id stringlengths 1 4 | poet stringclasses 120
values | title stringlengths 1 54 | class stringclasses 21
values | text stringlengths 13 18.7k | source_url stringlengths 40 246 |
|---|---|---|---|---|---|
4349 | শামসুর রাহমান | আন্ধারে হারিয়ে পথ | মানবতাবাদী | আন্ধারে হারিয়ে পথ বেদিশা ঘুরেছি কতকাল
জটিল অরণ্যে, গণকবরের বিরানায়; খাদে
আর চোরাবালিতে হঠাৎ পা হড়কে পড়ে যেতে
যেতে ভয়ে চেঁচিয়ে উঠেছি। রক্তপায়ী বাদুড়ের
ডানার আঘাতে, চিতাবাঘের থাবার হামলায়
সন্ত্রস্ত ছিলাম বহুকাল। কখনো কখনো পথ
খোঁজার উদ্যম লুপ্ত হয়েছে, মোহিনী রূপে কত
ডাকিনী নিয়েছে ডেকে গুহায় সংহারে অবিচল।হতাশায় চুল ছিঁড়ে, ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/andhare-harie-poth/ |
4120 | রেদোয়ান মাসুদ | আমি চাইনি এভাবে বিদায় নিতে | প্রেমমূলক | আমি চাইনি এভাবে বিদায় নিতে
চাইনি মায়া ভরা ঐ দু চোখে অশ্রু ঝরাতে
চাইনি বেচে থেকে দূরে থাকতে
এক পলক দেখার জন্য আকাশের দিকে চেয়ে থাকতে
চেয়েছি সকাল বেলা শিশির ভেজা ঘাসে পা ভিজাতে।আমি চাইনি এভাবে অপেক্ষা করতে
চাইনি বাশ বাগানের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া
অচেনা পথের দিকে চেয়ে থাকতে
ধুসর কোন ওড়না জরানো নারীর জন্য বসে থাকতে
চেয়েছি বৃষ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/2174.html |
5449 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | কবিতার খসড়া | মানবতাবাদী | আকাশে আকাশে ধ্রুবতারায়
কারা বিদ্রোহে পথ মাড়ায়
ভরে দিগন্ত দ্রুত সাড়ায়,
জানে না কেউ।
উদ্যমহীন মূঢ় কারায়
পুরনো বুলির মাছি তাড়ায়
যারা, তারা নিয়ে ঘোরে পাড়ায়
স্মৃতির ফেউ।।(কাব্যগ্রন্থঃ ঘুমনেই) | https://www.bangla-kobita.com/sukanta/kobitar-khoshra/ |
4321 | শামসুর রাহমান | অলীক আশার বাণী | চিন্তামূলক | অলীক আশার বাণী শোনাতে আসি নি। গেছি ভুলে
সেই মায়াবৃক্ষ, আশা যার নাম; টুপ টাপ ফল
পড়বে না, যত ইচ্ছে ঝাঁকি দাও। যা-কিছু সম্বল
জমেছিল পুরুষানুক্রমে গ্যাছে সবই, মর্মমূলে
দুর্মর কীটের বাসা; আত্মা বন্দী কুহকিনী-চুলে।
সঙ্গীরা খোঁয়াড়ে তৃপ্ত; ড্রাগ-অয়াডিক্টের আচরণ
কী ক’রে দখল করে সবাইকে? কোথায় শরণ
নেব আজ? থাকবো কি হরদম শূন্যতায় ঝ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/olik-ashar-bani/ |
618 | জয় গোস্বামী | আজ কী নিশ্চিত কী বিদ্যুৎ কী হরিণ এই দৌড় | রূপক | আজ কী নিশ্চিত কী বিদ্যুৎ কী হরিণ এই দৌড়
কী প্রান্তর, কী উড়ে যাওয়া ধুলো এই হাত
কী ময়ূর এই নৃত্য
কী কূপ কী বন্ধ কী জিভ-বেরিয়ে-পড়া এই ঈর্ষা
কী অবধারিত কবর সব গর্ত
আর পশ্চাদ্বাবনরত পিশাচদের কী হঠাৎ তলিয়ে যাওয়া
আজ কী সম্রাজ্ঞী এই ছন্দ
শয়তানও যাকে কেনবার কথা কল্পনা করে না | https://banglarkobita.com/poem/famous/1714 |
876 | জসীম উদ্দীন | মুক্তিযোদ্ধা-জসীমউদদীন | স্বদেশমূলক | আমি একজন মুক্তি-যোদ্ধা, মৃত্যু পিছনে আগে,
ভয়াল বিশাল নখর মেলিয়া দিবস রজনী জাগী ।
কখনো সে ধরে রেজাকার বেশ, কখনো সে খান-সেনা,
কখনো সে ধরে ধর্ম লেবাস পশ্চিম হতে কেনা।
কখনো সে পশি ঢাকা-বেতারের সংরক্ষিত ঘরে,
ক্ষেপা কুকুরের মরণ-কামড় হানিছে ক্ষিপ্ত স্বরে।আমি চলিয়াছি চির-নির্ভীক অবহেলি সবকিছু
নরমুণ্ডের ঢেলা ছড়াইয়া পশ্চাত... | https://banglapoems.wordpress.com/2016/03/30/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be-%e0%a6%9c%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%a8/ |
1432 | দেওয়ান মমিনুল মউজদীন | শাহজালাল এক্সপ্রেসে | প্রেমমূলক | কিছুই জানিনা আমি কোনোই খবর
কার মেয়ে কার বোন কার বা প্রেমিকা ?
কোথায় চলেছো তুমি ঠিকানা কোথায়
বহুদূর চায়ের বাগান ? নগ্ন জলের হাওর ?
ট্রেনের জানালা বেয়ে ভেসে যায় বুনো মেঘ উদাস সবুজ
বিদ্যুতের ধ্যানী থাম সন্ধানী রাখাল
লঞ্চ বাস রোদ আর বৃষ্টির প্রণয়
তারাও জানে না তুমি চলেছো কোথায় ?
মুখোমুখি বসে শুধু দেখেছি তোমাকে মেয়ে
আর,... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1050 |
2974 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | খ্যাতি আছে সুন্দরী বলে তার | ছড়া | খ্যাতি আছে সুন্দরী বলে তার,
ত্রুটি ঘটে নুন দিতে ঝোলে তার;
চিনি কম পড়ে বটে পায়সে
স্বামী তবু চোখ বুজে খায় সে–
যা পায় তাহাই মুখে তোলে তার,
দোষ দিতে মুখ নাহি খোলে তার। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/khyati-ache-sundori-bole-tar/ |
4191 | লালন শাহ | সব সৃষ্টি করলো যে জন | চিন্তামূলক | সব সৃষ্টি করলো যে জন তারে সৃষ্টি কে করেছে
সৃষ্টি ছাড়া কি রূপে সে সৃষ্টিকর্তা নাম ধরেছে
সৃষ্টিকর্তা বলছো যারে লা শরিক হয় কেমন করে
ভেবে দেখো পুর্বাপরে সৃষ্টি করলেই শরিক আছে।।
চন্দ্র সূর্য যে গঠেছে তার খবর কে করেছে
নীরেতে নিরঞ্জন আছে নীরের জন্ম কে দিয়েছে।।
স্বরূপ শক্তি হয় যে জনা কে জানে তার ঠিক ঠিকানা
জাহের বাতেন যে জ... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4421.html |
548 | কাজী নজরুল ইসলাম | সোহাগ | প্রেমমূলক | গুলশন কো চুম চুম কহতে বুলবুল,
রুখসারা সে বে-দরদি বোরকা খুল!
হাঁসতি হ্যায় বোস্তাঁ,
মস্ত্ হো যা দোস্তাঁ,
শিরি শিরাজি সে যা বেহোশ জাঁ।
সব কুছ আজ রঙিন হ্যায় সব কুছ মশগুল,
হাঁস্তি হ্যায় গুল হো কর দোজখ বিলকুল
হা রে আশেক
মাশুক কি চমনোঁ মে ফুলতা নেই দোবারা ফুল
ফুল ফুল ফুল॥ (পুবের হাওয়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/sohag/ |
5375 | শ্রীজাত | অনেক | প্রেমমূলক | দাড়িয়ে দুরে। অনেকদিনের চেনা।
আজকাল যার সঙ্গে থাকো, সে না।একলা তুমি কফিশপের ভেতর
ঝগড়া করে পালিয়ে এলে। সে তাে।দাঁড়িয়ে আছে উল্টো ফুটপাতে
আগের মতই ব্রিফকেস হাতেতোমার কফি আসতে দেরি, তারও
বাস আসতে মিনিট পাঁচেক আরও।আজকাল যার সঙ্গে থাকো, হঠাৎ
মনে হচ্ছে ফুরিয়ে গেছে কথা।।আজ ফের সেই ঝগড়াঝাটি করে।
বসেছ কফিশপের ভেতরে।উল্টো ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4/ |
5511 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | বোধন | মানবতাবাদী | হে মহামানব, একবার এসো ফিরে
শুধু একবার চোখ মেলো এই গ্রাম নগরের ভিড়ে,
এখানে মৃত্যু হানা দেয় বারবার;
লোকচক্ষুর আড়ালে এখানে জমেছে অন্ধকার।
এই যে আকাশ, দিগন্ত, মাঠ স্বপ্নে সবুজ মাটি
নীরবে মৃত্যু গেড়েছে এখানে ঘাঁটি;
কোথাও নেইকো পার
মারী ও মড়ক, মন্বন্তর, ঘন ঘন বন্যার
আঘাতে আঘাতে ছিন্নভিন্ন ভাঙা নৌকার পাল,
এখানে চরম দুঃ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/274 |
5103 | শামসুর রাহমান | মাতাল | সনেট | মদিরা করিনি স্পর্শ, অথচ মাতাল হ’য়ে আছি
দিনরাত; নিত্য কুৎসাকারীদের জিভের খোরাক
আমি, কেউ কেউ ক্রোধে আমাকে পুড়িয়ে করে খাক।
আমার করোটি জুড়ে কবিতার সোনালী মৌমাছি
প্রায়শ গুঞ্জন তোলে; অচিন পাখিরা নাচানাচি
করে হৃৎবাগানে আমার। গূঢ় রহস্যের ডাক
নিশীথে নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে বলে, ‘ভরা থাক
তোমার প্রেমের পাত্র। যদি থাকে, তাহ’লেই বাঁচি!... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/matal/ |
5870 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | সেই লেখাটা | চিন্তামূলক | সেই লেখাটা লিখতে হবে, যে লেখাটা লেখা হয়নি
এর মধ্যে চলছে কত রকম লেখালেখি
এর মধ্যে চলছে হাজার-হাজার কাটাকুটি
এর মধ্যে ব্যস্ততা, এর মধ্যে হুড়োহুড়ি
এর মধ্যে শুধু কথা রাখা আর কথা রাখা
শুধু অন্যের কাছে, শুধু ভদ্রতার কাছে, শুধু দীনতার কাছে
কত জায়গায় ফিরে আসবো বলে আর ফেরা হয়নি
অর্ধ-সমাপ্ত গানের ওপর এলিয়ে পড়েছিল ঘুম
মেলায় গে ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1819 |
3847 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শক্তির সীমা | নীতিমূলক | কহিল কাঁসার ঘটি খন্ খন্ স্বর—
কূপ,তুমি কেন খুড়া হলে না সাগর?
তাহা হলে অসংকোচে মারিতাম ডুব,
জল খেয়ে লইতাম পেট ভরে খুব।
কূপ কহে,সত্য বটে ক্ষুদ্র আমি কূপ,
সেই দুঃখে চিরদিন করে আছি চুপ।
কিন্তু বাপু, তার লাগি তুমি কেন ভাব!
যতবার ইচ্ছা যায় ততবার নাবো—
তুমি যত নিতে পার সব যদি নাও
তবু আমি টিঁকে রব দিয়ে-থুয়ে তাও। (কণিকা কাব... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shoktir-sima/ |
3586 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ২ | প্রেমমূলক | সারাদিন গিয়েছিনু বনে
ফুলগুলি তুলেছি যতনে ।
প্রাতে মধুপানে রত
মুগ্ধ মধুপের মতো
গান গাহিয়াছি আনমনে ।
এখন চাহিয়া দেখি , হায় ,
ফুলগুলি শুকায় শুকায় ।
যত চাপিলাম মুঠি
পাপড়িগুলি গেল টুটি —
কান্না ওঠে , গান থেমে যায় ।
কী বলিছ সখা হে আমার —
ফুল নিতে যাব কি আবার ।
থাক্ বঁধু , থাক্ থাক্ ,
আর কেহ যায় যাক ,
আমি তো যাব ন... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bideshi-fuler-guccho-2/ |
4945 | শামসুর রাহমান | প্রকৃতির কাছে | সনেট | জীবনানন্দীয় পরিবেশে অপরাহ্নে পাশাপাশি,
মনে পড়ে, ছায়াচ্ছন্নতায় আমরা ছিলাম বসে
মাঝে-মধ্যে গাছ থেকে শুক্নো পাতা পড়ছিলো খসে;
উচ্ছ্বসিত বিকেলের রঙ এবং তোমার হাসি
একাকার, প্রকৃতির কাছে আজো কিসের প্রত্যাশী
আমরা ভাবছিলাম। দেখি, হংস-হংসী ঠোঁট ঘষে
পরস্পর উড়ে যায় বিল ছেড়ে; মগজের কোষে
কোষে কী মদির শিখা জ্বলে, বাজে স্বেচ্ছাচারী বা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/prokritir-kache/ |
2857 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কণিকা | নীতিমূলক | যথার্থ আপনকুষ্মাণ্ডের মনে মনে বড়ো অভিমান,
বাঁশের মাচাটি তার পুষ্পক বিমান।
ভুলেও মাটির পানে তাকায় না তাই,
চন্দ্রসূর্যতারকারে করে 'ভাই ভাই'।
নভশ্চর ব'লে তাঁর মনের বিশ্বাস,
শূন্য-পানে চেয়ে তাই ছাড়ে সে নিশ্বাস।
ভাবে, 'শুধু মোটা এই বোঁটাখানা মোরে
বেঁধেছে ধরার সাথে কুটুম্বিতাডোরে;
বোঁটা যদি কাটা পড়ে তখনি পলকে
উড়ে যাব আ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/konika/ |
1862 | পূর্ণেন্দু পত্রী | বাকী থেকে যায় | চিন্তামূলক | ফুলের আলোয় রাঙা দিগন্তে দুয়ারহীন ছুটে
অভ্রের কুচির মতো সফলতা মাটি থেকে খুঁটে
অমল-বরণ রাতে সকল অমরাবতী লুটে
মানুষ কত কী পায় রৌদ্রে ও জ্যোৎস্নায়
সমস্ত পাওয়ার পরও তবু তার বাকী থেকে যায়
একটি চুম্বন।
কন্ঠে, কর্ণে, নির্বাচিত মুক্তামালা গাঁথা
শিরোপরে স্বর্ণময় ছাতা
কে বসেছ রাজার আসনে?
পৃথিবীর ঘাসে ঘাসে অবিরত ক্ষত খুঁড... | https://banglarkobita.com/poem/famous/481 |
2660 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আজ এই দিনের শেষে | ভক্তিমূলক | আজ এই দিনের শেষে
সন্ধ্যা যে ওই মানিকখানি পরেছিল চিকন কালো কেশে
গেঁথে নিলেম তারে
এই তো আমার বিনিসুতার গোপন গলার হারে।
চক্রবাকের নিদ্রানীরব বিজন পদ্মাতীরে
এই সে সন্ধ্যা ছুঁইয়ে গেল আমার নতশিরে
নির্মাল্য তোমার
আকাশ হয়ে পার;
ওই যে মরি মরি
তরঙ্গহীন স্রোতের 'পরে ভাসিয়ে দিল তারার ছায়াতরী;
ওই যে সে তার সোনার চেলি
দিল মেলি
রাতের... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1944 |
5568 | সুকুমার রায় | আদুরে | ছড়া | যাদুরে আমার আদুরে গোপাল, নাকটি নাদুস থোপ্না গাল,
ঝিকিমিকি চোখ মিট্মিটি চায়, ঠোঁট দুটি তায় টাট্কা লাল ।
মোমের পুতুল ঘুমিয়ে থাকুক্ দাঁত মেলে আর চুল খুলে-
টিনের পুতুল চীনের পুতুল কেউ কি এমন তুলতুলে ?
গোব্দা গড়ন এমনি ধরন আব্দারে কেউ ঠোঁট ফুলোয় ?
মখমলি রং মিষ্টি নরম- দেখ্ছ কেমন হাত বুলোয় !
বল্বি কি বল্ হাব্ল... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f/ |
641 | জয় গোস্বামী | ওরা ভস্মমুখ | রূপক | ওরা ভস্মমুখ। ওরা নির্বাপিত। ওরা
ধূম্রনাসা কাঠ
অনেক পাঁকের নীচে আধপোড়া কাঠ হয়ে ওরা
পালিয়ে ঘুরেছে কতক্ষণ।
এক একটি ক্ষণের সঙ্গে এক এক শতক পার হল
এখন আমার কাজ ওদের বিছানাগুলি খোঁড়া
ওদের সযত্নে শুইয়ে গায়ে চাপা দেওয়া
চাদর কম্বল নয়–মাটি
ওরা মা বাবার মতো। ওদের অস্থি-র খোঁজ পেতে
শত শত গোর গর্ত বাঙ্কার ফক্স-হোল খুঁড়ে খুঁ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1727 |
3897 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শ্রান্তি | সনেট | সুখশ্রমে আমি , সখী , শ্রান্ত অতিশয় ;
পড়েছে শিথিল হয়ে শিরার বন্ধন ।
অসহ্য কোমল ঠেকে কুসুমশয়ন ,
কুসুমরেণুর সাথে হয়ে যাই লয় ।
স্বপনের জালে যেন পড়েছি জড়ায়ে ।
যেন কোন্ অস্তাচলে সন্ধ্যাস্বপ্নময়
রবির ছবির মতো যেতেছি গড়ায়ে ,
সুদূরে মিলিয়া যায় নিখিলনিলয় ।
ডুবিতে ডুবিতে যেন সুখের সাগরে
কোথাও না পাই ঠাঁই , শ্বাস রুদ্ধ হয় —
পরান ক... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shranti/ |
1010 | জীবনানন্দ দাশ | গোধূলি সন্ধির নৃত্য | চিন্তামূলক | দরদালানের ভিড়- পৃথিবীর শেষে
যেইখানে প'ড়ে আছে- শব্দহীন- ভাঙ্গা-
সেইখানে উঁচু-উঁচু হরীতকী গাছের পিছনে
হেমন্তের বিকেলের সূর্য গোল- রাঙা-চুপে-চুপে ডুবে যায়- জ্যোৎস্নায়।
পিপুলের গাছে ব'সে পেঁচা শুধু একা
চেয়ে দ্যাখে; সোনার বলের মতো সূর্য আর
রূপার ডিবের মতো চাঁদের বিখ্যাত মুখ দেখা।হরীতকী শাখাদের নিচে যেন হীরের স্ফুলিঙ্গ
আর স্... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/godhuliir-sondhir-nritto/ |
5932 | সৈয়দ শামসুল হক | তার মৃত্যু | শোকমূলক | ইজদানি মারা গেছে বিমান-পতনে ।
স্পর্ধা ছিল পৃথিবীকে মুঠো করে ধরে
নরোম সুগোল এক কমলালেবুর মতো। মাথা ভরা ছিল তার বইয়ের মলাট, টাই, নাম
আর নকটান ভিউ, সম্ভবতঃ আলো ছিল
গজ দুই নাইলন সুতো;
মারা গেল অল্প বয়সেই
অনেক ওপর থেকে নানা চাপ হাওয়া সাঁতারিয়ে। তোমরা এখনো যারা যাবে কোনো চায়ের বিকেলে
সদাশয়া মহিলার কাছে;
-একদিন সমবেত শোক করা ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsulhaque/tar-mrityu/ |
638 | জয় গোস্বামী | এসেছিলে, তবু আসো নাই | প্রেমমূলক | যেভাবে বৃষ্টির জল তোড়ে বয়ে যায় ঢালুদিকে
সেইভাবে, আমার জীবন আজ অধোগামী।সালোয়ার একটু উঁচু ক’রে
তুমি সেই জল ভেঙে ভেঙে রাস্তা পার হয়ে গেলে—
এত যত্নে, সাবধানে, যেন বা জলের গায়ে
আঘাত না লাগে!পড়ন্ত জীবন শুধু মনে রাখবে অপরূপ চলে যাওয়াটিকে। | https://www.bangla-kobita.com/joygoswami/eschile/ |
3807 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রক্তমাখা দন্তপংক্তি হিংস্র সংগ্রামের | মানবতাবাদী | রক্তমাখা দন্তপংক্তি হিংস্র সংগ্রামের
শত শত নগরগ্রামের
অন্ত্র আজ ছিন্ন ছিন্ন করে;
ছুটে চলে বিভীষিকা মূর্ছাতুর দিকে দিগন্তরে।
বন্যা নামে যমলোক হতে,
রাজ্যসাম্রাজ্যের বাঁধ লুপ্ত করে সর্বনাশা স্রোতে।
যে লোভ-রিপুরে
লয়ে গেছে যুগে যুগে দূরে দূরে
সভ্য শিকারীর দল পোষমানা শ্বাপদের মতো,
দেশবিদেশের মাংস করেছে বিক্ষত,
লোলজিহ্বা সেই... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/rakhamakha-dantapnte-hesha-sagama/ |
4954 | শামসুর রাহমান | প্রতীক্ষায় প্রতিক্ষণ | প্রেমমূলক | আমরা যখন ভেসে যাচ্ছিলাম নানা
কথার স্রোতে, তখনও তুমি বলোনি,
আজ সন্ধেবেলা তুমি আসবে। আমরা দু’জন
মুগ্ধাবেশে বলছিলাম ভাসমান মেঘের কথা, সদ্য
উড়তে-শেখা পক্ষী শাবকের কথা,
এমন একটি বাড়ির কথা বলছিলাম, যার অবস্থান
গাছপালা, লতাগুল্মময় টিলার উপর। সেই
বিনীত, বাংলো প্যাটার্নের বাড়িতে
থাকবো শুধু আমরা দু’জন। কেউ আমাদের
নির্জনতার দ্বার... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/protikkhay-protikkhon/ |
4551 | শামসুর রাহমান | কবিতার মৃত্যুশোক | সনেট | আমিতো অজস্র কবিতার মৃত্যুশোক পুষে রাখি,
মৃত্যুশোককালীন আঁধারে নির্বিকার ফেরেস্তারা
দ্যাখেন আমার মদ্যপান। মদিরার স্বচ্ছ ধারা
আমার ভেতরে বয়ে গেলে পর নিজেকে একাকী,
ব্যথিত একাকী লাগে আরো, চুপচাপ বসে থাকি,
কখনো চড়িয়ে গলা এলেবেলে কথা বলি, যারা
আশপাশে থাকে, তারা নিজেরাও নয় বাক্যহারা;
আমার চোখের ভুল দ্যুতিতে কেউবা পড়ে ফাঁকি।কব... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kobitar-mrittyushok/ |
2309 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | কালিদাস | সনেট | কবিতা-নিকুঞ্জে তুমি পিককুল-পতি।
কার গো না মজে মনঃ ও মধুর স্বরে?
শুনিয়াছি লোক মুখে আপনি ভারতী,
সৃজি মায়াবলে সরঃ বনের ভিতরে,
নব নাগরীর বেশে তুষিলেন বরে
তোমায়;অমৃত রসে রসনা সিকতি,
আপনার স্বর্ণ বীণা অরপিলা করে!—
সত্য কি হে এ কাহিনী, কহ, মহামতী?
মিথ্যা বা কি বলে বলি! শৈলেন্দ্র-সদনে,
লভি জন্ম মন্দাকিনী (আনন্দ জগতে!)
নাশেন কল... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/kalidas/ |
4957 | শামসুর রাহমান | প্রত্যাশা জেগে নয় | চিন্তামূলক | এখন রোদের যৌবনের তাপ নেই, এটাই তো
অনিবার্য পড়ন্ত বেলায়। প্রত্যুষের আনকোরা ক্ষণে মাথা
ক’রে হেঁটে চলা দীর্ঘকাল
ক্লান্তিকেই করে আলিঙ্গন, জানা আছে
যুগ যুগান্তের পথচারীদের। এই যে পথিক আমি
হেঁটেছি বিস্তর, সে-তো গোধূলি বেলায় পৌঁছে গেছে।এ চলার পথে কত প্রিয় মুখ থুবড়ে পড়েছে
দিগ্ধিদিক, বেদনার্ত দাঁড়িয়েছি ক্ষণকাল, ফের অন্বিষ্টের
প... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/prottyasha-jege-noy/ |
3146 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তারা ও আঁখি | প্রেমমূলক | কাল সন্ধ্যাকালে ধীরে সন্ধ্যার বাতাস ,
বহিয়া আনিতেছিল ফুলের সুবাস ।
রাত্রি হ ' ল , আঁধারের ঘনীভূত ছায়ে
পাখিগুলি একে একে পড়িল ঘুমায়ে ।
প্রফুল্ল বসন্ত ছিল ঘেরি চারি ধার
আছিল প্রফুল্লতর যৌবন তোমার ,
তারকা হাসিতেছিল আকাশের মেয়ে ,
ও আঁখি হাসিতেছিল তাহাদের চেয়ে ।
দুজনে কহিতেছিনু কথা কানে কানে ,
হৃদয় গাহিতেছিল মিষ্টতম ত... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/tara-o-akhi/ |
3865 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শুচি | চিন্তামূলক | রামানন্দ পেলেন গুরুর পদ–
সারাদিন তার কাটে জপে তপে,
সন্ধ্যাবেলায় ঠাকুরকে ভোজ্য করেন নিবেদন,
তার পরে ভাঙে তাঁর উপবাস
যখন অন্তরে পান ঠাকুরের প্রসাদ।
সেদিন মন্দিরে উৎসব–
রাজা এলেন, রানী এলেন,
এলেন পণ্ডিতেরা দূর দূর থেকে,
এলেন নানাচিহ্নধারী নানা সম্প্রদায়ের ভক্তদল।
সন্ধ্যাবেলায় স্নান শেষ করে।
রামানন্দ নৈবেদ্য দিলেন ঠাকুরের ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/shuchi/ |
2097 | মহাদেব সাহা | এক | প্রেমমূলক | এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না
একবার তোমাকে দেখতে পাবো
এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে-
বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার
হবো ভরা দামোদর
… কয়েক হাজার বার পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল;
তোমাকে একটিবার দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে
অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার প্রাচীর,
ছুটে যবো নাগরাজ্যে পাতালপুরীতে
কিংবা বোমারু বিমান ওড়া
শঙ্কিত শহরে।
যদি জানি একব... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be/ |
3591 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ৭ | শোকমূলক | বেঁচেছিল, হেসে হেসে
খেলা করে বেড়াত সে–
হে প্রকৃতি, তারে নিয়ে কী হল তোমার!
শত রঙ-করা পাখি,
তোর কাছে ছিল না কি–
কত তারা, বন, সিন্ধু, আকাশ অপার!
জননীর কোল হতে কেন তবে কেড়ে নিলি!
লুকায়ে ধরার কোলে ফুল দিয়ে ঢেকে দিলি!
শত-তারা-পুষ্প-ময়ী
মহতী প্রকৃতি অয়ি,
নাহয় একটি শিশু নিলি চুরি ক’রে–
অসীম ঐশ্বর্য তব
তাহে কি বাড়িল নব?
নূতন আন... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bideshi-fuler-guccho-7/ |
1957 | বিনয় মজুমদার | আমার আশ্চর্য ফুল | প্রেমমূলক | আমার আশ্চর্য ফুল, যেন চকোলেট, নিমিষেই
গলাধঃকরণ তাকে না ক’রে ক্রমশ রস নিয়ে
তৃপ্ত হই, দীর্ঘ তৃষ্ণা ভুলে থাকি আবিষ্কারে, প্রেমে।
অনেক ভেবেছি আমি, অনেক ছোবল নিয়ে প্রাণে
জেনেছি বিদীর্ণ হওয়া কাকে বলে, কাকে বলে নীল-
আকাশের হৃদয়ের; কাকে বলে নির্বিকার পাখি।
অথবা ফড়িঙ তার স্বচ্ছ ডানা মেলে উড়ে যায়।
উড়ে যায় শ্বাস ফেলে যুবকের প্রান... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4058.html |
1373 | তসলিমা নাসরিন | শেখো | নীতিমূলক | দুদিনের জীবন নিয়ে আমাদের কত রকম ঢঙ
কিছুক্ষণ পরই তো ঢঙ ঢঙ ঘণ্টা বাজবে!
চোখে তখন আর রঙ নেই, সব সাদা কালো,
জঙ ধরা ত্বকে জাঁকালো
অসুখ হাঁটবে, অসুখ তো নয়, সঙ।
কিছুতে কি আর ফিরে পাবো চোখে, চোখের আলো!
বাদ দাও না ওইসব অহেতুক অহং,
যতদিন বাঁচো, ভালোবাসো। ভালো।
যতসব বোমা আর ভড়ং প্রজাতি কি কোনওকালে টিকেছে এভাবে! হলে আস্ত মানুষখেকো... | https://banglarkobita.com/poem/famous/2008 |
5606 | সুকুমার রায় | গ্রীষ্ম (ঐ এল বৈশাখ) | ছড়া | ঐ এল বৈশাখ, ঐ নামে গ্রীষ্ম,
খাইখাই রবে যেন ভয়ে কাঁপে বিশ্ব !
চোখে যেন দেখি তার ধুলিময় অঙ্গ,
বিকট কুটিলজটে ভ্রুকুটির ভঙ্গ,
রোদে রাঙা দুই আঁখি শুকায়েছে কোটরে,
ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে তার জঠরে !
মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাস মাত্রে
তেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে !
ভয় লাগে হয় বুঝি ত্রিভুবন ভস্ম-
ওরে ভাই ভয় নাই পাকে ফল ... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/grishmo-oi-elo-boishakh/ |
922 | জীবনানন্দ দাশ | আকাশে সাতটি তাঁরা-জীবনানন্দ থেকে গ্রন্থিত | স্বদেশমূলক | ছেলে: আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি এই ঘাসে
ব’সে থাকি; বাংলার নীল সন্ধ্যা-কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে;
আমার চোখের পরে আমার মুখের পরে চুল তার ভাসে;
পৃথিবীর কোনো পথে এ কন্যারে দেখিনিকো-দেখি নাই অত
অজস্রচুলের চুমা হিজলে, কাঁঠালে , জামে ঝরে অবিরত,
জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর চুলের বিন্যাসে।
মেয়ে: পৃ... | https://banglapoems.wordpress.com/2009/08/26/%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8/ |
547 | কাজী নজরুল ইসলাম | সেবক | স্বদেশমূলক | সত্যকে হায় হত্যা করে অত্যাচারীর খাঁড়ায়,
নেই কি রে কেউ সত্যসাধক বুক খুলে আজ দাঁড়ায়?
শিকলগুলো বিকল করে পায়ের তলায় মাড়ায়, –
বজ্র-হাতে জিন্দানের ওই ভিত্তিটাকে নাড়ায়?
নাজাত -পথের আজাদ মানব নেই কি রে কেউ বাঁচা,
ভাঙতে পারে ত্রিশ কোটি এই মানুষ-মেষের খাঁচা?
ঝুটার পায়ে শির লুটাবে, এতই ভীরু সাঁচা? –
ফন্দি-কারায় কাঁদছিল হায় বন্দি... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/sebok/ |
1450 | নবারুণ ভট্টাচার্য | কালবেলা | মানবতাবাদী | যুবকেরা গেছে উৎসবে
যুবতীরা গেছে ভোজসভায়
অরণ্য গেছে বনানীর খোঁজে
গরীব জুটেছে শোকসভায়।
গয়নারা গেছে নীরব লকারে
বন্যপ্রাণীরা অভয়ারণ্যে
বিমান উড়েছে আকাশের খোঁজে
গরীবরা শুধু হচ্ছে হন্যে।
পুরুষেরা গেছে নিভৃত মিনারে
গর্ভবতীরা প্রসূতিসদনে
কুমিরেরা গেছে নদীর কিনারে
গরীব জমছে নানা কোণে কোণে।
বিপ্লব গেছে নেতাদের খোঁজে
যুবকেরা... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3-%e0%a6%ad%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/ |
2805 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এই জ্যোৎস্নারাতে জাগে আমার প্রাণ | ভক্তিমূলক | এই জ্যোৎস্নারাতে জাগে আমার প্রাণ;
পাশে তোমার হবে কি আজ স্থান।
দেখতে পাব অপূর্ব সেই মুখ,
রইবে চেয়ে হৃদয় উৎসুক,
বারে বারে চরণ ঘিরে ঘিরে
ফিরবে আমার অশ্রুভরা গান?সাহস করে তোমার পদমূলে
আপনারে আজ ধরি নাই যে তুলে,
পড়ে আছি মাটিতে মুখ রেখে,
ফিরিয়ে পাছে দাও হে আমার দান।
আপনি যদি আমার হাতে ধরে
কাছে এসে উঠতে বল মোরে,
তবে প্রাণের অ... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ei-jyotsnarate-jage-amar-pran/ |
2611 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অপরিহরণীয় | নীতিমূলক | মৃত্যু কহে, পুত্র নিব; চোর কহে ধন।
ভাগ্য কহে, সব নিব যা তোর আপন।
নিন্দুক কহিল, লব তব যশোভার।
কবি কহে, কে লইবে আনন্দ আমার? (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/oporihorniyo/ |
1901 | পূর্ণেন্দু পত্রী | সে আছে সৃজন সুখে | চিন্তামূলক | সে আছে সৃজন-সুখে
নিজস্ব কর্ষণে
তাকে অত ভীড়ে, অত লোকালয়ে, খররৌদ্রপাতে
তোমাদের দু-বেলার সংঘাতে ও সঙ্গের চত্বরে
সহসা ডেকো না।
যেহেতু সে তোমাদেরই একান্ত আপন
শুভাকাঙ্গী, সমর্থনকারী
তোমাদেরই রক্তচিহ্ন
রেখেছে সে কপালের ত্রিশূল-রেখায়।
সে আছে সৃজন-সুখে
সুখ মানে উলুধ্বনি নয়!
সে নিমগ্ন হয়ে আছে
সময়ের বিনষ্ট ফাটলে।
পরিপক্ক দ্রাক্... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1180 |
2758 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | আশার আলোকে | ভক্তিমূলক | আশার আলোকে
জ্বলুক প্রাণের তারা,
আগামী কালের
প্রদোষ-আঁধারে
ফেলুক কিরণধারা। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ashar-aloke/ |
2029 | মদনমোহন তর্কালঙ্কার | বারো মাস তিথি যত | প্রকৃতিমূলক | বার মাস তিথি যত।
একে একে হয় গত।।
বার মাস সাত বার।
আসে যায় বার বার। | http://kobita.banglakosh.com/archives/4151.html |
2302 | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | কবি-মাতৃভাষা | সনেট | নিজাগারে ছিল মোর অমূল্য রতন
অগণ্য ; তা সবে আমি অবহেলা করি,
অর্থলোভে দেশে দেশে করিনু ভ্রমণ,
বন্দরে বন্দরে যথা বাণিজ্যের তরী |
কাটাইনু কতকাল সুখ পরিহরি,
এই ব্রতে, যথা তপোবনে তপোধন,
অশন, শয়ন ত্যাজে, ইষ্টদেবে স্মরি,
তাঁহার সেবায় সদা সঁপি কায় মন |
বঙ্গকুল-লক্ষ্মী মোরে নিশার স্বপনে
কহিলা-- 'হে বত্স, দেখি তোমার ভকতি,
সুপ্র... | https://www.bangla-kobita.com/madhusudan/post20160702063932/ |
1886 | পূর্ণেন্দু পত্রী | যূথী ও তার প্রেমিকেরা | চিন্তামূলক | আকাশে বাতাসে তুমুল দ্বন্দ্ব
কে আগে কাড়বে যূথীর গন্ধ
কার হাতে বড় নখ।
স্বর্গে মর্তে যে যার গর্তে
যূথীকে গলার মালায় পরতে
ভীষণ উত্তেজক।।
মেঘের ভঙ্গী গোঁয়ার মহিষ
রোদ রাগী ঘোড়া, সুর্ঘ সহিস,
বজ্র বানায় বোমা।
বিদ্যুৎ চায় বিদীর্ণ মাটি
গাছে গাছে খাড়া সড়কি ও লাঠি
নদী গিরি বন ভয়ে অচেতন
থ্রম্বসিসের কোম।।
আকাশে বাতাস... | https://banglarkobita.com/poem/famous/486 |
1643 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | বন্ধুর স্মরণে | শোকমূলক | ওকে বড় সুন্দর দেখাচ্ছে, ওকে আজ
শ্বেতচন্দনের ফোঁটা দাও,
ওকে পট্টবসনে সাজাও;
ওকে বলো, এইখানে সমাপ্ত ওর কাজ,
ও এখন যেতে পারে।
ও যাবে কোথায়, কার উদ্যানের ঝাড়ে
ওর জন্যে ফুটেছে গোলাপ?
এর মধ্যে উঠল কেন গোলাপের কথা?
ও খুব ভালই জানে, কারও
উদ্যানে গোলাপ নেই, আছে তার ধারণা কেবল;
আছে মাটি, আছে রৌদ্র, এবং আঁজলায় কিছু জল।
তা হলে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1558 |
973 | জীবনানন্দ দাশ | এখানে ঘুঘুর ডাকে অপরাহ্নে | সনেট | এখানে ঘুঘুর ডাকে অপরাহ্নে শান্তি আসে মানুষের মনে;
এখানে সবুজ শাখা আঁকাবাঁকা হলুদ পাখিরে রাখে ঢেকে;
জামের আড়ালে সেই বউকথাকওটিরে যদি ফেল দেখে
একবার — একবার দু’পহর অপরাহ্নে যদি এই ঘুঘুর গুঞ্জনে
ধরা দাও — তাহলে অনন্তকাল থাকিতে যে হবে এই বনে;
মৌরির গন্ধমাখা ঘাসের শরীরে ক্লান্ত দেহটিরে রেখে
আশ্বিনের ক্ষেতঝরা কচি কচি শ্যামা প... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ekhaney-ghughur-dakey-opranhey/ |
5830 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | বয়েস | প্রেমমূলক | আমার নাকি বয়েস বাড়ছে? হাসতে হাসতে এই কথাটা
স্নানের আগে বথরুমে যে কবার বললুম!
এমন ঘোর একলা জায়গায় দুপাক নাচলেও
ক্ষতি নেই তো-
ব্যায়াম করে রোগা হবো, সরু ঘেরের প্যান্ট পরবো ?
হাসতে হাসতে দম পেটে যায়, বিকেলবেলায়
নীরার কাছে
বলি, আমার বয়েস বাড়ছে, শুনছো তো? ছাপা হয়েছে!
সত্যি সত্যি বুকের লোম, জুলপি, দাড়ি কাঁচায় পাকা-
এই যে চেয়ে... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1790 |
2098 | মহাদেব সাহা | এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না | প্রেমমূলক | এক কোটি বছর হয় তোকাকে দেখি না
একবার তোমাকে দেখতে পাবো
এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে-
বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার হবো ভরা দামোদর
কয়েক হাজার বার পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল;
তোমাকে একটিবার দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে
অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার প্রাচীর,
ছুটে যবো নাগরাজ্যে পাতালপুরীতে
কিংবা বোমারু বিমান ওড়া
শঙ্কিত শহরে।
যদি জানি একবার... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1378 |
5318 | শামসুর রাহমান | স্বপ্নে আমার মনে হলো | রূপক | রাগী মোষপালের মতো ধেয়ে আসছে
আকাশজোড়া মেঘদল আর সেই কবে থেকে
আমি হেঁটে চলেছি কাঁটাভরা পথে, চলেছি
অভীষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। অবিরত
রক্ত ঝরছে অতিশয় ক্লান্ত দুটো পা থেকে। বেয়াড়া
ক্লান্তি আর অমাবস্যা-হতাশার
চোখ রাঙানিতে জব্দ হয়ে ত্বরিত
এই গাছতলায় লুটিয়ে পড়লে বেঁচে যাই।অথচ একরোখা জেদ আমাকে ঠেলে দেয়
সামনের দিকে ঘুটঘুটি অন্ধকা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shopne-amar-mone-holo/ |
4624 | শামসুর রাহমান | কোথাও কেউ নেই | চিন্তামূলক | আকাশে চঞ্চল মেঘের কারুকাজ,
বর্ষা সেতারের বাজালো ঝালা আজ।
একটি সুর শুধু শুনছি ঘুরে ফিরে-
সে সুর বাজে যেন আঁধার চিরে চিরে।
বাইরে কিছু আর যায় না জানি দেখা,
কোথাও কেউ নেই, ত্রিলোকে আমি একা।বজ্রে কেঁপে উঠি, বিরহ মেলে দল;
হৃদয়ে ঝরে জল কেবলি অবিরল।
কৌতূহলে হাত বাড়াই ডানে বামে,
আঁধারে শূব্যতা, হতাশা বুকে নামে।
বাইরে কিছু আর যা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kothao-keu-nei/ |
5448 | সুকান্ত ভট্টাচার্য | কনভয় | মানবতাবাদী | হঠাৎ ধূলো উড়িয়ে ছুটে গেল
যুদ্ধফেরত এক কনভয়ঃ
ক্ষেপে-ওঠা পঙ্গপালের মতো
রাজপথ সচকিত ক'রে
আগে আগে কামান উঁচিয়ে,
পেছনে নিয়ে খাদ্য আর রসদের সম্ভার।
ইতিহাসের ছাত্র আমি.
জানালা থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম
ইতিহাসের দিকে।
সেখানেও দেখি উন্মত্ত এক কনভয়
ছুটে আসছে যুগযুগান্তের রাজপথ বেয়ে।
সামনে ধূম-উদ্গীরণরত কামান,
পেছনে খাদ্যশস... | https://banglarkobita.com/poem/famous/277 |
6029 | হেলাল হাফিজ | কোমল কংক্রিট | রূপক | জলের আগুনে পুড়ে হয়েছি কমল,
কী দিয়ে মুছবে বলো আগুনের জল।
১৫.১১.৮০ | https://banglarkobita.com/poem/famous/102 |
837 | জসীম উদ্দীন | নক্সী কাঁথার মাঠ - দুই | কাহিনীকাব্য | (দুই)এক কালা দতের কালি যা দ্যা কলম লেখি,
আর এক কালা চক্ষের মণি, যা দ্যা দৈনা দেখি, ---ও কালা, ঘরে রইতে দিলি না আমারে |
--- মুর্শিদা গানএই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল,
কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল!
কাঁচা ধানের পাতার মত কচি-মুখের মায়া,
তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া |
জালি লাউয়ের ডগা... | https://www.bangla-kobita.com/jasimuddin/nokshi-kathar-maath-2/ |
602 | গোলাম মোস্তফা | বনভোজন | ছড়া | নুরু, পুশি, আয়েশা, শফি সবাই এসেছে
আম বাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে।
রাঁধুনিদের শখের রাঁধার পড়ে গেছ ধুম,
বোশেখ মাসের এই দুপুরে নাইকো কারো ঘুম।
বাপ মা তাদের ঘুমিয়ে আছে এই সুবিধা পেয়ে,
বনভোজনে মিলেছে আজ দুষ্টু কটি মেয়ে।
বসে গেছে সবাই আজি বিপুল আয়োজনে,
ব্যস্ত সবাই আজকে তারা ভোজের নিমন্ত্রণে।
কেউবা বসে হলদি বাটে কেউবা... | http://kobita.banglakosh.com/archives/4379.html |
2185 | মহাদেব সাহা | দয়ার্দ্র আঁচল | প্রেমমূলক | শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় এখানে বাঁচাতে পারি মাথা
লজ্জা ভয়ে এখানে লুকাতে পারি মুখ,
এই নিবিড় আশ্রয় আর কোনখানে পাবো।
সবখানে যকন আমার নামে রটে কুৎসার কালি
সবাই নিন্দায় ওঠে মেতে, ছিছি করে, টিটকারি দেয়
যখন আমাকে এই অশ্লীল বিদ্রূপ আর শীতল উপেক্ষা
করে মর্মাহত, তখনো দাঁড়াই এসে এই আঁচলের
স্নিগ্ধ ছায়ায়।
যখন দেখতে পাই কোথাও যাব... | https://banglarkobita.com/poem/famous/370 |
4819 | শামসুর রাহমান | তোমার যাবার আগে | সনেট | সব কিছু ঠিকঠাক, আজই তুমি যাবে দ্বিপ্রহরে
বায়ুযানে; আমার অবুঝ মনোকষ্ট, দীর্ঘশ্বাস
অথবা চোখের জল ক্ষণে ক্ষণে খুসখুসে কাশ
করবে না পথ অবরোধ আর কবিতার ঘরে
হবে না এখন হরতাল। দিয়েছি বারণ করে
সবাইকে, আমার না-লেখা কবিতারা আজ নীল
পাখি হয়ে উড়বে তোমার খুব কাছে। ঝিলমিল
করলে কোথাও কিছু ভেবো আমার আনন্দ ঝরে।আজ কবিতার খাতাটিকে সাক্ষী র... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/tomar-jabar-age/ |
4858 | শামসুর রাহমান | দেহতত্ত্ব | চিন্তামূলক | কখনো নিইনি কোনো গুরুর নিকট দীক্ষা, দেহে
ভস্ম মেখে বৃক্ষতলে ধূপ ধূনা জ্বেলে জোরেশোরে
চিমটা বাজিয়ে লোক জড়ো করিনি কস্মিনকালে।
মানবতাবাদী বাউলের তরিকায় নিত্যদিন
দেহের বন্দনা করি; গীত রচনায় নিমজ্জিত,
দোতারা ছাড়াই ঘুরি এ ভবের হাটে। ক্লান্ত হলে
জিরোই দিঘির ঘাটে, মল্লিকার বনে, যাই ছুটে
তোমার দেহের তীরে উন্মুখর পিপাসা মেটাতে।মা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/dehototto/ |
5204 | শামসুর রাহমান | শকুন ও কোকিলের কাহিনী | রূপক | প্রবহমান নদীতীরে একটি নয়নাভিরাম
বৃক্ষ নানাজনের হিংসার পাত্র হয়ে
মেরুদণ্ড সোজা রেখে দাঁড়িয়ে ছিলো। গাছটিতে
এক ঝাঁক কোকিল মহানন্দে করতো বাস।ওদের গানের সুরে পার্শ্ববর্তী নদীর ঢেউ
উঠতো নেচে প্রায়শই। সহসা
একদিন কোত্থেকে ক’টি শকুন উড়ে এসে
জুড়ে বসে উৎপাতে উঠলো মেতে। কোকিলেরা ভড়কে যায়।মারমুখো শকুনদের হামলায় সবুজ গাছের নিচে
বয়ে ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shokun-o-kokiler-kahini/ |
1583 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | চতুর্দিকে অন্ধকার | মানবতাবাদী | চতুর্দিকে অন্ধকার, তারই মধ্যে এখানে-ওখানে
কয়েকটি বাড়িতে
আলো জ্বলে,
টিভি চলে,
হাস্যমুখে ভাষ্যকার বলে–
বিদ্যুতের উৎপাদন আজ বিকেলে যথেষ্ঠ ছিল না।
যারা শোনে, তারা ভাবে, বটে?
যেমন সংবাদপত্রে, তেমনি দেখছি টিভিতেও রটে
উল্টাপাল্টা গুজব!–তাদের
ফ্রিজের ভিতরে
ল্যাংড়া আমি, মাখন, সন্দেশ, ডিম, ব্রয়লার চিকেন
টাটকা থেকে যায়।
চতুর্... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1606 |
5156 | শামসুর রাহমান | যদিও লোকটা অসুস্থ | প্রেমমূলক | বেশ কিছুদিন হলো, বহুদিন হলো অসুস্থতা
চঞ্চুতে রেখেছে বিদ্ধ করে লোকটিকে। এখন সে
পড়ে না সংবাদপত্র, কতদিন কবিতার বই
সস্নেহে আলতো ছুঁয়ে রেখে দেয়, কখনো হয় না
পড়া, মাঝে মাঝে খুব কষ্ট ক’রে একটি কি দু’টি
কবিতা অথবা ‘ছিন্ন পত্রাবলী’ থেকে এক আধ
পাতা চেখে নেয়, রোগাক্রান্ত ক্লান্ত চোখ বুঁজে আসে;
শোণিতে শর্করা হেতু দুর্বল শরীর, মনে ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jodio-lokta-osustho/ |
3766 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যত বড়ো হোক ইন্দ্ৰধনু সে | রূপক | যত বড়ো হোক ইন্দ্ৰধনু সে
সুদূর-আকাশে-আঁকা,
অামি ভালোবাসি, মোর ধরণীর
প্রজাপতিটির পাখা। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/joto-boro-hok-indrodhonu-she/ |
3943 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | সাত ভাই চম্পা | ছড়া | সাতটি চাঁপা সাতটি গাছে,
সাতটি চাঁপা ভাই—
রাঙা - বসন পারুলদিদি,
তুলনা তার নাই।
সাতটি সোনা চাঁপার মধ্যে
সাতটি সোনা মুখ,
পারুলদিদির কচি মুখটি
করতেছে টুক্টুক্।
ঘুমটি ভাঙে পাখির ডাকে,
রাতটি যে পোহালো—
ভোরের বেলা চাঁপায় পড়ে
চাঁপার মতো আলো।
শিশির দিয়ে মুখটি মেজে
মুখখানি বের করে
কী দেখছে সাত ভায়েতে
সারা সকাল ধ'রে।
দেখছে চেয়ে... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/sat-vai-chompa/ |
1071 | জীবনানন্দ দাশ | নাবিকী | চিন্তামূলক | হেমন্ত ফু্রায়ে গেছে পৃথিবীর ভাঁড়ারের থেকে ;
এ-রকম অনেক হেমন্ত ফুরায়েছে
সময়ের কুয়াশায় ;
মাঠের ফসলগুলো বার বার ঘরে
তোলা হ’তে গিয়ে তবু সমুদ্রের পারের বন্দরে
পরিচ্ছন্নভাবে চলে গেছে।
মৃত্তিকার ওই দিক আকাশের মুখোমুখি যেমন সাদা মেঘের প্রতিভা ;
এই দিকে ঋণ, রক্ত, লোকসান, ইতর, খাতক ;
কিছু নেই তবু – তবুও অপেক্ষাতুর ;
হৃদয়স্পন্দন... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/nabiki/ |
1776 | পূর্ণেন্দু পত্রী | আশ্চর্য | প্রেমমূলক | একটি নারীর মাঝে অকস্মাৎ খুঁজে পায় কেউ
আশ্চর্যের নীলিমাকে। দৃশ্যহীন ঘন অন্ধকারে
নক্ষত্ররাজিরা গেছে আকাশে সোনালী শিল্প রুয়ে
তার স্নিগ্ধ সুষমার মোহাচ্ছন্ন ঘ্রাণ নিতে নিতে
ঘুমের মতন জাগে। ঘুমোতে দেয় না স্তব্ধতারে।
একে একে আবরণ পূজার ফুলের মতো ঝরে।
তারপর সেই দুটি অপরুপ লজ্জার ভঙ্গিমা
একে অপরের বন্য বাসনাকে বাহু দিয়ে বেঁ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/333 |
5829 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | বনর্মমর | প্রেমমূলক | সেই পথ দিয়ে ফিরে যাওয়া
পড়ে আছে মিহিন কাচের মতো জ্যোৎস্না
শুকনো পাতার শব্দ এমন নিঃসঙ্গ
সেইসব পাতা ভেঙে
ভেঙে ভেঙে ভেঙে ভেঙে চলে যেতে
যেতে যেতে যেতে যেতে
বাতাসের স্পর্শ যেন কার যেন কার যেন কার যেন কার?
মনেও পড়ে না ঠিক যেন কার অঙ্গুলি
এই মুখে, রুক্ষ মুখে, আমার চিবুকে, এই কর্কম চিবুকে
ঠোঁটে, ঠোঁটের ওপরে, এবং ঠোঁটের নিচে
চোখ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1841 |
1284 | জীবনানন্দ দাশ | ১৩৩৩ | প্রেমমূলক | তোমার শরীর ,-
তাই নিয়ে এসেছিলে একবার;- তারপর,- মানুষের ভিড়
রাত্রি আর দিন
তোমারে নিয়েছে ডেকে কোন দিকে জানিনি তা,- হয়েছে মলিন
চক্ষু এই;- ছিঁড়ে গেছি- ফেড়ে গেছি ,- পৃথিবীর পথ হেঁটে হেঁটে
কত দিন রাত্রি গেছে কেটে !
কত দেহ এল,- গেল, - হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে
দিয়েছি ফিরায়ে সব;- সমুদ্রের জলে দেহ ধুয়ে
নক্ষত্রের তলে
ব’সে আছি,- সমুদ্রের জ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/882 |
5042 | শামসুর রাহমান | বৃষ্টি | প্রেমমূলক | একটি স্বপ্নের মাঝখানে হঠাৎ
আমার ঘুম ভেঙে যায়; দৃষ্টি মেলে দেখি
তখনও শেষ রাতের হাত
আকাশের কোমড়ে জড়ানো। বাইরে
বৃষ্টির মৃদু শব্দ, আমার মনে নামে
বিষণ্নতার নিস্তব্ধ কুয়াশা।স্বপ্নে তোমাকেই দেখছিলাম। আমরা,
তুমি আর আমি, একটি ফুটফুটে জ্যোৎস্নাপ্রতিম
বালিকার জন্যে সাজাচ্ছিলাম ঘর,
কোত্থেকে হিংসুটে এক ঝড় বুনো ষাঁড়ের মতো
তছনছ ক’রে ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/bristi/ |
4425 | শামসুর রাহমান | ঈদকার্ড, ১৯৭৭ | প্রেমমূলক | হঠাৎ হারিয়ে ফেলি যদি দৃষ্টিশক্তি কোনোদিন,
তবুও তোমাকে আমি দেখবো সর্বদা সবখানে।
যদি পক্ষাঘাতে হই হীনবল, চলৎশক্তিহীন,
তথাপি নিশ্চিত আমি ছুটে যাবো তোমারই বাগানে,
যেখানে থাকবে বসে তুমি সবুজ মেঘের মতো
ঘাসে কিংবা ডাল থেকে অন্যমনে তুলে নেবে ফুল।
যদি কোনো দ্রুত ধাবমান যান কিংবা দৃষ্ট ক্ষত
কেড়ে নেয় আমার দু’হাত, তবু তোমাকে ব্যাক... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/eidkard-1977/ |
5764 | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় | চতুরের ভূমিকা | প্রেমমূলক | কিছু উপমার ফুল নিতে হবে নিরুপমা দেবী
যদিও নামের মধ্যে বেখেছেন আসল উপমা
ক্ষণিক প্রশ্রয়-তুষ্টি চায় আজ সামান্য এ কবি,
রবীন্দ্রনাথেরও আপনি চপলতা করেছেন ক্ষমা।
যদিও প্রত্যহ আসে অগণিত সুঠাম যুবক
নানা উপহার আনে সময় সাগর থেকে তুলে
আমি তো আনি নি কিছু চম্পা কিংবা কুর্চি কুরুবক
সাজাতে চেয়েছি শুধু স্পর্শহীন উপমার ফুলে।
আকা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/147 |
1837 | পূর্ণেন্দু পত্রী | দৈববাণী | চিন্তামূলক | বৃক্ষ হবো
চারপাশে আলোকিত জলের বাঁক
জলের গভীরে নারীর সাজবদলের মতো দৃশ্য
দৃশ্যের গভীরে সুগম্ভীর ঘন্টাধ্বনি
মাতৃজঠর থেকে আমরা শুনে আসছি এই সব দৈববাণী।
ব্রাক্ষ্ম মুহুর্তের রাঙা আবীরের মতো আমাদের ভ্রমণ হবে ভূ-পৃষ্ঠময়
ঋষিকুমারের মতো আমরা খচিত হবো দুর্লভ প্রবালে
নানা রকমের লাল দেয়ালে কালো অক্ষরে
নানা রকমের কালো দেয়ালে লাল অক্... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1214 |
5374 | শ্যামল চন্দ্র দাস | এক সাথে সব বাংলা অক্ষর ও যুক্তাক্ষর অনুশীলন | নীতিমূলক | The quick brown fox jumps over the lazy dog এ যেমন ইংরেজি সব অক্ষর আছে তেমনি নিচের পংতি গুলোতে বাংলা সব অক্ষর ও যুক্তাক্ষর আছে। যারা বাংলা দ্রুত টাইপ করতে চান পংতি গুলো তাদের অনুশীলনে সাহায্য করবে।হৃদয়ের চঞ্চলতা বন্ধে ব্রতী হলে
জীবন পরিপূর্ণ হবে নানা রঙের ফুলে।
কুঞ্ঝটিকা প্রভঞ্জন শঙ্কার কারণ
লণ্ডভণ্ড করে যায় ধরার অঙ্... | https://banglapoems.wordpress.com/2013/09/29/%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2-%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%82%e0%a6%a4%e0%a6%bf/ |
1020 | জীবনানন্দ দাশ | চলছি উধাও | প্রেমমূলক | চলছি উধাও, বল্গাহারা,- ঝড়ের বেগে ছুটি !
শিকল কে সে বাঁধছে পায়ে!
কোন্ সে ডাকাত ধরছে চেপে টুটি!
-আঁধার আলোর সাগর-শেষে
প্রেতের মতো আসছে ভেসে!
আমার দেহের ছায়ার মতো, জড়িয়ে আছে মনের সনে,
যেদিন আমি জেগেছিলাম, -সে-ও জেগেছে আমার মনে!
আমার মনের অন্ধকারে
ত্রিশূলমূলে,-দেউলদ্বারে
কাটিয়েছে সে দুরন্ত কাল ব্যর্থ- পূজার পুষ্প ঢেলে!
স্... | https://banglarkobita.com/poem/famous/899 |
971 | জীবনানন্দ দাশ | একদিন যদি আমি | সনেট | একদিন যদি আমি কোনো দূর বিদেশের সমুদ্রের জলে
ফেনার মতন ভাসি শীত রাতে — আসি নাকো তোমাদের মাঝে
ফিরে আর — লিচুর পাতার ‘পরে বহুদিন সাঁঝে
যেই পথে আসা-যাওয়া করিয়াছি, — একদিন নক্ষত্রের তলে
কয়েকটা নাটাফল তুলে নিয়ে আনারসী শাড়ির আচঁলে
ফিঙার মতন তুমি লঘু চোখে চলে যাও জীবনের কাজে,
এই শুধু… বেজির পায়ের শব্দ পাতার উপড়ে যদি বাজে
সারার... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/ekdin-jodi-aami/ |
1327 | তসলিমা নাসরিন | ছিলে | প্রেমমূলক | একটু আগে তুমি ছিলে, ভীষণরকম ছিলে, নদীটার মত ছিলে, নদীটা তো আছে,
পুকুরটা আছে, খালটা আছে।
এই শহরটার মত, ওই গ্রামটার মত ছিলে। ঘাসগুলোর মত, গাছগুলোর মত।
ছিলে তুমি, হাসছিলে, কথা বলছিলে, ধরা যাক কাঁদছিলেই, কিন্তু কাঁদছিলে তো, কিছু
একটা তো করছিলে, যা কিছুই করো না কেন, ছিলে তো!
ছিলে তো তুমি, একটু আগেই ছিলে।
কিছু ঘটলো না কোথা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1972 |
4733 | শামসুর রাহমান | জীবনের নানা বাঁকে | চিন্তামূলক | সন্ধ্যাবেলা হাঁটতে হাঁটতে কোথায় যে
পৌঁছে যাই, বুঝতে পারি না। আচমকা
অচেনা একটি পাখি এই পথচারী
আমাকে আলতো ছুঁয়ে উড়ে চলে গেলো
না জানি কোথায় আর নিজেরই অজ্ঞাতে কেঁপে উঠে,
মুহূর্তে শুকিয়ে যায় তালু, পদযুগল গেঁথে যায় মৃত্তিকায়।তবু আমি মাটি থেকে কোনওমতে নিজেকে বিচ্ছিন্ন
করে ফের সামনের দিকে
হেঁটে যেতে শুরু করি। পুরনো দিনের
কোনও ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/jiboner-nana-bake/ |
476 | কাজী নজরুল ইসলাম | যুগের আলো | রূপক | নিদ্রা-দেবীর মিনার-চুড়ে মুয়াজ্জিনের শুনছি আরাব, –
পান করে নে প্রাণ-পেয়ালায় যুগের আলোর রৌদ্র-শারাব!
উষায় যারা চমকে গেল তরুণ রবির রক্ত-রাগে,
যুগের আলো! তাদের বলো, প্রথম উদয় এমনি লাগে!
সাতরঙা ওই ইন্দ্রধনুর লাল রংটাই দেখল যারা,
তাদের গাঁয়ে মেঘ নামায়ে ভুল করেছে বর্ষা-ধারা।
যুগের আলোর রাঙা উদয়, ফাগুন-ফুলের আগুন-শিখা,
সীমন্তে... | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/juger-alo/ |
2811 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | এই সে পরম মূল্য | ভক্তিমূলক | এই সে পরম মূল্য
আমার পুজার—
না পূজা করিলে তবু
শাস্তি নাই তার। (স্ফুলিঙ্গ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/ei-she-porom-mulyo/ |
4542 | শামসুর রাহমান | কবি (মাতাল ঋত্বিক কাব্যগ্রন্থ) | সনেট | শহরে হৈ হল্লা দৈনন্দিন, যানবাহনের ঢল
পথে পথে, দিকে দিকে ফুৎকার, চিৎকার, চলে স্মার্ট
নাটক শিল্পিত স্টেজে, হোটেলে স্বপ্নিল কনসার্ট;
মেলায় নাগরদোলা, ডুগডুগি, বানরের দল।
হঠাৎ এলেন ভিনদেশী মল্লবীর, দৃপ্তবল;
সমস্ত শহর ঘোরে তার পায়ে পায়ে সারাক্ষণ,
পুষ্পবৃষ্টি চতুর্দিকে; মন্ত্রমুগ্ধ জনসাধারণ।
নতুন সার্কাস পার্টি ফেলে তাঁবু, নগ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/kobi-matal-hritwik/ |
1652 | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | বৃদ্ধের স্বভাবে | চিন্তামূলক | “এককালে আমিও খুব মাংস খেতে পারতুম, জানো হে;
দাঁত ছিল, মাংসে তাই আনন্দ পেতুম।
তোমার ঠানদিদি রোজ কব্জি-ডোবা বাটিতে, জানো হে,
না না, শুধু মাংস নয়, মাংস মাছ ইত্যাদি আমায়
(রান্নাঘর নিরামিষ, তাই রান্নাঘরের দাওয়ায়)
সাজিয়ে দিতেন। আমি চেটেপুটে নিত্যই খেতুম।
সে-সব দিনকাল ছিল আলাদা, জানো হে,
হজমের শক্তি ছিল, রাত্তিরে সুন্দর হত ঘু... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1692 |
5632 | সুকুমার রায় | নাচের বাতিক | হাস্যরসাত্মক | বয়স হল অষ্টআশি, চিমসে গায়ে ঠুন্কো হাড়,
নাচছে বুড়ো উল্টোমাথায়- ভাঙলে বুঝি মুন্ডু ঘাড়!
হেঁইয়ো ব'লে হাত পা ছেড়ে পড়ছে তেড়ে চিৎপটাং,
উঠছে আবার ঝট্পটিয়ে এক্কেবারে পিঠ সটান্।
বুঝিয়ে বলি, 'বৃদ্ধ তুমি এই বয়েসে কর্ছ কি?
খাও না খানিক মশলা গুলে হুঁকোর জল আর হরতকী।
ঠান্ডা হবে মাথায় আগুন, শান্ত হবে ছটফ্টি-'
বৃদ্ধ বল... | https://www.bangla-kobita.com/sukumar/nacher-batik/ |
5222 | শামসুর রাহমান | শিকি জ্যোৎস্নার আলো | মানবতাবাদী | নখ দিয়ে কুটি কুটি পারি না ছিঁড়তে আকাশের
ছড়ানো ত্রিপল কিংবা সাধ্য নেই পাহাড়ের চূড়া
নিমেষে গুঁড়িয়ে দিই, পোড়াই কোরিয়া হাসিমুখে,
ফোটাই সাধের ফুল ইচ্ছেমতো গোলাপ বাগানে
আর এক চুমুকে সমুদ্রের সব জল শুষে নিই
নিপুণ খেলার ছলে, পরাক্রান্ত সিমুমের ঝুঁটি
মুঠোর ভেতর ধরি, ঝরাই শ্রাবণ সাহারায়,
আম গাছে কালো জাম ফলাই চতুর কোনো শ্রমে,
সা... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/shiki-jotsnar-alo/ |
2529 | মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান | হারিয়ে এসেছি কবে শৈশবের সেই খেলাঘর | প্রেমমূলক | হারিয়ে এসেছি কবে শৈশবের সেই খেলাঘর
খেলা খেলা সাজ-গোজ, বউ আমি আর তুমি বর
নকল কবুল বলা, মিছে বর – মিছে বধুবেশ
তবুও কী সুখী-সুখী ভাব নিয়ে খেলা হতো শেষ ।।হাজার বাহানা করে পালাতাম আমি খেলা ফেলে
তুমি ছাড়া বরাসনে কোনো ভাবে আর কেউ এলে
তখন তুমিও তাতে মনে মনে খুশী হতে বেশ ।।ধনীর দুলালী আমি, তুমি না-কি অতি সাধারণ
কিশোরী দিনেই তাই... | https://www.bangla-kobita.com/rafiquzzaman/hariye-eshechhi-kobe-shoishober-shei-khelaghor/ |
3772 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | যদি ইচ্ছা কর তবে কটাক্ষে হে নারী | সনেট | যদি ইচ্ছা কর তবে কটাক্ষে হে নারী,
কবির বিচিত্র গান নিতে পার কাড়ি
আপন চরণপ্রান্তে; তুমি মুগ্ধচিতে
মগ্ন আছ আপনার গৃহের সংগীতে।
স্তবে তব নাহি কান, তাই স্তব করি,
তাই আমি ভক্ত তব, অনিন্দ্যসুন্দরী।
ভুবন তোমারে পূজে, জেনেও জান না;
ভক্তদাসীসম তুমি কর আরাধনা
খ্যাতিহীন প্রিয়জনে। রাজমহিমারে
যে করপরশে তব পার’ করিবারে
দ্বিগুণ মহিমা... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/jodi-iccha-koro-tobe-kotakkhe-he-nari/ |
5389 | শ্রীজাত | রংমশাল | প্রেমমূলক | অনেকদিনের উপােসী ঠোঁট
না-হয় তাকে না আটকালে
বরং তােমার জমিয়ে রাখা
আগুন দিও রংমশালে…এক ডাকে সক্কলে চেনে।
লুঙ্গি থেকে চম্পাহাটি
সে কেন রােজ তােমার কোলে
খুঁজতে আসে শীতলপাটি?তুমিও তেমন, ঠান্ডা ভীষণ
রােদে দেওয়াই হয়নি তােমায়
উনিশ হল। তফাত বােঝাে,
রংমশালে, দেওয়াল বােমায়?আজ দেওয়ালি। পাড়ায় টুনি।।
চরকি হাউই তুবড়ি দারুণ... | https://www.kobitacocktail.com/%e0%a6%b0%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4/ |
3738 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | মূল | নীতিমূলক | আগা বলে, আমি বড়ো, তুমি ছোটো লোক।
গোড়া হেসে বলে, ভাই, ভালো তাই হোক।
তুমি উচ্চে আছ ব’লে গর্বে আছ ভোর,
তোমারে করেছি উচ্চ এই গর্ব মোর। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/mul/ |
1374 | তসলিমা নাসরিন | শেষ পর্যন্ত | চিন্তামূলক | না, কলকাতা
শেষপর্যন্ত তুমিও আমার কোনও সমাধান নও
তুমিও আমার প্রশ্নগুলোর কোনও উত্তর নও।
বিশ্বাস কী, তুমিও যে কোনও মুহূর্তে হয়ে উঠতে পারো
যে কোনও শহরের মত লম্পট, কপট।
যে কোনও মুহূর্তে বেছে নিতে পারো হার্দিক চারদিক ছেড়ে অমানবিক পারমাণবিক দিক।
বিশ্বাস কী, মঞ্চে মঞ্চে তোমার ওই নাটক হয়ত নাটকই
কৃচ্ছসাধনের দিকে ভালো করে তাকালেই... | https://banglarkobita.com/poem/famous/1966 |
740 | জয় গোস্বামী | শিরচ্ছেদ, এখানে, বিষয় | মানবতাবাদী | শিরচ্ছেদ, এখানে, বিষয়।
মাটি তাই নরম, কোপানো।
সমস্ত প্রমাণ শুষছে ভয়
কখনো বোলো না কাউকে কী জানো, বা, কতদূর জানো। | https://banglarkobita.com/poem/famous/1763 |
4657 | শামসুর রাহমান | খোঁপায় সাজায় লাল ফুল | চিন্তামূলক | বসন্ত, এখন আমি যুবা নই আর,
উচ্ছ্বাস আমাকে মানায় না,
এখন যুবক যুবতীরা সহজেই
তোমার শোভায় মেতে ওঠে দিগ্ধিদিক।যখন গাছের ডালে জ্বলজ্বলে পুষ্পরাজি দেখা
দেয়, আর সুরে সুরে তারুণ্যের
বিজয় ঘোষিত হয়, পরিবেশ যেন
রবীন্দ্রনাথের গীতসুধা হয়ে যায় লহমায়।জীবনে বঞ্চনা আছে, আছে অত্যাচার,
অবিচার, প্রতারণা, তবু
যখন হাওয়ায় দুলে ওঠে গাছের সবুজ... | https://www.bangla-kobita.com/shamsurrahman/khopai-sajay-lal-ful/ |
3535 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বহু কোটি যুগ পরে | ছড়া | বহু কোটি যুগ পরে
সহসা বাণীর বরে
জলচর প্রাণীদের
কণ্ঠটা পাওয়া যেই
সাগর জাগর হল
কতমতো আওয়াজেই।
তিমি ওঠে গাঁ গাঁ করে;
চিঁ চিঁ করে চিংড়ি;
ইলিস বেহাগ ভাঁজে
যেন মধু নিংড়ি;
শাঁখগুলো বাজে, বহে
দক্ষিণে হাওয়া যেই;
গান গেয়ে শুশুকেরা
লাগে কুচ-কাওয়াজেই। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/bohu-koti-jug-pore/ |
868 | জসীম উদ্দীন | বিদায় | কাহিনীকাব্য | কিছুদিন বাদে আদিল কহিল, “গান ত হইল শেষ,
সোনার বরণী সকিনা আমার চল আজ নিজ দেশ।
তোমার জীবনে আমার জীবনে দুখের কাহিনী যত,
শাখায় লতায় বিস্তার লভি এখন হয়েছে গত।
চল, ফিরে যাই আপনার ঘরে শূন্য শয্যা তথা,
শুষ্ক ফুলেরা ছাড়িছে নিশ্বাস স্মরিয়া তোমার কথা।”
শুনিয়া সকিনা ফ্যাল ফ্যাল করি চাহিল স্বামীর পাানে,
সে যেন আরেক দেশের মা... | https://banglarkobita.com/poem/famous/495 |
2975 | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | খ্যাতি নিন্দা পার হয়ে জীবনের এসেছি প্রদোষে | চিন্তামূলক | খ্যাতি নিন্দা পার হয়ে জীবনের এসেছি প্রদোষে,
বিদায়ের ঘাটে আছি বসে।
আপনার দেহটারে অসংশয়ে করেছি বিশ্বাস,
জরার সুযোগ পেয়ে নিজেরে সে করে পরিহাস,
সকল কাজেই দেখি কেবলি ঘটায় বিপর্যয়,
আমার কর্তৃত্ব করে ক্ষয়;
সেই অপমান হতে বাঁচাতে যাহারা
অবিশ্রাম দিতেছে পাহারা,
পাশে যারা দাঁড়ায়েছে দিনান্তের শেষ আয়োজনে,
নাম না’ই বলিলাম তাহারা রহি... | https://www.bangla-kobita.com/rabindranath/khyati-ninda-par-hoye-jiboner-esechi-prodoshe/ |
1141 | জীবনানন্দ দাশ | ভোর ও ছয়টি বমারঃ ১৯৪২ | চিন্তামূলক | কোথাও বাইরে গিয়ে চেয়ে দেখি দু'চারটে পাখি।
ঘাসের উপরে রোদে শিশিরে শুকায়
নিজেদের ক্ষেতে ধান- চার পাঁচজন লোক
মানবের মতন একাকী।
মাটিরও তরঙ্গ স্বর্গীয় জ্যামিতির প্রত্যাশায়
মিশে গেছে অতীত ও আজকের সমস্ত আকাশে।দিগন্তে কি ধর্মঘট?- চিম্নি... পাখির মতন অনায়াসে
নীলিমায় ছড়ায়েছে। এখানে নদীর স্থির কাকচক্ষু জলে
ঘুরুনো সিঁড়ির মত আকাশ ... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/vor-o-choity-bomar-1942/ |
998 | জীবনানন্দ দাশ | কোথাও মঠের কাছে | সনেট | কোথাও মঠের কাছে — যেইখানে ভাঙা মঠ নীল হয়ে আছে
শ্যাওলায় — অনেক গভীর ঘাস জমে গেছে বুকের ভিতর,
পাশে দীঘি মজে আছে — রূপালী মাছের কন্ঠে কামনার স্বর
যেইখানে পটরানী আর তার রূপসী সখীরা শুনিয়াছে
বহু বহু দিন আগে — যেইখানে শঙ্খমালা কাঁথা বুনিয়াছে
সে কত শতাব্দী আগে মাছরাঙা — ঝিলমিল — কড়ি খেলা ঘর;
কোন্ যেন কুহকীর ঝাঁড়ফুঁকে ডুবে গে... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/kothaow-motther-kasey/ |
1338 | তসলিমা নাসরিন | দুঃখবতী মা | মানবতাবাদী | মা'র দুঃখগুলোর ওপর গোলাপ-জল ছিটিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল,
যেন দুঃখগুলো সুগন্ধ পেতে পেতে ঘুমিয়ে পড়ে কোথাও
ঘুমটি ঘরের বারান্দায়, কুয়োর পাড়ে কিম্বা কড়ইতলায়।
সন্ধেবেলায় আলতো করে তুলে বাড়ির ছাদে রেখে এলে
দুঃখগুলো দুঃখ ভুলে চাঁদের সঙ্গে খেলত হয়তো বুড়িছোঁয়া খেলা।
দুঃখরা মা'কে ছেড়ে কলতলা অব্দি যায়নি কোনওদিন।
যেন এ... | https://banglarkobita.com/poem/famous/410 |
542 | কাজী নজরুল ইসলাম | সুরা নসর | ভক্তিমূলক | (শুরু করিলাম) ল'য়ে নাম আল্লার
করুণা ও দয়া যাঁর অশেষ অপার।আসিয়াছে আল্লার শুভ সাহায্য বিজয়!
দেখিবে - আল্লার ধর্মে এ জগৎময়
যত লোক দলে দলে করিছে প্রবেশ,
এবে নিজ পালক সে প্রভুর অশেষ
প্রচার হে প্রসংশা কৃতজ্ঞ অন্তরে,
কর ক্ষমা প্রার্থনা তাঁহার গোচরে।
করেন গ্রহন তিনি সবার অধিক
ক্ষমা আর অনুতাপ-যাচ্ঞা সঠিক। | https://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/suura-nosor/ |
1100 | জীবনানন্দ দাশ | পৃথিবী রয়েছে ব্যস্ত | সনেট | পৃথিবী রয়েছে ব্যস্ত কোন্খানে সফলতা শক্তির ভিতর,
কোন্খানে আকাশের গায়ে রূঢ় মনুমেন্ট উঠিতেছে জেগে,
কোথায় মাস’ল তুলে জাহাজের ভিড় সব লেগে আছে মেঘে,
জানি নাকো, আমি এই বাংলার পাড়াগাঁয়ে বাধিঁয়াছি ঘর:
সন্ধ্যায় যে দাঁড়কাক উড়ে যায় তালবনে- মুখে দুটো খড়
নিয়ে যায়-সকালে যে নিমপাখি উড়ে আসে কাতর আবেগে
নীল তেঁতুলের বনে- তেমনি করুণা এক... | https://www.bangla-kobita.com/jibanananda/prithibi-royese-byasto/ |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.