-asokti-jar/ |
5635 | সুকুমার রায় | নিরুপায় | হাস্যরসাত্মক | বসি বছরের পয়লা তারিখে
মনের খাতায় রাখিলাম লিখে-
"সহজ উদরে ধরিবে যেটুক্,
সেইটুকু খাব হব না পেটুক।"
মাস দুই যেতে খাতা খুলে দেখি,
এরি মাঝে মন লিখিয়াছে একি!
লিখিয়াছে, "যদি নেমন্তন্নে
কেঁদে ওঠে প্রাণ লুচির জন্যে,
উচিত হবে কি কাঁদান তাহারে?
কিম্বা যখন বিপুল আহারে ,
তেড়ে দেয় পাতে পোলাও কালিয়া
পায়েস অথবা রাবড়ি ঢালিয়া-... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/nirupay/ |
4180 | লালন শাহ | খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় | চিন্তামূলক | খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।
ধরতে পারলে মনবেড়ি
দিতাম পাখির পায়।আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা
মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাঁটা।
তার উপরে সদর কোঠা
আয়নামহল তায়।খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।কপালের ফ্যার নইলে কি আর
পাখিটির এমন ব্যবহার।
খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার
কোন বনে পালায়।খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।মন তুই রই... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4401.html |
4027 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হার-মানা হার পরাব তোমার গলে | ভক্তিমূলক | হার-মানা হার পরাব তোমার গলে-
দূরে রব কত আপন বলের ছলে।
জানি আমি জানি ভেসে যাবে আভিমান-
নিবিড় ব্যথায় ফাটিয়া পড়িবে প্রাণ,
শূন্য হিঁয়ার বাঁশিতে বাজিবে গান,
পাষাণ তখন গলিবে নয়নজলে।শতদলদল খুলে যাবে থরে থরে,
লুকানো রবে না মধু চিরদিন-তরে।
আকাশ জুড়িয়া চাহিবে কাহার আঁখি,
ঘরের বাহিরে নীরবে লইবে ডাকি,
কিছুই সেদিন কিছুই রবে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/har-mana-haar-porabo-tomar-gole/ |
4117 | রেদোয়ান মাসুদ | আমার মা | প্রেমমূলক | মায়া ভরা হৃদয়টি যার
সে আমার মা।
কত স্নেহ করতো আমায়
মনে পড়ে তা।
মনে কোন কষ্ট থাকলেও
বুঝতে দিত না।
হাসি ভরা মুখটি তার
দেখলে জুড়াত গা।
হাত এগিয়ে বলত আমায়
আয়রে কোলে খোকা।
মুখে দু’টি চুমো দিয়ে
বলত কত কথা।
অসুখ-বিসুখ হলে কোন সময়
টিপে দিত হাত-পা।
সরিষার তেল মেখে আমার
গরম করত গা।
ছেলের কোন কষ্ট দেখলে মায়ের মুখে
হাসি থাকত না।
স... | http://kobita.banglakosh.com/archives/2170.html |
989 | জীবনানন্দ দাশ | কার্ত্তিকের ভোর- ১৩৫০ | প্রেমমূলক | চারিদিকে ভাঙনের বড় শব্দ,
পৃথিবী ভাঙার কোলাহল;
তবুও তাকালে সূর্য পশ্চিমের দিকে
অস্ত গেলে,... চাঁদের ফসল
পূবের আকাশে
হৃদয় বিহীনভাবে আন্তরিকতা ভালবাসে। তেরোশো পঞ্চাশ সালে কার্ত্তিকের ভোর;
সূর্যালোকিত সব স্থান
যদিও লঙ্গরখানা,
যদিও শ্মশান,
তবুও কল্কির ঘোড়া সরায়ে মেয়েটি তার যুবকের কাছে
সূর্যালোকিত হয়ে আছে। | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/kartiker-vor-1350/ |
4675 | শামসুর রাহমান | গন্ডার গন্ডার | মানবতাবাদী | বাঁচতে পারবে? কী করে বাঁচবে? চৌদিকে ক্রূর
কী একটা যেন তোমার গন্ধ বেড়াচ্ছে শুঁকে;
বুঝি ছায়াটাও কালো ইস্পাতী নখর-ফলায়
ফেলবে উপড়ে। বাইরে সদাই কতো সুচতুর
ফাঁদ পাতা থাকে, কন্টকময়; সুখে কি অসুখে
নির্বান্ধব, বেখাপ্পা তুমি চলায় বলায়।কাদায় নুড়িতে এবং খোয়ায় নিজের রক্ত
দেখেও তোমার শিরায় গলিতে তুহিন প্রবাহ
বয় না, শুধুই লোহার অনেক ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/gondar-gondar/ |
3454 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রশ্নের অতীত | নীতিমূলক | হে সমুদ্র, চিরকাল কী তোমার ভাষা
সমুদ্র কহিল, মোর অনন্ত জিজ্ঞাসা।
কিসের স্তব্ধতা তব ওগো গিরিবর?
হিমাদ্রি কহিল, মোর চির-নিরুত্তর। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/proshner-otit/ |
5539 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | সব্যসাচী | মানবতাবাদী | অভুক্ত শ্বাপদচক্ষু নিঃস্পন্দ আঁধারে
জ্বলে রাত্রিদিন।
হে বন্ধু, পশ্চাতে ফেলি অন্ধ হিমগিরি
অনন্ত বাধ্যক্য তব ফেলুক নিঃশ্বাস;
রক্তলিপ্ত যৌবনের অন্তিম পিপাসা
নিষ্ঠুর গর্জনে আজ অরণ্য ধোঁয়ায়
উঠুক প্রজ্বলি'।
সপ্তরথী শোনে নাকো পৃথিবীর শৈশবক্রন্দন,
দেখে নাই নির্বাকের অশ্রুহীন জ্বালা।
দ্বিধাহীন চণ্ডালের নির্লিপ্ত আদেশে।
আদিম ক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1095 |
3779 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যাওয়া-আসার একই যে পথ | রূপক | যাওয়া-আসার একই যে পথ
জান না তা কি অন্ধ।
যাবার পথ রোধিতে গেলে
আসার পথ বন্ধ । (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jawa-asar-eki-je-poth/ |
5084 | শামসুর রাহমান | মধ্যরাতে ঝুঁকে থাকে | চিন্তামূলক | সূর্যাস্তে পাখির ডানা ক্লীর ছবি, দু’চারটে গাছ
অশ্রুপাত করে, কালো মখমলী নিঃসঙ্গ বেড়াল
কুড়ায় আলস্যকণা। নিরালা চায়ের শূন্য কাপ
টেবিলের অত্যন্ত নেতানো তাপ নেয়, এলোমেলো
খাতার পাতায় দীর্ঘশ্বাস; হাওয়া বয়, বল পেন
মৃতের মতোই চিৎ হয়ে শুয়ে আছে, বুকে বোবা
বহুক্ষণ, চক্ষু স্থির, যেন আমি দেখি না কিছুই
কিছুই যায় না শোনা। সন্ধ্যায় বস্ত... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/modhyorate-jhuke-thake/ |
3094 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জামাই মহিম এল | ছড়া | জামাই মহিম এল, সাথে এল কিনি–
হায় রে কেবলই ভুলি ষষ্ঠীর দিনই।
দেহটা কাহিল বড়ো, রাঁধবার নামে,
কে জানে কেন রে, বাপু, ভেসে যায় ঘামে।
বিধাতা জানেন আমি বড়ো অভাগিণী।
বেয়ানকে লিখে দেব, খাওয়াবেন তিনি। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jamai-mohim-elo/ |
3156 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তুমি এবার আমায় লহো | ভক্তিমূলক | তুমি এবার আমায় লহো হে নাথ, লহো।
এবার তুমি ফিরো না হে–
হৃদয় কেড়ে নিয়ে রহো।
যে দিন গেছে তোমা বিনা
তারে আর ফিরে চাহি না,
যাক সে ধুলাতে।
এখন তোমার আলোয় জীবন মেলে
যেন জাগি অহরহ।কী আবেশে কিসের কথায়
ফিরেছি হে যথায় তথায়
পথে প্রান্তরে,
এবার বুকের কাছে ও মুখ রেখে
তোমার আপন বাণী কহো।কত কলুষ কত ফাঁকি
এখনো যে আছে বাকি
মনের গোপনে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/tumi-ebar-may-loho/ |
3202 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দারুণ | প্রকৃতিমূলক | দারুণ অগ্নিবাণে রে হৃদয় তৃষায় হানে রে॥
রজনী নিদ্রাহীন, দীর্ঘ দগ্ধ দিন
আরাম নাহি যে জানে রে॥
শুষ্ক কাননশাখে ক্লান্ত কপোত ডাকে
করুণ কাতর গানে রে॥
ভয় নাহি, ভয় নাহি। গগনে রয়েছি চাহি।
জানি ঝঞ্ঝার বেশে দিবে দেখা তুমি এসে
একদা তাপিত প্রাণে রে॥ | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3-%e0%a6%85%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8/ |
5913 | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | চিরকুট | মানবতাবাদী | শতকোটি প্রণামান্তে
হুজুরে নিবেদন এই_
মাপ করবেন খাজনা এ সন
ছিটেফোঁটাও ধান নেই। মাঠেঘাটে কপাল ফাটে
দৃষ্টি চলে যত দূর
খাল শুক্নো বিল শুক্নো
চোখের কোলে সমুদ্দুর। হাত পাতব কার কাছে কে
গাঁয়ে সবার দশা এক
তিন সন্ধে উপোস দিয়ে
খাচ্ছি আজ বুনো শাক। পরনে যা আছে তাতে
ঢাকা যায় না লজ্জা
ঘটি বাটি বেচেছি সব
আছে বলতে ছিল যা। এ দুর্দিনে... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4461.html |
1099 | জীবনানন্দ দাশ | পৃথিবী ও সময় | চিন্তামূলক | সময়ের উপকণ্ঠে রাত্রি প্রায় হয়ে এল আজ
সূর্যকে পশ্চিমে দেখি সারা শতাব্দীর
অক্লান্ত রক্তের বোঝা গুছায়ে একাকী
তবুও আশার মত মেঘে মেঘে বলয়িত হয়ে
শেষ আলো ঢেলে যায়;- জ্যোতিঃপ্রাণধর্মী সূর্য অই;
একদিন অ্যামিবার উৎসরণ এনেছিল;
জীবনের ফেনশীর্ষ সিন্ধুর কল্লোল এক দিন
মানুষকে পেয়ে;- না-মর্মী মানুষ সেই দিন
ভয় পেত, গুহায় লুকাত,- তবু সূ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/prithibii-o-shomoy/ |
5034 | শামসুর রাহমান | বিস্মিত দৃষ্টিতে | চিন্তামূলক | বহুক্ষণ হেঁটে, হেঁটে, হেঁটে
কোথায় এসেছি
গায়ে-কাঁটা-দেয়া এই জন্মন্ধ সন্ধ্যায়?
মনে হচ্ছে পশ্চিম আকাশ
কালো বিস্কুটের মতো আর
চাঁদ কোনও বুড়োর ধরনে কতিপয়
ফোকলা দাঁতের আহামরি সৌন্দর্যের
বিদঘুটে বাজারু প্রচারে কী অশ্লীল!বিদঘুটে, হিংসুটে এক বৃক্ষতলে
ক’জন জুয়াড়ি
মেতেছে খেলায় আর কখনও কখনও
তাদের হুল্লোড়ে কেঁপে ওঠে
জমি, যেন গিলে খা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/bishmito-drishtite/ |
2845 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ওগো শীত | প্রকৃতিমূলক | ওগো শীত, ওগো শুভ্র, হে তীব্র নির্মম,
তোমার উত্তরবায়ু দুরন্ত দুর্দম
অরণ্যের বক্ষ হানে। বনস্পতি যত
থর থর কম্পমান, শীর্ষ করি নত
আদেশ-নির্ঘোষ তব মানে। “জীর্ণতার
মোহবন্ধ ছিন্ন করো’ এ বাক্য তোমার
ফিরিছে প্রচার করি জয়ডঙ্কা তব
দিকে দিকে। কুঞ্জে কুঞ্জে মৃত্যুর বিপ্লব
করিছে বিকীর্ণ শীর্ণ পর্ণ রাশি রাশি
শূন্য নগ্ন করি শা... | http://kobita.banglakosh.com/archives/5761.html |
887 | জসীম উদ্দীন | সবার সুখে | নীতিমূলক | সবার সুখে হাসব আমি
কাঁদব সবার দুখে,
নিজের খাবার বিলিয়ে দেব
অনাহারীর মুখে।আমার বাড়ির ফুল-বাগিচা,
ফুল সকলের হবে,
আমার ঘরে মাটির প্রদীপ
আলোক দিবে সবে।আমার বাড়ি বাজবে বাঁশি,
সবার বাড়ির সুর,
আমার বাড়ি সবার বাড়ি
রইবে না ক দুর। | https://www.bangla-kobita.com/jasimuddin/post20160508085944/ |
5989 | হুমায়ুন আজাদ | বাঙলা ভাষা | স্বদেশমূলক | শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী-
একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী।
আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার।
তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়-
হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়।
লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ শেকলের
মুখোমুখি... | https://banglarkobita.com/poem/famous/507 |
5235 | শামসুর রাহমান | শুনি অপরাহ্নে | সনেট | শুনি অপরাহ্নে অর্ফিয়ূস বাজায় মোহন বাঁশি-
ভাঙাচোরা পৌর পথ, মায় ঘরদোর, শীর্ণ গাছ
কেমন বদলে যায় নিমেষেই আর জোড়ে নাচ
বস্তুপুজ্ঞ দশদিকে। ভালোবাসি, আমি ভালোবাসি
উচ্চারণ ক’রে যেন স্বপ্নময় মেঘলোকে ভাসি;
ভালোবাসি, ভালোবাসি। সে ভালোবাসুক আর না-ই
বাসুক আমাকে, পুরোপুরি না হোক আমার, গাই
তবু তারই গান, আপাতত নই কিছুরই প্রত্যাশী।এই কি... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shuni-opranhe/ |
516 | কাজী নজরুল ইসলাম | সতী হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে | ভক্তিমূলক | সতী হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে
বিষাণ ত্রিশূল ফেলি গভীর বিষাদে
জটাজুটে গঙ্গা নিস্তরঙ্গা
রাহু যেন গ্রাসিয়াছে ললাটের চাঁদে।দুই করে দেবী-দেহ ধরে বুকে বাঁধে
রোদনের সুর বাজে প্রণব নিনাদে
ভক্তের চোখে আজি ভগবান শঙ্কর
সুন্দরতর হল পড়ি মায়া ফাঁদে।। | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/shoti-hara-udashi-voirob-kadey/ |
5598 | সুকুমার রায় | খুড়োর কল | ছড়া | কল করেছেন আজবরকম চণ্ডীদাসের খুড়ো—
সবাই শুনে সাবাস বলে পাড়ার ছেলে বুড়ো।
খুড়োর যখন অল্প বয়স— বছর খানেক হবে—
উঠল কেঁদে ‘গুংগা’ বলে ভীষন অট্টরবে।
আর তো সবাই ‘মামা’ ‘গাগা’ আবোল তাবোল বকে,
খুড়োর মুখে ‘গুংগা’ শুনে চম্কে গেল লোকে।
বল্লে সবাই, “এই ছেলেটা বাঁচলে পরে তবে,
বুদ্ধি জোরে এ সংসারে একটা কিছু হবে।”
সেই খুড়ো আজ কল করেছ... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/khuror-kol/ |
1454 | নাজিম মাহমুদ | দুঃসাধ্য | চিন্তামূলক | বড় বড় ত্যাগ যতো সহজ
ছোটো ছোটো ত্যাগ ততোই কঠিন
বড় ত্যাগে এক ধরনের অহম আছে
ছোটো ছোটো ত্যাগে কোনো ঘোষনা নেই
বড় ত্যাগ প্রত্যাশা করে সহস্র সাধুবাদ
মানুষের করতালি ইতিহাসে স্বাক্ষর
ছোটো ছোটো ত্যাগ কিছুই চায় না
সহজাত সে এক প্রবৃত্তি
দারুন গরমে ট্রেনে জানলার সীট
প্রচণ্ড ভীড়ে বাসের আসন
দীর্ঘ কিউতে নিজ স্থান
অনায়াসে সে... | https://banglapoems.wordpress.com/2008/05/17/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6/ |
3554 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বাদশাহের হুকুম | মানবতাবাদী | বাদশাহের হুকুম,--
সৈন্যদল নিয়ে এল আফ্রাসায়েব খাঁ, মুজফ্ফর খাঁ,
মহম্মদ আমিন খাঁ,
সঙ্গে এল রাজা গোপাল সিং ভদৌরিয়া,
উদইৎ সিং বুন্দেলা।
গুরুদাসপুর ঘেরাই করল মোগল সেনা।
শিখদল আছে কেল্লার মধ্যে,
বন্দা সিং তাদের সর্দার।
ভিতরে আসে না রসদ,
বাইরে যাবার পথ সব বন্ধ।
থেকে থেকে কামানের গোলা পড়ছে
প্রাকার ডিঙিয়ে--
চারদিকের দিক্... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/basahar-hukum/ |
3610 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিশ্বধরণীর বিপুল কুলায় | চিন্তামূলক | বিশ্বধরণীর এই বিপুল কুলায়
সন্ধ্যা-- তারি নীরব নির্দেশে
নিখিল গতির বেগ ধায় তারি পানে।
চৌদিকে ধূসরবর্ণ আবরণ নামে।
মন বলে, ঘরে যাব--
কোথা ঘর নাহি জানে।
দ্বার খোলে সন্ধ্যা নিঃসঙ্গিনী,
সম্মুখে নীরন্ধ্র অন্ধকার।
সকল আলোর অন্তরালে
বিস্মৃতির দূতী
খুলে নেয় এ মর্তের ঋণ-করা সাজসজ্জা যত--
প্রক্ষিপ্ত যা-কিছু তার নিত্যতার মাঝে
ছি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/beshadaruner-bepul-kulay/ |
2507 | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | বাংলা শায়েরী - ১৫৬ | প্রেমমূলক | একজনা কেউ বলেছিলো, জামান তোমার ঠিকানা কী ?
আমি বলি, আমি কে তাই জানতে আজও রইলো বাকি ।
আছি কি নেই সেটাই আগে ফয়সালা হোক নিজের কাছে
হাত দিয়ে এই শরীরটা ছুঁই
চমকে সে কয় কে ওরে তুই ?
আমিও তো বুঝি না সে সত্যি সত্যি আমার নাকি !! | https://www.bangla-kobita.com/rafiquzzaman/bangla-shayeri-156/ |
2995 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গান দিয়ে যে তোমায় | ভক্তিমূলক | গান দিয়ে যে তোমায় খুঁজি
বাহির মনে
চিরদিবস মোর জীবনে।
নিয়ে গেছে গান আমারে
ঘরে ঘরে দ্বারে দ্বারে,
গান দিয়ে হাত বুলিয়ে বেড়াই
এই ভুবনে।কত শেখা সেই শেখালো,
কত গোপন পথ দেখালো,
চিনিয়ে দিল কত তারা
হৃদ্গগনে।
বিচিত্র সুখদুখের দেশে
রহস্যলোক ঘুরিয়ে শেষে
সন্ধ্যাবেলায় নিয়ে এল
কোন্ ভবনে।৯ শ্রাবণ, ১৩১৭
(গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/gan-diye-je-tomay/ |
4000 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | স্বদেশদ্বেষী | নীতিমূলক | কেঁচো কয়, নীচ মাটি, কালো তার রূপ।
কবি তারে রাগ ক’রে বলে, চুপ চুপ!
তুমি যে মাটির কীট, খাও তারি রস,
মাটির নিন্দায় বাড়ে তোমারি কি যশ! (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/swadeshdeshi/ |
5752 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কবিতা মুর্তিমতী | চিন্তামূলক | শুয়ে আছে বিছানায়, সামনে উম্মুক্ত নীল খাতা
উপুড় শরীর সেই রমণীর, খাটের বাইরে পা দু’খানি
পিঠে তার ভিজে চুল,
এবং সমুদ্রে দু’টি ঢেউ
ছায়াময় ঘরে যেন কিসের সুদন্ধ,
– জানায়
রৌদ্র যেন জলকণা, দূরে নীল নক্ষত্রের দেশ।
কী লেখে সে, কবিতা? না কবিতা রচনা করে তাকে?
সে বড় অসি’র, তার চোখে বড় বেশী অশ্রু আছে
পাশ ফেরা মুখখানি-
এখন স্তব্ধতা ম... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1832 |
907 | জীবনানন্দ দাশ | অনেক মুহূর্ত আমি করেছি ক্ষয় করে | প্রেমমূলক | অনেক মুহূর্ত আমি করেছি ক্ষয়
করে ফেলে বুঝছি সময়
যদিও অনন্ত, তবু প্রেম যেন অনন্ত নিয়ে নয়।তবু তোমাকে ভালোবেসে
মুহূর্তের মধ্যে ফিরে এসে
বুঝেছি অকূলে জেগে রয়
ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয় । | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/oneyk-muhurto-khoy-korey/ |
29 | অমিয় চক্রবর্তী | বিনিময় | চিন্তামূলক | তার বদলে পেলে—
সমস্ত ঐ স্তব্ ধ পুকুর
নীল-বাঁধানো স্বচ্ছ মুকুর
আলোয় ভরা জল—
ফুলে নোয়ানো ছায়া-ডালটা
বেগনি মেঘের ওড়া পালটা
ভরলো হৃদয়তল—
একলা বুকে সবই মেলে ||তার বদলে পেলে—
শাদা ভাবনা কিছুই-না-এর
খোলা রাস্তা ধুলো-পায়ের
কান্না-হারা হাওয়া—
চেনা কণ্ঠে ডাকলো দূরে
সব-হারানো এই দুপুরে
ফিরে কেউ-না-চাওয়া |
এও কি রেখে গেলে || | http://kobita.banglakosh.com/archives/3779.html |
2508 | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | বাংলা শায়েরী - ১৮৭ | প্রেমমূলক | কোথায় এলাম তা জানি না জানি শুধু এলাম চলে
তোমার ডাকে এসেছি তাই তুমিই দায়ী বেভুল হলে ।
পথের রেখা কোনো দিনই হয়নি আমার এঁকে রাখা
চলে চলেই পথ গড়েছি, এ পথ তোমার হবে বলে ।। | https://www.bangla-kobita.com/rafiquzzaman/bangla-shayeri-187/ |
2429 | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | গলায় দড়ি | ছড়া | মরি আমি মরি
এই বলে হরি
দিল গলায় দড়ি।
(কী হল? হাসছ কেন?
সমস্যাটা কী?) | https://banglarkobita.com/poem/famous/2040 |
763 | জয় গোস্বামী | হোটেলের | রূপক | তোরা সব উঠে গেলি পাহাড়ে ঝোলানো সরু ব্রীজে-
তোদের ধূসর জামা, ছেঁড়া-ছেঁড়া নীল-সাদা টুপি
ভেসে ভেসে এলো আর হোটেলের সারাঘর ভিজে-
প্যাগোডার মতো ছাদ – তার পাশ দিয়ে চুপি চুপিএমন বিব্রত, সিক্ত ঘরখানি লক্ষ করে তিনখানি ঝাউ ।
সার বেঁধে উঠে যাওয়া পাইনের সবুজ রিবনে
যে-কটি জলের কণা ছিল, তারা হাওয়া লেগে বাতাসে উধাও …
এমন বাতাস যার কোন... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%9f-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac/ |
3748 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মেছুয়াবাজার থেকে পালোয়ান চারজন | হাস্যরসাত্মক | মেছুয়াবাজার থেকে
পালোয়ান চারজন
পরের ঘরেতে করে
জঞ্জাল-মার্জন।
ডালায় লাগিয়ে চাপ
বাক্সো করেছে সাফ,
হঠাৎ লাগালো গুঁতো
পুলিসের সার্জন।
কেঁদে বলে, “আমাদের
নেই কোনো গার্জন,
ভেবেছিনু হেথা হয়
নৈশবিদ্যালয়–
নিখর্চা জীবিকার
বিদ্যা-উপার্জন।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/mechuabazr-theke-palowan-charjon/ |
285 | কাজী নজরুল ইসলাম | খোকার খুশি | ছড়া | কী যে ছাই ধানাই-পানাই –
সারাদিন বাজছে সানাই,
এদিকে কারুর গা নাই
আজই না মামার বিয়ে!
বিবাহ! বাস, কী মজা!
সারাদিন মণ্ডা গজা
গপাগপ খাও না সোজা
দেয়ালে ঠেসান দিয়ে।
তবু বর হচ্ছিনে ভাই,
বরের কী মুশকিলটাই –
সারাদিন উপোস মশাই
শুধু খাও হরিমটর!
শোনো ভাই, মোদের যবে
বিবাহ করতে হবে –
‘বিয়ে দাও’ বলব, ‘তবে
কিছুতেই হচ্ছিনে বর!’
সত্যি, ক... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/khokar-khushi/ |
687 | জয় গোস্বামী | দুখানি জানুর মতো খোলা | প্রেমমূলক | দুখানি জানুর মতো খোলা
হাড়িকাঠ
মুখ রাখো তাতে
চোখের পলক ফেলতে মাথা ছিঁটকে চলে যাবে সামনের মাঠে | https://banglarkobita.com/poem/famous/1745 |
2354 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | বসন্তে-১ | ভক্তিমূলক | (১) ফুটিল বকুলকুল কেন লো গোকুলে আজি,
কহ তা, স্বজনি?
আইলা কি ঋতুরাজ? ধরিলা কি ফুলসাজ,
বিলাসে ধরণী?
মুছিয়া নয়ন-জল, চল লো সকলে চল,
শুনিব তমাল তলে বেণুর সুরব;---
আইল বসন্ত যদি, আসিবে মাধব!(২) যে কালে ফুটে লো ফুল, কোকিল কুহরে, সই,
কুসুমকাননে,
মুঞ্জরয়ে তরুবলী, গুঞ্জরয়ে সুখে... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/bosonte-1/ |
4878 | শামসুর রাহমান | নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের সৈকতে | প্রেমমূলক | আমার ভেতর থেকে আশ্চর্য এক যুবক
সামুরাই তরবারির ঝলসানির আঙ্গিকে
বেরিয়ে সরাসরি হেঁটে যায়
তোমার নিবাসে রাস্তার ভিড় আর
কোলাহলের চারদিকে পর্দা টেনে দিয়ে।
তুমি তাকে না দেখে
তাকাও এক স্তূপ ধূসরতার দিকে;
তোমার ভুরুর মাঝখানে দ্বিধাদ্বন্দ্বের দোলক।এই হাত দুটো আমার, দেখ এই
এক জোড়া চোখ, এই ওষ্ঠ আমার;
শোনো, বুকের এই ধুকপুকুনি আমার-... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/natishitosno-mondoler-soikote/ |
22 | অমিতাভ দাশগুপ্ত | মধ্যরাত | রূপক | মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল . . .
দুই ঠোঁট ছিঁড়ে নাও,
চোখের কোটর থেকে নীলপদ্ম তুলে নাও,
নিষিদ্ধ দেরাজ থেকে তুলে নাও বক্র ছুরি-ছররা-কার্তুজ।মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল . . .
পিকাপে চকিত দেখা রূপস চিতার আলোড়ণে
তোমার শাড়ির ডোরা, হেডলাইট ছুটেছে অস্থির,
ভুটানি মদের গন্ধ খোলা চিলে,
তোমাকে চুম্বন করলে সমুদ্রের নীল জল ভয়ঙ্কর ফু... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2-amitav/ |
2753 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আলো তার পদচিহ্ন | রূপক | আলো তার পদচিহ্ন
আকাশে না রাখে;
চলে যেতে জানে, তাই
চিরদিন থাকে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/alo-tar-podochinho/ |
886 | জসীম উদ্দীন | সকিনা | কাহিনীকাব্য | দুখের সায়রে সাঁতারিয়া আজ সকিনার তরীখানি,
ভিড়েছে যেখানে, সেতা নাই কূল, শুধুই অগাধ পানি।
গরীবের ঘরে জন্ম তাহার, বয়স বাড়িতে হায়,
কিছু বাড়িল না, একরাশ রূপ জড়াইল শুধু গায়।
সেই রূপই তার শত্রু হইল, পন্যের মত তারে,
বিয়ে দিল বাপ দুই মুঠি ভরি টাকা আধুলির ভারে!
খসম তাহার দাগী-চোর, রাতে রহিত না ঘরে,
হেথায় হোথায় ঘুরিয... | https://banglarkobita.com/poem/famous/497 |
918 | জীবনানন্দ দাশ | অশ্বত্থে সন্ধ্যার হাওয়া যখন লেগেছে | সনেট | অশ্বত্থে সন্ধ্যার হাওয়া যখন লেগেছে নীল বাংলার বনে
মাঠে মাঠে ফিরি একা: মনে হয় বাংলার জীবনে সঙ্কট
শেষ হয়ে গেছে আজ; — চেয়ে দেখ কতো শত শতাব্দীর বট
হাজার সবুজ পাতা লাল ফল বুকে লয়ে শাখার ব্যজনে
আকাঙ্খার গান গায় — অশ্বত্থেরও কি যেন কামনা জাগে মনে :
সতীর শীতল শব বহু দিন কোলে লয়ে যেন অকপট
উমার প্রেমের গল্প পেয়েছে সে, চন্দ্রশেখর... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/oshshotthey-sondhyar-hawoa-jokhon-legese/ |
1041 | জীবনানন্দ দাশ | তবু | চিন্তামূলক | সে অনেক রাজনীতি রুগ্ন নীতি মারী
মন্বন্তর যুদ্ধ ঋণ সময়ের থেকে
উঠে এসে এই পৃথিবীর পথে আড়াই হাজার
বছরে বয়সী আমি;
বুদ্ধকে স্বচক্ষে মহানির্বাণের আশ্চর্য শান্তিতে
চ’লে যেতে দেখে— তবু—অবিরল অশান্তির দীপ্তি ভিক্ষা ক’রে
এখানে তোমার কাছে দাঁড়ায়ে রয়েছি;
আজ ভোরে বাংলার তেরোশো চুয়ান্ন সাল এই
কোথাও নদীর জলে নিজেকে গণনা ক’রে ন... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/tobu/ |
1266 | জীবনানন্দ দাশ | স্বভাব | প্রেমমূলক | যদিও আমার চোখে ঢের নদী ছিলো একদিন
পুনরায় আমাদের দেশে ভোর হ’লে,
তবুও একটি নদী দেখা যেতো শুধু তারপর;
কেবল একটি নারী কুয়াশা ফুরোলে
নদীর রেখার পার লক্ষ্য ক’রে চলে;
সূর্যের সমস্ত গোল সোনার ভিতরে
মানুষের শরীরের স্থিরতর মর্যাদার মতো
তার সেই মূর্তি এসে পড়ে।
সূর্যের সম্পূর্ণ বড় বিভোর পরিধি
যেন তার নিজের জিনিস।
এতদিন পরে সেই... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/shovab/ |
5244 | শামসুর রাহমান | শ্বাসকষ্ট | চিন্তামূলক | হৈ হৈ হাটে কিছু কেনাকাটা কিংবা বেচা
ছিল না আমার মনে। তবু
ঘেঁষাঘেষি, পা মাড়ানো, গুঁতোগুঁতি আমাকে বিব্রত,
বিমর্ষ, বিপন্ন করে। কেউ কেউ রক্তের তিলক
কপালে পরিয়ে দেয়, কেউ বা পাঠায়
লাঠির অরণ্যে, হামেশাই গালি গালাজের বানে
ভাসি, আর কোমরবন্ধের নিচে খুশি
মেরে প্রতিপক্ষ সুখে পানসি ভাসায় নদীবক্ষে পাল তুলে।খুব সাবধানে তাঁবু খাটিয়ে ন... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shaskoshto/ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.