id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
3702 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মহারাজা ভয়ে থাকে | হাস্যরসাত্মক | মহারাজা ভয়ে থাকে
পুলিশের থানাতে,
আইন বানায় যত
পারে না তা মানাতে।
চর ফিরে তাকে তাকে–
সাধু যদি ছাড়া থাকে
খোঁজ পেলে নৃপতিরে
হয় তাহা জানাতে,
রক্ষা করিতে তারে
রাখে জেলখানাতে। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/moharaja-voye-thake/ |
4244 | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | যেতে | চিন্তামূলক | ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভাল
এত কালো মেখেছি দু হাতে
এত কাল ধরে।
কখনো তোমার করে, তোমাকে ভাবিনি।
এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ্ ডাকে আয়, আয়, আয়।
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতা কাঠ ডাকে আয়, আয়, আয়।যেতে পারি,
যেকোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু, কেন যাবো?সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো
যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac/#respond |
689 | জয় গোস্বামী | নিজের ছেলেকে খুন ক’রে | মানবতাবাদী | নিজের ছেলেকে খুন ক’রে
ঐ দেখ, চলেছে অভাবী
নিজের মেয়েকে বিক্রি ক’রে
ঐ ফিরে যাচ্ছেন জননী
ওদের সঞ্চয় থেকে ফেরার রাস্তায় পড়ে যায়
অশ্রুর বদলে বালি, পয়সা ও রক্তের চাকতি–গোল
তারপর সমস্ত জল। শুধু ওই গোল গোল পাথরে
আগুন ধকধক করবে একদিন, আর সেই আগুনে পা ফেলে
ক্রোধ শোক দগ্ধ এক জলে ডোবা দেশ
পুনরায়, খুঁজে খুঁজে বেড়াবে পাগল | https://banglarkobita.com/poem/famous/1746 |
3433 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রথম পূজা | গাথাকাব্য | ত্রিলোকেশ্বরের মন্দির।
লোকে বলে স্বয়ং বিশ্বকর্মা তার ভিত-পত্তন করেছিলেন
কোন্ মান্ধাতার আমলে,
স্বয়ং হনুমান এনেছিলেন তার পাথর বহন করে।
ইতিহাসের পণ্ডিত বলেন, এ মন্দির কিরাত জাতের গড়া,
এ দেবতা কিরাতের।
একদা যখন ক্ষত্রিয় রাজা জয় করলেন দেশ
দেউলের আঙিনা পূজারিদের রক্তে গেল ভেসে,
দেবতা রক্ষা পেলেন নতুন নামে নতুন পূজাবিধির আড়াল... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/pratham-puja/ |
967 | জীবনানন্দ দাশ | একদিন কুয়াশার এই মাঠে | সনেট | একদিন কুয়াশার এই মাঠে আমারে পাবে না কেউ খুঁজে আর, জানি;
হৃদয়ের পথ চলা শেষ হল সেই দিন — গিয়েছে যে শান — হিম ঘরে,
অথবা সান্ত্বনা পেতে দেরি হবে কিছু কাল — পৃথিবীর এই মাঠখানি
ভুলিতে বিলম্ব হবে কিছু দিন, এ মাঠের কয়েকটি শালিকের তরে
আশ্চর্য আর বিস্ময়ে আমি চেয়ে রবো কিছু কাল অন্ধকার বিছানার কোলে,
আর সে সোনালি চিল ডানা মেলে দূর ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ekdin-kuashar-ei-mathey/ |
5730 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | আমার কৈশোর | প্রকৃতিমূলক | শিউলি ফুলের রাশি শিশিরের আঘাতও সয় না
অন্তর আমার কৈশোরে তারা এ-রকমই ছিল
এখন শিউলি ফুলের খবরও রাখি না অবশ্য
জানি না, তারা স্বভাব বদলেছে কিনা।
আমার কৈশোরে শিউলির বোঁটার রং ছিল শুধু
শিউলির বোঁটারই মতন
কোনো কিছুর সঙ্গেই তার তুলনা চলতো না
আমার কৈশোরে পথের ওপর ঝরে পড়ে থাকা
শিশির মাখা শিউলির ওপর পা ফেললে
পাপ হতে
আমার পাপ কাটাব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1820 |
2204 | মহাদেব সাহা | ফিরে দাও রাজবংশ | চিন্তামূলক | দূতাবাসে উড়ছে পতাকা
অর্থাৎ স্বাধীন আমরা এ-কথা মানতেই
হয়, রাষ্ট্রীয় সনদ আছে দেশে
দেশে আমরা স্বাধীন;
তবু মনে হয় এ যুগে কোথাও কোনো স্বাধীনতা
নেই, বরং এ যুগে মানুষ যেন
পোষমানা দুর্বল মহিষ, নিজের যৌবন
আজ তার কাছে সবচেয়ে বড়ো অপরাধ, নিজের
বিরেক আজ তার সবচেয়ে
বিদগ্ধ কসাই;
যেখানেই বলো না কেন আমাদের
আজ কোনো স্বাধীনতা নেই,
না কথা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1472 |
2714 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে | ভক্তিমূলক | আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে
তখন কে তুমি তা কে জানত।
তখন ছিল না ভয়, ছিল না লাজ মনে,
জীবন বহে যেত অশান্ত।
তুমি ভোরের বেলা ডাক দিয়েছ কত
যেন আমার আপন সখার মতো,
হেসে তোমার সাথে ফিরেছিলাম ছুটে
সেদিন কত-না বন-বনান্ত।ওগো, সেদিন তুমি গাইতে যে সব গান
কোনো অর্থ তাহার কে জানত।
শুধু সঙ্গে তা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/khela-jokhon-chhilo/ |
4758 | শামসুর রাহমান | তখনই হঠাৎ | প্রেমমূলক | তোমার সান্নিধ্যে কিছুকাল অলৌকিক সরোবরে
কেটেছি সাঁতার, অকস্মাৎ শেষ হলো জলকেলি,
যেমন কেবল আলাপেই সাঙ্গ করেন সঙ্গীত
কোনো গুণী কী খেয়ালে। জানতাম, বিদায়ের পালা
আসবেই একদিন হৃদয়ে ছড়িয়ে রাশি রাশি
তেজস্ক্রিয় ছাই, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি ঘটে যাবে
ভয়ংকর অবসান, কখনো ভাবিনি আগে। তুমি
কিংবা আমি কেউ নয় দায়ভাগী এমন সংকটে।যা ঘটেছে কে জানে ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tokhoni-hothat/ |
5338 | শামসুর রাহমান | হাঁটছি হাঁটছি | চিন্তামূলক | ভোর নেই, দ্বিপ্রহর নেই,
নেই সন্ধ্যা; হাঁটছি, হাঁটছি।
কখন যে বেলা শেষ হয়ে এলো
বস্তুত পাইনি টের। রাত্রি দাঁত, নখ বের করে
আমাকে খাবলে ধরে। কী ভীষণ যন্ত্রণার ফাঁদে
পড়ে কাতরাতে গিয়ে অসহায়, বোবা হয়ে থাকি।পথের ধূসর ধুলো, কালো
কাঁটা ক্ষিপ্ত, বেয়াড়া গাছের,
আমাকে খোঁচাতে থাকে আর
বেধড়ক রক্ত ঝরে অতিশয় ক্লান্ত শরীরের
নানা শিরা ছিঁড়... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/hatchi-hatchi/ |
5548 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | সেপ্টেম্বর _৪৬ | মানবতাবাদী | কলকাতায় শান্তি নেই।
রক্তের কলঙ্ক ডাকে মধ্যরাত্রে
প্রতিটি সন্ধ্যায়।
হৃৎস্পন্দনধ্বনি দ্রুত হয়ঃ
মূর্ছিত শহর।
এখন গ্রামের মতো
সন্ধ্যা হলে জনহীন নগরের পথ;
স্তম্ভিত আলোকস্তম্ভ
আলো দেয় নিতান্ত সভয়ে।
কোথায় দোকানপাট?
কই সেই জনতার স্রোত?
সন্ধ্যার আলোর বন্যা
আজ আর তোলে নাকো
জনতরণীর পাল
শহরের পথে।
ট্রাম নেই, বাস নেই-
সাহসী প... | https://banglarkobita.com/poem/famous/269 |
3573 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিজ্ঞ | ছড়া | খুকি তোমার কিচ্ছু বোঝে না মা,
খুকি তোমার ভারি ছেলেমানুষ।
ও ভেবেছে তারা উঠছে বুঝি
আমরা যখন উড়েয়েছিলেম ফানুস।
আমি যখন খাওয়া - খাওয়া খেলি
খেলার থালে সাজিয়ে নিয়ে নুড়ি,
ও ভাবে বা সত্যি খেতে হবে
মুঠো করে মুখে দেয় মা, পুরি।
সামনেতে ওর শিশুশিক্ষা খুলে
যদি বলি, ‘খুকি, পড়া করো'
দু হাত দিয়ে পাতা ছিঁড়তে বসে—
তোমার খুকির পড়া কেমনতর... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/biggo/ |
4806 | শামসুর রাহমান | তোমার কিসের তাড়া ছিলো | প্রেমমূলক | (মনসুর আহমদ স্মরণে)তোমার কিসের তাড়া ছিলো অত? কেন তুমি সাত
তাড়াতাড়ি এই গুলজার আড্ডা থেকে গুডবাই
বলে চলে গেলে, কেন? হায় করমর্দন বিনাই
নিয়েছো বিদায়, যেন গূঢ় অভিমানে অকস্মাৎ।
না, অমন করে যেতে নেই নিভিয়ে পূর্ণিমা-রাত,
চেয়ার নিঝুম করে টলটলে গ্লাস ফেলে, ছাই,
ঠান্ডা না হতেই ত্র্যাশাক্ট্রেতে। চাই, তোমাকেই চাই,
বলে যে ব্যাকুল ডা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tomar-kiser-tara-chilo/ |
1991 | বিষ্ণু দে | তুমিই মালিনী | চিন্তামূলক | তুমিই মালিনী, তুমিই তো ফুল জানি ।
ফুল দিয়ে যাও হৃদয়ের দ্বারে, মালিনী,
বাতাসে গন্ধ, উৎস কি ফুলদানি,
নাকি সে তোমার হৃদয়সুরভি হাওয়া ?
দেহের অতীতে স্মৃতির ধূপ তো জ্বালি নি
কালের বাগানে থামে নি কো আসা যাওয়া
ত্রিকাল বেঁধেছ গুচ্ছে তোমার চুলে,
একটি প্রহর ফুলহার দাও খুলে,কালের মালিনী ! তোমাকেই ফুল জানি,
তোমারই শরীরে কালোত্তীর্ণ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4100.html |
4121 | রেদোয়ান মাসুদ | আর কত ভালবাসলে ভালবাসলে আমায় | প্রেমমূলক | আর কত ভালবাসলে
ভালবাসবে তুমি আমায়?
আর কত কাঁদলে
গলবে তোমার হৃদয়?
আর কত রাত জাগলে
বুঝবে তুমি আমায়?
আর কত অপেক্ষা করলে
শেষ হবে অপেক্ষা আমার?
আর কত দিন কাটলে
আসবে তুমি কাছে আমার?
আর কত পোড়ায়ে
খাটি করবে আমার হৃদয়?
আর কত সাগরে ভাসলে
দেখা দিবে তুমি আমায়?
আর কত পরীক্ষার পর
শেষ হবে আমাকে জানার?
আর কত ভালবাসলে
ভালবাসবে তুমি আমা... | http://kobita.banglakosh.com/archives/2176.html |
4760 | শামসুর রাহমান | তবু তাকেই | প্রেমমূলক | কে আমাকে দিন দুপুরে রাত দুপুরে
কাপড় কাচার মতো ক’রে নিঃড়ে নিচ্ছে?
আমার মেদ আমার মজ্জা শুষে নিচ্ছে?
কে আমাকে এভাবে রোজ কষ্ট দিচ্ছে?কে আমাকে পাগল-করা নিঝুম সুরে
ঘর ছড়িয়ে পথের ধারে দিচ্ছে ঠেলে?
মাথার ভেতর পিঁপড়ে শত দিচ্ছে পুরে?
হাত-পা বেঁধে যখন তখন শাস্তি দিচ্ছে?যখন কিছু লিখতে বসি, মত্ত পাখি
ডাকাডাকি করতে থাকে শিরায় শিরায়,... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tobu-takei/ |
5504 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | বিক্ষোভ | স্বদেশমূলক | দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম,
হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানলাম।
জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠছে কেঁপে
ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,
কখনো কেউ কি ভূমিকম্পের আগে
হাতে শাঁখ নেয়, হঠাৎ সবাই জাগে?
যারা আজ এত মিথ্যার দায়ভাগী,
আজকে তাদের ঘৃণার কামান দাগি।
ইতিহাস, জানি নীরব সাক্ষী তুমি,
আমরা চেয়েছি স্বাধীন স্বদেশভূমি,
অনেকে বিরূপ... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/bikkhov/ |
5460 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | চারাগাছ | মানবতাবাদী | ভাঙা কুঁড়ে ঘরে থাকি:
পাশে এক বিরাট প্রাসাদ
প্রতিদিন চোখে পড়ে;
সে প্রাসাদ কি দুঃসহ স্পর্ধায় প্রত্যহ
আকাশকে বন্ধুত্ব জানায়,
আমি তাই চেয়ে চেয়ে দেখি।
চেয়ে চেয়ে দেখি আর মনে মনে ভাবি-
এ অট্টালিকার প্রতি ইটের হৃদয়ে
অনেক কাহিনী আছে অত্যন্ত গোপনে,
ঘামের, রক্তের আর চোখের জলের।
তবু এই প্রাসাদকে প্রতিদিন হাজারে হাজারে
সেল... | https://banglarkobita.com/poem/famous/251 |
5749 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | কঙ্কাল ও শাদা বাড়ি | রূপক | শাদা বাড়িটার সামনে আলো-ছায়া-আলো, একটি কঙ্কাল দাঁড়িয়ে
এখন দুপুর রাত অলীক রাত্রির মতো, অররণা রয়েছে খুব ঘুমে-
যে-রকম ঘুম শুধু কুমারীর, যে ঘুম স্পষ্টত খুব নীল;
যে স্তনে লগৈনি দাঁত তার খুব মৃদু ওঠপড়া
তলপেটে একটুও নেই ফাটা.দাগ, এ শরীর আজও ঋণী নয়
এই সেই অরুণা ও রুনি নাম্মী পরা ও অপরা
সুখ ও আসুখ নিয়ে ওষ্ঠাধর, এখন রয়েছে খুব ঘমে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1855 |
3601 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিরহ | প্রেমমূলক | আমি নিশি - নিশি কত রচিব শয়ন
আকুলনয়ন রে !
কত নিতি - নিতি বনে করিব যতনে
কুসুমচয়ন রে !
কত শারদ যামিনী হইবে বিফল ,
বসন্ত যাবে চলিয়া !
কত উদিবে তপন আশার স্বপন ,
প্রভাতে যাইবে ছলিয়া !
এই যৌবন কত রাখিব বাঁধিয়া ,
মরিব কাঁদিয়া রে !
সেই চরণ পাইলে মরণ মাগিব
সাধিয়া সাধিয়া রে ।
আমি কার পথ চাহি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/biroho/ |
5534 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | রেশন কার্ড | মানবতাবাদী | রঘুবীর একদিন দিতে গিয়ে আড্ডা,
হারিয়ে ফেলল ভুলে রেশনের কার্ডটা;
তারপর খোঁজাখুজি এখানে ও ওখানে,
রঘু ছুটে এল তার রেশনের দোকানে,
সেখানে বলল কেঁদে, হুজুর, চাই যে আটা-
দোকানী বলল হেঁকে, চলবে না কাঁদা-কাঁটা,
হাটে মাঠে-ঘাটে যাও, খোঁজো গিয়ে রাস্তায়
ছুটে যাও আড্ডায়, খোঁজো চারিপাশটায়;
কিংবা অফিসে যাও এ রেশন এলাকার,
আমার মামার ... | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/reshon-kard/ |
6042 | হেলাল হাফিজ | নিরাশ্রয় পাচঁটি আঙুল | প্রেমমূলক | নিরাশ্রয় পাচঁটি আঙুল তুমি নির্দ্বিধায়
অলংকার করে নাও, এ আঙুল ছলনা জানে না।
একবার তোমার নোলক, দুল, হাতে চুড়ি
কটিদেশে বিছা করে অলংকৃত হতে দিলে
বুঝবে হেলেন, এ আঙুল সহজে বাজে না।
একদিন একটি বেহালা নিজেকে বাজাবে বলে
আমার আঙুলে এসে দেখেছিলো
তার বিষাদের চেয়ে বিশাল বিস্তৃতি,
আমি তাকে চলে যেতে বলিনি তবুও
ফিরে গিয়েছিলো সে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/114 |
6052 | হেলাল হাফিজ | বেদনা বোনের মত | চিন্তামূলক | একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলাম
শুধু আমাকেই দেখা যায়,
আলোর প্রতিফলন প্রতিসরণের নিয়ম না জানা আমি
সেই থেকে আর কোনদিন আয়না দেখি না।
জননীর জৈবসারে বর্ধিত বৃক্ষের নিচে
কাঁদতাম যখন দাঁড়িয়ে
সজল শৈশবে, বড়ো সাধ হতো
আমিও কবর হয়ে যাই,
বহুদিন হলো আমি সেরকম কবর দেখি না
কবরে স্পর্ধিত সেই একই বৃক্ষ আমাকে দেখে না।
কারুক... | https://banglarkobita.com/poem/famous/124 |
386 | কাজী নজরুল ইসলাম | পুরববঙ্গ | স্বদেশমূলক | পদ্ম-মেঘনা-বুড়িগঙ্গা-বিধৌত পূর্ব-দিগন্তে
তরুণ অরুণ বীণা বাজে তিমির বিভাবরী-অন্তে।
ব্রাহ্ম মুহুর্তের সেই পুরবাণী
জাগায় সুপ্ত প্রাণ জাগায় – নব চেতনা দানি
সেই সঞ্জীবনী বাণী শক্তি তার ছড়ায়
পশ্চিমে সুদূর অনন্তে॥
ঊর্মিছন্দা শত-নদীস্রোত-ধারায় নিত্য পবিত্র –
সিনান-শুদ্ধ-পুরববঙ্গ
ঘন-বন-কুন্তলা প্রকৃতির বক্ষে সরল সৌম্য
শক্তি-প্র... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/purbobonggo/ |
5285 | শামসুর রাহমান | সূর্যাবর্ত | চিন্তামূলক | বাঁচার আনন্দে আমি চেতনার তটে
প্রত্যহ ফোটাই ফুল, জ্বালি দীপাবলি
ধ্যানী অন্ধকারে। আর মৃত্যুকে অমোঘ
জেনেও স্বপ্নের পথে, জেনেও আমার
পৃথিবীতে খুঁজি
জীবনের দান গানে গানে, প্রাণলোকে
খুঁজি ফিরি উপসৃত সুন্দরের স্মৃতি।অভ্যাসের বিবর্ণ দৃষ্টিতে নয়, সৃষ্টির আবেশে
সপ্রেম তাকাই চতুর্দিকে
এই চরাচরে উন্মীলিত
বৈশাখী রৌদ্রের উজ্জীবনে,
উধ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/surjaborto/ |
5850 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | যদি নির্বাসন দাও | স্বদেশমূলক | যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো!
বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ
নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ
প্রান্তরে দিগন্ত নিনির্মেষ-
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভূমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো।
ধানক্ষেতে চাপ চাপ রক্ত
এইখানে ঝরেছিল মানুষের ঘাম
এখনো স্নানের আগে কেউ কেউ করে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1831 |
537 | কাজী নজরুল ইসলাম | সুর-কুমার | মানবতাবাদী | বন্ধু, তোমায় স্বপ্ন-মাঝে ডাক দিল কি বন্দিনী
সপ্ত সাগর তেরো নদীর পার হতে সুর-নন্দিনী!বীণ-বাদিনী বাজায় হঠাৎ যাত্রা-পথের দুন্দুভি,
অরুণ আঁখি কইল সাকি, ‘আজকে শরাব মুলতুবি!’সাগর তোমায় শঙ্খ বাজায়, হাতছানি দেয় সিন্ধু-পার,
গানের ভেলায় চললে ভেসে রূপকথারই রাজকুমার!গানের ভেলায় চললে ভেসে রূপকথারই রাজকুমার!
লয়ে সুরের সোনার কাঠি দিগ... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/sur-kumar/ |
5659 | সুকুমার রায় | বিষম কাণ্ড | ছড়া | কর্তা চলেন, গিন্নী চলেন, খোকাও চলেন সাথে,
তড়্বড়িয়ে বুক ফুলিয়ে শুতে যাচ্ছেন রাতে ।
তেড়ে হন্হন্ চলে তিনজন যেন পল্টন চলে,
সিঁড়ি উঠ্তেই, একি কাণ্ড ! এ আবার কি বলে !
ল্যাজ লম্বা, কান গোল্ গোল্, তিড়িং বিড়িং ছোটে,
চোখ্ মিট্মিট্, কুটুস্ কাটুস্- এটি কোন্জন বটে !
হেই ! হুস্ ! হ্যাস্ ! ওরে বাস্রে মতলবখানা কিরে,
ক... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/bishomo-kando/ |
4213 | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | ছিন্নবিচ্ছিন্ন-১ | চিন্তামূলক | তুমুল বৃষ্টিতে সব পাতা ভিজে গেলো
এখনই শুকাতে হবে রোদ্দুর কোথায়?
তিজেলে চড়াতে হবে অন্ন, তা কোথায়?
মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে শুকাতেও জানে।
এই অন্ন, পাতা-পত্র, এর অন্য মানে। | https://www.bangla-kobita.com/shaktichattopadhyay/chinno-bichchhinno-1/ |
3508 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বনের ছায়া | প্রকৃতিমূলক | কোথা রে তরুর ছায়া , বনের শ্যামল স্নেহ ।
তট-তরু কোলে কোলে সারাদিন কলরোলে
স্রোতস্বিনী যায় চলে সুদূরে সাধের গেহ ;
কোথা রে তরুর ছায়া , বনের শ্যামল স্নেহ ;
কোথা রে সুনীল দিশে বনান্ত রয়েছে মিশে
অনন্তের অনিমিষে নয়ন নিমেষ-হারা ।
দূর হতে বায়ু এসে চলে যায় দূর-দেশে
গীত - গান যায় ভেসে , কো... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/boner-chaya/ |
202 | কাজী নজরুল ইসলাম | অভিশাপ | প্রেমমূলক | যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
ছবি আমার বুকে বেঁধে
পাগল হ’লে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মর” কানন গিরি,
সাগর আকাশ বাতাস চিরি’
যেদিন আমায় খুঁজবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
স্বপন ভেঙে নিশুত্ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে,
কাহার যেন চেনা-ছোঁওয়ায় উঠবে ও-বুকে ছমকে,-
জাগবে হঠ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/167 |
1333 | তসলিমা নাসরিন | তুষারের ঝড়ে | মানবতাবাদী | হঠাৎ কে যেন আমাকে ছুড়ে দিল এখানে, তুষারের ঝড়ে
যতদূর চোখ যায়, যতদূর যায় না, চোখ ধাঁধানো সাদা, শুধু সাদা, শুধু সাঁ সাঁ
উদ্বাহু নৃত্য চলছে তুষার-কন্যার, শুকনো পাতার মত আমাকে ওড়াচ্ছে,
পাকে ফেলে খুলে নিচ্ছে গা ঢাকার সবকটা কাপড়।
আমার চুল চোখ,
আমার সব,
আমার সর্বাঙ্গ ঢেকে গেছে তুষারে।
আকাশ নেমে এসেছে একেবারে কাছে, ছুঁতে নিলেই
... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1965 |
3503 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বন-ফুল (প্রথম সর্গ) | কাহিনীকাব্য | চাই না জ্ঞেয়ান, চাই না জানিতে
সংসার, মানুষ কাহারে বলে।
বনের কুসুম ফুটিতাম বনে
শুকায়ে যেতাম বনের কোলে!—দীপনির্বাণনিশার আঁধার রাশি করিয়া নিরাস
রজতসুষমাময়,
প্রদীপ্ত তুষারচয়
হিমাদ্রি-শিখর-দেশে পাইছে প্রকাশ
অসংখ্য শিখরমালা বিশাল মহান্;
ঝর্ঝরে নির্ঝর ছুটে, শৃঙ্গ হ'তে শৃঙ্গ উঠে
দিগন্তসীমায় গিয়া যেন অবসান!
শিরোপরি চন্দ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bon-ful-prothom-sorgo/ |
2709 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমার এই ছোটো কলসিটা পেতে রাখি | প্রকৃতিমূলক | আমার এই ছোটো কলসিটা পেতে রাখি
ঝরনাধারার নিচে।
বসে থাকি
কোমরে আঁচল বেঁধে,
সারা সকালবেলা,
শেওলা ঢাকা পিছল পাথরটাতে
পা ঝুলিয়ে।
এক নিমেষেই ঘট যায় ভরে
তার পরে কেবলি তার কানা ছাপিয়ে ওঠে,
জল পড়তে থাকে ফেনিয়ে ফেনিয়ে
বিনা কাজে বিনা ত্বরায়;
ঐ যে সূর্যের আলোয়
উপচে-পড়া জলের চলে ছুটির খেলা,
আমার খেলা ঐ সঙ্গেই ছলকে ওঠে
মনের... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/amar-ai-soto-kalseta-pata-rakhe/ |
4663 | শামসুর রাহমান | গদ্য সনেট_ ১১ | রূপক | একটা লোক নিয়মিত আমার বাড়ির দিকে
আড়চোখে খানিক তাকিয়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে
খোলা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়। অবাক কাণ্ড,
সে যখন যায়, তখন গলিতে কাছে ধারে
কাউকে আমি দেখি না; এমন জনশূন্যতা রোজ কী করে হয়,
ভেবে পাই না। লোকটার হাতে কিংবা ঠোঁটে জ্বলন্ত
সিগারেট দেখিনি কোনোদিন; মৃদু হাসির রেখাও
ফোটেনি মুখে কখনো, শুধু পাথুরে কাঠিন্যের ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/godyo-sonet-11/ |
4022 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | হাতে কোনো কাজ নেই | নীতিমূলক | হাতে কোনো কাজ নেই,
নওগাঁর তিনকড়ি
সময় কাটিয়ে দেয়
ঘরে ঘরে ঋণ করি।
ভাঙা খাট কিনেছিল,
ছ পয়সা খরচা–
শোয় না সে হয় পাছে
কুঁড়েমির চর্চা।
বলে, “ঘরে এত ঠাসা
কিঙ্কর কিঙ্করী,
তাই কম খেয়ে খেয়ে
দেহটারে ক্ষীণ করি।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/hate-kono-kaj-nei/ |
1855 | পূর্ণেন্দু পত্রী | প্রার্থী | ভক্তিমূলক | আমাকে একটু আলোক দাও: রোদ মাতাল ভোর
একটু দাও মুক্ত হাওয়া রুদ্ধশ্বাস এ বুকে,
আমি কী দেব, কি দিতে পারি তোমাকে শক্তিমান
তোমাকে দিই কখানা ভাঙা পাঁজরে যত জ্বালা।
আমাকে একটু বর্ষা দাও: দুমুঠো কাটি ধান
একটু দাও ফাল্গুনে রোদ আঁধার ঘোর ঘরে
আমি কী দেব, কি দিতে পারি তোমাকে মহাব্রতী
তোমাকে দিই কোটরাগত দুচোখে যত দাহ।
আমাকে একটু... | https://banglarkobita.com/poem/famous/328 |
5419 | সিকান্দার আবু জাফর | গতানুগতিক | প্রেমমূলক | আমার জবাব পেলাম।
তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি কিনা?
না!আমরা যে সমাজের জীব
তারই ধারায় তুমি ভাসমান তৃণ।
ইতিহাস পরিবর্তনের দিন এলে
হৃদয় নিয়ে তুমি খেলবেনা,
আমি জানি। | http://kobita.banglakosh.com/archives/4209.html |
2873 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কবি-কাহিনী (প্রথম সর্গ) | কাহিনীকাব্য | শুন কলপনা বালা, ছিল কোন কবি বিজন কুটীর-তলে। ছেলেবেলা হোতে তোমার অমৃত-পানে আছিল মজিয়া। তোমার বীণার ধ্বনি ঘুমায়ে ঘুমায়ে শুনিত, দেখিত কত সুখের স্বপন। একাকী আপন মনে সরল শিশুটি তোমারি কমল-বনে করিত গো খেলা, মনের কত কি গান গাহিত হরষে, বনের কত কি ফুলে গাঁথিত মালিকা। একাকী আপন মনে কাননে কাননে যেখানে সেখানে শিশু করিত ভ্রমণ; এ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/kobi-kahini-prothom-sorgo/ |
3031 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | চলে যাবে সত্তারূপ | চিন্তামূলক | চলে যাবে সত্তারূপ
সৃজিত যা প্রাণেতে কায়াতে,
রেখে যাবে মায়ারূপ
রচিত যা আলোতে ছায়াতে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/chole-jabe-sottarupe/ |
1206 | জীবনানন্দ দাশ | শীতের রাতের কবিতা | চিন্তামূলক | গভীর শীতের রাত এই সব,- তবু
চারিদিকে যুবাদের হৃদয়ের জীবনের কথা
মৃত্যুর উপর দিয়ে সাঁকোর মতন
চেয়ে দেখে মরণের অপ্রমেয়তা
সেতুর ছবির মত মিলে গিয়ে জলের ভিতরে
জীবনের জয়-
আর মরণের স্তব্ধতাকে অনুভব করে।
অনুভব করে এই জীবনই মহৎ,
মরণের চেয়ে বড় জীবনের সুর;
যদিও অন্ন আজ ভূমি নয়- তবুও মৈত্রেয়ী
অন্নলোভাতুর;
হৃদয়বিহীনভাবে- দশ বিশ শত কো... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/shiiter-rater-kobita/ |
1646 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | বাতাসি | প্রেমমূলক | “বাতাসি ! বাতাসি !”—লোকটা ভয়ংকর চেঁচাতে চেঁচাতে
গুমটির পিছন দিকে ছুটে গেল ।
ধাবিত ট্রেনের থেকে এই দৃশ্য চকিতে দেখলুম ।
কে বাতাসি ? জোয়ান লোকটা অত ভয়ংকরভাবে
তাকে ডাকে কেন ? কেন
হাওয়ার ভিতরে বাবরি-চুল উড়িয়ে
পাগলের মতো
“বাতাসি ! বাতাসি !” ব’লে ছুটে যায় ?
টুকরো টুকরো কথাগুলি ইদানিং যেন বড় বেশি—
গোঁয়ার মাছির মতো
জ্বালাচ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1645 |
3418 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রকাশিতা | মানবতাবাদী | আজ তুমি ছোটো বটে, যার সঙ্গে গাঁঠছড়া বাঁধা
যেন তার আধা।
অধিকারগর্বভরে
সে তোমারে নিয়ে চলে নিজঘরে।
মনে জানে তুমি তার ছায়েবানুগতা--
তমাল সে, তার শাখালগ্ন তুমি মাধবীর লতা।
আজ তুমি রাঙাচেলি দিয়ে মোড়া
আগাগোড়া,
জড়োসড়ো ঘোমটায়-ঢাকা
ছবি যেন পটে আঁকা। আসিবে-যে আর-একদিন,
নারীর মহিমা নিয়ে হবে তুমি অন্তরে স্বাধীন
বাহিরে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/prokaseta/ |
3477 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ফুল কোথা থাকে গোপনে | চিন্তামূলক | ফুল কোথা থাকে গোপনে,
গন্ধ তাহারে প্রকাশে।
প্রাণ ঢাকা থাকে স্বপনে,
গান যে তাহারে প্রকাশে। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ful-kotha-thake-gopone/ |
2862 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কত লক্ষ বরষের তপস্যার ফলে | প্রেমমূলক | কত লক্ষ বরষের তপস্যার ফলে
ধরণীর তলে
ফুটিয়াছে আজি এ মাধবী।
এ আনন্দচ্ছবি
যুগে যুগে ঢাকা ছিল অলক্ষ্যের বক্ষের আঁচলে।
সেইমতো আমার স্বপনে
কোনো দূর যুগান্তরে বসন্তকাননে
কোনো এক কোণে
একবেলাকার মুখে একটুকু হাসি
উঠিবে বিকাশি--
এই আশা গভীর গোপনে
আছে মোর মনে।
শান্তিনিকেতন, ২৬ পৌষ, ১৩২১ | https://banglarkobita.com/poem/famous/1926 |
1793 | পূর্ণেন্দু পত্রী | কথোপকথন | প্রেমমূলক | – ধরো কোন একদিন তুমি খুব দূরে ভেসে গেলে
শুধু তার তোলপাড় ঢেউ গুলো আজন্ম আমার
বুকের সোনালি ফ্রেমে পেইন্টিং এর মতো রয়ে গেল।
এবং তা ধীরে ধীরে ধুলোয়, ধোঁয়ায়, কুয়াশায়
পোকামাকড়ের সুখী বাসাবাড়ি হয়ে যায় যদি?– ধরো কোন একদিন যদি খুব দূরে ভেসে যাই
আমারও সোনার কৌটো ভরা থাকবে প্রতিটি দিনের
এইসব ঘন রঙে, বসন্ত বাতাসে, বৃষ্টি জলে।
যখন ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%a8-%e0%a7%a7-%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81-purnendu-patri/ |
3798 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যেদিন উদিলে তুমি, বিশ্বকবি, দূর সিন্ধুপারে | চিন্তামূলক | যেদিন উদিলে তুমি, বিশ্বকবি, দূর সিন্ধুপারে,
ইংলণ্ডে দিকপ্রান্ত পেয়েছিল সেদিন তোমারে
আপন বক্ষের কাছে, ভেবেছিল বুঝি তারি তুমি
কেবল আপন ধন; উজ্জ্বল ললাট তব চুমি
রেখেছিল কিছুকাল অরণ্যশাখার বাহুজালে,
ঢেকেছিল কিছুকাল কুয়াশা-অঞ্চল-অন্তরালে
বনপুষ্প-বিকশিত তৃণঘন শিশির-উজ্জ্বল
পরীদের খেলার প্রাঙ্গণে। দ্বীপের নিকুঞ্জতল
তখনো ওঠে ন... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1951 |
3369 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পরের কর্ম-বিচার | নীতিমূলক | নাক বলে, কান কভু ঘ্রাণ নাহি করে,
রয়েছে কুণ্ডল দুটো পরিবার তরে।
কান বলে, কারো কথা নাহি শুনে নাক,
ঘুমোবার বেলা শুধু ছাড়ে হাঁকডাক। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/porer-kormo-bichar/ |
3368 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | পরিত্যক্ত | চিন্তামূলক | চলে গেল , আর কিছু নাই কহিবার ।
চলে গেল , আর কিছু নাই গাহিবার ।
শুধু গাহিতেছে আর শুধু কাঁদিতেছে
দীনহীন হৃদয় আমার , শুধু বলিতেছে ,
“ চলে গেল সকলেই চলে গেল গো ,
বুক শুধু ভেঙে গেল দলে গেল গো । ”
বসন্ত চলিয়া গেলে বর্ষা কেঁদে কেঁদে বলে ,
“ ফুল গেল , পাখি গেল --
আমি শুধু রহিলাম , সবই গেল গো । ”
দিবস ফুরালে রাতি স্তব্ধ হয়ে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/proretakti/ |
3534 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বস্ত্রহরণ | নীতিমূলক | ‘সংসারে জিনেছি’ ব’লে দুরন্ত মরণ
জীবন বসন তার করিছে হরণ।
যত বস্ত্রে টান দেয়, বিধাতার বরে।
বস্ত্র বাড়ি চলে তত নিত্যকাল ধ’রে। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bostrohoron/ |
5645 | সুকুমার রায় | প্যাঁচা আর প্যাঁচানী | ছড়া | প্যাঁচা কয় প্যাঁচানী,
খাসা তোর চ্যাঁচানি
শুনে শুনে আন্মন
নাচে মোর প্রাণমন!
মাজা–গলা চাঁচা–সুর
আহলাদে ভরপুর!
গলা–চেরা ধমকে
গাছ পালা চমকে,
সুরে সুরে কত প্যাঁচ
গিট্কিরি ক্যাঁচ্ ক্যাঁচ্!
যত ভয় যত দুখ
দুরু দুরু ধুক্ ধুক্,
তোর গানে পেঁচি রে
সব ভুলে গেছি রে,
চাঁদমুখে মিঠে গান
শুনে ঝরে দু'নয়ান৷ | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/pecha-aar-pechani/ |
3450 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রশ্ন | চিন্তামূলক | চতুর্দিকে বহ্নিবাষ্প শূন্যাকাশে ধায় বহুদূরে,
কেন্দ্রে তার তারাপুঞ্জ মহাকাল-চক্ররথে ঘুরে।
কত বেগ, কত তাপ, কত ভার, কত আয়তন,
সূক্ষ্ম অঙ্কে করেছে গণন
পণ্ডিতেরা লক্ষ কোটি ক্রোশ দূর হতে
দুর্লক্ষ্য আলোতে।
আপনার পানে চাই,
লেশমাত্র পরিচয় নাই।
এ কি কোনো দৃশ্যাতীত জ্যোতি।
কোন্ অজানারে ঘিরি এই অজানার নিত্য গতি।
বহুযুগে বহুদূরে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/prosno/ |
604 | চণ্ডীদাস | এ ঘোর রজনী | প্রেমমূলক | এ ঘোর রজনী, মেঘের ঘটা,
কেমনে আইল বাটে?
আঙ্গিনার কোণে তিতিছে বঁধুয়া,
দেখিয়া পরাণ ফাটে।
সই, কি আর বলিব তোরে,
বহু পুণ্যফলে সে-হেন বঁধুয়া
আসিয়া মিলল মোরে।
ঘরে গুরুজন, ননদী দারুণ,
বিলম্বে বাহির হৈনু –
আহা মরি মরি, সংকেত করিয়া | http://kobita.banglakosh.com/archives/4387.html |
3057 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ছলনা | চিন্তামূলক | সংসার মোহিনী নারী কহিল সে মোরে,
তুমি আমি বাঁধা রব নিত্য প্রেমডোরে।
যখন ফুরায়ে গেল সব লেনা দেনা,
কহিল, ভেবেছ বুঝি উঠিতে হবে না! (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/cholona/ |
5402 | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত | ছিন্নমুকুল | শোকমূলক | সবচেয়ে যে ছোটো পিঁড়িখানি
সেইখানি আর কেউ রাখেনা পেতে,
ছোট থালায় হয় নাকো ভাত বাড়া,
জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে;
বাড়ির মধ্যে সব-চেয়ে যে ছোটো
খাবার বেলা কেউ ডাকে না তাকে,
সব-চেয়ে যে শেষে এসেছিল,
তারই খাওয়া ঘুচেছে সব-আগে ।সব-চেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি
খুশি ছিল ঘেঁষাঘেঁষির ঘরে,
সেই গেছে, হায়, হাওয়ার সঙ্গে মিশে,
দিয়ে গেছে, জায়গ... | https://www.bangla-kobita.com/satyendranath/chinnomukul/ |
127 | আল মাহমুদ | ডাক | চিন্তামূলক | তোমাকে ডেকেছি বলে আমি
নড়ে ওঠে জগত জঙ্গম
পর্বতও পাঠায় সেলামি
নদী ফেলে সাগরে কদম।ঝাক বেঁধে পাখি উড়ে যায়
চঞ্চুতে আহার্যের স্তব
কথা বলো, হাওয়ার ভাষায়
সীমাহীন নীলিমা নীরব।
আমিও ক্ষুধার্ত বটে আজ
ওষ্ঠে জমা ব্যার্থতার নুন,
জীবন কি ডানারই আওয়াজ
কিংবা কোন উড়ন্ত শকুন?
আজ একটু ঠাঁই দাও মেঘে
সাঁকো বাঁধো শূন্যের ওপর
বুকে টানো মাংসের... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%95-%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6/ |
3877 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শেষ কথা (চৈতালি কাব্যগ্রন্থ) | সনেট | মাঝে মাঝে মনে হয়, শত কথা-ভারে
হৃদয় পড়েছে যেন নুয়ে একেবারে।
যেন কোন্ ভাবযজ্ঞ বহু আয়োজনে
চলিতেছে অন্তরের সুদূর সদনে।
অধীর সিন্ধুর মতো কলধ্বনি তার
অতি দূর হতে কানে আসে বারম্বার।
মনে হয় কত ছন্দ, কত-না রাগিণী,
কত-না আশ্চর্য গাথা, অপূর্ব কাহিনী,
যতকিছু রচিয়াছে যত কবিগণে
সব মিলিতেছে আসি অপূর্ব মিলনে—
এখনি বেদনাভরে ফাটি গিয়া ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shesh-kotha-choitali/ |
2936 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কো তুঁহু বোলবি মোয় | ভক্তিমূলক | কো তুঁহু বোলবি মোয় !
হৃদয়মাহ মঝু জাগসি অনুখন ,
আঁখউপর তুঁহু রচলহি আসন ,
অরুণ নয়ন তব মরমসঙে মম
নিমিখ ন অন্তর হোয় ।
কো তুঁহু বোলবি মোয় !
হৃদয়কমল তব চরণে টলমল ,
নয়নযুগল মম উছলে ছলছল ,
প্রেমপূর্ণ তনু পুলকে ঢলঢল
চাহে মিলাইতে তোয় ।
কো তুঁহু বোলবি মোয় !
বাঁশরিধ্বনি তুহ অমিয় গরল রে ,
হৃদয় বিদারয়ি হৃদয় হরল রে ,
আ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ku-tuhu-bulbe-ma/ |
4452 | শামসুর রাহমান | এই তো দাঁড়িয়ে আছি | প্রেমমূলক | এই তো দাঁড়িয়ে আছি তোমার কাছেই
কিছু কথা বলার আশায়। জানতে কি
চাও সেই কথা
এখনই রাত না পোহাবার
আগেই? কী করে সম্ভব তা? সে-সাধ্য আমার নেই।
অপেক্ষা তোমাকে কিছু করতেই হবে।এই তো আমার হাত ছড়ানো তোমার
দিকেই কখন থেকে-স্পর্শ করো, তুলে
নাও হাত; দেখবে হাতের স্পর্শ যে-কোনও যুবার
চেয়ে কিছু কম স্পষ্ট জলজ্যান্ত নয়।দেখছ তো আমাকে এখন বড় বে... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/ei-to-darie-achi/ |
3532 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বসুন্ধরা | প্রকৃতিমূলক | আমারে ফিরায়ে লহ অয়ি বসুন্ধরে,
কোলের সন্তানে তব কোলের ভিতরে,
বিপুল অঞ্চল-তলে। ওগো মা মৃন্ময়ী,
তোমার মৃত্তিকা-মাঝে ব্যাপ্ত হয়ে রই;
দিগ্বিদিকে আপনারে দিই বিস্তারিয়া
বসন্তের আনন্দের মতো; বিদারিয়া
এ বক্ষপঞ্জর, টুটিয়া পাষাণ-বন্ধ
সংকীর্ণ প্রাচীর, আপনার নিরানন্দ
অন্ধ কারাগার, হিল্লোলিয়া, মর্মরিয়া,
কম্পিয়া, স্খলিয়া, বিকিরিয়া, ব... | http://kobita.banglakosh.com/archives/420.html |
2731 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আমি অতি পুরাতন | চিন্তামূলক | আমি অতি পুরাতন,
এ খাতা হালের
হিসাব রাখিতে চাহে
নূতন কালের।
তবুও ভরসা পাই—
আছে কোনো গুণ,
ভিতরে নবীন থাকে
অমর ফাগুন।
পুরাতন চাঁপাগাছে
নূতনের আশা
নবীন কুসুমে আনে
অমৃতের ভাষা। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ami-oti-puraton/ |
828 | জসীম উদ্দীন | নক্সী কাঁথার মাঠ - আট | কাহিনীকাব্য | (আট)বিয়ের কুটুম এসেছে আজ সাজুর মায়ের বাড়ি,
কাছারী ঘর গুম্-গুমা-গুম্ , লোক হয়েছে ভারি |
গোয়াল-ঘরে ঝেড়ে পুছে বিছান দিল পাতি ;
বসল গাঁয়ের মোল্লা মোড়ল গল্প-গানে মাতি |
কেতাব পড়ার উঠল তুফান ; ---চম্পা কালু গাজী,
মামুদ হানিফ সোনবান ও জয়গুন বিবি আজি ;
সবাই মিলে ফিরছে যেন হাত ধরাধর করি |
কেতাব পড়ার সুরে সুরে চরণ ধরি... | https://www.bangla-kobita.com/jasimuddin/nokshi-kathar-maath-8/ |
1640 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | ফলতায় রবিবার | প্রকৃতিমূলক | কেউ কি শহরে যাবে? কেউ যাবে? কেউই যাব না।
বরং ঘনিষ্ঠ এই সন্ধ্যার সুন্দর হাওয়া খাব,
বরং লুণ্ঠিত এই ঘাসে-ঘাসে আকণ্ঠ বেড়াব
আমি, অমিতাভ আর সিতাংশু।
সিতাংশু, এই ভাল,
শহরে ফিরব না। দ্যাখো, অমিতাভ, কতখানি সোনা
ডুবে গেল নদীর শরীরে। দ্যাখো, তরঙ্গের গায়ে
নৌকার লণ্ঠন থেকে আলো পড়ে, আলো কাঁপে, আলো
ভেঙে-ভেঙে যায়।
কেউ কি শহরে যাবে? ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1690 |
985 | জীবনানন্দ দাশ | কাউকে ভালোবেসেছিলাম | প্রেমমূলক | কাউকে ভালোবেসেছিলাম জানি
তবুও ভালোবাসা,
দুপুরবেলার সূর্যে ভোরের শিশির
নেমে আসা,
ভোরের দিকে হৃদয় ফেরাই
যাই চলে যাই-
নীল সকালে যাই চলে যাই-
একটি নদী একটি অরূণ
শিউলি শিশির পাখি-
'আমরা মায়ার মনের জিনিস
মায়াবিনীর বেলায় শুধু জাগি'
বলছে সে কোন্ ত্রিকোণ থেকে
ছায়ার পরিভাষা।
কাউকে ভালোবেসেছিলাম, জানি,
তবুও ভালোবাসা।
সে কোন্ সু... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/kaukey-valobeshechilam/ |
3282 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ননীলাল বাবু যাবে লঙ্কা | ছড়া | ননীলাল বাবু যাবে লঙ্কা;
শ্যালা শুনে এল, তার
ডাক-নাম টঙ্কা।বলে, “হেন উপদেশ তোমারে দিয়েছে সে কে,
আজও আছে রাক্ষস, হঠাৎ চেহারা দেখে
রামের সেবক ব’লে করে যদি শঙ্কা।আকৃতি প্রকৃতি তব হতে পারে জম্কালো,
দিদি যা বলুন, মুখ নয় কভু কম কালো —
খামকা তাদের ভয় লাগিবে আচমকা।
হয়তো বাজাবে রণডঙ্কা।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/nonilal-babu-jabe-longka/ |
6033 | হেলাল হাফিজ | তীর্থ | প্রেমমূলক | কেন নাড়া দিলে?
নাড়ালেই নড়ে না অনেক কিছু
তবু কেন এমন নাড়ালে?
পৃথিবীর তিন ভাগ সমান দু’চোখ যার
তাকে কেন একমাস শ্রাবণ দেখালে!
এক ওভাবে নাড়ালে?
যেটুকু নড়ে না তুমুলভাবে ভেতরে বাহিরে
কেন তাকে সেটুকু নাড়ালে?
ভয় দেখালেই ভয় পায় না অনেকে,
তবু তাকে সে ভয় দেখালে?
যে মানুষ জীবনের সব ক’টি শোক-দ্বীপে গেছে,
সব কিছু হারিয... | https://banglarkobita.com/poem/famous/106 |
2189 | মহাদেব সাহা | দেখতে চাই | স্বদেশমূলক | আমাকে দেখাও তুমি দূরের আকাশ, ওই
দূরের পৃথিবী
আমি তো দেখতে চাই কাছের জীবন;
তুমি আমাকে দেখাতে চাও দূর নীহারিকা
সমুদ্র-সৈকত
বিস্তৃত দিগন্তরেখা, দূরের পাহাড়
তুমি চাও আরো দূরে, দূর দেশে
আমাকে দেখাতে কোনো রম্য দ্বীপ, স্নিগ্ধ
জলাশয়
আমি চাই কেবল দেখতে এই চেনা সরোবর,
কাছের নদীটি।
আমাকে দেখাতে চাও বিশাল জগৎ, নিয়ে যেতে
চাও অনন্তে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1419 |
5586 | সুকুমার রায় | কাঠ বুড়ো | হাস্যরসাত্মক | হাঁড়ি নিয়ে দাড়িমুখো কে–যেন কে বৃদ্ধ
রোদে বসে চেটে খায় ভিজে কাঠ সিদ্ধ ।
মাথা নেড়ে গান করে গুন্ গুন্ সঙ্গীত
ভাব দেখে মনে হয় না–জানি কি পণ্ডিত !
বিড়্ বিড়্ কি যে বকে নাহি তার অর্থ—
'আকাশেতে ঝুল ঝোলে, কাঠে তাই গর্ত ।'
টেকো মাথা তেতে ওঠে গায়ে ছোটে ঘর্ম,
রেগে বলে, 'কেবা বোঝে এ সবের মর্ম ?
আরে মোলো, গাধাগুলো একেবারে অ... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/kath-buro/ |
2444 | মুহম্মদ জাফর ইকবাল | বৃষ্টিতে ভিজে এল | ছড়া | ছাতা ছাড়া বের হয়েছে গেণ্ডারিয়ার মতি
হঠাৎ দেখি বৃষ্টি এল কী হবে তার গতি?
শার্ট ভিজল প্যান্ট ভিজল ভিজল জুতো জোড়া
মাথা ভিজল ঘাড় ভিজল ভিজল পায়ের গোড়া।
নাক ভিজল চোখ ভিজল ভিজল কানের লতি
বৃষ্টিতে আজ ধরা খেল গেণ্ডারিয়ায় মতি।
ভিজে হল চুপচুপে সে ভিজল সাড়া গা
সবকিছু ভিজলেও তার চুল ভিজল না! | https://banglarkobita.com/poem/famous/2024 |
363 | কাজী নজরুল ইসলাম | নারী | মানবতাবাদী | সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/538 |
2350 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | বঙ্গভাষা | সনেট | হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি!
অনিদ্রায়, অনাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে, ভুলি কমল-কানন!
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে, --
"ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/387 |
346 | কাজী নজরুল ইসলাম | তোরা সব জয়ধ্বনি কর | মানবতাবাদী | তোরা সব জয়ধ্বনি কর
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়
তোরা সব জয়ধ্বনি করআসছে এবার অনাগত প্রলয় নেশায় নৃত্য পাগল
সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক ভেনে ভাঙলো আগল
মৃত্যুগহন অন্ধকুপে মহাকালের চন্ডরূপে ধূম্রধূপে
বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর
ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর
তোরা সব জয়ধ্বনি করদ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/tora-shob-joyoddhoni-kor/ |
815 | জসীম উদ্দীন | নকশী কাঁথার মাঠ – ০২ | কাহিনীকাব্য | দুই
এক কালা দতের কালি যা দ্যা কলম লেখি,
আর এক কালা চক্ষের মণি, যা দ্যা দৈনা দেখি,
—ও কালা, ঘরে রইতে দিলি না আমারে |
— মুর্শিদা গান
এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল,
কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল!
কাঁচা ধানের পাতার মত কচি-মুখের মায়া,
তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া |
জালি লাউয়ের ডগার মত বাহু দ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/805 |
4808 | শামসুর রাহমান | তোমার ঘুম | প্রেমমূলক | কতকাল তোমার সঙ্গে আমার দেখা নেই,
তোমার কণ্ঠস্বর শুনি না কতকাল। যিশুখৃষ্ট
ক্রুশে বিদ্ধ হবার পর
যতদিন গেছে অস্তাচলে, ততদিন তোমার
চোখের চাওয়া আর
স্পর্শের বিদ্যুচ্চমক থেকে আমি বঞ্চিত, মনে হয়।যখন তোমাকে ফোন করি, তখন
ওপারে একটি ধ্বনি হতে থাকে ক্রমাগত একঘেয়েমির
মতো। কোনো সাড়া মেলে না।
কখনো কেউ রিসিভার তুলে রডিওর ঘোষকের
বলবার ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tomar-ghum/ |
3206 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দিগ্বলয়ে | প্রকৃতিমূলক | দিগ্বলয়ে
নব শশীলেখা
টুকরো যেন
মানিকের রেখা। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/digboloye/ |
5033 | শামসুর রাহমান | বিষাদের সঙ্গে সারাদিন সারারাত | মানবতাবাদী | বিষাদের সঙ্গে কাটিয়েছি সারাদিন সারারাত, ভোরবেলা
চায়ের পেয়ালা হাতে নিয়ে দেখি, এ কী
কেমন নাছোড় বিষণ্নতা ভাসমান, কখন যে
চুমুকে চুমুকে সেই বিষণ্ন পানীয়
আমার নাচার জিভে ছেয়ে গেল আর আমি
নিজের কাছেই যেন কেমন বেগানা হয়ে যাই।বুঝতে পারে কি কেউ কীভাবে ভেতরে তার কোন্
রিপু তাকে হিঁচড়াতে হিঁচড়াতে নিয়ে
যায় সর্বনাশের কন্দরে? এই আমি অ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/bishader-songge-sararat/ |
5814 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | নীরার হাসি ও অশ্রু | প্রেমমূলক | নীরার চোখের জল অনেক চোখের অনেক
নীচে
টল্মল্
নীরার মুখের হাসি মুখের আড়াল থেকে
বুক, বাহু, আঙুলে
ছড়ায়
শাড়ির আঁচলে হাসি, ভিজে চুলে, হেলানো সন্ধ্যায় নীরা
আমাকে বাড়িয়ে দেয়, হাস্যময় হাত
আমার হাতের মধ্যে চৌরাস্তায় খেলা করে নীরার কৌতুক
তার ছদ্মবেশ থেকে ভেসে আসে সামুদ্রিক ঘ্রাণ
সে আমার দিকে চায়, নীরার গোধূলি মাখা ঠোঁট থেকে
ঝরে ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1871 |
3326 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নিষ্কাম পরহিতে কে ইহারে সামলায় | ছড়া | নিষ্কাম পরহিতে কে ইহারে সামলায়–
স্বার্থেরে নিঃশেষে-মুছে-ফেলা মামলায়।
চলেছে উদারভাবে সম্বল-খোয়ানি–
গিনি যায়, টাকা যায়, সিকি যায় দোয়ানি,
হল সারা বাঁটোয়ারা উকিলে ও আমলায়।
গিয়েছে পরের লাগি অন্নের শেষ গুঁড়ো–
কিছু খুঁটে পাওয়া যায় ভূষি তুঁষ খুদকুঁড়ো
গোরুহীন গোয়ালের তলাহীন গামলায়। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/nishkam-porhite-ke-iahare-smalay/ |
4107 | রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | বাতাসে লাশের গন্ধ | মানবতাবাদী | আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/148 |
2117 | মহাদেব সাহা | কবিত্ব | চিন্তামূলক | ঝর্নাকে আমি কখনো থামতে দেখি না
নদীকে দেখি না,
বৃক্ষকে কখনো আমি নিঃশেষিত হতে
মোটেও দেখি না;
আকাশকে কখনো দেখি না আমি শেষ হয়ে যেতে
সমুদ্রকে ফুরিয়ে যেতে কখনো দেখি না,
আমি এই চিরপ্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিখাকে বলি
কবিত্ব, কবিত্ব;
অনিঃশেষ এই অগ্নি বুকে নিয়ে জেগে থাকে কবি।
এই অফুরন্ত শোকের উৎসব, এই অবিরাম
আনন্দের অনন্ত মূর্ছনা
এই রাত... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1413 |
1835 | পূর্ণেন্দু পত্রী | দেবব্রত মুখোপাধ্যায় | ভক্তিমূলক | প্রখর তুলির পাশে কতদিন অবনত হয়েছি বিস্ময়ে।
এ কী টান! বিদ্যুতের চেয়ে দ্রুত এ কী বলবান
রেখার সংহত রূপ, রেখা যেন গর্বিত গান্ডীব,
যেন জানে শত্রুপক্ষ, যেন জানে কোথায় সংগ্রাম
এবং বিষাদও জানে, হাহাকারে সঙ্গী হতে জানে।
তখন দিগন্ত ছিল রক্তে ও রক্তিম আকাঙ্খায়
একই সঙ্গে একাকার, দুঃসময় ঘরে ও বাহিরে।
বিশ্বাসের দুর্গ ভাঙে, অবিন্যস... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1194 |
794 | জসীম উদ্দীন | কৃষাণী দুই মেয়ে | মানবতাবাদী | কৃষাণী দুই মেয়ে
পথের কোণে দাঁড়িয়ে হাসে আমার পানে চেয়ে।
ওরা যেন হাসি খুশীর দুইটি রাঙা বোন,
হাসি-খুশীর বেসাত ওরা করছে সারাখন।
ঝাকড়া মাথায় কোঁকড়া চুলে, লেগেছে খড়কুটো,
তাহার নীচে মুখ দুখানি যেন তরমুজফালি দুটো।
সেই মুখেতে কে দুখানি তরমুজেরি ফালি,
একটি মেয়ে লাজুক বড়, মুখর আরেক জন,
লজ্জাবতীর লতা যেন জড়িয়ে গোলাপ বন।
একটি হাস... | https://banglarkobita.com/poem/famous/772 |
6006 | হুমায়ূন আহমেদ | সংসার | প্রেমমূলক | শোন মিলি।
দুঃখ তার বিষমাখা তীরে তোকে
বিঁধে বারংবার।
তবুও নিশ্চিত জানি,একদিন হবে তোর
সোনার সংসার ।।
উঠোনে পড়বে এসে একফালি রোদ
তার পাশে শিশু গুটিকয়
তাহাদের ধুলোমাখা হাতে – ধরা দেবে
পৃথিবীর সকল বিস্ময়। | http://kobita.banglakosh.com/archives/1126.html |
2675 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজিকে গহন কালিমা লেগেছে গগনে | ভক্তিমূলক | আজিকে গহন কালিমা লেগেছে গগনে, ওগো,
দিক্-দিগন্ত ঢাকি।
আজিকে আমরা কাঁদিয়া শুধাই সঘনে, ওগো,
আমরা খাঁচার পাখি–
হৃদয়বন্ধু, শুন গো বন্ধু মোর,
আজি কি আসিল প্রলয়রাত্রি ঘোর।
চিরদিবসের আলোক গেল কি মুছিয়া।
চিরদিবসের আশ্বাস গেল ঘুচিয়া?
দেবতার কৃপা আকাশের তলে কোথা কিছু নাহি বাকি?–
তোমাপানে চাই, কাঁদিয়া শুধাই আমরা খাঁচার পাখি।ফাল্গ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ajike-gohon-kalima-legeche-gogone/ |
95 | আবিদ আনোয়ার | সমুদ্রের প্রতি বামন | রূপক | গর্জমান সমুদ্রের পারে ভরাট পূর্ণিমা--
অসীমের দৃশ্য দেখি আমি আর সীমা ।
পাশে দুই ছায়ামূর্তি - যুগপৎ ক্ষ্যাপা ও নিউটন
পরশ পাথর খোঁজে, নেড়ে দেখে অনির্ণেয় নুড়ির গঠন ।
তরল হাসিতে বড়ো ফেটে পড়ছে সমুদ্রের জল:
তিনভাগ সত্যেরও যেন দুইভাগ করেছে দখল
সেই দম্ভে ফুলে উঠে ছুঁতে চায় আকাশের চাঁদ--
আসলে দেখাতে চায় ব্যাপ্তি তার কতটা অগাধ ।... | https://www.bangla-kobita.com/abid50anwar/shomudrer-proti-bamon/ |
4226 | শক্তি চট্টোপাধ্যায় | প্রতিকৃতি | প্রেমমূলক | শুয়ো না কখনো দিনে মৃত ঝরা বাতিটার পাশে।
ও কার চোখের জল ও কার মুখের মতো ম্লান;
প্রতিকূল হাওয়া এসে দাঁড়ালেই শুরু বালি খসা
খুঁজি সে সোনালি চুল চুল চুল তখনো আকাশে।পাই না; ঘুরায়ে তালু মুছে দেবো চোখের আভাস
হে বিষণ্ণ মর্মরের ফোঁটা যেন নীরবে সাজানো
দেবতা, সুদূর স্মৃতি; প্রতিমা কি প্রচ্ছায়া তোমার।
পুরানো ধূলায় খুঁজি, ধূলা হতে প... | https://www.bangla-kobita.com/shaktichattopadhyay/protikriti/ |
3757 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যক্ষ | চিন্তামূলক | হে যক্ষ তোমার প্রেম ছিল বদ্ধ কোরকের মতো,
একান্তে প্রেয়সী তব সঙ্গে যবে ছিল অনিয়ত
সংকীর্ণ ঘরের কোণে, আপন বেষ্টনে তুমি যবে
রুদ্ধ রেখেছিলে তারে দু-জনের নির্জন উৎসবে
সংসারের নিভৃত সীমায়, শ্রাবণের মেঘজাল
কৃপণের মতো যথা শশাঙ্কের রচে অন্তরাল
আপনার আলিঙ্গনে আপনি হারায়ে ফেলে তারে,
সম্পূর্ণ মহিমা তার দেখিতে পায় না একেবারে
অন... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jukhay/ |
2892 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কাগজের নৌকা | ছড়া | ছুটি হলে রোজ ভাসাই জলে
কাগজ-নৌকাখানি।
লিখে রাখি তাতে আপনার নাম,
লিখি আমাদের বাড়ি কোন গ্রাম
বড়ো বড়ো ক'রে মোটা অক্ষরে
যতনে লাইন টানি।
যদি সে নৌকা আর-কোনো দেশে
আর-কারো হাতে পড়ে গিয়ে শেষে
আমার লিখন পড়িয়া তখন
বুঝিবে সে অনুমানি
কার কাছ হতে ভেসে এল স্রোতে
কাগজ-নৌকাখানি ।।আমার নৌকা সাজাই যতনে
শিউলি বকুলে ভরি।
বাড়ির বাগ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/kagojer-nouka/ |
2372 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | মেঘনাদবথ কাব্য (৫ম সর্গ) | মহাকাব্য | কুসুম-শয়নে যথা সুবর্ণ-মন্দিরে
বিরাজে বীরেন্দ্র বলী ইন্দ্রজিত,তথা
পশিল কূজন-ধ্বনি সে সুখ-সদনে।
জাগিলা বীর-কুন্জর কুন্জবন-গীতে।
প্রমীলার করপদ্ম করপদ্মে ধরি
রথীন্দ্র, মধুর স্বরে, হায় রে, যেমতি
নলিনীর কানে অলি কহে গুন্জরিয়া
প্রেমের রহস্য কথা, কহিলা (আদরে
চুম্বি নিমীলিত আঁখি )—“ডাকিছে কূজনে,
হৈমবতী ঊষা তুমি,রূপসি, তোমারে... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/meghnadbodh-kabya-fifth-section/ |
5020 | শামসুর রাহমান | বালুচরে | প্রেমমূলক | আমার দুঃখের বালুচরে কাকজ্যোৎস্না দেখে তুমি
ভেবো না সুখের নাও ভিড়েছে আমার ঘাটে। দেখো,
ভালো করে দেখো, এই নিঃসঙ্গতা সঙিন উঁচিয়ে
রেখেছে আমার দিকে; বাতাসে উড়ছে বালিকণা
হা হা স্বরে, নির্জনতা নিজেই ভীষণ ভীত স্ফীত
নদীটির খল খল শব্দে, সঙ্গিবিহীন এক
চখা চক্রাকারে ওড়ে মাথার ওপর অবিরাম-
তার হৃৎকমল ছিঁড়েছে শিকারির হিংস্র ক্রীড়া।এসো... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/baluchore/ |
5371 | শেখ ফজলুল করিম | তুলনায় সমালোচনা | নীতিমূলক | শত শত ক্রোশ করিয়া ভ্রমণ জ্ঞানীর অন্বেষণে
সহসা একদা পেল সে প্রবীণ কোনো এক মহাজনে।
সুধালো, হে জ্ঞানী, আকাশের চেয়ে উচ্চতা বেশি কার?
জ্ঞানী বলে, বাছা, সত্যের চেয়ে উঁচু নাই কিছু আর।
পুনঃ সে কহিল, পৃথিবীর চেয়ে ওজনে ভারি কি আছে?
জ্ঞানী বলে, বাছা, নিষ্পাপ জনে দোষারোপ করা মিছে।
জিজ্ঞাসে পুনঃ, পাথরের চেয়ে কি আছে অধিক শক্ত?
জ্ঞান... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4347.html |
3229 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দুঃস্বপন কোথা হতে এসে | ভক্তিমূলক | দুঃস্বপন কোথা হতে এসে
জীবনে বাধায় গণ্ডগোল।
কেঁদে উঠে জেগে দেখি শেষে
কিছু নাই আছে মার কোল।
ভেবেছিনু আর-কেহ বুঝি,
ভয়ে তাই প্রাণপণে যুঝি,
তব হাসি দেখে আজ বুঝি
তুমিই দিয়েছ মোরে দোল।এ জীবন সদা দেয় নাড়া
লয়ে তার সুখ দুখ ভয়;
কিছু যেন নাই গো সে ছাড়া,
সেই যেন মোর সমুদয়।
এ ঘোর কাটিয়া যাবে চোখে
নিমেষেই প্রভাত-আলোকে,
পরিপূর্ণ তোমার... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/duswapon-kotha-hote-ese/ |
5403 | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত | জবা | প্রকৃতিমূলক | আমারে লইয়া সুখী হও তুমি ওগো দেবী শবাসনা,
আর খুঁজিও না মানব-শোনিত, আর তুমি খুঁজিও না।
আর মানুষের হৃত্ পিণ্ডটা নিওনা খড়গে ছিঁড়ে,
হাহকার তুমি তুলো না গো আর সুখের নিভৃত নীড়ে।
এই দেখ আমি উঠেছি ফুটিয়া উজলি পুষ্পসভা,
ব্যথিত ধরার হৃত্ পিণ্ডটি আমি যে রক্তজবা।
তোমার চরণে নিবেদিত আমি, আমি যে তোমার বলি,
দৃষ্টি-ভোগের রাঙ্গা খর... | https://www.bangla-kobita.com/satyendranath/joba/ |
2854 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ওরে মাঝি | ভক্তিমূলক | ওরে মাঝি, ওরে আমার
মানবজন্মতরীর মাঝি,
শুনতে কি পাস দূরের থেকে
পারের বাঁশি উঠছে বাজি।
তরী কি তোর দিনের শেষে
ঠেকবে এবার ঘাটে এসে।
সেথায় সন্ধ্যা-অন্ধকারে
দেয় কি দেখা প্রদীপরাজি।যেন আমার লাগছে মনে,
মন্দমধুর এই পবনে
সিন্ধুপারের হাসিটি কার
আঁধার বেয়ে আসছে আজি।
আসার বেলায় কুসুমগুলি
কিছু এনেছিলেম তুলি,
যেগুলি তার নবীন আছে
এইবে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ore-majhi/ |
2913 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কুঁড়ির ভিতর কাঁদিছে গন্ধ অন্ধ হয়ে | রূপক | কুঁড়ির ভিতর কাঁদিছে গন্ধ অন্ধ হয়ে–
কাঁদিছে আপন মনে,
কুসুমের দলে বন্ধ হয়ে
করুণ কাতর স্বনে।
কহিছে সে,”হায় হায়,
বেলা যায় বেলা যায় গো
ফাগুনের বেলা যায়।’
ভয় নাই তোর, ভয় নাই ওরে ভয় নাই,
কিছু নাই তোর ভাবনা।
কুসুম ফুটিবে, বাঁধন টুটিবে,
পুরিবে সকল কামনা।
নিঃশেষ হয়ে যাবি যবে তুই
ফাগুন তখনো যাবে না।কুঁড়ির ভিতরে ফিরিছে গন্ধ কিসের ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/kurir-vitor-kadiche-gondho-ondho-hoye/ |
1866 | পূর্ণেন্দু পত্রী | বিষন্ন জাহাজ | প্রেমমূলক | আমরা যেখানে বসেছিলাম
তার পায়ের তলায় ছিল নদী
নদীতে ছিল নৌকা
আর দূরে একটা বিষন্ন জাহাজ।
আমি যখন তোমার
তুমি যখন আমার ঠোঁটে বুনে দিচ্ছিলে
যাবজ্জীবনের সুখ
ঠিক সেই সময়ে ডুকরে কেঁদে উঠল জাহাজটা
ভোঁ বাজিয়ে।
তারপর থেকে রোজ
আমাদের যাবজ্জীবন সুখের ভিতরে
একটু একটু করে ঢুকে পড়ছে সেই বিষন্ন জাহাজ
তার সেই ভয়ঙ্কর আর্তনাদ বাজিয়ে। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1258 |
4613 | শামসুর রাহমান | কেউ কি এখন | প্রেমমূলক | কেউ কি এখন এই অবেলায়
আমার প্রতি বাড়িয়ে দেবে হাত?
আমার স্মৃতির ঝোপেঝাড়ে
হরিণ কাঁদে অন্ধকারে,
এখন আমার বুকের ভেতর
শুকনো পাতা, বিষের মতো রাত।দ্বিধান্বিত দাঁড়িয়ে আছি
একটি সাঁকোর কাছাকাছি,
চোখ ফেরাতেই দেখি সাঁকো
এক নিমেষে ভাঙলো অকস্মাৎ।গৃহে প্রবেশ করবো সুখে?
চৌকাঠে যায় কপাল ঠুকে।
বাইরে থাকি নত মুখে
নেকড়েগুলো দেখায় তীক্ষ দাঁ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/keu-ki-ekhon/ |
1858 | পূর্ণেন্দু পত্রী | বড়ে গোলাম | প্রেমমূলক | ফুলের গন্ধে ফোটার জন্যে
নারীর স্পর্শ পাবার জন্যে
ঘুমের মধ্যে কাঁদতে কাঁদতে
আমরা যেদিন যুবক হোলাম।
বাইরে তখন বক্ষে বৃক্ষে
জলে স্থলে অন্তরীক্ষে
আমাদের সেই কান্না নিয়ে
গান গাইছে বড়ে গোলাম।
ফুলের কাছে নারীর কাছে
বুকের বিপুল ব্যথার কাছে
বেদনাবহ যে সব কথা
বলতে গিয়ে ব্যর্থ হোলাম।
তারাই যখন ফিরে আসে
কেউ ললিতে কেউ বিভা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/484 |
2646 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আকাশপ্রদীপ | ছড়া | গোধূলিতে নামল আঁধার ,
ফুরিয়ে গেল বেলা ,
ঘরের মাঝে সাঙ্গ হল
চেনা মুখের মেলা ।
দূরে তাকায় লক্ষ্যহারা
নয়ন ছলোছলো ,
এবার তবে ঘরের প্রদীপ
বাইরে নিয়ে চলো ।
মিলনরাতে সাক্ষী ছিল যারা
আজো জ্বলে আকাশে সেই তারা ।
পাণ্ডু-আঁধার বিদায়রাতের শেষে
যে তাকাত শিশিরসজল শূন্যতা-উদ্দেশে
সেই তারকাই তেমনি চেয়েই আছে
অস্তলোকের প্রান্তদ্বার... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/akasprodip/ |
2244 | মহাদেব সাহা | মেঘের নদী | প্রকৃতিমূলক | আকাশে ওই
মেঘের ভরা নদী-
নীল সরোবর
বইছে নিরবধি;
আকাশে মেঘ
স্নিগ্ধ জলাশয়
আজ জীবনে
কেবল দুঃসময়;
আকাশে ওই
স্বর্ণচাঁপার বন,
দূর পাহাড়ে
মেঘের সিংহাসন;
নদীর তলায় চাঁদের বাড়িঘর
একলা কাঁদে
বিরহী অন্তর।
আকাশে ওই
পাখির ডাকঘর
ভালোবাসায়
জড়ায় পরস্পর;
জলের বুকে
চাঁদের ছায়া পড়ে
ডাক শুনি কার
বাহিরে অন্তরে;
আকাশে মেঘ
অথই জলাশয়
এবার গেলে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1326 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.